আত্মদহন

লিখেছেন - সিনি মনি | লেখাটি 1316 বার দেখা হয়েছে

রাফিয়া ,
 
জানিনা কবে তুই বড় হবি !! সেদিন তোকে এই চিঠিটা দেব ,কিরে সেদিন তুই ভয় পেয়ে পালিয়ে যাবি না তো ?? ২ বছরের লাড্ডুটার মত ভ্যা ভ্যা করে কেদে ফেলবিনা তো আবার ?? নাকি তোকে জ্বালিয়েছি বলে আব্বার কাছে এসে নালিশ দিবি ?? কান্নার দমকে কাঁপতে কাঁপতে গাল লাল করে ?? ভারি মিষ্টি লাগে রে তখন তোকে । যদিও কখন ও বলিনি তোকে , ক্লাস এইটে পড়ছিস , এখনও কিছু বুঝিস না , এটা কেমন কথা ? নাকি আড়াল করে রাখিস নিজেকে ? ভয়ে ? এত ভয় কিসের রে তোর ? আমাকে চোখে দেখিস না ?
 
দেখ রাফিয়া তুই যতই পালাস , আমার হাত থেকে তোকে কেউ নিয়ে যেতে পারবেনা বলে দিলাম ! এইতো এবার কলেজে উঠে গেছি ,বড় পাস দিতে আর কতদিন ? জানিস মাস্টার মশাই বলেছেন আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে ! অনেক ভাল ফলাফল করলেই আমি সেখানে পড়তে পারব । সেদিন থেকে আমি উঠে পড়ে লেগেছি , ওখানেই আমি পড়ব ! কি রে পাগলি ,ভাবছিস এটা আবার কোন স্কুল ,এই গ্রামের নাকি পাশের গ্রামের? তাইতো ?? থাক এত কিছু বুঝে কাজ নেই , তোকে  সামনাসামনি ই দেখাব । কিরে যাবি তো তখন আমার সাথে ?? সেদিন কিন্তু তুই নীল একটা শাড়ি পরবি , কপালে ছোট্ট একটা নীল রঙ্গা টিপ । আমি মুগ্ধ হয়ে তোকে দেখব রে !
 
সবকিছু শেষ হতে মনে কর আরো কয়েকটা বছর লেগে যাবে । এই ধর ১৯৭৩ নাগাদ তোকে আমার করে নেব । ততদিন কিন্তু লাড্ডু আর তোর সই দীপালী ছাড়া আর কারো সাথে খেলবিনা । ওই ন্যাকা রতনের সাথে আবার যদি তোকে পড়তে দেখেছি তবে ............ কাঁদতে কাঁদতে আবার কিন্তু আমার আব্বার কাছেই আসতে হবে তোকে । 
  
কি রে বেশি বকে দিলাম ? কি করব বল,আমি যে তোর জন্যে খুব হিংসুটে হয়ে গেছি ! 
 
কি পরিমান পেকে গেছি দেখেছিস তো ?? মাত্র কলেজে পড়ি আর কি পাকা পাকা কথা লিখতে শিখেছি দেখ ! সব তোর জন্যে । কেন যে তোর সাথে জামাই বউ খেলতাম ..................''
 
চোখটা আবার ঝাপসা হয়ে এল আমার । ইশতিয়াক ভাইয়ের এই চিঠিটা আজ কতবারের মত পড়ছি মনে নেই ,একটা কাগজ কয়েকটা লেখা , তবুও এই চিঠিটা আগলে রেখেই জীবনের এতগুলি বছর পার হয়ে এসেছি আমি । আমার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল । এই একটা মাত্র চিঠি ।
 
ছোট্টবেলা থেকে যাকে ঘিরে আমার সব খেলা সে এই ইশতিয়াক ভাই । জামাই বউ থেকে শুরু করে কানামাছি , কোন খেলাই বাদ পড়েনি । মার ও খেয়েছি ভীষণ ,এখনও চোখের সামনে ভেসে আসে , মার খেয়ে উঠোনে পা ছড়িয়ে কাঁদছি আমি , আর পাশে বসে আমাকে মেরে দ্বিগুণ চেঁচিয়ে কাঁদছে ইশতিয়াক ভাই । আমার সেই খেলার সাথি ।
 
