বিচ্ছিরি রকমের ভালবাসা

লিখেছেন - সিনি মনি | লেখাটি 2028 বার দেখা হয়েছে

১.আমার খুব কান্না পাচ্ছে । আমার ইচ্ছে করছে অসম্ভব চিৎকার করে আমার চাপা অভিমান গুলি শব্দে রুপান্তরিত করে আমি মুক্ত হয়ে যাই । ছোটবেলায় চিৎকার করে কান্নাকাটি করলে সেটা কারো কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়না , অথচ বড় হয়ে গেলে যখন চিৎকার করে কাঁদতে পারাটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে তখনি সেটা যেন অলিখিত নিষেধ হয়ে দাঁড়ায় । এই অলিখিত নিষেধটি মেনে নিয়েই আমি নিঃশব্দে কাঁদতে শুরু করলাম । আমি যে এতটা নিঃশব্দে কাঁদতে পারি তা আমি কখনও জানতাম না । সময় খুবই বিচিত্র একটা জিনিস , একেক অবস্থায় মানুষকে একেক ভাবে উপযোগী করে তুলে । 

 

 

আজ আমার জন্মদিন । আধুনিক সময়ধারা অনুযায়ী আসলে আমার বলা উচিত আমার এখন জন্মরাত চলছে । রাত ১২টার পর থেকে নতুন একটি তারিখ বিবেচনা করার কারনে আমাদের সবার জন্মদিনই আসলে রাত থেকে শুরু হয় । আমি অন্ধকারের মাঝে উঠে বসলাম , আমার রুম টা অবশ্য পুরোপুরি অন্ধকার নয় , জানালার পাশে একটা রোডলাইট থাকায় কিছুটা হলদেটে আলো আমার রুমে ঢুকে পড়ে । আমি সেই হলদেটে আলোয় মোবাইলটা হাতে নিয়ে মূর্তির মত বসে থাকলাম । মোবাইলের ঘড়িটা সময় জানাচ্ছে রাত পৌনে ২টা । আমার একই সাথে ভীষণ কষ্ট এবং ভীষণ রাগ লাগছে । অনেক্ষন ধরে কেদেছি বলে চোখ দুটো ব্যাথা করছে । কারো কাছে নিজের মনের নির্ভরশীলতা দিয়ে দেয়াটা খুব বোকার মত একটি কাজ । এটা যে আমি আজ রাতে টের পাচ্ছি তা নয় ,যখন থেকে প্রহরকে ভালবেসে ফেলেছি তখন থেকেই বুঝতে পারছি ।

 

প্রহর আর আমি একই ভার্সিটিতে পড়তাম , ও আমার দুই বছরের সিনিয়র ছিল । আমি তাকে সারাক্ষণ পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখতাম । তার ক্লাসের ছেলেরা যখন ভীষণভাবে ভার্সিটি লাইফটাকে এনজয় করত , তাকে তখন পাওয়া যেত লাইব্রেরীর বইয়ের সাম্রাজ্যে । আমি মাঝেমাঝে লাইব্রেরিতে গেলে তার সাথে দেখা হয়ে যেত । বিজ্ঞানের প্রেমে মত্ত এই ছেলেটির সামনে পড়লে আমার নিজেকে খুব অপ্রস্তুত মনে হত । লাইব্রেরিতে নোট তৈরির ফাঁকে ফাঁকে তার সাথে আমার মোটামুটি পরিচয় হয়ে গেল । প্রয়োজনের বেশি কথা বলতনা একদম । তবে দেখা হলে ' কেমন আছ ?পড়াশোনা কেমন চলছে?' জিজ্ঞেস করত । এই ছিল আমাদের পরিচয়ের সীমানা । আমি তার উপর তখন একদম ই দুর্বল ছিলাম না । বরং বন্ধুদের আসরে প্রহরের '' মহাআতেল '' নামটি আমিই দিয়েছিলাম ।

 

প্রহর পাস করে চলে যাওয়ার পর আমি মাঝে মাঝে লাইব্রেরিতে গিয়ে এমনি এমনি বসে থাকতাম । বই সামনে নিয়ে বসে থাকতে থাকতে আমার মনে হত ব্যাগ কাধে নিয়ে চশমা ঠিক করতে করতে প্রহর লাইব্রেরীর দরজা দিয়ে ঢুকছে । আমাকে বেশিরভাগ সময় লাইব্রেরিতে পাওয়া যেত বলে আমার বন্ধুরা আমাকে পচাতে লাগল , আমার নাম হয়ে গেল '' মহাআতেলের সেকেন্ড এডিশান '' আমি অবাক হয়ে লক্ষ করলাম , এই নাম পেয়ে আমার বেশ খুশি খুশি লাগছে । আমার বন্ধুদের আমি সেটা বুঝতে দিলাম না । 

