ধোয়া জায়নামাজ গুলো কড়া রোদে শুকানোর পর

লিখেছেন - রাহনুমা কুমকুম | লেখাটি 465 বার দেখা হয়েছে

ধোয়া জায়নামাজ গুলো কড়া রোদে শুকানোর পর ছাদ থেকে নিয়ে আসতে হবে। ফ্লোর ধোয়ামোছা আগেই শেষ, ঝকঝক চকচক করছে।মার চেম্বার নেই আজকে, তাই দুপুর থেকেই রান্নাঘরে গিয়ে ঢুকেছে। হালুয়ার সুঘ্রানে ভরে গেছে চারপাশ। গরু মাংস আর চালের রুটিও হয়েছে। আশেপাশের বাসায় পাঠানো হবে ট্রেতে করে। সেখান থেকে আবার ফেরত আসবে। এটাই নিয়ম, খালি বাটি কক্ষনো ফিরিয়ে দেয়া হয়না। পাশের বাসার আন্টি একবার আর কিছু না পেয়ে নিজের গাছের দুটো লেবু পেড়ে প্লেটে সাজিয়ে দিয়েছিলেন.. লজ্জিত হয়ে বলছিলেন "ঘরে আর কিছু নেই, রান্না বসাতে দেরী হবে.. খালি বাটি কি করে ফেরত দিই.. আচ্ছা এটা অন্তত নিয়ে যাও!"

দাদুর ঘর থেকে কোরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ আসছে। আজ সেহরীর আগ পর্যন্ত আমি দাদুর ঘরে দাদুর সাথে নামায পড়ব। ঘুমিয়ে পড়লে একজন আরেকজনকে ডেকে তুলব.. আপাতত গোসল করে মাথায় ধবধবে সাদা ওড়না জড়িয়ে মার পাশে থেকে বিভিন্ন বাসার হালুয়া টেস্ট করছি!.. "আন্টিদেরটাও ভাল কিন্তু তোমার মত বুটের হালুয়া আম্মু কেউ বানাতে পারেনা"..
মা মাথায় চাটি দিল একটা- "খালি কথা আর কথা। আধাঘন্টা ধরে রান্নাঘরে এসে শুধু খেয়েই যাচ্ছে মেয়েটা! এই..তোর না আমাকে হেল্প করার কথা.."
আমি-"করছি তো, প্লেট সাজাচ্ছি না! টেস্ট করে বলছিনা চিনি ঠিক আছে কিনা!" মা- "হ্যাঁ এ এ..আমাকে উদ্ধার করে ফেলছেন একেবারে!যা দেখ গিয়ে তোর বাবা কই.. পাঞ্জাবী হ্যাঙ্গারে ঝুলছে, নিশ্চয়ই গোসল করে এসে খুঁজে পাবেনা.. বের করে দিয়ে আয় তো..যা না মা.."
আমি- "যাচ্ছি যাচ্ছি"

দাদা চেঁচাচ্ছেন ওদিকে "আমার আতরের শিশিটা দেখছনি কেউ? টুপিটা কই? আমার টুপি??" দাদু গজগজ করেন "পঞ্চাশ বছর অইগেছে সংসার করি.. বান্দার টুপিটা একদিন ঠিকঠাক রাখা গেলনা! নিজেই রাখছইন কুনুখানো, দেখইন খুঁইজা.." দাদা কানে হাত দিয়ে দিলেন- "এঁ এঁ এঁ??.. বুঝিনা কিতা কও.. আমার টুপি ই ই ই?"
দাদু- "কানেও শোনেনা বান্দা!কি যে মুসিবত!"
দাদার টুপি? এইতো দেখলাম টেবিলের উপর.. বুড়োর হাতে ধরিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে দুই/তিনটা করে সিঁড়ি টপকে দোতলায় বাবার কাছে চলে গেলাম... উফফ সব কাজ আমাকেই করতে হয়!!

শবে বরাত এমন হত আমার..

এখন হয়না। হোস্টেলে কাটে একা.. ছোটখাট মধুর সেইসব স্মৃতি বুকে জড়িয়ে। শুধু প্রার্থনা করি সবার জন্য।
সবাই ভাল থাকুক.. যেখানে থাকুক...

Share