শূন্যতা অথবা পূর্ণতা

লিখেছেন - শুকনোপাতা | লেখাটি 995 বার দেখা হয়েছে

কন্ট্রাক্ট পেপারে সাইন করে কিছুটা চমকে উঠলাম আজকের তারিখ দেখে!

এই যাহ!এবারো ভুলে গেলাম!এই নিয়ে পর পর তিনবার হলো...তবে একটু অবাক ও হলাম,সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় জলি ও তো কিছু বলল না,

সে ও কি আমার মতো ভুলে বসে আছে!এবার কিছুটা হাসি পেল আমার...

আজ আমাদের দশম বিবাহ বার্ষিকী।অথচ আমরা দু'জনেই দিব্বি ভুলে বসে আছি!হাহাহা

এ অবশ্য নতুন না,এর আগের বছর তো প্রায় এক সপ্তাহ চলে গেছে অথচ আমাদের কারোরই মনে ছিলনা!পরে দু'জনেই মনে করে হেসেছিলাম।আসলে ব্যাস্ততা আর সময়ের চাপে আমাদের দু'জনেরই নিজেদের জন্য খুব একটা সময় নেই।

আমি পাইলট মানুষ,বলতে গেলে সব সময়ই বাইরে থাকি,তার উপর এখন একটা ব্যবসা ও শুরু করেছি পার্টনারশীপে,বলতে গেলে একেবারেই হাতে সময় নেই টাইপ মানুষ আমি,আর অন্যদিকে আমার স্ত্রী জলি!সে বেচারী একা একা সব করছে,বলতে গেলে পরিবারে আমার ভূমিকাও তাকেই পালন করতে হচ্ছে।ছেলে-মেয়েদের স্কুল,সংসারের ব্যাবস্থাপনা,আত্নীয়-স্বজন সব কিছু সে ই সামলায়।সে জন্য খুব একটা দু'জন দু'জনকে সময় দেয়া হয়না।আর এখনো আমরা পুরোনো দম্পতি হয়ে গেছি,এখন আমাদের কাজ হলো,সন্তানদের মানুষ করা,ওদের ক্যারিয়ার বিল্ডাপে হেল্প করা,ওদের গুড ফিউচার এনসিউর করা।এখন আর নিজেদের কথা অতো না ভাবলেও চলে...

 

অফিস শেষে একটা শপিং মলে ঢুকলাম,উদ্দেশ্য জলির জন্য একটা শাড়ি কেনা।যতই হোক,এনেভার্সেরি বলে কথা,ও ভুলে গেছে বলে কি আমি চুপ করে থাকবো।কিছুক্ষন ঘুরার পর এক দোকানে পছন্দ হলো দু'টো শাড়ি,বুঝতে পারছিনা কোনটা নিব!সবুজ রঙ নাকি গোলাপী...!জলিকে অবশ্য সব রং এ দারুন মানায়।কিন্তু তারপরেও চিন্তা করছিলাম,হঠাৎ পাশে কারো ধাক্কা লেগে ভাবনায় ছেদ পড়ল...তাকিয়ে দেখি একটা ছ'সাত বছরের বাচ্চা ছেলে আপন মনে দোকানে হাটছে,হাতে জুসের ক্যান।

বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকিয়ে আপন মনেই কিছুটা চমকে উঠলাম!খুব চেনা চেনা লাগল মুখটা,আমার দিকে তাকিয়ে বাচ্চাটা লজ্জা পেল মনে হয়,ফিক করে হেসে দৌড় দিল...ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আমি আরেক দফা চমকে উঠলাম,অনেক দিন পর মনে হল এমন মায়াময় চোখ দেখছি...অনেক দিনের চেনা সেই চোখ...