 

পরবর্তী দুই বছর প্রহরকে আর একটা দিনের জন্যেও দেখা যায়নি । শূনতে পেয়েছিলাম সে তার নিজের শহর চিটাগাং চলে গিয়েছে , সেখানেই কোন এক কোম্পানিতে অনেক ভাল একটা চাকরী করছে । আমি ততদিনে এতটুক বুঝতে পেরেছি যে এই কাঠখোট্টা ছেলেটিকে কোন এক অজানা কারনে আমার ভীষণ ভাল লাগে , তবে আমি এটাও বিশ্বাস করতাম প্রহর একটা মরীচিকার মতন , তাকে ছোঁয়া আমার পক্ষে কখনই সম্ভব হবেনা । আমি এটা মেনে নিয়েছিলাম যে আমি নিশ্চয়ই প্রহরকে ভালবাসিনা । নিজেকে বারবার করে এই কথাটা এতবারই বোঝাতাম যে একসময় আমার মন আমাকে অবাক করে দিয়ে একটি প্রশ্ন করল , আমি কি সত্যিই তাকে ভালবাসিনা ? 

 

একদিন বাসায় ঢুকে দেখি আমার আব্বু আম্মু আর ভাইয়া খুব হাসাহাসি করছে । আমাকে দেখে তারা মুখ চেপে হাসতে গিয়ে ব্যাপক হাসির প্লাবন ঘটিয়ে দিল । হাসির কারনটি হল ,কোন এক ছেলে ঘন্টা দুয়েক আগে নিজে এসে  আম্মু আব্বুকে বলেছে সে আমাকে বিয়ে করতে চায় , আব্বু তাকে বলেছে সে কেন তার বাবা মা কে পাঠায়নি । ছেলেটা বলেছে সে ভয় পাচ্ছিল তার বাবা মা কে পাঠাতে তাই নিজেই চলে এসেছে । ছেলেটা কি ভীষণ রকম ভীতু, ভয়ে নিজের বিয়ের কথা  নিজেই বলতে এসেছে - এটা নিয়েই চলছিল হাসাহাসি । ছেলেটাকে তাদের ভাল লেগেছে কিন্তু এরকম ভীতু ছেলের হাতে আমার মত ফাজিলের শিরোমনিকে ধরিয়ে দিলে সেটাও একটা হাস্যকর ব্যাপার হবে । আমি ও ঘর কাপিয়ে হাসছিলাম যতক্ষণ না শুনেছিলাম ছেলেটির নাম প্রহর হাসান ।

 

প্রহরের সাথে আমার দ্বিতীয় পরিচয় হয়ে গেল পারিবারিক ভাবে । আমি জানতে পারলাম সে আমাকে ভালবাসে ,কিন্তু নিজের অনুভুতি প্রকাশে ব্যর্থ হয়ে সে বিয়ে ভিন্ন আর কোন পথ খুজতে যায়নি । প্রহর বাকি জীবনের জন্যে আমার হাত ধরতে চায় , আমার জন্যে এতটুকুই যথেষ্ট ছিল । আমি আমার মনে বন্দি থাকা অনুভুতির দুস্টু পাখিটাকে উড়িয়ে দিলাম । প্রহর চিটাগাং থাকত , তবে কথা  ঠিক হল , ও তিন মাসের মাঝে ঢাকাতে শিফট হবে আর তারপর আমাদের বিয়ে হবে । 

 

