টিউশনি পর্ব

লিখেছেন - সুষমা আপ্লুত | লেখাটি 2576 বার দেখা হয়েছে


ছোটবেলায় আমরা যখন প্রাইভেট টিউটর কে জ্বালায়ে মাছভাজা করে ছেড়ে দিতাম,তখন ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করিনাই যে এক মাঘে শীত যায়না। এই মহা মুসিবত যে আমার ঘাড়েও চাপবে তা বুঝলে আমার টীচারদের জ্বালাতন করার তোড়জোড় একটু কমায়ে দিতাম। আমি তখন ক্লাস টু তে। । বাড়ির মানুষজনের শাসন আর চোখ রাঙ্গানি থোড়াই কেয়ার করতাম দেখে আমার মা ঠিক করল আমারে টিউটর দেবে। আমার মা অফিসে চলে গেলে আমি নিজেকে রাজা বাদশাহ গোত্রীয় ভাবা শুরু করতাম। পাড়া ঘুরে কারো বাসায় নাস্তা,কার বাসায় দুপুরের খাবার,তো কারো বাসা থেকে মুরগির রান চিবুতে চিবুতে টহল মারতাম, পড়ালেখাটাও একেবারে শিকেয় উঠেছিল বই কি! । আমাদের বাড়ির পাশেই মিশনারী স্কুল ছিল,ওইখানে কিছু স্টুডেন্ট আর টিচার আবাসিক ছিল। অবশেষে মিশন স্কুলের এক টিচার মা ঠিক করলেন আমার জন্য কারণ উনি শুনেছিলেন তারা নাকি একটু কড়া হয়,আর ওই টাই আমার জন্য নাকি উপযুক্ত মুগুর ।

 

শেষমেশ টীচার আসলেন, টিচার কে দেখেই আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আমার ধারণা ছিল যে টিউটর মানেই চশমা পরা হাসি মুখের ম্যাডাম। পেল্লাই সাইজের গম্ভীর টাইপের টিচার দেখেই আমার ভিলেন ভিলেন লাগল। আমাকে পড়তে বসায় ,কার সাধ্যি ! এইভাবে সাতদিন ধরে টিচার আসতেন আর আমি বিদায় করে দিতাম,এমনকি একটু আধটু হুমকি ধামকিও দিয়েছিলাম ঠ্যাং ভেঙ্গে দেব বলে ! সাতদিন যাওয়ার পর ও যখন টীচারকিয়ামার বাড়ির পথ ছাড়লেন না ,আমি ঠিক করলাম একটা হেস্তনেস্ত করতেই হবে । টিচার আসতে দেখে এক ছুটে পাশের পচা ডোবা থেকে এক মগ পানি এনে ঢেলে দিয়েছিলাম টিচারের মাথায়। আর চরম একটা হুমকি দিয়েছিলাম ,আবার আসলে বিছুটি পাতা দিয়ে দেব গায়ে । সেইদিনের পর টিচার মনে হয় হাফ ছেড়ে বেঁচেছিলেন,আর আমিও। তবে যাওয়ার আগে টীচার আমার দাদীকে বলে গিয়েছিলেন, এইরকম ত্যাঁদড় পিচ্চি ইহজনমে উনি দেখেননি আর দেখবেন বলেও আশা রাখেননা !

 

ওই টিউটর মনে হয় মনে বড়ই দুঃখ পাইছিলেন মনে ,এল্লিগা আমার টিউশনি গুলাও ছিল মনে রাখার মত ।একেকটার চেয়ে একেকটা কয়েক কাঠি সরেস। প্রথম প্রথম টিউশনি পাওয়ার জন্য ঝক্কি,সে তো একটা আছেই,বেতন বেশি তো ম্যালা দুর বাসা , বাসা কাছে তো বেতন কম,দুটাই ঠিক আছে তখন আবার দেখা যায় এক্কেবারে ন্যাদা পোলাপান পড়ানো লাগবে......যাইহোক অবশেষে কষ্টে সৃষ্টে প্রথম যে টিউশনি টা পাইলাম ওইটা আজিমপুর। কাছাকাছি আর মেয়ে ক্লাস সিক্সে পড়ে দেখে রাজি হয়ে গেলাম।  প্রথম দিন গিয়ে মাইয়ার মারে এক্কেরে ইম্প্রেসড করে ফেললাম( মেয়েকে ১ম /২য় করেই ছাড়ব টাইপ ডায়লগ মেরে) ।

