ডেইলি প্যাসেঞ্জার - ১

লিখেছেন - সুষমা আপ্লুত | লেখাটি 824 বার দেখা হয়েছে

ঢাকা শহরের সব রুটের বাসে চলাফেরার দুর্লভ অভিজ্ঞতা অর্জন করসি গত কয়েক মাসে। আবুল নামক কোম্পানির আবুলীয় কর্মকাণ্ডে অগত্যা এই সময়ে অসময়ে বাসযাত্রা। আমি সবসময়ই একটু নিরাপদ দূরত্বে থেকে ক্যাচালের মজা নেই । যাই হোক, এই বাস যাত্রার সুবাদে অনেকসময় অনেক কাহিনী ঘটে যা শেয়ার না করে পারলাম না।

 

কয়েকদিন আগে উত্তরা থেকে মতিঝিলের বি আর টিসির বাসে উঠসি। আমার সামনের সিটে একজোড়া কপোত কপোতী। তো সারারাস্তা তাদের ঢং দেখে হাত নিশপিশ করতেছিল আর মনে হচ্ছিল দেই দুইটারে একটা করে থাবড়া ! বাসটারে দুইটা মনে হয় চন্দ্রিমা উদ্যান ভাবতেসে ! কিছুদুর যাওয়ার পর দেখি ওই দুইটার ফিসফিসানির আওয়াজ বাড়ছে কিন্তু হিব্রু ভাষায় রুপান্তরিত হইসে কথাবার্তা, মনে মনে ভাবলাম, পাগল ছাগলদের কাজকর্ম ইগনোর করি, ঠিক তখন শুনি, পোলাটা মাইয়াটারে কয়, ইটেই জিটানু, তিটুমি কিটাল যিটে বিটলিছিলে, ইটামার জিটন্য সিটারপ্রাইজ ইটাছে (এই জানু, তুমি কাল যে বলেছিলে, আমার জন্য সারপ্রাইজ আছে? কিটই ( কি )? মাইয়া কয়, ইটেই যিটে নিটাও সিটারপ্রাইজ, ইটেকটা চিটুম্মা ( এই যে নাও সারপ্রাইজ, একটা ****)  !!!

 

আমার ততক্ষনে চোখ বড় বড় হয়ে গেসে, অনেক চেষ্টা করসিলাম ওদের কথা না শুনতে, কিন্তু কলেজের আমাদের প্রিয় কোড ল্যাঙ্গুয়েজ ডিকোড করার লোভ ও সামলাইতে পারলতেসিলাম না। ওইদিকে তো ওই দুই কপোত কপোতী মনে করছে তাদের ভাষা আর কেও বুঝতেছেনা আর মনের সুখে তারা অকথা কু কথা বলেই যাচ্ছে । সেদিন আবার হেডফোনটাও ব্যাগে ছিলনা যে গান শুনব । নেমে যাওয়ার আগে মাথায় একটা ব্রিলিয়ান্ট আইডিয়া আসল। আমি ওদেরকে বললাম, ‘ইটামি নিটামব, ইটেকটু সিটাইড দিটেন ( আমি নামব, একটু সাইড দেন) । এই কথা শুনে ওরা দুইজন ভুত দেখার মত চমকে উঠল। আমি খুব সুইট করে একটা হাসি দিয়ে নেমে গেলাম ।

 

এরপর একদিন রুট আজিমপুর টু মিরপুর। বাসের সামনের যে কয়েকটা সিট, ওইগুলা সাধারণত মহিলা সিট। তো নিউ মার্কেট পর্যন্ত ১টা মহিলা সিট ফাঁকাই ছিল। এরপর কলাবাগান থেকে একজন বয়স্ক মহিলা উঠলেন। লেডিস সিটে যে লোকটা বসা ছিল, তাকে তখন বাসের কন্ডাক্টর বলল সিট ছেড়ে দিতে। লোকটা শুনেও না শুনার ভান করে বসে থাকল। তখন বাসের অন্যান্য যাত্রীরাও অনুরোধ করল। বেক্কল লোকটা তাও একচুল নড়ল না। শেষমেশ বৃদ্ধা বলল, এই সিট গুলা তো মহিলা, শিশু আর প্রতিবন্ধীদের। আপনি তো শিশু ও না, মহিলা ও না। মহিলার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে লোকটা বলল, “ আমি প্রতিবন্ধী” । আশপাশের সবাই অবাক হয়ে বলল, কই?!! এই কথা শুনে লোকটা আবার জানালা দিয়ে উদাস নয়নে তাকায়ে থাকল। তখন ওই বৃদ্ধা মুখ বেঁকায়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল , অ বুঝসি, মানসিক প্রতিবন্ধী !!