প্রহর কে যতটা চুপচাপ দেখতাম ভেতরে ভেতরে ও আসলে ঠিক ততটাই চুপচাপ । ওর কাছে রিয়েল হিরো ছিল আইন্সটাইন, নিউটন , ম্যাক্স প্লাংক ,ইয়ং , ম্যাক্সওয়েল । কিভাবে তারা বিজ্ঞানকে এত কিছু উপহার দিয়েছে এসব কিছুতে ও রোমাঞ্চিত হত । প্রথম  প্রথম ওর এসব কথা আমি মন দিয়ে শুনতাম ,কিন্তু একসময় আমার মনে হতে লাগল , ও কেন আমার সাথে থেকেও আমার মাঝে সীমাবদ্ধ  থাকেনা ? আমার বন্ধুদের বয়ফ্রেন্ডরা তাদের কত কেয়ার করে আর আমি প্রহরকে দেখতাম ওর নিজের জগতে আটকে থাকতে । আমি নিজে থেকে নিজের কথাগুলি ওকে বলতে পারতাম না , খুব আশা করে থাকতাম যে ও নিজেই সব বুঝে নেবে । আমি রেগে থাকলে আমাকে জ্বালানোর মত হাসি দিয়ে বলত ,'' আমি কিন্তু একদমই ঝগড়া করতে পারিনা '' তারমানে কি আমি ওর কাছে ঝগড়াটে হয়ে গেলাম ?

 

সারাদিন অফিস , প্রেজেন্টেশান এসব নিয়েই প্রহরের ব্যাস্ততা । অফিসের ব্রেকে আমার সাথে টেক্সটিং করত । প্রতিদিন রাত ১১টায় আমাকে কল দিত । ১২টার দিকে ওকে ঘুমাতে পাঠাতাম কারন আমি জানি ও অফিসে কখনই লেইট করতে চায়না । আমি ওর উপর বেশিরভাগ সময় ই রেগে থাকতাম , রাগে আমার মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত জ্বলতে থাকত কিন্তু ও সব বুঝেও আমার রাগ ভাঙ্গাত না ,আমি কিছু রাগ ঝাড়লেই সেই এক কথা '' আমি কিন্তু একদমই ঝগড়া করতে পারিনা '' আমার বলতে ইচ্ছে করত ,'' ঝগড়া লাগাতে তো ভাল পারো '' কিন্তু আমি কিছুই বলতে পারতাম না । কোন এক অসীম ভালবাসার টানে আমার রাগ নিজে থেকেই গলে পানি হয়ে যেত । আমি অন্ধের মত এই ছেলেটাকে ভালবাসতাম । কোন মানে হয় ? 

 

এই মাঝরাতে শুয়ে শুয়ে আমি এসব আবোলতাবোল ভাবছি । আজ আমার জন্মদিন , প্রহর এটাও কেন ভুলে গেল ? কিভাবে ভুলে গেল ? আজ রাতে সে আমাকে ফোন পর্যন্ত দেয়নি , প্রথমে ভেবেছিলাম     জন্মদিনে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্যে ঠিক রাত ১২টায় ফোন দেবে । ঘড়িতে রাত ১২টা বাজল , আমার সব ফ্রেন্ড্ররা আমাকে উইশ করল , অথচ যার জন্যে অপেক্ষা করে আছি তার কোন খবরই পেলাম না । আমি বালিশে মুখ চেপে কাঁদতে লাগলাম । সাড়ে ১২ টার দিকে কান্না থামিয়ে উঠে বসলাম । আমার এখন সত্যি রাগ করা উচিত , কিন্তু নিজেকে অবাক করে দিয়ে আমি প্রহরের জন্যে দুশ্চিন্তা করা শুরু করলাম । আমি ভাবতে লাগলাম , ও নিশ্চয়ই কোন সমস্যায় পড়েছে তা নাহলে আমার জন্মদিনের কথা কিভাবে ভুলে গেল । আমি ওকে একটার পর একটা টেক্সট করতে লাগলাম কিন্তু কোন রিপ্লাই ই পেলাম না । আমি কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহকে ডাকতে লাগলাম , বলতে থাকলাম , আমি আমার জন্মদিনে উইশ চাইনা আল্লাহ , তুমি ওকে ভাল রাখ । 

 

রাত দেড়টার দিকে ৫০ তম টেক্সট করে আমি শুতে যাব , ঠিক তখন প্রহর কল করল , আমি ফোন ধরে চুপ করে থাকলাম , ও বলল ,

'' প্রান্তি ''

'' তুমি ঠিক আছ ?''

'' আমি ? হ্যা , little bit tired তাই আজকে ফোন দিতে পারিনি , সরি প্রান্তি ''

'' শরীর খারাপ তোমার ?''