দ্বিধা-দ্বন্দ শেষ করে একটা শাড়ি কিনে মল থেকে বের হলাম।গাড়ির দরজা খুলে উঠতে যাবো ঠিক তখনই হাসির শব্দে পাশে তাকালাম,দেখি ঐ বাচ্চাটা হাসতে হাসতে গাড়ীতে উঠছে,ওর সাথে আরেকটা দশ বারো বছরের ছেলেকেও দেখলাম,দেখেই বুঝা যায় দুই ভাই এরা।সেই একই রকম চোখ...আবারো কেমন জানি করে উঠলো মনটা!চোখ ফিরিয়ে নিয়ে গাড়িতে উঠতে যাবো ঠিক তখনই ওদিকে তাকিয়ে চোখ দু'টো স্থির হয়ে গেল...অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এলো,''দিশা''...!!

দূর থেকে আমাকে দেখে দিশা ও ভূত দেখার মতো চমকে উঠল যেন!কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে দ্রুত গাড়িতে উঠে বসল।আমিও ধ্যান ভেঙ্গে গাড়িতে উঠে বসলাম।মল থেকে বেরিয়ে আমাদের দু'জনের গাড়িই দু'দিকে চলে গেল...ঠিক আমাদের জীবনের মতো...

বাসায় ফিরে দেখি জলি এখনো বাচ্চাকে নিয়ে কোচিং থেকে ফেরেনি।আমি ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে টিভি অন করলাম,কিছুক্ষন ট্রাই করেও মনোযোগ দিতে পারলাম না,প্রচন্ড অস্থির লাগছে...কাজের মেয়েটাকে কফি দিতে বলে বেড রুমের ব্যালকনিতে এসে বসলাম।চারপাশ তখনো পুরোপুরি অন্ধকার হয়নি,সন্ধ্যার আলো-আধারীর খেলা চলছে,সেই সাথে মৃদু বাতাস।কিন্তু আমার মনে কোন কিছুই ছাপ ফেলছে না...

১৪/১৫বছর আগে ফেলে আসা অতীত আজ এতোদিন পর,এত কিছুর পর আমার সামনে এসে দাড়িয়েছিল...এতোটা শক কেন খেলাম বুঝলাম না!

কারণ এই এতো গুলো বছরে আমি যতবার কানাডা গিয়েছিলাম,ততোবারই মনে মনে ওখানে দিশাকে খুঁজেছি,পুরনো বন্ধুদের যতো অনুষ্ঠানে গিয়েছি মনে মনে দিশাকে অনেক খুঁজেছি,কিন্তু আফসোস!এই এতো গুলো বছরে একবারও দেখা হয়নি ওর সাথে...!কত সময় চলে গেছে...কত কিছু ঘটে গেছে কিন্তু ভোলা হয়নি সেই মায়াময় চোখ আর অঙ্কুরেই ক্ষয়ে যাওয়া ভালোবাসাকে...!  সময় কি মনে করে আজ এতো বছর পর আমাদের দেখা করালো কে জানে!ভালোই তো আছি,আমি,সে...আমরা সবাই।

 

দিশা......আমার দেখা পৃথিবীর সবচেয়ে মায়াময় চোখের অধিকারী,অসাধারন একটা মেয়ে।আমার প্রথম ভালোবাসা।

দিশা আর আমরা একই পাড়ায় জন্ম থেকে বড় হয়েছি,আমাদের বাসা আর দিশাদের বাসার মাঝে খুব একটা দূরত্ব নেই,গলির এ মাথা আর ও মাথা।

আমাদের পাঁচ ভাই-বোন আর দিশাদের চার ভাই-বোনের মধ্যে দারুন বন্ধুত্ব ছিল।আর সে সময় পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে সম্পর্ক অনেক গভীর ছিল,এখনাকআর মতো অতো দূরত্ব ছিলনা।আমার বড় আপু আর দিশা বয়সে ছোট বড় হলেও ওদের মধ্য খুব ভাব ছিল,দু'জনেই পুতুল খেলতো খুব,ক;দিন পরপর ই ওদের পুতলের বিয়ে থাকতো,দু'জন মিলে রাধতো,আর আমরা ছিলাম ওদের অনুষ্ঠানের মেহমান!বিকেলে ক্রিকেট খেলা রেখে আমরা সব ওদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতাম।সে এক সময় ছিল বটে...