 

পরদিন থেকে পড়ানো শুরু করলাম,মিনিট বিশেক গেসে,মেয়ে কয় কি,মিস আজ আর পড়বনা,অনেক্ষন পড়সি(!!)। আমি প্রথম দিন আর ঝাড়ি দিলাম না,বুঝায়ে শুনায়ে আবার পড়াইতে বসলাম ।একটু পর মেয়ে আমারে জিগায়, “মিস,ডু ইউ হ্যাভ এ বয়ফ্রেন্ড?” আমি তো পুরাই টাশকি।থতমত খেয়ে বললাম,না তো ।মেয়ে চোখ কপালে তুলে বলে, হোয়াট? ইউ আর সো ব্যাকডেটেড। আমি আরেকবার বেকুব হলাম।ক্লাস সিক্স এ পড়া ওই মেয়ে তখন যা বলল তার মর্মার্থ হল- আমি ক্লাস সিক্সে পড়ে বয়ফ্রেন্ড জুটায়ে ফেলসি আর আপনি এত বুড়ি হয়েও পারেন নাই? প্রেস্টিজ নিয়ে টান পড়ার কারনেই হোক আর মেয়ের কেরামতি দেখে ভয়ে পেয়েই হোক, আমি মোটামুটি চুপসানো বেলুনের মত একটা চেহারা বানায়ে আবার পড়ানোয় মন দিলাম । কিছুক্ষন পর আবার আমাকে বলে, ম্যাম , আপনি জানেন তো আমার বাবা যে 'অমুক" কোম্পানির মালিক ( একটা বিখ্যাত কলম কোম্পানি) । আমি বললাম ,না তো ! পরে খেয়াল করে দেখি মেয়ের হাতে ইন্ডিয়ান "লিঙ্ক" কলম। আমার বাপের কলম ফ্যাক্টরি থাকলে তো আমি জীবনেও কলম কিনতাম না কিন্তু এই মেয়ের কাহিনী কিছুই বুঝলাম না। দিন কয়েক পর আমি এইটা আবিষ্কার করতে সক্ষম হইলাম, নিজের কলম ব্যাগ থেকে বের না করে অন্যের কাছ থেকে কলম ধার করে সংগ্রহ করা ওই মেয়ের অন্যতম হবি ! 

 

যাই হোক,এই মেয়ে কে পড়ানো আর গাধা পিটিমানুষ বানানো এক ই ব্যাপার।।দুই আর দুইয়ে যে চার হয় এইটা বের করতেও ক্যালকুলেটর চাপত। তবে স্বীকার করতেই হবে অসাধারণ স্মরণশক্তির জোরে এই মেয়ে একেকটা অঙ্ক হুবহু মুখস্থ করে ক্লাস সিক্সের মুখ দেখতে পেরেছে ! আমি কিছু বুঝিয়ে শেষ করার পর বেশিরভাগ সময় ই তাকিয়ে দেখতাম,  সে হয় জানালা দিয়ে তাকায়ে আছে আর না হয় বিশাল নখের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকায়ে আছে আর নয়ত দীঘল কেশ নিয়ে খেলা করছে !! একদিন নিজের কেশরাশির সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে মুগ্ধ নয়নে একগোছা কেশ রাশি হাতে নিয়ে মেয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করে, মিস,আমার চেহারা সাথে ক্যাটরিনা কাইফের চেহারার অনেক মিল আছে না? আমি এক পলক তাকিয়েই বললাম, আরে তাই তো, এতদিন তো খেয়াল ই করিনিইইইই ! মেয়ে গম্ভীর একটা ভাব নিয়ে বলে, একচুয়ালি সি ইজ হট এন্ড কিউট, বাট নট প্রিটি। ম্যাম, ডোন্ট ইউ থিংক , আই এম প্রিটি? আমি হেহেহেহে মার্কা হাসি ঝুলায়ে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম। কোনভাবেই দ্বিমত পোষণ করে একটা জ্ঞানগর্ভ সৌন্দর্য বিষয়ক বক্তৃতা শুনতে মোটেও আগ্রহী ছিলাম না ।