'' কাল অফিসে একটা প্রেজেন্টেশান আছেতো তাই সারাদিন অনেক কাজ গেছে, বাসায় এসে খেয়ে বেডে আসতেই ঘুম '' 

'' হুম ঘুমিয়ে পড়''

'' তুমি ঘুমাও নি কেন ?'' 

'' এমনি ''

'' শোন প্রান্তি রাতে জেগে থাকা ঠিক না .........'' ও রাত জাগা নিয়ে এক বিজ্ঞানির রিসার্চ বর্ণনা করতে লাগল । আমার কানে কিছুই ঢুকল না , আমার কেবলি মনে হতে লাগল , প্রহর আমার জন্মদিন ভুলে গিয়েছে । ওর মত অসাধারন মেধাবি ছাত্রের আমার মত মানুষের জন্মদিন মনে রাখার কি অবকাশ আছে ?আমি ত আইন্সটাইন কিংবা ম্যাক্স প্লাংক নই , আমি প্রান্তি , আমার কোন কিছুতে ওর কিছু আসে যায়না । ও  আমাকে বিয়ে করে আমাকে ধন্য করতে চায় , তাছাড়া ওর কোন ঠ্যাকা নেই । আমি শুনলাম ও বলছে , 

'' তোমার গলা মনে ভাঙ্গা শুনলাম, ঠান্ডা লেগেছে ?''

'' হ্যা , রাতে গোসল করেছি তাই ''

'' কেন যে কর , জানো রাতে গোসল......''

প্রহর হয়ত আর কিছু জ্ঞান মুলক উপদেশ বিনা মুল্যে দিত কিন্তু আমার আর ভাল লাগল না ,বললাম, 

'' আমার খুব ঘুম পাচ্ছে প্রহর , রাখছি '' আমি ফোন কেটে দিলাম ।

 

রাত সাড়ে তিনটা । taylor swift এর ''white horse'' গানটা শুনতে শুনতে আমি খুব কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম , আমার কানে তখনও বেজে চলেছে গানটির একটি লাইন,

i am gonna find someone someday who might 

actually treat me well 

 

 

২. আমি সকাল সাড়ে ১১টা বাজে পেট ভরে নাস্তা খেয়ে আমার রুমে আসলাম । ফোন টা হাতে নিয়ে চোখ বন্ধ করে একটা বড় নিঃশ্বাস নিলাম । প্রহরকে ফোন দিলাম , দুইবার রিং হবার পর ও ফোনটা ধরল,

'' হ্যা প্রান্তি বল , একটু তাড়াতাড়ি ok? i am in a hurry ''

'' আমি তাড়াতাড়িই বলব প্রহর''

'' হুম বল ''

'' প্রহর , আমি মনে করি আমি তোমার লেভেলের না । আমি খুব সেন্টিমেন্টাল ইমোশনাল টাইপ মেয়ে । আমি তোমাকে আর ডিস্টার্ব করতে চাইনা । i am breaking this engagement ''

আমি ওপাশ থেকে কিছু শুনার জন্যে অপেক্ষা করলাম , প্রহর কিছু বলছেনা দেখে বললাম , '' প্রহর ?''

'' হুম''

'' তুমি শুনেছ কি বলেছি ?''

'' হ্যা ''

কান্না গলায় আটকে রেখে বললাম , '' বাসায় এসে রিং টা নিয়ে যেও । বাই ''

ফোনটা কেটে দিয়ে আমি চিৎকার করে কাঁদতে লাগলাম । আমার কোন কিছুতে কিচ্ছু আসে যায়না ।

 

বাসার সবাই মিলে আমাকে সারাদিন ধরে আমাকে বুঝাল এভাবে চাইলেই এঙ্গেজমেন্ট আমি ভেঙ্গে দিতে পারিনা । তাদের চোখে প্রহরের কোন দোষ ধরা পড়ল না । আম্মু আমাকে বুঝাল , কিছু কিছু মানুষ এরকম পড়াপাগল হয় , প্রহর ও সেরকম , কিন্তু ও মোটেই খারাপ মানুষ না , আমি ওর সাথে অন্যায় করছি । আমার এসব কথা বিশ্বাস করতে খুব ইচ্ছে করল , কিন্তু আমি চিৎকার করে নির্লজ্জের মত বলতে লাগলাম '' ও আমাকে একটুও ভালবাসেনা ''  

 

