ছেলেটির রাজকন্যা

লিখেছেন - তাসমিম দৃষ্টি | লেখাটি 1973 বার দেখা হয়েছে

ছেলেটি রোজ ১০টায় সেখানে আসতো।একটা বিশাল কৃষ্ণচূড়ার গাছের নিচে এসে দাঁড়াতো।উসকোখুশকো চুল,ঢিলাঢালা টি-সার্টে,মায়াবী চোখওয়ালা ছেলেটিকে মানাতো বেশ,ছেলেটিকে দেখে মনে হতো শরত্‍ চন্দ্রের কোন এক প্রেমের না বলা গল্পের চরিত্র।খুব কম ছেলেদের চোখ মায়াবী হয় ছেলেটি তাদের একজন ছিল,যার চোখে মায়া আর দুষ্টমী খেলা করতো।মেয়েটি তখনো স্কুলে পড়তো ,আর ছেলেটি এইতো এস এস সি দিয়েছে সবে।কৃষ্ণচূড়ার গাছটির সামনের রাস্তা দিয়ে হোসহোস করে মেয়েটির স্কুল বাস কয়েক সেকেন্ডের জন্য থামতো।আর রোজ ছেলেটি গাছটির নিচে দাঁড়িয়ে বাসটি আসার প্রতিক্ষা করতো।

আমার তখন ভর্তি কোচিং চলছে, কোচিং এ যাওয়ার বাস এখান থেকেই ধরা লাগতো ।আর তাই রোজ তাদের সাথে হতো দেখা।মেয়েটিও রোজ বাসের জানালার পাশে বসতো।আর মেয়েটিকে দেখে ছেলের মুখে যে হাসি আসতো তা হতো দেখার মত ।তাদের এই নীরব ভালবাসার আমি নীরব দর্শক ছিলাম।

**এইটুকু বলে আমি একটু থামলাম।একবার ক্লাস রুমটার চারদিকে চোখ ঘুরিয়ে নিলাম,কে বলবে কিছুক্ষন আগে এই রুমটায় এত হৈচৈ ছিল।আমি নতুন এই স্কুলে জয়েন করেছি,ক্লাস টেনের এই ৫০ জন ছাত্রছাত্রীদের সাথে আজ আমার তৃতীয় ক্লাস।আজ ক্লাস নেয়ার শুরুতেই অঝরে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল,সবার মাঝেই ক্লাস করার সুরটা কেটে গেল।এর মাঝে একজন বলে উঠল,ম্যাম আজ পড়তে ইচ্ছে করছে না একটা গল্প শোনান।তারপর চারপাশ থেকে গুন গুন শুরু হয়ে গেল।আমি একটু ভেবে,হাতের বইটা রেখে একটা গল্প বলা শুরু করলাম।শুরুতে ভাবিনি এই দুষ্টদুষ্ট ছেলে মেয়ে আমার গল্পটা এত মনোযোগ দিয়ে শুনবে।এদের এত মনোযোগ দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।একটি মেয়ে বলে উঠল,ম্যাম থামলেন কেন?।, আমি মুচকি হেসে আবার শুরু করলাম বলা।

**ছেলেটি আগে আমার পাড়ায় থাকতো, তাই তাকে কম বেশি আমিও চিনতাম,ছেলেটি যেমনই হোক সে মানুষ অনেক ভাল ছিল।মেয়েটিও যেন এক স্নিগ্ধ বিকেলের মত ছিল,বড় বড় চোখ আর ছেলেটিকে দেখে সে মাঝে মাঝে হাসতো তখন তার গাল যে টোল টা পড়তো তাতে তাকে অনন্য লাগতো।ছেলেটিকে কখনো মেয়েটির সাথে ইশারাতেও কথা বলতে দেখি নি।শুধু দেখতাম বাস যখন ছেলেটির সামনে দিয়ে যেত ছেলেটির অস্থিরতা ভরা দৃষ্টিতে মেয়েটিকে খুঁজতো,আর যখন মেয়েটিকে খুঁজে পেত,কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে থাকা বাসের জানালায় বসায় মেয়েটির দিকে গভীর ভালবাসা নিয়ে তাকিয়ে থাকতো।এভাবে অনেক দিন গেল ,কৃষ্ণচূড়া গাছ টকটকে লাল রঙে ছেয়ে গেল ,আবার ঝড়েও গেল।