 

শুধু এই পিচ্চির বিনোদন ই যথেষ্ট না, তার আবার ছোট দুইটা ভাইবোন ছিল। টীচার দেখামাত্র ভাইটা ঢিশুম ঢিশুম গুলি করা হাউস অফ ডেথ আর না হয় ভি কপ খেলতে বসত। এই খেলাগুলার বস্তাপচা সাউন্ডে আমার ইচ্ছে করত জানালা দিয়ে ঝাঁপ মারি।তিন বছরের ছোট বোন টা ছিল আরো এক কাঠি উপরে। তার  জন্য প্রতিদিন চকলেট ( লাভ ক্যান্ডি) নিয়ে যেতে হত,না হলে ওই বিচ্ছু পিচ্চির জ্বালায় ওখানে থাকাই রীতিমত অসম্ভব ব্যাপার ছিল। যাহোক ,মাস দুয়েক যাওয়ার পর মেয়ের অসম্ভব প্রতিভার ফসল হিসেবে মিডটার্ম পরীক্ষায় যখন ডাব্বা মারল,তখন বুঝলাম,এখন মান সম্মান নিয়ে পালানোর সময় চলে আসছে।

 

এবার ধানমন্ডিতে দুই জমজ বোনকে পড়ানো শুরু করলাম। আমি জানতাম জমজ দের অসম্ভব মিল, এরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখতে একরকম আবার আচার আচরণেও নাকি অনেক মিল। কিন্তু এই দুইটা বিপরীত মেরু কেমনে কেমনে এক মায়ের পেটে এক লগে দশ মাস ছিল আল্লাহ মালুম। এক বোন ছিল মা্রাত্মক ব্রিলিয়ান্ট, আর আরেকটা ঠিক তার সমানুপাতিক গাধা। এদেরকে  ঘড়ি ধরে দুই ঘণ্টা পড়াইতে হইত। একদিন মাঝে ৫-৭ মিনিটের জন্য একটা রুম ছেড়ে বাইরে গেসে কি কারণে। পড়ানো শেষে যখন উঠতে যাব,তখই ওই মেয়ে বলে ,মিস, আমি ৫মিনিটস কম পড়েছি, প্লীজ কাভার ইট আপ । আমার তখন একটা কথাই মনে হইসিল,আল্লাহর দুনিয়ায় এই "আজিব জিনিস" গুলা কেমনে যে আমার কপালে জোটে !

 ২


জমজ যন্ত্রণা অধ্যায় শেষ হলে পরের টিউশনি টাতে তে আমি একটু অভিজ্ঞ(!) । প্রথম দিন পরিচয় পর্ব শেষে নতুন পিচ্চি আমাকে জিজ্ঞেস করে একই প্রশ্ন- " ম্যাম , আপনার বয়ফ্রেন্ড নাই? " আগের কাহিনীর দুর্দশার কথা মনে পড়ায় এবার মান সম্মান বাঁচাতে বিশাল ভাব নিয়ে বলে ফেললাম , "অবশ্যই বয়ফ্রেন্ড আছে।" ভাবটা এমন, এইটা কোন প্রশ্ন হইল?কার না বয়ফ্রেন্ড থাকে ! কিন্তু এই কথা এবং ভাবের ফলাফল হিসেবে পরে যেভাবে ওই মেয়ে একের পর এক ওই বিষয়ে ( সেন্সরড) প্রশ্ন করে যাচ্ছিল ,মনে হইল, কোন দুঃখে যে  কইসিলাম বয়ফ্রেন্ড আছে...

