আজকের স্ট্যাটাসে হুমায়ূন স্যারের কথা আসবেই

লিখেছেন - জয় কবির | লেখাটি 551 বার দেখা হয়েছে

আজকের স্ট্যাটাসে হুমায়ূন স্যারের কথা আসবেই। এই মানুষটা কেমন করে যেন কয়েক কোটি মানুষের মাঝে নিজেকে রেখে চলে যেতে পেরেছেন। এত সৌভাগ্য সৃষ্টিকর্তা সবাইকে দেন না। তাঁর চলে যাবার ক্ষনে বাংলাদেশ কেঁদেছে, ঠিক এক বছর আগে চলে গেলেন স্যার। সময় কত দ্রুত গড়িয়ে চলে, না?

অনেকের চাইতে আমি হয়তো একটু বেশী ভাগ্যবান। স্যারের লেখার ভক্ত আমি সেই ছোটবেলা থেকেই। তার যখন খুব বেশী ফ্যান তৈরী হয়নি, তখন থেকেই ছিলাম আমি, কখন দেখা করা হয়নি, কিন্তু প্রতি বছরে ১৩ নভেম্বর কুরিয়ারে তাকে গিফট পাঠাতাম। কখনও উনি নিজে রিসিভ করতেন, কখনও গুলতেকিন ভাবী, নোভা বা শীলা। অনেকদিন সেই কুরিয়ারের ম্যামো গুলো যত্ন করে রাখা ছিল। স্যারের লেখা প্রকাশ হবার সাথে সাথে আমার কাছে বই পাওয়া যাবে, এমন কথা পরিচিত অনেকেই জানতো। যে লাইব্রেরী থেকে বই কিনতাম, ওদের বলে দেয়া ছিল, নতুন বই আসা মাত্র আমাকে জানাতে। রাজশাহী নিউমার্কেটে একটা দোকান থেকে বই কিনতাম, সেই দোকানে বসতো হালিম নামের এক ভাই, উনি রাত ১২টার সময়ও বাইসাইকেলে করে হলে গিয়ে আমার হাতে বই পৌঁছে দিয়ে এসেছেন। বাসায় আমার ছোট্ট লাইব্রেরীর বেশ বড় একটা অংশ ছিল স্যারের লেখা বইয়ে ভর্তি।

আমার জীবনে স্যারের অবদান? এই যে গল্প করার মত সাবলীল ভাবে লিখে যাওয়া, মনের কথা স্বাচ্ছন্দে বলে ফেলার ক্ষমতাটার অনেকটুকুই স্যারের দেয়া। নিজের ভেতরের শুদ্ধতম আবেগটাকে উপলব্ধি করার ক্ষমতাটাও স্যারের কাছ থেকেই পাওয়া।

মাটির ঘরের চিরশয্যায়, গৃহত্যাগী হবার মত জোছনায় অথবা আষাঢ়ের ঝুমঝুম বৃষ্টিতে এখনও আপনার মন কেমন করে কি না জানিনা, তবুও প্রার্থনা - ভাল থাকবেন …

- জয় কবির

Share