কিন্তু সময় থেমে থাকে না।আস্তে আস্তে আমরা বড় হলাম যে যার যার মতো ব্যাস্ত হতে লাগলাম।আমি কলেজে উঠলাম,বড়'পা ও দূরে পড়তে চলে গেল,আর দিশা ও গার্লস স্কুলে।আমার মা ছিলেন দিশাদের স্কুলের অধ্যক্ষা।দিশা রোজ বিকেলে আমাদের বাসায় আসতো আমার ছোট বোন তুলির হোম ওয়ার্ক করাতে।আমি,দিশা,আমার ছোট ভাই শিপন আরো অনেকেই প্রায় বিকেলে গল্প করতাম ছাদে বসে।

কলেজ শেষে আমি বিমান বাহিনীতে যোগ দিলাম,দিশাও কলেজে উঠল।

আমি বাড়ি ছাড়লাম,একা একা দূরে এসে সেই প্রথম দিশাকে খুব ফিল করতাম।দিশার হাসি,কথা,ওর মায়াবী চোখ দু'টো কে খুব বেশিই মিস করতাম...অপেক্ষায় থাকতাম,কবে ছূটি পাবো আর কবে দিশাকে দেখব...

ভালোবাসার শুরু এভাবেই ছিল।দিশাও বোধহয় আমার অভাব অনেক অনুভব করতো। আর তাইতো আমি যখনই বাড়ি যেতাম দিশার সেকি খুশী দেখতাম...অপরিসীম আনন্দে দিশার চোখ খেলতো আর আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকতাম,আবার যখন ফিরে আসতাম,অভিমানে দিশার চোখে জল টলমল করতো,তা আর কেউ না দেখুক আমি ঠিকই দেখতাম।

আস্তে আস্তে আমার বন্ধু মহলে বেশ ভালো ভাবেই প্রচার হয়ে গেল দিশার প্রতি আমার ভালো লাগার কথা।শুধু দিশাই জানতো না।আর আমি?

কোনভাবেই দিশাকে বলার সাহস পেতাম না।আর কেন জানি এক ধরনের কনফিডেন্ট ও কাজ করতো মনে ভেতরে,যে দিশা আমাকে ছেড়ে কখনোই যাবে না বা ওকে কেউ আমার কাছ থেকে নিতেও পাড়বে না।বড়'পার বিয়েটা হয়ে গেলেই মা কে বলব দিশার কথা,আর ততোদিনে দিশাও অনার্সে ঊঠে যাবে।একেবারে বিয়ের পরেই দিশাকে মন খুলে বলব কতোটা ভালোবাসি আমি ওকে...

 

কিন্তু ভাগ্য একেবারে অন্যকিছু ঠিক করে রেখেছিল আমাদের জীবনে।

আর তাই আজ আমি এখানে আর দিশা ওখানে...বড়'পার বিয়ের পর দিশার কথা মা'কে বলতেই মা রেগে গেলেন...

''দিশা ছাড়া কি আর কোন মেয়ে দুনিয়াতে নেই?দিশার পরিবারের সাথে নিজেদের পরিবারের পার্থক্য দেখতে পাও না?কোথায় তুমি আর কোথায় ঐ নরমাল ফ্যামিলির মেয়ে দিশা!একই এলাকায় আত্নীয়তা করার কোন মানে নেই...আমি তোমার জন্য আরো ভালো ফ্যামিলির মেয়ে আনতে চাই,ততোদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করো।"

মায়ের কথা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল!!এসব কি বলছে মা?

দিশাদের পরিবারের সাথে আমাদের যে খুব একটা দূরত্ব তা না,কিন্তু আমার অধ্যক্ষা মায়ের চোখে তার পরিবারের বঊ হবার জন্যে দিশা যোগ্য না!তিনি চান আরো স্ট্যান্ডার্ড পরিবারের মেয়ে আনতে!

