রিতুনের চারপাশ

লিখেছেন - সিনি মনি | লেখাটি 1476 বার দেখা হয়েছে

রিতুন ভাল ছেলে । কারন সে ক্লাসের বোরিং টিচারগুলির হাস্যকর ভাবে পড়ানোর ধরণ নিয়ে হাসাহাসি করেনা । তাহলে সে কি করে ?? সে ক্লাসে ঘুমায় । ক্লাসে ঘুমান কোন দোষের কাজ নয় । এতে মাথা ঠাণ্ডা থাকে , বাসায় শান্তিতে পড়া যায় । বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র হওয়ায় এখনও সে সবাইকে ভালভাবে চেনেনা ।তাই ক্লাসে কার সাথে ঠিক কথা ও হয়না । এই কারনে কিছু ক্লাসের বোরিং লেকচার না শূনে সে ঘুমায় । তার ধারনা এসব বিরক্তিকর লেকচার রেকর্ড করে বাজারে '''অব্যর্থ ঘুম বটিকা'' বলে চালালে ব্যাপক লাভ পাওয়া যাবে । তবে বিজ্ঞানের ছাত্র বলেই হয়ত এই ব্যাপক লাভের ব্যবসা এখন ও দুনিয়ার মুখ দেখেনি ।

 

গালিব স্যার বিরক্তিকর মানুষদের একজন । তিনি যা বলেন বেশিরভাগ ই দুর্বোধ্য । একটা ক্লাস করতে হলে অন্তত শিক্ষকের কথাটুক বুঝতে হয় । কিন্তু গালিব স্যার যে কি বলেন অথবা কি বুঝাতে চান তা বোধ হয় দোভাষী ও বুঝবেনা । এইতো সেদিন রিতুনের সামনের বেঞ্চের চারজন ক্লাসের বাইরে হাওয়া খেতে গেছে, গালিব স্যার তাই ক্লাসে এসেই রিতুন কে কিছু জিজ্ঞাসা করলেন ।রিতুন তার কথা না বুঝে জোরে জোরে মাথা নাড়াতে নাড়াতে বলল , ''স্যার ওরা কই গেছে আমি কিচ্ছু জানিনা ...'' কিন্তু স্যার কেন যেন খুব রেগে গেলেন রিতুনের উপর । রেগে একাকার হয়ে আরো কিছু বললেন কিন্তু রিতুন সেসব বুঝেনি । এদিকে সারা ক্লাসে চাপা হাসি , স্যার আসলে রিতুন কে জিজ্ঞেস করেছিলেন ক্লাসের টপিক কি ছিল.........সে যাকগে তবে রিয়াজ স্যার কে রিতুনের খুব পছন্দ । তার ক্লাসের সময় তিনি এমন ভাবে সবার মনযোগ ধরে রাখেন যে মনেই হয়না কখন সময় চলে গেছে , অথছ ক্লাস শেষে বুঝা যায় যে তিনি মাথায় অনেক কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে গেছেন ।

 

রিতুনের পাশের সারিতে টর্নেডো টাইপ একটা মেয়ে আছে ।তাকে দেখলেই মনে হয় যে সে একটা দৌড়ের উপর আছে । প্রতিদিন ঝড়ের বেগে ক্লাসে আসে আর ক্লাস শেষে ঝড়ের বেগে চলে যায় । কোনদিন সে ঠিকভাবে চুল আঁচড়াতে পারে বলে মনে হয়না । সেদিন একটা ঘটনা ঘটে গেল । রিতুন তার বেঞ্চে বসে পা দুলাচ্ছিল ওই সময় সেই টর্নেডো বালিকা ধুপ করে তার পাশে এসে বসল ।তারপর বলল, '' শুন আমি ইরা , আমার সারিতে কোন বদ জানি ফ্যান ছাড়া থাকতে পারবেনা ,তাই আমি তোমার সাথে বসলাম । আমার কেন জানি মনে হল আমার মত তোমারও শীত রোগ আছে ।তোমার নাম কি ?'' রিতুন এতখন অবাক হয়ে ইরার দিকে তাকিয়ে ছিল , এটা দেখে ইরা খ্যাচ করে বলল, ''এমন চোখ গোল গোল করে তাকায়া আসো কেন ? আমি কি মঙ্গল গ্রহ থেকে সঙ আসছি ?? '' রিতুন যথাসম্ভব চোখ ছোট করার চেষ্টা করে বলল ,'' আরেনাহ তুমি বসো কোন সমস্যা নাই । আর আমার নাম রিতুন ।'' ইরা খুশি হয়ে বলল ,''যাক ক্লাসে একজন পাইলাম যার আমার মত শীত রোগ আছে ।আমি এখন থেকে তোমার সাথেই বসব হাহা '' রিতুন হঠাত বুঝল তার গরম লাগছে । কিন্তু তাও সে ফ্যান ছাড়ল না । এরপর এভাবেই রিতুনের সাথে ইরার বন্ধুত্ত হয়ে গেল ।