 

যাত্রাবাড়ী রুটের বাসে একদিন হেল্পার টা খুব পিচ্চি। ভাড়া চাইতে আসলে সবাই তারে পিচ্চি বলে ডাকতেছে, ওই পিচ্চির মনে হয় প্রেস্টিজে লাগসিল ব্যাপারটা। সে তক্কে তক্কে ছিল কখন সে এর বদলা নেবে। এক লোক (পেল্লাই সাইজ এর ) ভাংতি টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে জোরে পিচ্চিকে ডাক দিয়ে কয়, ওই ছ্যামড়া, ইদিক আয় দিকিনি, ট্যাকা দে। পিচ্চি ও দাঁত মুখ খিচিয়ে বলে, আইতাছি দামড়া , খাড়ান !!

 

শাহবাগের শিশু পার্কের সামনে হইতে ন্যাদা সাইজের দুই পিচ্চি, তাহাদের মাতা সহ বিশাল গুম্ফ বিশিষ্ট এক ভদ্রলোক তড়িঘড়ি করিয়া বাসে উঠিলেন। বলাই বাহুল্য, উনিই বিচ্ছু ( সম্ভবত জমজ) শিশুদ্বয়ের পিতা। ভদ্রলোক যতই গাম্ভীর্য বজায় রাখার চেষ্টা করিতেছিলেন , শিশুদ্বয় তাহার ঢোলকের ন্যায় ভুঁড়িতে সুড়সুড়ি আর গুম্ফ ধরিয়া টানাটানিতে তাহাকে ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিতেছিল। তাহাদের মাতা বার দুয়েক বালকগণ কে মৃদু তিরস্কার করিয়াছিলেন বটে কিন্তু শিশুগণ বড়ই বেহায়া।  হঠাত পিতার মুঠোফোনে একটা কল আসিল। কথোপকথন বিস্তারিত কহিতে পারিব না,তবে সারমর্ম এই যে কোন আত্মীয় হয়ত বা তাহাদের বাড়িতে আসতে চাহিয়াছিলেন, অনিবার্য কারনবশত লোকটি হয়ত তাহা চান নাই দেখিয়া মিথ্যা করিয়া বলিয়াছিলেন, ছেলেদের নিয়া শিশু পার্কে বেড়াইতে যাইতেছি, ফিরিতে রাত্রি হইবে।একটি  শিশু অমনি পাশে থেকে চিৎকার করিয়া বলিয়া উঠিল,  বাবা তখন যে বলিলে বাড়ি যাইতেছি।মিথ্যা বলিতেছ কেন? আরেকটি শিশু বলিল, আমরা কি এখন তবে আবার শিশু পার্কে যাইব? তাহাদের মাতা তৎক্ষণাৎ তাহাদিগের ইশারা করিলেন চুপ করিতে,  কিন্ত ততক্ষনে পিতা বেচারি ঘটনার আকস্মিকতায় তোতলাইতেছেন আর বলিতেছেন, ননাআ, মানে,ইয়ে আরকি,হয়েছে কি আসলে , বাসে ও ততক্ষনে হাসির রোল পড়িয়াছে !

 

এই ঘটনা অবলোকন করিয়া আমি যখন হো হো করিয়া হাসিয়া উঠিয়াছিলাম,বিধাতাও বুঝি তখন মুচকি হাসি দিয়াছিলেন । দিন দুয়েক পরে দুপুরবেলায় অফিস ফাঁকি মারিবার মনোবাসনায় গুলশান হইতে মতিঝিলের পথ না ধরিয়া মিরপুরের পথ ধরিলাম। কি একটা কাজে আমার স্যার কল দিয়া জিজ্ঞাসিলেন, কোথায় আপনি? আমি নির্বিকার মুখে মিথ্যা বলিলাম, স্যার এখনও গুলশান পৌছাইতে পারিনাই, কি যেএএএএএ জ্যাম না স্যার !!! আর হতভাগা বাস কন্ডাকটর তক্ষুনি বাস চাপড়াইয়া হাঁকাইয়া উঠিল, ওই শ্যামলী ,শ্যামলী, যারা নাম্বেন গেটে আসেন । আমার ততক্ষনে কর্ণ দিয়া ধোয়া বাহির হইতেছে। স্যার চিবিয়ে চিবিয়ে বলিলেন,কাল অফিসে আসুন,কথা আছে।

 

