লেপের নিচে টর্চলাইট জ্বালিয়ে গল্পের বই পড়ুয়েদের দলে

লিখেছেন - মারওয়ান বিন নাসির | লেখাটি 2672 বার দেখা হয়েছে

লেপের নিচে টর্চলাইট জ্বালিয়ে গল্পের বই পড়ুয়েদের দলের মাঝে আমিও ছিলাম। মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দা, জাফর ইকবাল, হরর থ্রিলার, দুনিয়ার সব কমিকস কিছুই বাদ দিতাম না। কিন্তু একজন লেখক, যিনি আমার চিন্তা-ভাবনা, আবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি অন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি হুমায়ূন আহমেদ।

ছোটবেলা থেকেই তার বই পড়ার জন্য পাগলের মত ছিলাম। আমার মনে হয়না আমি তার প্রকাশিত কোন বই বাদ দিয়েছি। তবে আজ হিমু, মিসির আলি নিয়ে কোন কথা বলবনা। হুমায়ূন আহমেদকে নিয়েও বলবনা। শুধু তার একটা বইয়ের কথা বলবো, যেই গল্প পড়লে যে কখনো কাওকে ভালোবাসেনি তারও বুক কেঁপে উঠবে আবেগে, বইটির নাম ‘আয়নাঘর’।

আমি আয়নাঘর প্রথম পড়ি প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত কম করে হলেও শতবারের মত পড়ে ফেলেছি। গল্পের অন্যান্য কাহিনীর মাঝে ফুটে উঠেছে তাহের আর লিলিয়ানের অন্যরকম ভালবাসার কাহিনী।

সামনে বইটা রাখা আছে। সেইখান থেকে আমার প্রিয় কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি।

‘ হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তার
হিসেবে তাহের যা পায় তা তার জন্য যথেষ্ট – জমানো তো দূরে থাকুক মাসের শেষে সে শেষ কোয়ার্টারটিও খরচ করে শুকনো মুখে লিলিয়ানকে বলে – লিলি! তোমার কাছে গোটা বিশেক ডলার হবে? তখন
তাহেরের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে লিলিয়ানের চেঁচিয়ে বলতে ইচ্ছা করে – I love you, I
love you. সে অবশ্য চেঁচিয়ে বলেনা। মনে মনে বলে যেন তাহের কখনো ধরতে না পারে। যেমন ধরা যাক তাহের কফির পেয়ালা হাতে নিয়ে যখন বলে – বাহ তুমি তো একসিলেন্ট কাপাচিনো কফি বানাতে শিখে গেছো? এসো আমরা একটা কফিসপ চালু করি। কফিশপের নাম হবে – লিলিয়ান’স কাপাচিনো। তখন
লিলিয়ান মনে মনে বলে – I love you. I love you.
ঈশ্বর মানুষকে প্রচুর ক্ষমতা দিয়েছেন কিন্তু মনে কথা বুঝবার ক্ষমতা দেন নি। যদি দিতেন তাহলে তাহের বুঝতে পারতো কি গাঢ় ভালোবাসায় লিলিয়ান এই মানুষটাকে ঘিরে রেখেছে।’

আসলেই ঈশ্বর মানুষকে মনের কথা বুঝার ক্ষমতা দেন নি।
কিন্তু ওপারে দাড়িয়ে তিনি হয়ত ঠিকই বুঝতে পারছেন আমাদের মনের কথা গুলো...
যেখানেই থাকুন ভাল থাকুন কথার যাদুকর ।

- মারওয়ান বিন নাসির -

Share