এক কি দেড় বছর পরের কথা,আমি তত দিনে জাবি তে পড়ছি,তখনো বাস ধরার জন্য আমার সেখানেই আসা লাগতো।আর তখনো রোজ ছেলেটি দাঁড়িয়ে থাকতো আর মেয়েটির বাসের প্রহর গুনতো।একবার তিনদিন টানা হরতাল হলো,তার পরদিন ছাতা নিয়ে আমার বাসের অপেক্ষা করছিলাম,সকাল থেকেই থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল।সেদিন দেখলাম গাছটির নিচে ছেলেটি এখনো আসে নি।মেয়েটির বাস চলে এলো তবুও ছেলেটা আসলো না,অবাক হলাম কারন এর আগে কখনো ছেলেটিকে না আসতে দেখি নি।মেয়েটির বাসটি যাওয়ার কয়েক মিনিট পরে ছেলেটি একটি সাইকেলে চড়ে আসলো,ছেলেটির কাঁদামাখা কাপড় আর কনুই থেকে ঝরা রক্ত দেখে বোঝাই যাচ্ছিল আসার পথে এক্সিডেন্ট করেছে।ছেলেটি সাইকেল থামিয়ে এদিক সেদিক তাকালো,আমি তখন ছেলেটির উদ্দেশ্য বললাম,ভাইয়া বাস তো চলে গেছে।ছেলেটি আমায় বলল, কখন আপু?।,আমি বললাম এইত কয়েক মিনিট আগে।সে উদ্ভ্রান্তের সাইকেল নিয়ে ছুটতে লাগলো,একটু যেতেই কাঁদামাখা রাস্তায় তার সাইকেল রিকশার সাথে লেগে পড়ে গেলে,ছেলেটি ছিটকে রাস্তায় পড়লো।আমি ছুটে তার কাছে গেলাম,তার গায়ে হাত দিতেই চমকে উঠলাম।প্রচন্ড জ্বর।আমি ভার্সিটি যাওয়া বাদ দিয়ে আসে পাশের মানুষের সাহায্য নিয়ে তাকে বাসায় আনলাম।ছেলেটি তখনো অজ্ঞান ছিল। ছেলেটি অনেক আগে এই পাড়ায় থাকতো, তাই আমাদের কারো কাছে তার বাড়ির কোনো নাম্বার ছিল না।আর ছেলেটির পকেটেও ছিল না কোনো ফোন।তাই ছেলেটির জ্ঞান ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে লাগলাম।

ছেলেটির যখন জ্ঞান ফিরলো তখন তার পাশে ছিল আমার আম্মা,তার জ্ঞান ফেরা দেখে আম্মা আমায় ডাক দিল।ছেলেটি কিছুক্ষন এদিক ওদিক দেখে আম্মাকে বললো,আসসালাম ওয়ালাইকুম খালাম্মা কেমন আছেন?আর আমায় বললো ,আপু কয়টা বাজে?।আমি বললাম,বিকেল পাঁচটা।ছেলেটি বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে বললো,শিট!।,আমি মুচকি হেসে বললাম ,কেন?আজো ওকে দেখতে পারো নি তাই?।,ছেলেটি যেন অবাক হলো,হয়তো সে ভাবেনি যে তাদের কথা টা আমি জানবো।একটু চুপ থেকে সে বললো,আপু কাকে দেখি নি?।,আমি হাসতে হাসতে বললাম,হইছে হইছে আমি সব জানি যে সময় তুমি তোমার ওর জন্য দাঁড়িয়ে থাকো, আমিও তখন আমার বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকি।ছেলেটি লজ্জা পেল,পাওয়ারই কথা তার থেকে বড় একটা আপু তার ভালবাসার কথা বলছে।আজকালকার ছেলেদের মধ্যে লজ্জা ভাব টা আর নেই,কিন্তু ছেলেরা জানে না যে তারা যখন লজ্জা পায় তাদেরও অনেক কিউট লাগে।আমি ছেলেটিকে বললাম,তুমি যেভাবে কাকের মত অপেক্ষা কর আমি কেন একটা গাধাও বুঝবে, আর কতদিন এভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাক হয়ে থাকবে সামনে গিয়ে বললেও পারো।ছেলেটি মুচকি,বলিনি আবার!বলেছি অনেক আগে, অনেক সাহস নিয়ে বলেছিলাম,উত্তরে বলেছিল এখন এসব সম্ভব না।ছেলেটাকে আমি বললাম,তারপর?।,সে বলল,তারপর কি ,সেদিন থেকে আমিও তীর্থের কাকের মত আমার রাজকন্যাটার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।অপেক্ষা করতে লাগলাম কবে সম্ভব হবে।

এরপর থেকে প্রায় যখন বাসের জন্য অপেক্ষা করতাম, তখন ছেলেটার সাথে টুকুর টুকুর কথা বলতাম।ধীরে ধীরে আমাদের মাঝে ভাব হয়ে গেল,সে আমায় বড়প্পু বলে ডাকা শুরু করলো।আর একপলক মেয়েটির দর্শন পেলে ছেলেটির চোখে মুখে যে হাসির ঝিলিক দেখতাম,মন ভরে যেত।

