এখনও দেখা শেষ হয়নি তোকে

লিখেছেন - সিনি মনি | লেখাটি 2497 বার দেখা হয়েছে

আকাশের দিকে তাকিয়ে হঠাত করেই মন টা ভীষণ ভাল হয়ে গেল । সুরমারঙ্গা ছোট ছোট মেঘের ফুল পুরো আকাশটা জুড়ে কি সুন্দর একটা মালা গেঁথে চলেছে । হয়ত আজ খুব করে বৃষ্টি নামবে । বসন্তের লাগিয়ে দেয়া বিরহ আগুনে পুড়ে অঙ্গার হওয়া প্রকৃতির বুকে বৈশাখ হয়ত নামাবে ভালবাসার ঝড় । সেই ঝড় দেখে হয়ত কোন উচ্ছল কিশোরী দোর খুলে নেমে আসবে রাস্তায় , হয়ত রাস্তায় ক্রিকেট খেলারত কোন কিশোর তার দিকে তাকিয়ে রবে স্নিগ্ধ হেসে , হয়ত একঝাক তরুনি ছাদের জমানো জলে ভেজাবে পায়ের পায়েল । আবার হয়ত সেই ঝড়ে আনমনা এক তরুন লেখকের গল্পের পাতা ভিজিয়ে দিবে জানালা দিয়ে আসা বৃষ্টির ফোটা , হয়ত সেই বৃষ্টিতে অপলক তাকিয়ে কোন তরুণী দেখতে পাবে তার এবং তার ভালবাসার মানুষের অবিরাম হেটে যাওয়া । কতই না স্মৃতির পুঞ্জীভূত অনুভূতি এই শ্রাবণধারা !

 

 
রিকশায় বসে এসব ভাবতে ভাবতে আমার অজান্তেই হাসি চলে আসল । এই বৃষ্টি দেখে আমার আসলে কি রোমন্থন করা উচিত ভাবতে পারছিলাম না । তবে আমার যে ভীষণ আকাশকুসুম ভাবতে ইচ্ছে হচ্ছে ! কিছুক্ষনের মাঝে আমি চিরচেনা বুয়েট ক্রস করব । আমার খুব ভাবতে ইচ্ছে হচ্ছে পরিচিত ওভারব্রিজটার নিচ থেকে তুমি আমার রিকশাটা থামাবে । আমি সব দাত বের করে বলব ,
'' ত্রাহি  , তুমি ?''
তুমি এলোমেলো বাতাসে খোলা চুল উড়িয়ে বলবে ,
'' আর কাউকে আশা করেছিলে ??"
'' তুমি যে আমার কাছে দুষ্প্রাপ্য ত্রাহি''
তারপর আমায় কথা না বলতে দিয়ে তুমি রিকশায় উঠে যাবে । তারপর তোমাকে নিয়ে লেখা আমার এলোমেলো কবিতাটা তুমি আমায় শুনাবে ,
'' তোমার নামে উড়িয়ে দিলাম নীলরঙা এক ঘুড়ি 
আমার মনে কেন তোমার অবাধ উড়াউড়ি।
তুমি আমার গিটার তারের অচিন কোন সুর 
মেঘ ঘনিয়ে আসা কোন বৃষ্টিময় দুপুর।
আজকে আমার মেঘলা আকাশ তোমার রৌদ্র দিনে 
ভালবাসার বৃষ্টি নামুক উত্তরে দক্ষিনে ।'' 
 
তোমার কন্ঠে এই কবিতা শুনে আমার  চোখ ভিজে যাবে । তুমি আমায় বলবে , '' নীষ , তুমি কাঁদছ ??''
 
আমি বাস্তবেই আমার মুখে জলের স্পর্শ পেলাম , না কাদছিনা , বৈশাখের প্রথম জল কনা । প্রথম ফোটা পড়ার পর কিছুটা বিরতি , তারপরই শুরু হয়ে যায় অবিরাম বর্ষণ । মুহূর্তেই আমি কাকভেজা হয়ে গেলাম । আচ্ছা , কাক রা ভিজে গেলে তাদের কি আমার মত দেখায় ?? নাকি আমাকেই তাদের মত দেখাচ্ছে ?
 