 

পরে একদিন আমাকে ওই পিচ্চি অনেক গদগদ হয়ে বর্ণনা করল তার ক্লাস টিচারের ছেলেটা কি মারাত্মক ব্রিলিয়ান্ট। এইস এস সি তে অনেক ভাল রেজাল্ট করসে দেখে "অমুক" প্রাইভেট ভার্সিটিতে( বাংলাদেশের একটা নাম করা প্রাইভেট ভার্সিটি) ফুল ফ্রী স্কলারশিপ পাইসে । আমিও কৃত্রিম আহ্লাদিত হয়ে চোখ কপালে তুলে জিজ্ঞেস করলাম, "অমা তাই ! কি ভাল !"  পিচ্চি তখন আমাকে জিগায় , "মিস আপনি কি 'অমুক ভার্সিটি' তে চান্স পান নাই যে বুয়েট এ ভর্তি হইসেন? 'অমুক ভার্সিটির'  ক্যাম্পাস টা যে কি সুন্দর...সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন্ড !"  আমি তখন বুয়েট ক্যাম্পাস অত সুন্দর(!)  আর সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন্ড না হওয়ায় ব্যাপক লজ্জা পাইলাম ( ব্যাপক লজ্জিত হয়ে কান্দাকাটির ইমো )

 

ছোট ভাইবোন নিয়ে ঝামেলা এইখানেও আমার পিছ ছাড়লনা,এই মেয়ের আবার বিচ্ছু একখান ক্লাস থ্রী পড়ুয়া ভাই ছিল। ওইটা একদিন কোন ফাঁকে যে আমার মোবাইল হাতে পাইসে আল্লাহ মালুম। সেই বিচ্ছু আমার ফোনবুকে ইচ্ছামত নাম্বার এ মেসেজ পাঠায়ে দিসে। মেসেজ এ লিখা ছিল-“ oi shala, toke ami chor marbo” । যারা এই ভয়াবহ মেসেজ পাইছে ওই লিস্টে এ আমার থিসিস এর সুপারভাইজার, আমার মামা, জুনিয়র,ফ্রেন্ড অনেকেই ছিল।পরে যে কিভাবে সবার কাছে অপদস্থ হইসি তা আর নাই বা বললাম।

 

একদিন হন্তদন্ত হয়ে ক্লাস শেষ করে গেসি টিউশনিতে। তখন গরমকাল, পিপাসাও পাইসিল সেইরকম। গিয়েই কিছুক্ষন পর ওদের বাসার কাজের মেয়েটাকে বললাম পানি দিতে। মেয়েটা একটু দয়া পরবশ হয়ে আমাকে ঠাণ্ডা ট্যাং দিসে । দেখেই তো আত্মা ঠাণ্ডা হয়ে গেসে আমার। মুখে তুলতে যাব, এই সময় পিচ্চি তার বোনকে বলে, "ছি ছি আপু,তোমার মিস মানুষের বাসায় গিয়ে চেয়ে চেয়ে খাবার খায় !!!" আমি হাসব না কাঁদব নাকি পিচ্চিটারে একটা থাবড়া লাগাব কিছুই বুঝতে না পেরে বেকুবের মত কেলাইতে থাকলাম।

 