ছেলেটি মুখে সবসময় মেয়েটির কথা থাকতো,যখন সে মেয়েটির কথা বলতো তখন তার চোখ চিকচিক করতো,ছেলেটির চোখ দেখেই বোঝা যেত ও মেয়েটিকে কতটা ভালবাসতো।ছেলেটি আমায় সবসময় বলতো আমি কখনো বোঝাতে পারি না,দেখ তুমি বড়প্পু কেন জানি শুধু তোমাকেই বলতে পারি।ওর প্রতি ভালবাসা টা শুধু আমার আর তাই সেটা আমি সহজে কাউকে বলতে পারি না।আমি ছেলেটার উল্টাপাল্টা কথা শুনে শুধু হাসতাম।ছেলেটার চোখের দিকে তাকালেই যেন আমি দেখতাম সে মেয়েটাকে নিয়ে সুখের সংসারের একটা স্বপ্ন দেখছে।

এভাবে আরো এক দুই বছর কেটে গেল,ছেলেটির তখন এইচ এস সির প্রিটেস্ট চলছে।রোজ কলেজ ড্রেস পড়ে গাছটির নিচে দাঁড়াতো নিজের কলেজ বাসের জন্য,ছেলেটির কাছে শুনেছিলাম মেয়েটিও এবার এস এস সি দিয়েছে আর তাই স্কুল নেই তাই বাসেও মেয়েটির দেখা নেই।আর মেয়েটির বাসা নাকি এই দিকেই আর সে নিজের বাসের জন্য অপেক্ষা করতো,তখন এই আশাতেও থাকতো যদি মেয়েটির সাথে দেখা হয়।ও মাঝে মাঝে বলতো, বড়প্পু কত খুঁজে খুঁজে আজ ওকে দেখলাম।তখন ওকে অনেক খুশি লাগতো।

তো একদিন আমি বাসের অপেক্ষা করছি।ছেলেটা লাফাতে লাফাতে এসে আমায় বললো,বড়প্পু কাল ও আমায় মেসেজ দিছে, বার্থডে উইস করছে।সে আরো বললাম,জানো আমার অনেক ভাল লাগছিল।আমি ওর দিকে তাকিয়ে হাসি দিলাম।মনে মনে ভাবলাম,ভালবাসায় দেখি ছেলেটা আরো বাচ্চা হয়ে গেছে।

আর এভাবে অনেকদিন গেল,ছেলেটা আর মেয়েটার মাঝে টুকটাক কথাও হতো ।মাঝে মাঝে ছেলেটা আমাকে বলতো কথাগুলো। ভাল লাগতো,এভাবে কাউকে ভালবাসতে দেখে।

এরপর মেয়েটা কলেজে উঠলো,আগের মত ছেলেটা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতো আর সামনে দিয়ে মেয়েটার বাস যেত ।আবার আগের মত তাদের চোখাচোখি হতো ,আর তখন তো তারা দুজনে ইশারাতে টুকিটাকি কথা বলতো।আমার দেখে বেশ লাগতো,ভাল লাগতো ,তাদের শুদ্ধতম ভালবাসা দেখে। একদিন ছেলেটা ইশারায় আমায় মেয়েটার সাথে পরিচয় করে দিল,আমি বেশ লজ্জা পেলাম।ছেলেটি একদিন আমায় জানালো মেয়েটির বান্ধবীরা বলে মেয়েটি নাকি ভালবাসে,ছেলেটিরও নাকি তাই মনে হয়।

তার অনেকদিন পর ছেলেটি এইচ এস সির কয়েক মাস আগে।তখন শীতের ছুটি চলছে,তাই ছেলেটির সাথে আমার ঠিক দেখাও হতো না,মাঝে মাঝেই তাদের কথা মনে হতো।আমিও কল্পনা করে নিয়েছিলাম তারা ভাল আছে তাদের ভালবাসার শহরে।একদিন বেশ রাত হবে এক আত্মীয় এর বাড়ি থেকে ফিরছি।দূর থেকে দেখি কৃষ্ণচূড়া গাছটির নিচে কে যেন দাঁড়িয়ে,ভাল করে দেখতেই দেখলাম ছেলেটি।কেমন জানি লাগলো তাকে। আমার কাছে তার নাম্বার ছিল,তাকে ফোন দিলাম দিয়ে বললাম,কিরে বড়প্পুকে ভুলে গেলি।ছেলেটি কিছু না বলে কাঁদতে লাগলো।সে ফোনে অনেক্ষন কাঁদলো।তার কাছ থেকেই জানতে পারলাম মেয়েটি নাকি তাকে পছন্দ করে হয়তো ভালবাসে,কিন্তু তার মা নাকি ছেলেটিকে পছন্দ করে না,তার সাথে কথা বলতে মানা আর তাই মেয়েটি এখন ছেলেটি থেকে দূরে দূরে থাকছে।ছেলেটি ফোনে অনেকবার ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল,বড়প্পু আমার রাজকন্যা হারিয়ে যাচ্ছে ,রাজকন্যা হারিয়ে যাচ্ছে।আমি ছেলেটিকে বোঝালাম মেয়েটা তো এখানে বাধ্য,কিন্তু ভালতো বাসে তাই না।ছেলেটি একটু হলেও বুঝলো।