আমার চশমার কাঁচ বেয়ে বৃষ্টির ফোটা গড়াচ্ছে । যারা  চশমা পরে , তাদের জন্যে বৃষ্টি কিছুটা বিষাদের বটে ! আমি তা বেশ ভাল জানি । কারন চশমার কাঁচ ঘোলা হয়ে বাইরের স্নাত রুপ দেখা খুবই  দুষ্কর , দ্বিতীয়ত, চশমা খুলে ও কিছু দেখা যায়না , বিধাতা চোখ দিয়েছে ,কিন্তু তাতে ঠিকমত আলো ঢুকেনা । তাই আমি খানিকটা বেকুবের মত পানিওয়ালা চশমা পরেই বসে থাকলাম ।  
 
বাসায় গিয়ে মমতাময় কিছু ঝারি খাওয়া আবশ্যক ছিল । প্রথমত ছাতা ব্যাপারটিতেই আমার এলারজি , দ্বিতীয়ত বৃষ্টিতে ভিজতে আমার ' সেইরকম ' ভাল লাগে । আম্মুর চোখ এড়িয়ে হলেও আমি বৃষ্টিতে ভিজি , যেদিন আমি বাসায় থাকতে বর্ষণ ক্রিয়া চলে । আজ অবশ্য আম্মুর ঝারির বিপরীতে আমি কিছু যুক্তি দিলাম । সকালের সোনা মাখা রোদ দেখে বুঝবার কি উপায় আছে যে আজ ঝুম বৃষ্টি নামবে ? 
 
শুকনো কাপড় পরে আমার ডায়েরিটা নিয়ে বসলাম । কিছু লিখব , আমার দুষিত মস্তিস্ক বিশুদ্ধ করতে হবে । কি লেখা যায় যায় বুঝছিনা , তাও লিখলাম ,
'' চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি ত্রাহি শুনছো ?''
তারপর কিছুখন বিরতি । কেবল ই যে লিখতে মন চাচ্ছে , '' তোমায় যে ভীষণ চাই ত্রাহি , কেন আমায় ফিরিয়ে দাও ?'' 
 
তোমার  মনে আছে , ভার্সিটিতে তোমার প্রথম দিনটির কথা ? আমরা সিনিয়র ব্যাচ ডিপার্টমেন্টাল র‍্যাগ দিতে গিয়েছিলাম তোমাদের ক্লাসে । আমি প্রথমেই তোমায় খেয়াল করেছি তা বলবনা , সবার দিকে চোখ বুলাতেই দেখি মাথা নিচু করে গুটিসুটি মেরে আছে একটা মেয়ে । তখন ই কেন যেন টার্গেট করলাম , এই মেয়েকেই আমি পচাবো । তোমায় গান গাইতে বললাম , তুমি চমকে তাকিয়ে বললে ,'' আমি যে গাইতে শিখিনি কখনও !'' আমি বলেছিলাম , '' সবার আড়ালে নিজে যে গাও তা ঠিক জানি , এখন কথা না বাড়িয়ে গান শুরু কর দেখি ! '' 
তুমি আমার চোখের দিকে একবার তাকিয়ে মাথা নিচু করে শ্বাস ফেললে ,তাতেই আমার ভিতর টা এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল , তুমি সেটা জানো ?  তারপর আমি নিঃশ্বাস আটকে তোমার গান শুনতে লাগলাম । 
 
গান শেষে আমার ই জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হচ্ছিল তোমায় , '' তুমি কোন কাননের ফুল ? কোন গগনের তারা ?''  

