স্মৃতি কথন

লিখেছেন - - বিকেল চড়ুই | লেখাটি 1505 বার দেখা হয়েছে

'এভাবে আমাকে কাঁদাও কেনো?'
সেদিন আমি ফুঁপিয়ে কাঁদছিলাম তোমার বুকে মুখ লুকিয়ে। কি এক প্রসন্ন হাসি হেসে তুমি আমার চুলে মুখ ডুবালে। আর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলেছিলে 'ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি। এক মহাকাশ সমান, এক মহাসমুদ্র সমান। তুমি আমার, একান্ত আমার। শুধুই আমার'


তোমার চোখে রোদের ঝিলিক ছিল, কন্ঠে দৃঢ়তা। আমি সেই মুহুর্তটার আগে বুঝতে পারিনি, বুঝলে। আমি একটুও বুঝতে পারিনি তুমি ছাড়া আমি যে অস্তিত্বহীন একটা মানুষ। একদম বুঝতে পারিনি। তুমি কক্ষনো জোর করোনি। সময় দিয়েছিলে যাতে একটা কঠিন স্মৃতি ভুলে তোমার জীবনে ফিরে আসতে পারি। ফিরেছিলাম একদিন। একান্ত তোমার হয়ে। তারপর দুজনের একান্ত ভালোবাসা, একের মাঝে অপরের অস্তিত্ব খুঁজে নেয়া। তোমার রোজ সকালের আলতো আদর আর মাঝরাতে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়ানো। আর এত বকতেও পারো তুমি। কত প্রেমকাব্য, কত গল্প, ভাঙ্গা গলায় গান গাওয়ার কতশত ব্যর্থ চেষ্টা। আমি হেসে কুটি কুটি হলে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শাসন করতে। তোমার গভীর নিঃশ্বাসে আমি তলিয়ে যেতাম।

এভাবেই কি কাটতে পারতোনা একটা জীবন। তুমি আর আমি আর .. .. আমাদের সন্তান। এই মুহুর্তে যার অস্তিত্ব আমার শরীরে। এভাবে হারিয়ে যেতে হয়না বুঝলে পাজি ছেলে! থাকো একা থাকো। আমাকে ফেলে একা থাকাই যখন এত প্রিয় তোমার। দিনশেষে অসহ বিরহ ব্যথা বুকে নিয়ে এলোমেলো আমি বেঁচে থাকব কথা দিলাম। বেঁচে থাকব তোমার জন্য, তোমার সন্তানের জন্য। তুমি ভালো থেকো। আকাশের লক্ষ কোটি নক্ষত্রের মাঝ থেকে একদিন আমি তোমাকে খুঁজে নেব। আর রূপকথার গল্প শেষে আমাদের সন্তানকে আকাশের বুকে জন্ম নেয়া সেই নক্ষত্রটা চিনিয়ে দেবো। বলব 'খোকা ঐ যে তোর বাবা। চিত্কার করে ডাক। যত জোরে পারিস ডাক। ঠিক যতটা জোরে ডাকলে পৃথিবীর কোনো বাবা ব্যাকুল না হয়ে পারেনা'

দেখবে সেদিন একটুও কান্না পাবেনা আমার। একটুও না ...

 

Share