 

একদিন গালিব স্যার ক্লাস নিচ্ছেন । রিতুন খেয়াল করল ইরা গালিব স্যারের দিকে একটু পরপর তাকিয়ে মুখ চেপে হাসছে । রিতুন জানতে চাইল , '' কিরে কি হইসে ? তুই গালিব স্যারের প্রেমে পরছিস নাকি ?'' ইরা চোখ পাকিয়ে বলল , ''একদম জায়গামত লাত্থি খাবি বদ !!!'' রিতুন ঢোক গিলে বলল , ''বলনা দোস্ত কি হইসে ?''ইরা কুচক্রীদের মত বলতে শুরু করল , '' দেখ স্যার মাথায় তেল দিয়ে মাঝখানে সিঁথি করছে । তাকে একদম আমার বান্ধুবি রানির মত লাগতেসে হেহেহেহে ''কিন্তু দুঃখের কথা স্যার ওদের হাসাহাসি দেখে ফেললেন । তিনি হালুম হালুম করে বললেন ,''কি সমস্যা তোমাদের !''পুরা ক্লাস অবাক হয়ে দেখল ,ইরা আর রিতুন 'রানি্র বাচ্চা ' বলে হাসতে হাসতে গরাগরি খাচ্ছে । ওইদিন ক্লাস করার দুর্ভাগ্য আর ওদের হয়নি ।

 

ক্লাস থেকে বেরিয়ে ইরা কিছুতেই হাসি থামাতে পারেনা। রিতুনও হাসছিল ,ইরা বল্ল,''আর হাসিস না চল আইস্ক্রিম খাই ।'' ইরার কথায় সায় দিল সে । রিতুন লক্ষ করল ইরা নামের এই মেয়েটা তার চারপাশ টা বদলে দিয়েছে ।সারাজীবন এই মেয়েটার সাথে পাগলামি করে পাগল হতে তার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই...আর থাকবেও না ............

 

নন্দনে এসে রিতুনের ভাবটাই বিগড়ে গেছে । পাশে তাকিয়ে দেখল ইরা পাগলি কান ফাটানো রক গানের তালে মাথা নাড়াচ্ছে । ওরা পিকনিকে এসেছে । ভার্সিটির সবাই মিলে মজা করবার উদ্দেশেই এখানে আগমন । নন্দনে এসে সবাই যে যার মত আনন্দ করা শুরু করে দিয়েছে । রিতুনের সমস্যা হল , সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে , ভাল লাগার মত কোন বৃষ্টি নয়, ক্যাটক্যাটে কাঁদা বানানোর বৃষ্টি । ইরা মাথা নাড়ানো বাদ দিয়ে ভ্রু কুঁচকে রিতুনের দিকে তাকাল, বলল ,'' কিরে তুই মুখ এমন বেগুন ভর্তা বানায়া রাখছিস ক্যান ? '' রিতুন মুখ বাকিয়ে বলল , '' ধুর কচুর বৃষ্টি হইতেসে , এরকম বৃষ্টিতে ঘুরতে ভাল্লাগে ? '' ইরা মুখ ঝামটা দিয়ে বলল , ''হুহ বৃষ্টি তোর কোন কালেও পছন্দ না! '' রিতুন নরম মেরে বলল , '' রাগ করিস ক্যান ? দ্যাখ না কেমন ঘ্যাতঘ্যাত করে বৃষ্টি পরতেসে হেহে '' ইরা হাল ছেড়ে দিয়ে বলল , '' হায়রে ! এতদিন শুনছি বৃষ্টি টিপটিপ করে , ঝমঝম করে , ঝরঝর করে পড়ে । আজকে শুনলাম  বৃষ্টি ঘ্যাতঘ্যাত করেও পড়ে ! বিচিত্র!!! '' রিতুন বলল , '' আচ্ছা যা আমি বিচিত্র । তাইলে কি বলব আকাশের ডায়াবেটিস হয়েছে ? '' ইরা কিছুক্ষন চোখ গরম করে থাকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হল  তারপর আর পারলনা, হাহাহা করে হাসতে লাগল । হাসতে হাসতে তার হেঁচকি উঠে গেল তাও কিছুতেই হাসি থামেনা । পরে রিতুন আইসক্রিম খাইয়ে তার হাসি থামাতে সক্ষম হল !