বড় হবার পর যখন বুঝলাম আমাকে সে বেশিই অধিকার করে নিয়েছে , তখনি গুটিয়ে গেলাম কিভাবে যেন । আর নিজেকে প্রকাশের সুযোগ পাইনি কোনদিন । এই দেশের এক মুঠো মাটি কিনতে দাম হিসেবে ওকে যে বিসর্জন দিয়েছিলাম ৭১ এ !
 
সেই বুলেটে ঝাঝরা হয়ে যাওয়া দিনগুলি একে একে আমার সব স্বপ্ন গুলিকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে । 
 
আমাদের ছবির মত গ্রামটায় যেদিন সেই পাকপশু গুলি শ্বাপদের হিংস্র কামড় লাগাল সেদিন কাল বৈশাখীর কালো ঘন মেঘে ছেয়েছিল বিশাল এই আকাশটা । আম কুড়ানো আর বৃষ্টি গায়ে লাগানোর কিশোর সুলভ আনন্দে দীপালীর সাথে হই হই করে বেরিয়েছিলাম । হঠাত দানবের মত হাহাকার তুলে কারা যেন দিগ্বিদিক শুন্য হয়ে গ্রাম টাকে জ্বালিয়ে দিতে থাকে । অস্থির হয়ে ছুটতে ছুটতে বাড়ির দিকে দৌড়াচ্ছিলাম । বাড়ির কাছের ঝোপ থেকে হঠাত ইশতিয়াক ভাই ধরে ফেলে আমায় ।
'' পাগল হয়ে গেছিস রাফিয়া ? যাচ্ছিস কই ?''
'' বাড়ি যাব । গ্রামে কারা যেন এসেছে ইশতিয়াক ভাই ।জ্বালিয়ে দিচ্ছে সবকিছু । আমি বাড়ি যাব ''
'' ওরা বাড়ি বাড়ি ঢুকে মানুষ মারছে , চল আমার সাথে ''
'' আমার আব্বা আম্মা .........'' দানবীয় সেই গর্জনে আমার কন্ঠ ইশতিয়াক ভাইয়ের কানে পৌঁছায় নি ।
 
বাড়ির পিছনের ডোবাতে কোনরকমে ডুবে থাকতে থাকতে দেখলাম , কি ভীষণ রকম তেজ হয় আগুনের ! কি ভীষণ ভাবে পুড়িয়ে দেয় সবকিছু । কি ভীষণ ভাবে রক্তে জাগিয়ে দেয় প্রতিশোধের আরেক আগুন ।
 
আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি কি ভীষণ মেঘ ! সৃষ্টিকর্তার অসন্তোষের যে প্রতিচ্ছবি আমি সেদিন সারা আকাশজুড়ে দেখেছিলাম তা আজো ভুলতে পারিনা । চারিদিকে বুলেটের কর্ণ বিদারী আওয়াজ , মানুষের মরনকান্না , দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন । অবাক বিস্ময়ে দেখেছিলাম, সৃষ্টিকর্তার রহমতে নেমে আসা পবিত্র জলকণা কিভাবে  সেদিন নিভিয়ে দিয়েছিল ক্ষুধার্ত হায়েনার মত খেপে ওঠা আগুন কে ।
 
সেদিন বাড়ি ফিরে এসে আমি আমার নিজের সামনে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন নির্মম দর্পণ টি দেখতে পাই , সেই দর্পণে আমি আমার ছোট্ট পৃথিবীটার ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাই। আমার বিম্বের পাশে আর কারো বিম্ব দেখার জন্যে আমি আমার বাড়ির আর কাউকে জীবিত পাইনি সেদিন । আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনা আমার ক্লান্ত পা দুটো , আমার কাধে তখন ইশতিয়াক ভাইয়ের সাহস জাগানো  হাত । আমাকে শক্ত হয়ে বসে থাকতে দেখে চিৎকার করে বলল ,
'' কাঁদছিস না কেন তুই ?? দোহাই তোর ! চিৎকার করে একটু কাঁদ !আমিও যে হারিয়েছি সবাইকে ''
 