আমি,বড়'পা,আব্বা কেউই মাকে রাজী করাতে পারলাম না,তার একই কথা,'আমার এ বিয়েতে মত নেই এখন তোমাদের যদি আমার মতের বিরুদ্ধে যেয়ে কিছু করতে ইচ্ছে হয় করো,আমি কিছুই বলব না।'মা খুব ভালো করেই জানতেন আমি তার মতের বিরুদ্ধে যাবো না,আমাদের চোখে আমাদের মা একজন মহিয়সী নারী,আমাদের শিক্ষিকা,আমাদের সবচেয়ে শ্রদ্ধাভাজন মানুষ।

মাকে আমরা খুবই ভালোবাসি আর ভয় ও পাই।আর সে কারনেই মা এর নিষেধ অমান্য করার ইচ্ছে আমাদের নেই।

আমি ভেবে পেলাম না আমি কি করবো!দিশা নিয়ে দেখা সব স্বপ্ন এভাবে শেষ হয়ে যাবে তাও মানতে পারছিলাম না...বন্ধুরা অনেকেই বলছিল,মা যাই বলুক বিয়েটা করে ফেলতে যেহেতু বাকী সবাই রাজি,কিন্তু আমি পারিনি...শুধু দেখছিলাম,কতো তুচ্ছ একটা কারনে আমার জীবন থেকে আমার ভালোবাসা চলে যাচ্ছে!আম্মা কি পারতেন না তার অহমবোধটা একটু কমিয়ে আমার মনটা দেখতে...?!!

এক বিকেলে বাসার ছাদের বসে আপন মনে এসবই ভাবছিলাম,হঠাৎ দেখি দিশা আমাদের ছাদে!মুখটা মলিন।আমার বুকটা ধক করে উঠল!

দিশা মাথা নিচু করে আমার সামনে এসে বলল,

--লিমন ভাই,একটা কথা বলব?

--হুম,বল

--আমার যদি বিয়ে হয়ে যায় তোমার কি খারাপ লাগবে?

আমি প্রচন্ড ভাবে কেঁপে উঠলাম যেন!দিশার অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে যাবে এটা কিভাবে সহ্য করব আমি?!আমাকে চুপ থাকতে দেখে দিশা বলল,

--আব্বু আমার জন্য ছেলে দেখছে,দু'একদিনের মধ্যে আমাকে দেখতে আসবে,ভেবেছিলাম অনার্সটা শেষ করবো তা আর হলো না...

আমি চুপ করে দিশার দীর্ঘশ্বাস শুনতে পেলাম।কিছু বলতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল,কিন্তু বলতে পারছিলাম না...দিশা চুপ করে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখতে লাগল,আমি একটু ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখলাম,জলে টলমল করছে দিশার চোখ,অজস্র কষ্ট আর অভিমানের আঁচড় সেখানে জড়ানো...

কিছুক্ষন পর দিশা আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

--আমি আসি লিমন ভাই,বোধহয় না আর দেখা হবে তোমার সাথে আমার।তবে যেখানেই থাকি না কেন তোমার কথা আমার মনে থাকবে...কি করব বলো?আমার পুতুলকে যে তোমাদের বাড়ি ছাড়া আর কোথাও বিয়ে দেইনি...''

কথাটার শেষে হাসতে চেয়েও হাসতে পারল না দিশা,চোখে পানি আর ঠোটে হাসি নিয়ে দিশা আমার দিকে তাকালো আবার...

দিশা চলে গেল।আমি সেদিন কতক্ষন ছাদে বসে ছিলাম জানিনা...

শুধু মনে আছে,জীবনে প্রথম অঝোরে কেঁদে ছিলাম।

 

এর মাস খানেক পর অনেকটা হুট করেই দেখতে এসে দিশার বিয়ে হয়ে যায় এক বিসিএস ক্যাডারের সাথে।বিয়ের পর স্বামীর পোষ্টিংস্থল সিলেটে চলে যায় দিশা,আর এক  দেড় বছর পর সেখান থেকে কানাডা।

এর ওর কাছ থেকে শুনতাম,অনেক সুখেই আছে দিশা,ওর শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের চোখের মনি নাকি ও।শুনে ভালোই লাগতো,আমি তো জানতাম,দিশা যে ঘরে যাবে সে ঘরেই আলো হয়ে থাকবে।তবে দিশার প্রশংসা শুনলে শুধু আমার মায়ের মুখটাই আঁধার দেখতে পেতাম...মা বোধকরি সে জন্যই আমার জন্য প্রায় চারবছর ধরে দিশার থেকে সুন্দরী আর যোগ্য মেয়ে খুঁজে ছিলেন,এবং পেয়েছিলেন ও বটে...