 

 

দুপুরের খাবার নন্দন থেকেই দেয়া হল । ইরা আর রিতুন তাদের টোকেন জমা দিয়ে খাবার নিয়ে আসলো । ফাঁকা মাঠে তারা খাবার খেতে বসে গেল । রিতুন তার খাবারের প্যাকেট খুলল , পোলাও, মুরগির মাংস আর একটা  সিদ্ধ ডিম । পোলাও দিয়ে কেমন জানি গন্ধ, কিন্তু তাতে কি সে শার্টের হাতা গুটিয়ে খাওয়া শুরু করল । এক গ্রাস মুখে  নিয়ে বুঝল সস্তা তেল দিয়ে রান্না । পাশে তাকিয়ে দেখল ইরা পোলাওয়ের গন্ধ শুকে নাক কুঁচকেই রেখে দিয়েছে । রিতুন পোলাও চাবাতে চাবাতে বলল , ''কিরে খাচ্ছিস না কেন ?'' ইরা দাঁত কিরমির করে বলল , ''এই পোলাও কেরোসিন দিয়ে রান্না হইসে । আমি মরে গেলেও এই কেরোসিন পোলাও খাবনা ।আর এইটা কি ডিম দিসে ? মুরগির ডিম না কাউয়ার ডিম আল্লাহ জানেন !!!'' ইরাকে থামিয়ে রিতুন বলল , '' কই আমি ত খাচ্ছি, বেশ লাগছে ।'' ইরা বলল , '' তোর কোন শোধবোধ খোদা দেন নাই । এখন চুপ করে খা । '' রিতুন খাবারটুক গিলে বলল, '' একটা বেলাই ত কষ্ট করে খা । '' ইরা দাঁড়াল ,'' নাহ তুই খা, আমি দেখি দোকানটাতে কি পাই '' ।

 

ইরা চলে গেল । রিতুন কিছু বুঝতে না পেরে খাবারের প্যাকেট দুইটা ঝাড়ুদারে হাতে দিয়ে দোকানের দিকে দৌড় দিল । দোকানে গিয়ে দেখল  ইরা এক বাটি চটপটি খাচ্ছে । চটপটি ইরার ভীষণ প্রিয় আর রিতুন চটপটি খেতেই পারেনা । কিছু করার নাই, সে ইরার পাশে দাঁড়িয়ে থাকল । ইরা বুঝল রিতুন খাবার কাউকে দান করে এসেছে । ইরা কিছুতেই বুঝতে পারেনা এই ছেলেটা এমন আজব কেন । রিতুন চটপটি খায়না জেনেও এক চামুচ বাড়িয়ে বলল , '' নে খা'' রিতুন চোখ পাকিয়ে বলল, '' তুই জানিস না আমি এইসব খাই না? '' ইরা বলল ,''  আরে গাধা এইটা অ্যারাবিয়ান পায়েস , একবার খা ।'' এ কথা বলে ইরা নিজেই হাসতে শুরু করল । রিতুন কিছু না বলে তার দিকে তাকিয়ে থাকল শুধু ।

 