আমি কাঁদতে পারিনি ।
 
সেদিন আমি হঠাত ই অনেক বড় হয়ে গেছিলাম ইশতিয়াক ভাই । 
 
সব হারানো  আমাকে বুকে টেনে নেয় দীপালীর পরিবার । সেদিন ডোবাতে আশ্রয় নেয়ায় দীপালী আর ওর বাবা মা  বেঁচে গিয়েছিলেন । ওরা ভারতে আশ্রয় নেয়ার বন্দোবস্ত করতে লাগল । আমি অসাড় হয়ে বসেছিলাম শুধু । পরদিন বিকেলে ইশতিয়াক ভাই আমাকে বলল , 
''আমি যুদ্ধে যাচ্ছি রে ''
আমি কোন কথা বলতে পারছিলাম না , অনেক কষ্টে বললাম , '' নেবে আমায় সাথে ??''
'' না , তুই পারবিনা , ছোট এখনও তুই । দীপালীদের সাথে ভারত চলে যা । আর কোন কথা নয় ।''
আধা ঘণ্টা আমার সাথে ছিল ইশতিয়াক ভাই । আর কথা বলিনি আমি । বিদায় নেবার মুহূর্তে ইশতিয়াক ভাই আমার দুই কাঁধে হাত রেখে বলল ,
'' একদম কাদবিনা ! দোয়া করিস , দেশটা যেন স্বাধীন করতে পারি । দেশ স্বাধীন হলেই আমি তোকে আমার কাছে নিয়ে আসব রে ''
 
আমার চোখের দিকে আরো একবার তাকিয়ে বলল ,
'' কথা দিচ্ছি '' ।  
 
কথা তুমি রাখ নি ।
 
ইশতিয়াক ভাই আর আমার অস্তিত্ব মিশে থাকা ছোট্ট গ্রামটিকে ছেড়ে আমি যেদিন দীপালীদের সাথে পা বাড়ালাম , সেদিন বুঝতে পারছিলাম , আমি আর বেঁচে নেই , একটি মৃতদেহ মাত্র । কিন্তু সবকিছু ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিলনা আমার । এই পৃথিবীটায় আমি তখন ভীষণ রকম একা । আর সেই ভয়ংকর সময়টা মেয়েদের জন্যে তখন ছিল আরো বেশি ভয়ংকর ।
 
কলকাতায় দীপালীর বড়দির বাসায় ঠাই পেলাম । সেই নিষ্প্রাণ অলিগলি তে আমার দম বন্ধ হয়ে আসত । আমার কোন বর্তমান ছিলনা , ছিলনা কোন ভবিষ্যৎ । শুধু অতীত ছিল , যা আমায় বাঁচিয়ে রেখেছিল বেঁচে থাকতে হবে বলে । একলা রাতগুলিতে জানালার গ্রিল ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আমি শুধু কেদে গেছি , চিৎকার করবার ভাষা পেলে হয়ত বলতাম , '' আমায় তুমি নিয়ে যাও । দোহাই তোমার !!''
 
কলকাতায় আমরা যে পাড়ায় ছিলাম তাতে আশ্রয় নিয়েছিল আরো কিছু বাংলাদেশি । তাদের মাঝে কিছু ছেলেমেয়ে সিদ্ধান্ত নেয় , আর পালিয়ে থাকার সময় নেই , এবার উপস্থিত হতে হবে ময়দানে । আমি ও শুনতাম তাদের জেগে উঠবার মন্ত্র । না ইশতিয়াক ভাই , তোমার রাফিয়া এই সুযোগটি হাতছাড়া করেনি সেদিন । দীপালীকে একটি চিঠিতে সব জানিয়ে দলের সাথে চলে আসি আমার দেশের মাটিতে । বাঁচতে না পারি , মরতে তো পারব !
 