তারপর অনেক দিন চলে গেল,ছেলেটি কুয়েটে চান্স পেলো।তবুও সে সময় পেলে মেয়েটিকে দেখতে আসতো,হয়তো এই অপেক্ষায় থাকতো একদিন তার রাজকন্যা ফিরে আসবে।আমারও তখন গ্রাজুয়েসন কম্প্লিট,ছোট খাট জব খুঁজে ফিরি।মাঝে মাঝে ছেলেটি ফোন দেয়,দেখা করে।আমিও অপেক্ষা করি কোনো একদিন আবার ছেলেটির চোখে সেই চকচকে ভাব দেখবো।

ঈদের ঠিক কয়েক আগে আমরা বাসা সিফট করে একটা কলোনিতে আসি।সেখানেই অনেকদিন পর মেয়েটির সাথে দেখা,সেও এখানে থাকে।একদিন সন্ধ্যায় ছেলেটি ফোন দেয়,বড়প্পু দেখা করতে পারবে।আমি ওর সাথে দেখা করি,ও আমায় দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।বলে বড়প্পু আমার রাজকন্যা হারিয়ে গেছে,হারিয়ে গেছে।আমার খুব কষ্ট লাগে যখন সে আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়,তার আমার জন্য একটুও সময় হয় না।অনেক কষ্ট লাগে,হোক তাকে না পেলাম তবুও যদি সে আমায় দেখে একটু হাসতো তাও মেনে নিতাম।সবসময় তো ভালবাসলে এক হওয়া যায় না,তা আমি মেনে নিয়েছি কিন্তু এখন তো মনে হয় সে কখনো ভালবাসে নি।আমার ভালবাসা অসম্পূর্ন থেকে গেল ।বড়প্পু আমার কষ্ট হয় আমি চলে যাবো চলে যাবো।

আমি সেই রাতেই মেয়েটির কাছে গেলাম,মেয়েটির নিষ্ঠুরতার ওপর খুব রেগেছিলাম।মেয়েটিকে বললাম, কেন করলে এমন।মেয়েটি বললো,"ও অনেক ভাল ছেলে ও অনেক ভাল মেয়ে পাবে,আর আপু আমি আগে থেকেই জানতাম হয়তো এমন হবে।তাইতো প্রথমেই মানা করেছিলাম,তাইতো এড়িয়ে চলতাম।সরি আপু আমার পক্ষে সম্ভব না"।,আমি চুপ করে থাকলাম তারপর বললাম,হুমায়ুন আহমেদ এর তেতুল বনে জোত্‍স্নায় নবনী আনিসকে লিখেছিল,তুমি আমার জন্য দু ফোঁটা চোখের জল ফেলেছ,তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।মেয়ে বলি তোমায় ছেলেটির চোখে শুধু তোমার জন্য পানি আসে,তুমি তার রাজকন্যা।তার প্রতিদানে আমি তোমায় জনম জনম কাঁদতে বলছি,না শুধু বলছি এই জনমটা পাশে থাকো,একটু ভালবেসে দেখো।জনম জনম সেই কাঁদবে,জনম জনম সে একাই ভালবেসে নিবে।

এরপর থেকে ছেলেটিকে আমি আর কখনো দেখিনি,শুনেছি সে এক গভীর রাতে কাউকে কিছু না বলে চলে যায়।আর মেয়েটি মেয়েটি কোথায় কে জানে।যখন ছেলেটিই ছিল তখন তার রাজকন্যার খোজ কেমনে রাখবো আমি।আমিও আর ঐ গাছটার সামনের রাস্তা দিয়ে যাই না,ছেলেটি অসমাপ্ত ভালবাসার জন্য মন খারাপ হয়ে যায়।তবুও যখন কৃষ্ণচূড়ার গাছ দেখি,মন বলে উঠে;একটা ছেলে ছিল,মেয়েটিকে বড্ড ভালবাসতো।মেয়েটি ছেলেটির রাজকন্যা ছিল।

গল্প শেষ করতেই ক্লাস শেষের ঘন্টা পড়লো।সবার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সব চুপ,বুঝলাম নিজের চোখটাও ভরে উঠেছে।নিজেকে সামলিয়ে সকলকে ভাল থাকতে বল বের হয়ে এলাম।গল্প শেষ করতেই মনে হলো, কিছু কিছু মানুষ জন্মেই ভালবাসার জন্য কিন্তু বিচিত্র কারনে প্রকৃতি তাদের পূর্নতা দেয় না।

Share