ফেরার সময় ওরা বাসে বসে ছিল । ওদের টিনটিনে বন্ধু তিনা তার বড় বোনকে নিয়ে এসে ওদের সিটে বসিয়ে গেল । তিনজনের সিট , ইরা আর রিতুন কিছুই বলতে পারলনা । ইরা সাইডে সিট দিতে যাবে তখন মহিলা মিনমিন করে বলল, '' আমার বমির সমস্যা আছে , জানালার পাশে বসতে হবে ।'' ইরা তাই করল । বাস ছাড়ল । একটু পর তিনার বোন ঢুলা আরম্ভ করল । ৯ নাম্বার মহাবিপদ সংকেত । যেকোনো সময় তিনি সাইক্লোন ঘটাবেন । ইরা আর রিতুন করুন চেহারা নিয়ে বসে আছে । বাস কোন এক বড় আপু হেঁড়ে গলায় গান ধরেছেন, নিজেকে ইভা রহমান প্রমান না করে ছাড়বেননা ।

 

আমার মন ও না চায়

আমার প্রান ও না চায়

এ ঘর বাধিল কিশোরী

চলনা হই উদাসী

চাল দাল মুসুরি

মুগ আর খেসারি... ... ...

 

ইরা আর রিতুন হাসতে হাসতে পাগল না হয়ে যায় । ঠিক তখনি তিনার বোন সাইক্লোন ঘটালেন । ঝাঁকি মেরে  উঠে দাঁড়িয়ে তিনি সামনের সিটের কজনের উপর ছেড়ে দিলেন । রিতুন আর ইরা আঁতকে উঠে সিট ছেড়ে পালাল । ওখানে এরপর কি হল ওরা জানেনা । তবে রিতুন সবাইকে শুনিয়ে গাইতে লাগল ,'' তুমি কি পারা দিবে ? সেখানে কি পারা দিবে ? আবারো কি পারা দিবে ???'' !!!!!!!

 

সেদিন রাতে বাসায় গিয়েও রিতুন হাসি থামাতে পারছিলনা । তাছাড়া ইরা রিতুন কে একটু ঝামেলায় ফেলেছে । অদৃশ্য ইরা বারবার রিতুনের চোখের সামনে চলে আসে । সময়ে অসময়ে । নাহ এভাবে আর  চলেনা । এর একটা সমাধান দরকার । রিতুন এখন এর সমাধান খোঁজায় ব্যস্ত । তবে রিতুনের চারপাশ এখন দারুন সুন্দর  । রিতুন জানে । সেটা শুধুমাত্র ইরার জন্যে ।

 

রিতুন রোদের মাঝে সিদ্ধ হতে হতে ভয়ে ভয়ে ইরার দিকে তাকাল । আপাতত রিতুন ইরার সাথে রিকশায় বসে আছে । ইরার মাথা গরম । মাথা গরমের কারণটা হল রিতুন । ইরা রিতুন কে ১০ টা বাজে t.s.c. তে থাকতে বলেছিল । কিন্তু রিতুনের কোন খবর নেই এমনকি ফোনও ধরেনা । ইরা প্রথমে রাগে লাল হয়ে গেল তারপর মনে মনে রিতুনের গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে রিক্সা নিয়ে সরাসরি রিতুনএর বাসায় চলে আসল । রিতুনের বাসায় ইরা মাঝেমাঝেই যাওয়াতে বাসার সবাই তাকে বেশ ভালভাবেই চেনে । ইরা ভেতরে গিয়ে চারদিকে একবার তাকিয়ে বলল , ''আনটি রিতুন কোথায় ?'' রিতুনের মা মুখ বাকিয়ে বললেন , '' আর বলনা মা হতভাগা এখনও ঘুমাইতেসে ।'' ইরা অবিশ্বাসের চোখে ঘড়ির দিকে তাকাল , ১১ টা বাজে । রিনটি রিতুনের ছোট বোন , রিতুনের আম্মা ওকে ডেকে বলল , '' যা ইরাকে প্রমান দেখিয়ে আয় যে তোর ভাই কি করতেসে । '' ইরা কে নিয়ে রিনটি রিতুনের রুমের সামনে  আসল । ইরার মাথায় তখন আগুন জ্বলছে , সে কোনরকমে বলল , '' এই তোর ভাই আবার রাতে লুঙ্গি পরে ঘুমায় নাতো ?'' রিনটি হাহাহা করে হাসতে হাসতে বলল ,'' না না না না না লুঙ্গি না ।'' রুমে ঢুকে ইরা দেখল রিতুন তার বিছানায় উল্টা হয়ে ঘুমাচ্ছে । ইরা দুপদাপ করে এগিয়ে গিয়ে রিতুনের পিঠে ঠাশঠাশ মারতে শুরু করল । ''রিতুনের বাচ্চা '' বলে একবার ডাকতেই রিতুনের আক্কেল ফিরে আসল । নাকেমুখে নাস্তা করতে করতে রিতুনের মনে পড়ল তার ১০ টার সময় কোথায় থাকবার কথা ছিল ।