একটাই জীবন আমার , তা হারিয়ে ফেলার ভয় আর যুগযুগ ধরে করতে চাইনা । হয় এস্পার নয় ওস্পার । 
 
শুরু হল ট্রেনিং । তুমি কি কখনও ভেবেছিলে ইশতিয়াক ভাই , আমার এই পুতুল খেলার হাত দুটিও বন্দুক ধরতে পারে ?? ভাবতে পেরেছিলে, যে হাত তোমায় ভালবাসতে চেয়েছিল সেই হাত জাহান্নামের কীট ধ্বংস করতে পারে ?? তোমার রাফিয়া তখন অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল ইশতিয়াক ভাই । প্রতিশোধের আগুনে পুড়ে সে খাটি হয়েছিল । 
 
আমি ধরা পড়বার আগে পাঁচটি অপারেশনে গিয়েছিলাম । মেয়ে বলে কেউ বুঝতেই পারেনি , পরনে শার্ট প্যান্ট ছিল যে !  
 
আমার সাথে ইশতিয়াক ভাইয়ের শেষ দেখা হয় মিলিটারি ক্যাম্পে । আমি আর জহির ভাই স্পট থেকে ধরা পড়েছিলাম । আমি আর জহির ভাই যখন হাত পা বাঁধা অবস্থায় দাঁড়ানো  তখন দেখি আমার জীবনের সবটুকু  আলো নিয়ে আমার থেকে কিছু দূরে বসে থাকা আমার ভালবাসার মানুষটি আঁধারের সাথে নিরন্তর পাঞ্জা লড়ছে । 
 
গরম করা লোহার ছ্যাক দিয়ে তার মুখ থেকে দলের খবর নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল ক্যাম্পের মেজর । আমার চোখের সামনে ইশতিয়াক ভাইয়ের চুল মুঠি করে ধরে মেজরের চামচা এক রাজাকারের বাচ্চা ।আমি দেখেছি কি অসহ্য সহ্যক্ষমতা নিয়ে সে জবাব দিয়েছিল ,
'' আমি জানলেও তোদের কিচ্ছু বলবনা !! আমাকে মেরে ফেললেও না !!''
'' বল !!!!!!!!!'' গরম শিকের ছ্যাক আবার , '' নয়ত একদম মেরে ফেলব কুত্তার বাচ্চা !!''
'' মেরে ফেল , তাও বলবনা ", মেজরের মুখে থুতু ছিটিয়ে দেয় ইশতিয়াক ভাই ।
আমি নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে দেখলাম , মেজরের আদেশে রাজাকার টা ইশতিয়াক ভাইকে দাঁড় করিয়ে দিল ।
 
তারপর...............
 
একটা বুলেটের আওয়াজ ............
 
আমার আর কিছু মনে নেই । জ্ঞান ফেরার পর দেখলাম আমি ক্যাম্পে নই । আবার জ্ঞান হারালাম । 
 
পরে জেনেছিলাম,আমাদের উদ্ধারে এসেছিল মুক্তিবাহিনী । আমি তাই বেঁচে গিয়েছিলাম , বাঁচার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও । 
 
তার কিছুদিন পর ... জন্ম হল স্বাধীন বাংলাদেশের । ইশতিয়াক ভাইয়ের সহযোদ্ধারা আমাকে ওর ব্যাগটা দিয়ে যায় । তার মাঝেই পেয়েছিলাম চিঠিটা । 
 
'' 
............   তোর জন্যে লেখা এই চিঠিটা কবে শেষ হবে আমি জানিনা রে । কতদিন থেকেই তো একটু একটু করে লেখছি  । মাঝে মাঝে তোর চোখের ভাষা পড়বার খুব ইচ্ছে হয় , জানিস ? কি অযৌক্তিক চাওয়া আমার , দেখ ! তোর চোখের দিকে তাকাবার সুযোগ আমার একদিন ই হয়েছিল , যেদিন সব হারিয়ে তুই পাথর ! আমি চাইনিরে ওই চোখ নিয়ে তুই আমার দিকে তাকাস । তোকে কথা দিচ্ছি , যারা আমার ভালবাসার চোখকে পাথর করে দিয়েছে , আমাকে সর্বহারা করেছে , আমার দেশের মাটিকে নোংরা করছে দিনকে দিন , তাদের আমি বাংলা থেকে হটাব । তুই দেখিস !!
 