তোমার চোখের আড়ালে থেকে মুগ্ধ হয়ে তোমায় কতদিন যে দেখেছি তুমি হয়ত তা জাননা মেয়ে । কখনও তোমার সামনেও পড়ে গেছি ,আমার জন্যে তা সৌভাগ্যের হলেও প্রথম দিনের র‍্যাগের কথা ভেবে তোমার হয়ত রাগ হয়েছে বেশ । কতদিন বিনিদ্র রাত কেটে গেছে তোমার শান্ত দুটি চোখের কথা ভেবে । তোমার চোখের পদ্মপুকুরে আমার যে বৃষ্টি হয়ে ছুঁয়ে দেবার ভারি শখ, তুমি কি তা জানতে ?  চশমা ঢাকা আমার এই চোখ দুটি যে ভীষণ আনাড়ি , কিছুতেই বোঝাতে পারেনি মনের কথা ।
 
তোমার মনে পড়ে কি সেই বর্ষাবরন উৎসবের কথা ? গান করতাম বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষাবরন অনুষ্ঠানে একটা গান গাইবার দায়িত্ব পড়ল আমার উপর । আমি ইতিউতি করে বলেছিলাম , '' সবাই সিঙ্গেল গাবে ? একটা দ্বৈত হওয়া উচিত নয় কি ??'' তোমার সাথে গাইবার লোভে নিজেকে সবার কাছে পচানোর উপকরন তৈরি করেছিলাম । তবে পচানো শেষে সবাই বলল ,'' ঠিক আছে , তোর প্রস্তাব টা বেশ ভাল । পার্টনার খুঁজে দেখ তাহলে ! '' আমি এক ছুটে তোমার কাছে গিয়েছিলাম । 
 
''ত্রাহি , একটা গান গাইতে হবে তোমাকে ''
তুমি তোমার মেঘলা চোখে বিদ্যুৎ ঘটিয়ে বললে , '' কি বলছেন ভাইয়া ?'' 
'' তোমার গলা ভীষণ মিষ্টি । একটা গান তোমাকে গাওয়াব বর্ষা বরন উৎসবে । বুঝেছ ?''
'' আমি গান তো কখনও শিখিনি ! '' 
'' শিখলে যে কি হত ??''
'' জি ??"
''না কিছুনা , আসলে গানটা আমিও গাবো , তাই তোমার খুব বেশি সমস্যা হবেনা ''
'' অনেক সমস্যা হবে , আমি পারিনা গাইতে, আমার ভয়েস একদম বস্তাপচা  ''
আমার কি হয়েছিল জানিনা , তোমার দিকে চোখ কটমট করে বলেছিলাম ,
'' সিনিয়রদের চিননাই, তাই বেশি বকবক করছো  ! এই নাও আমার মোবাইল নাম্বার , ক্লাস শেষ হলে ফোন দেবে , আমি রিহারসেলের টাইম বলে দিব '' 
সেদিন আমি পথে আসতে আসতে শপথ করেছিলাম কি জানো ? তোমায় যদি বিয়ে করতে পারি , এই বকাবকির জন্য বাসররাতে দশ বার কান ধরে উঠবস করব !!
   
 রিহারসেলে যখন তুমি আসলে আমার যে কি পরিমান আনন্দ হয়েছিল তা তোমাকে হয়ত সেদিন ও বুঝাতে পারিনি । তবে ''কিছুতে কেন যে মন রহেনা '' এর পর যখন লাইন ভুলে তোমার দিকে তাকিয়ে রয়েছিলাম , তখন তুমি বাদে সবাই আমার হাল বুঝে ফেলেছিল । তুমি পারোনি , আমার দিকে গুনে গুনে কয়বার তাকিয়েছ তুমি জানো ?? আচ্ছা ফাইনাল অনুষ্ঠানে আমরা বেশ ভাল গেয়েছিলাম ,তাইনা ? সবাই বেশ প্রশংসা করেছিল আমাদের ।  যদিও সেদিন আমি ভীষণ ভয়ে ছিলাম , তোমায় দেখে আবারো লাইন ভুলে যাই কিনা ! নীল শাড়ি, নীল চুড়ি , নীল টিপে তোমায় যে এমন বিধ্বংসী দেখাবে তা কি আমি জানতাম ? তবে স্টেজে উঠবার আগে বন্ধুরা যখন আমায় '' সামলে নিও বন্ধু '' বলে সাহস দিচ্ছিল , তখন দেখেছি তুমি প্রানপনে হাসি চাপছিলে । 
 