 

 

অতঃপর তারা এই রিক্সায় । প্রচণ্ড রোদ উঠেছে , রিতুনের হুড তুলে দিতে ইচ্ছে করছিল কিন্তু সে নিশ্চিত জানে সে যদি এখন হুড তুলে দেয় তাহলে ইরা তাকে রিক্সা থেকে ফেলে দিবে । ঐদিন ইরাকে তিন টা আইস্ক্রিম খাইয়ে রাগ ভাঙ্গিয়েছিল রিতুন । বিকালে ফেরার পথে রিতুন বলল , '' ইরা তোর কোন যানবাহন পছন্দ রে ?"  ইরা একটুও না ভেবে বলল , " রিক্সা ! আবার জিগায়! " রিতুন কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ইরা বলতে লাগল , '' আমার যখন টাকা হবে আমি একটা রিক্সা কিনব । আমার রিক্সাওয়ালা কে কমপক্ষে ইন্টার পাশ হতে হবে আর সে সাদা শার্ট কালো প্যান্ট পরে রিক্সা চালাবে, বলতো কেমন হবে ?'' রিতুন লম্বা লম্বা শ্বাস নিতে লাগল । রিতুনের নিজস্ব ধারনা লম্বা শ্বাস হাসি এবং কান্না থামানোর ক্ষমতা রাখে । খুবি আজব !

 

 

রিতুন কয়দিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে সে ইরাকে তার মনের অস্থিরতার কথাগুলি বলে দিবে । সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্র্যাকটিস ও চালাচ্ছে ----

মেয়ে,ভালবাসি তোমাকে ! কিন্তু রিতুন এর ধারনা এটা বললে ইরা বলবে , '' ছাগলের মুখে ম্যা ম্যা মানায়, মেয়ে মানায় না !!!! "সে যাই হোক  রিতুন ঠিক করেছে সে আর ভয় পাবেনা, বলেই দেবে সব ।

 

আজ রিতুনের সেই কাঙ্ক্ষিত দিন ।রিতুন ইরাকে ভার্সিটির সামনে থাকতে বলেছে । কিভাবে বলবে তার কোন প্লান সে করতে পারেনি কারন কোনটাই তার পছন্দ হয়না ।তাই সে ঠিক করেছে কথায় কথায় সব বলে দিবে, বলবেই !!!

 

ছেলেদের সাজগোজের জিনিস নেই কিন্তু রিতুন চেষ্টার কোন ত্রুটি করলনা । সে সাবান শ্যাম্পু দিয়ে ভালভাবে গোসল করল । ঝাক্কাস একটা গোসল মেরে সে তার কাল টিশার্ট আর জিনসটা পরে ফেলল । বের হবার সময় রিনটির সাথে দেখা হতেই রিনটি দাত  কেলিয়ে এগিয়ে আসল ,'' দেখি দেখি ভাই আমার !'' রিতুন তোতলাতে তোতলাতে বলল , ''অই ক্কি দ্দেখব্বি ?'' রিনটি কোমরে হাত দিয়ে বলল , ''ভাইরে তোকে ত পুরাই নায়িকা নায়িকা লাগছে !'' রিতুন রিনটির সাথে পানিপথের 'ইনফিনিটি' তম যুদ্ধ শেষ করে বেরিয়ে পড়ল !! কিন্তু তার কপাল মনে হয় সত্যি খারাপ , পলাশির মোড়ে আসার পর জনৈক কাক তার কালো শার্ট টাকে গুলিস্তানের পাবলিক টয়লেট বানিয়ে ফেলল । একে তো কাল শার্ট তার উপর কাকের শিল্পকর্ম ! সে তখন ব্যাকুল হয়ে তার দোস্ত সামিকে ফোন দিল, সামি বুয়েটে পড়ে ,সুহরাওয়ারদি হলেই থাকে । সামিকে সব বলতেই সামি জানাল সে হলেই আছে, তার কাছে এসে শার্ট বদলাতে । রিতুন একদম ছুটেই গেল । গিয়ে দেখল , সামির কোন শার্ট ই পরার যোগ্য না , সবগুলাই ময়লা, সামি ধোয়ার সময় নাকি পায়না ।