আমার উপর রেগে আছিস কি ? তোকে সাথে নেইনি বলে ? কি করব বল ? তোর যে এই লড়াইয়ে অনেক কষ্ট হবে ! তোকে এতটুকু কষ্ট পেতে দেখলেই যে আমার বেঁচে থাকার ইচ্ছে শেষ হয়ে যায় । আমি যে তোকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই রে ! তাই তোকে পবিত্র একটা দেশ উপহার দিতে চাই । তোকে যে বাঁচতে হবে । আমি বাঁচার জন্যে না থাকলেও । আমাকে বিশ্বাস কর !!............''
 
আমি বেঁচে আছি । তুমি আমায় বাঁচতে বলেছিলে , তাই বিধাতা আমায় বাঁচিয়ে রেখেছে । আমি শুধু শুধু বেঁচে আছি তা কিন্তু নয় ইশতিয়াক ভাই । আমার ভেতরের প্রতিশোধের আগুন এখনও নিভেনি । তুমি কি আমার কথা শুনছ ?? তুমি জানো , যে রাজাকারের বাচ্চা তোমায় অত্যাচার করেছে সেই দবির রাজাকার এখন ধর্মের মুখোশ পড়ে দেশপ্রেমের নোংরা রুপ দেখাবার সাহস করছে ?? তুমি কি কষ্ট পাচ্ছ ?? আমি জানি অনেক কষ্ট পাচ্ছ তুমি । কষ্ট পাচ্ছে সকল শহীদের আত্মা । ওদের যে থামাতে হবে ! 
আমি ওদের থামানোর মিছিলে আছি ইশতিয়াক ভাই । তুমি আশীর্বাদ করছ তো আমায় ??
 
''..................... তোর মনে আছে রাফিয়া ?? তোকে আমি একবার মেলা তে নিয়ে গিয়েছিলাম , লাল টুকটুক চুড়ি দেখে তোর সে কি বায়না !! আমি আমার কুলফি খাওয়ার পয়সা দিয়ে তোকে চুড়ি কিনে দিয়েছিলাম । তোর অতটুক হাত ভরা চুড়ি দেখে অতটুক বয়সেই আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়েছিলাম । আমি যেদিন ফিরে আসব তোর কাছে সেদিন ও আমি তোর জন্যে নিয়ে আসব লাল সবুজ চুড়ি ! তুই নিবি তো রাফিয়া ??
 
রোজ রাতে আমি স্বপ্নে দেখি তুই দুই হাত ভরে লাল সবুজ চুড়ি পরেছিস ,তোর পরনে সবুজ জমিনের লাল পাড়ের শাড়ি । তোকে সাথে নিয়ে আমি  স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়াচ্ছি । খোদা কি সত্যি করবে আমার এই স্বপ্ন ??...............''
 
চিঠিটা তুমি শেষ করে যাওনি ইশতিয়াক ভাই । 
 
পরিশিষ্ট   ঃ

প্রতি ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে ৫৭ বছর বয়েসি রাফিয়া জাহান কে দেখা যায় বাড়ির ছাদে লাল সবুজ পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে । চিরদিন শ্বেত বস্ত্র পরিহিতা এই রমণীর পরনে সেদিন থাকে সবুজ জমিনের লাল পাড়ের শাড়ি , দুহাত ভরা লাল সবুজ চুড়ি । যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া এই বজ্রকন্ঠী রমণীর এই শান্ত পরিবর্তিত রুপ দেখে সেদিন কেউ আর অবাক হয়না ।
 
বাঙ্গালির বুকে আত্মদহনের এই আগুন আর কতদিন জ্বলবে ??

 

Share