আমি এবং আমার ছোট বোন খোশগল্প করিতে করিতে বাসে যাইতেছিলাম। কিছুদূর যাইবার পর খেয়াল করিলাম, গরম বেশি লাগিতেছে, কারণ অনুসন্ধান করিয়া বের করিলাম, সামনের সিটের যাত্রী জানালাটা পুরাই ঠেলিয়া পিছনের দিকে বন্ধ করিয়া তাহার পার্শ্ব উন্মুক্ত করিয়া হাওয়া খাইতেছে হা করিয়া। আমরা জানলাটা মাঝামাঝি রাখার বারকয়েক চেষ্টা করিতেই সেই ব্যক্তি বাংলা সিনেমার ইলিয়াস কাঞ্চনের ন্যায় নাক ফুলাইয়া ঝগড়া করিতে থাকিল। আমরা ভদ্র বালিকার ইমেজ বজায় রাখিতে এক্কেবারে স্পিকটি নট হইয়া রাগে গরগর করিতে লাগিলাম।এর মাঝে দেখি আমার বোন ব্যাগ হইতে একখানি মার্কার বাহির করিয়া ছোট নোটবুকের পেজে কিসব হাজিবাজি লিখিতে লাগিল। লেখা শেষ হইলে তাহা একের লেজে এক জোড়া লাগাইয়া বিশালাকার লেজ বানাইল। সামনের ঝগড়ুটে লোকটির  ঢুলুনির সুযোগে শার্টের পিছনে কলারের ঝুলন্ত অংশে সেফটিপিন দিয়া সাবধানে আটকাইয়া দিল। পরের স্টপেজে যখন লোকটি নামিল, বাসের অন্যান্য যাত্রীরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করিল, লোকটার পিছে মার্কার দিয়ে লেখা -

 

" হাট্টিমাটিম টিম আমি বাসে পাড়ি ডিম

এতক্ষন দিলাম তা, ফুটবে এবার ছা "

 

বি আর টিসির লাল রঙের এসি বাসগুলো একেকটা সাক্ষাৎ মশার আস্তানা। বিশেষ করে সকালবেলার প্রথম ট্রিপটাতে মশার দলবলের পিনপিনানি অটো মিউজিক সিস্টেমের কাজ করে।তার সাথে পাবলিকের মশা মারার চটাস চটাস শব্দ তো আছেই। একদিন মশার পরিমাণ একটু না,অনেক বেশিই ছিল। শেষমেশ পাবলিক বিরক্ত হয়ে ড্রাইভার কে মশা নিধনের উপর টিপস দিতে শুরু করল। এক যাত্রী আবার এক কাঠি সরেস। ড্রাইভার কে বলল, ওই মিয়া এরোসল নাই? ড্রাইভার বিরবিকার মুখে বলে,আছে তো! এই কথা শুইনা সবাই নড়েচড়ে বসে।একেকজন বলে ,ধুর মিয়া ,এতক্ষন পর এই কথা! তা কই এরোসল? ড্রাইভার নিরীহ মুখ করে বলে- "দোকানে" .

 

বাচ্চাদের কর্মকাণ্ড আসলেই ভয়ংকর। এমনিতেই কিছু বিচ্ছু পোলাপাইন থাকে, যাদের প্রশ্নবাণে বাবা মার মনে হয়,ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি । সেইটা যদি হয় আবার বাসের মত পাবলিক প্লেস,তাইলে তো কথাই নেই !

 

স্কুলড্রেস পরা দুই পিচ্চি মায়ের সাথে বাসে উঠল খিলখেত থেকে। পিচ্চি দুইটা বড়জোর ক্লাস ওয়ান টু তে পড়ে। মেয়েটাকে মা কোলে নিয়ে বসল, আর ছেলেটাকে পাশে বসাল।কিছুদুর যেতেই আরেক মহিলা যাত্রী উঠল,ছেলে পিচ্চিটাকে বলল, "বাবু তুমি আমার কোলে বস" . পিচ্চি প্রবলভাবে মাথা ঝাকিয়ে বলে, "না না কোলে বসব না।" পিচ্চির মা বলে, "ও মা ,কেন?আন্টি তো।কোলে বস।" পিচ্চি বলে , "আই হেট গার্লস" ! পিচ্চির মা এই কথা শুনে টাশকি খাইল কিনা কে জানে,তবে আমার মনে হল এই পিচ্চি বড় হইলে নির্ঘাত একটা "জিনিস" হবে !