তোমায় কারনে অকারনে আমি অনেক ফোন দিয়ে জ্বালাতাম । কি করব বল ? তুমি কি জানো তুমি পরোক্ষ ভাবে আমায় কত জ্বালিয়েছ ? জানোনা । কিন্তু তাও তুমি স্পষ্ট ভাবে আমাকে ইগ্নোর করতে ।  অনেকদিন সহ্য করে শেষে আর না  পেরে  বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিনটিতে  সাহস করে তোমার হাতে ধরিয়ে দিলাম ছোট্ট সেই এলোমেলো লিখাটা । 
তুমি পড়ে আমায় বললে , '' ভীষণ সুন্দর । কিন্তু আমায় কেন দিচ্ছেন ?''
 
বলেই দিয়েছিলাম ,'' ভালবাসি '' 
 
একমুহূর্ত পর,  চোখের বিদ্যুতে সেদিন তুমি বলেছিলে , '' না '' 
'' কেন ?''
'' আমাকে আর এসব বলবেন না '' 
আমি অস্থির হয়ে বলেছি ,'' কারন ?''
 
কিছুটা সময় নিয়ে তুমি আমার দিকে তাকালে । ছলছল চোখে জবাব দিয়েছিলে , 
 
'' আমি বিবাহিত । এবং বিধবা । ''
 
আমি শুধু এতটুকু বলতে পেরেছিলাম , '' আমি সব জানতে চাই '' 
তুমি এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে চলে গিয়েছিলে । সেদিন ও এমন আকুল হয়ে আকাশটা কেঁদেছিল । আমিও ভিজেছি অনেক । 
 
বাসায় গিয়ে সেদিন আমার ভীষণ জ্বর আসলো । জ্বরের ঘোরে তোমায় এমন ভাবেই ডেকেছি যে আম্মু তোমার কথা বুঝে ফেলেছিল । পরদিন রাতে আমি কিছুটা ধাতস্থ হলাম ।  জ্বর কমে গেল। কিছু খেয়ে ফেসবুকে লগইন করে দেখি তোমার পাঠানো একটা ম্যাসেজ । তার আকারটা অনেক খানি । 
 
'' আপনি জানতে চেয়েছেন আমার গল্প । আমার কাল কোন ইচ্ছে ছিলনা আপনাকে এসব জানানোর । কেন এখন আপনাকে এসব লিখছি আমি তাও জানিনা । আপনি হয়ত আমাতে মুগ্ধ হয়ে আছেন , কিন্তু যখন সব জানবেন তখন হয়ত মুগ্ধতা টুকু কেটে যাবে । সে ই ভাল । তাই ই হোক । তবে বলছি, শুনুন, আমার পরিবার আটপৌরে ধাঁচের একটি পরিবার । তাই কলেজ প্রথম বর্ষেই আমাকে বিয়ে দেয়ার কথা শুরু হয়ে গিয়েছিল । আমার চাচাত ভাই লন্ডন প্রবাসী একজন ছাত্র ছিল , তার ই এক ডাক্তারি পড়ুয়া বন্ধুর সাথে আমার বিয়ে ঠিক হল ।বিয়েতে আমার মত নিয়ে কারো কোন মাথাব্যাথাই ছিলনা । কারন আমাকে বিয়ে করতে বলা হয়নি , আমাকে বিয়ে দেয়া হয়েছিল । তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির নিদর্শন স্কাইপিতে আমার বিয়ে হয়ে যায় এমন একজনের সাথে যাকে আমি বিন্দুমাত্র জানিনা । সবার উপর খুব অভিমান করতে গিয়ে থেমে গিয়েছিলাম , কারন তাদের অভিধানে যে মেয়েদের অভিমান শব্দটাই নেই ! আমার তথাকথিত হাজব্যান্ড আমাকে ফোন দিত মাঝেমাঝে । আমার তাকে জানবার ও ইচ্ছে হয়নি কোনদিন । ঠিক দেড়মাস পর ,হয়ত আমাকে মুক্ত করে দেবার প্রয়াসেই সেই ছেলে পাড়ি দিয়েছিল পরকালের পথে । কারন হিসেবে শুনেছিলাম, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে রোড অ্যাকসিডেন্ট । তারপর থেকে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে আমি আজ এই অবস্থানে । আমি চাইনা আমার পথে আপনি আসুন । আমি কাউকে ঠকাতে চাইনা । আশা করি আপনার মোহ কেটে গেছে । ভাল থাকবেন ।''   
 