আমাকে কেউ বুঝাতে পারলনা । আমি তো প্রহরের কাছ থেকে ডেইলি ডেটিং চাইনি , ও আমার থেকে অনেক দূরে আছে , আমি চেয়েছিলাম ও যেন আমার সাথে থাকার মুহূর্ত গুলোতে আমার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে , আমাকেই যেন কেয়ার করে , অথচ ও কিছুই বুঝল না । যেখানে ও নিজেকে অবুঝ বানিয়ে রেখেছে , সেখানে আমি '' বুঝুইন্না পার্টি '' হয়ে ভাব দেখাতে পারবনা ।

 

বিকেলে আমি ল্যাপ্টপে গান বাজিয়ে বসে বসে শুনতেই সামনে দেখতে লাগলাম আমার রুমের দরজায় প্রহর দাঁড়িয়ে আছে । আমি চোখ সরিয়ে নিলাম , আমি নির্ঘাত পাগল হয়ে গেছি , তাই এখন প্রহর কে কল্পনা থেকে বাস্তবে নামাতে পেরেছি । কিন্তু আমি আবার সামনে তাকিয়ে দেখলাম প্রহর আমার রুমে ঢুকে আমার ল্যাপ্টপ অফ করে দিচ্ছে । সমস্যা হল , এটা কিছুতেই প্রহর হতে পারেনা । কারন ও চিটাগাং থাকে, ওকে আমি সকাল সাড়ে ১১ টায় ফোন দিয়েছিলাম , ও যদি তখন ও ট্রেন ধরে তাও বিকেলে পৌঁছানোর কথা না , আর সবচেয়ে বড় কথা আজকে ওর অফিসে প্রেজেন্টেশান । আমি বেড থেকে উঠে দাঁড়ালাম । প্রহরকে  দাঁড়িয়ে থাকতেই দেখলাম । আমি অস্ফুট স্বরে বললাম ,

'' প্রহর ?''

'' হ্যা ''

'' তুমি সত্যি এসেছ ?'' 

'' আসতে হল'' 

'' কেন?''

'' রিং নিয়ে যেতে এসেছি ''

আমি আঙ্গুল থেকে আংটি খুলে ছলছল চোখে প্রহরের দিকে তাকালাম , ওর দিকে আংটি বাড়িয়ে দিলাম । ও আংটিটা নিল ,তারপর আমার দিকে দুই পা এগিয়ে আসল । 

 

আমার রুমে আমার আব্বু আম্মু ভাইয়া ১০ মিনিট হল দাঁড়িয়ে আছে । আমার রুম থেকে একটা '' ঠাশ '' শব্দ শুনে তারা দৌড়ে এসেছে । ব্যাপার তেমন কিছুই হয়নি , আমি একটা থাপ্পড় খেয়েছি । থাপ্পড়টা খেয়ে আমিও ১০মিনিট ধরে গালে হাত দিয়ে প্রহরের দিকে হা করে তাকিয়ে আছি । প্রহর চিল্লাচ্ছে , সে আমার জন্মদিন সেলিব্রেট করার জন্যে সকাল সাতটার ট্রেনে উঠেছে , কাল রাত থেকে নাটক করেছে । আমি গালে হাত দিয়েই বললাম ,

'' আমার জন্যে তোমার কোন টান নেই , তোমার সব টান আইন্সটাইন......''

কথা শেষ হওয়ার আগেই শুনলাম প্রহরকে আম্মু  বলছে , '' বাবা ওকে আরেকটা থাপ্পড় দাও '' 

আমি ভ্যা করে কেদে ফেললাম । আব্বু আম্মু হাসতে হাসতে চলে গেল , আর ভাইয়া হাত তালি দিতে দিতে গেল ।

প্রহর আমাকে বলল , '' আরেকটা দিব ?''

'' দাও , আমি মরলে তোমার কি তাইনা ? তুমি মহিলা আইন্সটাইন কে বিয়ে করবা ''

প্রহর কান ধরে বলল , '' আমি ভুল করেছি এতদিন , আমাকে লাত্থি ঘুশি দাও , তাও ব্রেক আপের কথা বইল না , প্লিজ ?''

আমি এক মুহূর্ত দেরি না করে ঘুশি মারা শুরু করলাম ।

 

আমি বুঝতে পারলাম এই উজবুক ছেলেটা আসলেই আমাকে অনেক বেশি ভালবাসে ।

 

বড় বিচ্ছিরি রকম সেই ভালবাসা ।   

 

 

Share