আমার পরিচিত মানুষজন আর বন্ধু বান্ধব সবাই আমার ইস্পিশাল ভয়েস নিয়ে বহু আগে থেকেই আমারে নকল করে জ্বালা যন্ত্রণা দেয়। একদিন মেজাজ এমনিতেই খারাপ ছিল। তার উপরে দেখি পিচ্চি টারে যেই হোম ওয়ার্ক দিসিলাম,কিচ্ছু করে তো নাই,আবার একশ একটা অজুহাত দেখায় ! একটা রাম ঝাড়ির দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করলাম, " ইয়ারকি পাইছ নাকি ? নাকি আমাকে বেকুব পাইছ? ফাঁকি দিবা ইচ্ছামত আর আমাকে যা বুঝাবা তাই বুঝব?" ... হঠাৎ শুনি পিচ্চি ভাইটা  নাকি সুরে আমার সাথে সাথে বলতেছে - অ্যাঁই ইযাঁরকি প্যাঁইছ.........

 

এরপর আরেকটা মেয়ে কে পড়াইতাম। এই মেয়ে আবার সাত চড়ে রা করেনা টাইপ। পড়া জিজ্ঞেস করলে এমন ভাবে তাকায় যেন এইমাত্র আমি ভিন গ্রহ থেকে ল্যান্ড করলাম। আর যখন কোন ম্যাথ অথবা জ্যমিতি একেবারে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অতি কষ্টে অনেকক্ষন  বকবক করে বুঝিয়ে শেষ হত,তখন ওই মেয়ে বলত- "মিস আরেকবার প্রথম থেকে বলেন, বুঝতে পারিনি।" দুই সপ্তাহ টানা বকর বকর করে আমি বুঝলাম, এই মেয়ে কে পড়াইতে গেলে আমি টাক হয়ে যাব ,কারন রাগে মাথার চুল ছিঁড়া টাইপ অবস্থা হয়। আমার ব্যাপক ইচ্ছা করত এক প্যাকেট আয়োডিন যুক্ত লবণ কিইন্যা পরদিন ওই বাসায় দিয়া আসি, আয়োডিন স্বল্পতা ছাড়া এত বুদ্ধির বিস্ফোরণ ঘটা অসম্ভব ! এই পিচ্চির পুরা পরিবার ই এক অবস্থা । একদিন ওই মেয়ের মাকে প্রায় পনের বিশ মিনিট ধরে বুঝালাম যে ,সন্ধ্যায় আমি পড়াতে পারব না,কারন সন্ধ্যায় হলে ফেরা সমস্যা। আমার ব্যাপক বাক্য ব্যয় শেষ হলে উনি আবার বললেন, "কাল তাহলে সন্ধ্যায় আসতেছ তো ?"

 

আরেক টা কথা না বললেই না,ওই বাসায় একদিন পিরিচে করে শুধু আলুভাজি খাইতে দিসিল। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই না কিন্তু, রুটির সাথে যে আলুভাজি খায়,ওই আলুভাজি, সাথে এনার্জি প্লাস বিস্কুট। উল্লেখ্য, ঐ মেয়েরা কিন্তু হুলস্থূল টাইপ বড়লোক। পাক্কা আটদিন উলুবনে শুধু মুক্তা না, হীরা মানিক সব ছড়িয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম, নাহ , এই মেয়েকে পড়ানো আমার কম্ম না । বের হতে যাওয়ার আগে মেয়ের বাবার সাথে দেখা। উনি আমাকে দেখে চোখ কপালে তুলে বললেন, "তুমি কে?" আমি বললাম,"আপনার মেয়ের টিচার, আপনি ই তো সেদিন আমার সাথে কথাবার্তা বলে পড়ানোর ব্যাপারটা ফাইনাল করলেন !"  উনি নির্বিকার ভাবে বলল, "ওহ, ভুলে গেসি !"  আমি তখন বুঝতে পারলাম ,আমি খামাখাই মাইয়াডার উপর চেইতা ফায়ার। মাইয়াডা যে হাবলাকান্ত,ওর কুনু দোষ নাই । এইডা তো জেনেটিকাল প্রবলেম !

Share