তারপর তোমাকে ফোনে অনেক জ্বালিয়েছিলাম ।তুমি কিছু বলতেনা , আচ্ছা আমার কেন মনে হত যে তখন তুমি কাঁদতে ? আমার জন্যে এক ফোটা জল ও কি ফেলেছিলে তুমি ?? জানো, আমি আমার বাসার সবাইকে তোমার কথা বলেছি । আম্মু তোমার কাছে যেতে চেয়েছিল , আমি না করেছি , তুমি যে সেটা চাওনা ! 
 
একটা নিঃশ্বাস ফেলে ডায়েরিটা বন্ধ করলাম । তোমার অনুরোধে আজ এক সপ্তাহ ধরে তোমায় ফোন দেইনা । খুব ভাল আছ তো এখন ? আমি যে ভাল নেই ত্রাহি । খুব অস্থির লাগছে । আমি দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেলাম । আকাশ তখনও একইভাবে কাঁদছে । 
 
কতক্ষন ভিজেছিলাম জানিনা , তবে আমি নিশ্চয়ই অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম , কারন চোখ মেলে নিজেকে বিছানায় দেখতে পেলাম । চোখ মেলেই বুঝলাম আমার আসলে জ্ঞান নেই , আমি আসলে স্বপ্ন দেখছি , কি মধুর স্বপ্ন , তুমি আমার পাশে বসে কাঁদছ । তুমি আমাকে ছুঁয়ে বললে ,'' এখন কেমন লাগছে তোমার ??"
 
আচ্ছা আমার সবকিছু এত বাস্তব লাগছে কেন ? ঠিক সেইসময় আম্মু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল , '' দেখ কে এসেছে ? এবার সব ঠিক হয়ে যাবে নীষ ''
আমি হঠাত করেই বুঝে ফেললাম , ত্রাহি সত্যিই আমার কাছে এসেছে । 
আম্মু চলে যেতেই ত্রাহি ভাঙ্গা গলায় বলল , '' আমি তোমায় অনেক বার কল দিচ্ছিলাম , তোমায় ভীষণ মিস করছিলাম বলে । কিন্তু কোন উত্তর নেই , একসময় আন্টি ফোন ধরে বললেন তুমি ঘরে নেই। তুমি আসলে আমাকে ফোন দিতে বলবেন । তার দেড় ঘন্টা পর জানলাম , তুমি রাস্তায় জ্ঞান হারিয়েছিলে , পাড়ার মানুষজন তোমায় বাসায় দিয়ে গেছে '' 
আমি আধো নয়নে দেখলাম , তুমি কাঁদছ , তুমি আমার জন্যে কাঁদছ । 
 
আমি তোমার হাত ধরে বললাম , '' ভালবাসি , ত্রাহি ''
তুমি ছলছল চোখে তাকিয়ে বললে ,'' আমিও ভালবাসি , নীষ '' 
 
ঘন্টা খানেক পরে,চোখে চশমা লাগিয়ে তোমাকে দেখলাম , তুমি হেসে  বললে ,'' আমি এখন যাই , কাল আসব '' 
আমি উদাস নয়নে ঠাণ্ডা লাগা গলাতেই গাইতে শুরু করলাম , 
'' ও মেঘলা মেয়ে যাসনে উঠে 
এখনও দেখা শেষ হয়নি তোকে ''

তুমি মিষ্টি হেসে আবার বসে পড়লে ।
 
আসলেইতো কোনদিন শেষ হবেনা । তোমায় দেখা ।

Share