 

ভয়ংকর বিচ্ছু টাইপ এক পিচ্চি লেগুনার হেল্পার। আমি কয়েকদিন ধরে এইটা খেয়াল করে আবিষ্কার করলাম লেগুনার হেল্পার কারো বয়স ই সাত আটের বেশি হবেনা। এরা জীবনে স্কুলে কয়দিন গেসে জানিনা,কিন্তু অংকে যে তারা মারাত্মক দক্ষ,তাতে কোনই সন্দেহ নাই। প্রথম প্রথম আমি তাব্দা খাইয়া গেসি এদের ভাড়া কাটা দেখে,এক্কেবারে পাক্কা হিসাব। লেগুনার ভিতরে লেখা ১০০,৫০০ টাকা ভাংতি নাই। একজন ১০ টাকার ভাড়া দেয়ার জন্য ১০০ টাকা দিতেই পিচ্চি হেল্পার দিল ঝাড়ি। বলল লেখা আছে দেখেন,১০০ টাকার ভাংতি নাই। কোণার দিকে বসা একটা লোক ফাজলামি করে ১০০০টাকার নোট বাড়িয়ে দিয়ে বলল, এই নে ,কোথাও তো লিখা নাই,১০০০ টাকার ভাংতি নাই,আমাকে তাইলে ভাংতি করে দে। পিচ্চি দাঁত কেলিয়ে চুপ করে গেল।

কিছুক্ষন পর ওই ভদ্রলোক আবার কয় , আমাকে শ্যামলী নামিয়ে দিবি ব্যাটা। পিচ্চি পাইসে সুযোগ, সে পুনরায় দাঁতের দোকান দেখায়ে কেলাইতে কেলাইতে কয়, " আমি আফনারে কেমতে নামামু? আমি তো আফনারে কোলেই উডাইনাই" !!!

  এক বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যায় প্রচন্ড ভিড় বাসে। তাও জায়গায় জায়গায় বাস থামিয়ে লোক উঠাচ্ছে হেল্পার। পাবলিক গালাগাল দিলেও এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দিচ্ছে। এক লোক বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলতে ঝুলতে বলে,এহ, হারামি বান্দরের দল, সিটিং বাস তো না,ফিটিং বাস,কত বেশি লোক ফিটিং করা যায় বাসের ভিতরে,নাকি? এই কথা শুনে পিচ্চি হেল্পার বলে, এহ, নিজে ঝুইলা আছে বান্দরের লাহান,আর আমারে কয় বান্দর !

 

মোহাম্মদপুরের এক বাসে, এক লোক ছেলেকে নিয়ে হন্তদন্ত করে উঠল, বাস ছেড়ে দিচ্ছিল দেখে তাড়াহুড়ায় গেটের মুখের সিটে বসা দশাসই এক মহিলার পায়ে ব্যথা দিয়ে ফেলসে। সাথে সাথেই মহিলার চিল চিৎকার, চোখের মাথা খাইসেন? আমার পা দেখতে পারেন নাই? ( যদিও উবু না হইলে উনার পা দেখা মোটামুটি অসাধ্য ব্যাপার) ।লোক টা মিনমিন করে বলে,সরি,আসলে তাড়াহুড়া করে উঠতে গিয়ে এইরকম হইসে,সরি। মহিলা কিসের কি! সমানে ঝাড়তে লাগল। ঝাড়ির সারমর্ম হইল,উনার পা দেখতে না পাওয়ার মানে লোকটা আন্ধা আর না হয় পা মাড়াইছে ইচ্ছা করে ! লোকটা আর কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ মহিলার পিছের সিটে বসে পড়ল ( বাধ্য হয়ে, আর সিট খালি ছিলনা )

একটু পর বাসে হকার উঠল। "দাজ্জাল চিহ্নিত হয়েছে" এই নামের একটা বই হাতে নিয়ে হকার প্রাণপণ চেষ্টা করতেই থাকল পাবলিক কে বিশ্বাস করানোর জন্য যে, এই বই এর প্রতিটা অক্ষর সত্যি। লোকটার ছেলে হঠাৎ বাপ কে জিজ্ঞেস করল,বাবা "দজ্জাল" কি? লোকটা মনে হয় ছিল খুব রসিক, কি ভেবে আঙ্গুল দিয়ে সামনের সিটে বসা মহিলা কে দেখায়ে দিল ! পিচ্চি টা আর অতশত বুঝে নাই, জোরে জিজ্ঞেস করল, বাবা বাবা, এই আন্টিটা দাজ্জাল? এই কথা শুনে বাসে যেন বোমা ফাটল।পাবলিক মিছেমিছি কিছুক্ষন হাসি চাপার চেষ্টা করে একসময় সংক্রামক ব্যাধির মত হাসি ছড়িয়ে পড়ল । হাসি ছাপিয়ে শোনা গেল ওই মহিলার চিল চিৎকার, " কি!! এত বড় কথা, নির্লজ্জ বেহায়া লোক.................."

"দাজ্জাল" আসলেই আবির্ভূত হয়েছে কিনা জানিনা, তবে "দজ্জাল" যে বহু আগে থেকেই কতগুলো নিরীহ মানুষের জীবন তেজপাতা বানায়ে রাখসে তা বুঝতে বাসের আর কারো বাকি থাকল না ......

 

Share