 

গাড়ির হর্নের শব্দে সূদূর অতীত থেকে বর্তমানে ফিরে আসি আমি।নিচে তাকিয়ে দেখলাম জলি আর বাচ্চারা ফিরেছে।

জলি...

আমি স্বামী হিসেবে সত্যিই ভাগ্যবান যে জলির মতো বউ পেয়েছি।

আমার মা সত্যিই যোগ্য একজন বউ এনেছিলেন তার সংসারের জন্য।

সুন্দরী,সংসারী,আন্তরিক আর গুনবতী বউ হিসেবে সবার মুখে মুখেই জলির প্রশংসা।আসলে জীবনে কখন কিভাবে যে পূর্নতা আসতে পারে টা মানুষের সামান্য জ্ঞান দিয়ে পরিমাপ করা কঠিন।দিশা চলে যাবার পর যে শূন্যতা মনের ভেতর তৈরী হয়েছিল জলি তা অনেকাংশেই পূরন করেছে।মা প্রায়ই জলির অনুপস্থিতিতে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে জলির প্রশংসা এমন ভাবে করেন যে আমি বুঝতেই পারি,তিনি আসলে আমাকে দিশা আর জলির পার্থক্যটা বুঝাতে চাইছেন।আমি তখন গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেলি,বলতে ইচ্ছে করে মাকে,কেন শুধু শুধু দু'জনকে কম্পেয়ার করো মা?আসলে জলি আর দিশা দু'জনেই দু'জনের জায়গা থেকে অসাধারন,কারো সাথে কারো তুলনা করা চলে না।কিন্তু বলা হয় না।

কি লাভ অতীতকে টেনে...!তাছাড়া জলিকে ও কখনো সেভাবে দিশার কথা বলা হয়নি,আমার বাসার কেউই বলেনি।আমারো এ নিয়ে অতো বেশি কষ্ট বা খারাপ লাগা কাজ করেনি,কিন্তু যখন আমার ছোট দুই ভাই তাদের পছন্দে লাভ ম্যারিজ করেছিল আর আমার মা তাতে সায় দিয়েছিল,তখন কেন জানি রাতভর কি এক অভিমানে ঘুমতে পারতাম না...! বার বার চোখের সামনে ভেসে উঠতো দিশার সেই অশ্রুভেজা মুখটা...

 

রাতে বাচ্চাদের পড়া শেষ করে জলি বেড রুমে এলে পেছন থেকে আচানক শাড়ি দিয়ে জড়িয়ে ধরি,খুব অবাক হয়ে যায় জলি!পরে আমার হাসি দেখে ও সব  বুঝতে পেরে লজ্জা পেয়ে বলে,

--স্যরি,আমার মনেই ছিলনা,আসলে কথার সমাপনী পরীক্ষা সামনে আর বাসায় ও গেস্ট ছিল এসব ঝামেলায় ভুলেই গিয়েছিলাম,আই এম রিয়েলি স্যরি...

আমি হেসে ওর হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিলাম,কিছু বললাম না...জলি আমার মুখের দিকে স্ত্রীর ভালোবাসা পূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল...নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হলো...!খুব..

 

( যদি এক ফোটা পানি সাগরে ফেলেন, তবে তার অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে জলরাশির মাঝে,কিন্তু এই এক ফোটা পানিই যদি পদ্ম পাতার উপর ফেলেন, তাহলে তা মুক্তো হয়ে ধরা দিবে আপনার কাছে।এখন আপনি ই সিদ্ধান্ত নিন, কোনটি বেশি আলোকিত? কিভাবে আপনার বিন্দুটি আলোকিত করতে চান?তবে হ্যাঁ,সময় কখনো একই রকম থাকেনা,সুতরাং এক বর্তমান দিয়ে পুরো ভবিষত দেখা অনেক বড় বোকামি।)

 

Share