অনেক অনেক বছর আগে এক হাতি রোজ বিকেলে

লিখেছেন - একুয়া রেজিয়া | লেখাটি 861 বার দেখা হয়েছে

অনেক অনেক বছর আগে এক হাতি রোজ বিকেলে সমুদ্রের পাড়ে গিয়ে জল খেতো। সেই সময় বিকেলে নীল সাদা মেঘের ছায়া যখন সমুদ্রের জলে পড়তো তখন এক তিমি মাছ সমুদ্রে ঘুরে বেড়াতো আর মাঝে মাঝে ডলফিনের মত ডিগবাজী খেয়ে ডাঙ্গায় চলে আসতে চেষ্টা করতো। তিমি মাছটা বড্ড জেদি আর ছেলেমানুষ ছিলো। ডাঙ্গার প্রাণীদের নিয়ে ওর কৌতূহলের অন্ত ছিলো না। হাতিকে দেখে দেখে তিমি কেবলই বিস্ময় জাগতো মনে। সে ভাবতো তার কেন ডাঙ্গার প্রাণীদের মত এত সুন্দর পা নেই! এদিকে হাতি ভাবতো, ইসস সে যদি তিমির মত সারা সমুদ্রে এভাবেই ঘুরে বেড়াতে পারতো।

দুজনের মনের কৌতূহল এক সময় ভালোলাগায় রুপ নিলো। তাই রোজ বিকেলে এমনি করে হাতি আর তিমির সমুদ্রের পাড়ে দেখা হয়ে যেত।

কিন্তু হাতি আর তিমির কি কখনও মিলন সম্ভব? উঁহু সম্ভব না। না হাতি যেতে পারবে জলে না তিমি আসতে পারবে ডাঙ্গায়। এভাবে দুজন দুজনকে দেখে দেখে দিন পার করে দিচ্ছিলো। হাতিকে না পেয়ে তাই একদিন তিমি বিষণ্ণ হয়ে বলল-
'আমি থাকি জলে,
তুমি থাকো স্থলে
তোমার আমার দেখা হবে
মরণের কালে...'

হাতি এই কবিতা শুনে অনেক অনেক কাঁদল। সাধারণত হাতির গড় আয়ু হয় ৭০ বছর আর তিমির ৮৫ বছর। এভাবে বেশ অনেক বছর কেটে যাবার পর একদিন জ্যোৎস্না রাতে হাতি মারা গেলো। তিমি হয়ে পড়লো ভয়ংকর একলা। রোজ বিকেলে নীল সাদা মেঘের ভীরে, জ্যোৎস্না রাতে সে সমুদ্রের পাড়ে এসে হাতির জন্যে কাঁদত। তিমির সেই কান্না শুনে আকাশ বাতাস আর বনের পাখিরাও বিষণ্ণ হয়ে যেত। বছর দশেক পর তিমিও একদিন মারা গেলো। ততদিনে হাতি আর তিমির ভালোবাসার গল্প বনের সবাই জেনে গেছে। তাই সমুদ্রের যেই পাড়ে ওদের দুজনের দেখা হত সেই পাড়ের নাম বনের সব পশুপাখি মিলে দিলো "হাতিমি" অর্থাৎ হাতির তিমি।

'হাতিমি' জায়গাটা আজও টিকে আছে। তবে তিমির কবিতার মত, মৃত্যুর পর হাতি আর তিমির মিলন হয়েছিলো কিনা তা কেউ জানে না!

- একুয়া রেজিয়া

Share