 

রিতুন আর কি করবে, কোনরকমে একটা শার্ট পরে সে দিল দৌড় । ইরার কাছে যেতেই ইরা নাক কুঁচকে বলল , '' তুই এই জিনিস কোন রিক্সাওয়ালার গা থেইকা খুইলা আনছস সেইটা আগে বল '' রিতুন যখন সব ঘটনা খুলে বলল ইরা তখন কিছুতেই হাসি থামাতে পারেনা ।

 

 

ইরাকে হাসতে দেখে রিতুন ঠাস করে বলল ,'' ইরা হাসলে তোকে খুব মিষ্টি লাগে, তুই এটা জানিস ? ইরা হাসি থামিয়ে বলল , '' হ্যাঁ আমি জানি আমার হাসি সুন্দর । তুই নজর দিস না ।'' রিতুন নার্ভাস হয়ে বলল , '' কিন্তু আমি ত নজর দিতে চাই ।''ইরা চোখ পাকিয়ে বলল , '' কিইইই?'' রিতুন সাহস নিয়ে বলল ,

'' জি আমি তোকে ভালবাসি ।" ইরা বহুকষ্টে হাসি আটকিয়ে বলল , '' বুঝলাম, থ্যাংকস '' রিতুন ভয় পাওয়া গলায় বলল , ''তুই কিছু বল '' ।

 

ইরা চোখ টিপে বলল ,'' তুই যদি মাঝরাস্তায় গিয়ে চিল্লায়া এই কথা সবাইকে শুনাইতে পারিস, তাইলে আমি বলব ।'' রিতুন মুখ পাংশু করে উঠে দাঁড়ালো , মাঝরাস্তায় যাওয়ার জন্যে পা বাড়াবে তখনি টের পেল , ইরা তার শার্টের হাতা ধরে টানছে । রিতুন বলল , ''কি ?'' ইরা ভ্রু কুচকে বলল , '' কই যাচ্ছিস

?'' রিতুন হা করে বলল , '' তুই না বললি মাঝরাস্তায় ...'' ইরা তাকে থামিয়ে বলল , '' আমি যা বলব তাই করবি ? তুই এত গাধা কেন ?'' রিতুন এবার ছাড়ল না ,'' আপনার কি ধারনা গাধা ছাড়া আপনার কপালে আর কিছু জুটবে ?'' সাথে সাথেই ইরার চড় ঘুষি তার উপর নাজিল হতে থাকল । রিতুন মাইর হজম করে বলল ,'' তুই এমন জল্লাদি কেন রে ?'' ইরা হুংকার দিয়ে বলল , '' তোর কি ধারনা তোর কপালে

এর চেয়ে ভাল কিছু জুটবে ? ''তারপর রিতুন কে অবাক করে দিয়ে ইরা বলল , ''আমিও তোকে ভালবাসি , গাধা কোথাকার '' ।

 

রিতুন লম্বা শ্বাস নিচ্ছে, লম্বা শ্বাস নেয়ার থিওরি টা কি আজও তার অশ্রু আটকাতে পারবে ?

 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, রিতুন ইরাকে বিয়ে করেছে । ইরা আর রিতুন একটা রঙ্গিন রিক্সা কিনেছে , কিন্তু ইরা কিছুতেই ইন্টার পাস রিক্সাওয়ালা খুঁজে পাচ্ছেনা । রিতুন ভয়ে আছে, শেষমেশ ইরা আবার তাকেইনা এই প্রস্তাব দেয় !!

 

                                           -সমাপ্তি-

 

 

Share