পত্রগুচ্ছ

লিখেছেন - অজানা | লেখাটি 607 বার দেখা হয়েছে

পত্র নাম্বার ১

  

ইরাবতী,

সাদা আর লালরঙা কাঁচের চুড়ি..তোর দু'হাতে পড়বি... বলেছিলি । তোর পায়ের রুপার নূপুর...যার শব্দ শুনেই বুঝতে পারবো যে.. তুই আমার কাছেই আছিস । তোর সাদা-কালো রং এর প্রিয় সে গোলাপ ফুলের তোড়া ... যার জন্য তোর প্রতি জন্মদিনে তুই অপেক্ষা করতি ।  সাদা-কালো কাঁচের চুড়ি...রুপার নূপুর...সাদা-কালো গোলাপ ফুলের তোড়া...। সব সাজিয়ে নিয়ে বসে আছি ...শুধু তুই নেই ইরাবতী....! তোর সেই হাসি...কপট রাগের ভান...তোর সেই মিষ্টি গলার ঝগড়া...অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা...বৃষ্টিতে ভিজতে চাওয়ার বায়না...নেই.........! কিচ্ছু নেই .......! পৃথিবীটা খুব নিষ্ঠুর... তাই না রে ? আজও যে ভুলতে পারিনি আমি তোকে । তোর স্মৃতিগুলো খুব নাড়া দেয় আমাকে । তোর শূন্যতা মনে করিয়ে দেয় আমাকে... বারবার ।আজও হয়ত সারারাত ঘুমাতে পারবো না আমি...তোর কথা ভেবে । আচ্ছা....আমার জায়গায় তুই থাকলে.. কি করতি? কাঁদতি? ফুপিয়ে ফুপিয়ে? অন্ধকার ঘরের কোনো একটা কোণে বসে?জানিনা....আমি কিচ্ছু জানি না....ভালোবাসা নামক পবিত্র এই সম্পর্কটা আমাকে শিখিয়ে... কেমন করে পারলি আমাকে ছেড়ে যেতে? জানিস না...আজও প্রতিরাতে আমি আকাশের বুকে খুঁজে বেড়াই তোকে,ঝাঁপসা চোখে ? জানি তুই ভালো নেই । আমাকে ছাড়া ভালো থাকবি কি করে....! আর কিছুদিন অপেক্ষা কর । আমিও আসছি ! রাতের আকাশে তারা হয়ে পাশাপাশি থেকে আমরা পৃথিবীর মানুষজন দেখবো... যারা আমার মত রাত জেগে আকাশের মাঝে খুঁজে বেড়ায় তার ভালোবাসার মানুষটিকে । খুব বেশী মনে পড়ছে রে তোকে ... খুউব...খুউউউউউব ! 

 

ইতি তোর পাগলটা ।

 

পত্রলেখক ___ উড়ন্ত ঘুড়ি    

----------------------------------------------------------------------------------------------------

পত্র নাম্বার ২

 

 

 প্রিয় প্রকৃতি, 

 

অবশেষে আরেকবার তোমায় চিঠি লিখছি। শেষ কবে লিখেছিলাম মনে আছে? সেই যখন আমি দুই বেনী বালিকা, ভালোবাসার প্রথম চিঠি তোমায় লিখে নীল ঘুড়ির খামে উড়িয়ে দিয়েছিলাম ঝড়ের রাতে.. ভূলে গেছো? তোমার কাছে চিঠি লিখেছি বলে আমার পরিবারের সবার কি হাসাহাসি, বোকা মেয়েটা তার প্রথম চিঠি লিখেছে প্রকৃতির কাছে.. মেঘ অরন্য সমুদ্র বৃষ্টি প্রজাপতি ফুল পাখির কাছে! রেগেমেগে কেঁদেই ফেলেছিলাম, তারপর একদৌড়ে ছাদে। কি প্রবল ভালোবাসার হাওয়ায় ভাসিয়েছিলে, আজো এখনো ভাবলেই শিহরণ জাগে হৃদয়ের খুব গভীরে। এই দেখো, সেই পুরোনো কথাই বলে যাচ্ছি অনর্গল! এসো, নতুন কিছু বলি। তুমি তো কিছুই বলতে পারবেনা..যা বলার আমাকেই বলতে হবে! জানো তোমাকে প্রথম কখন ভালোবেসে ফেলেছিলাম? এক শীতের বিকেলে দোলনায় বসে আকাশ দেখছিলাম.. হঠাত্‍ করে দমকা হাওয়ায় পাতা ঝরতে লাগলো, আমি সেই অসম্ভব সৌন্দর্য বুভুক্ষের মত উপভোগ করতে লাগলাম.. বিকেলের মেঘরঙা আলোয় পাতাদের প্রজাপতি বৃষ্টি দেখে প্রথমবারের মত তোমার প্রেমে পড়েছিলাম! আজ আমি শৈশব কৈশোরের সিড়ি পেরিয়ে যৌবনের ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি জীবন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে.. তারপরেও গ্রীষ্ম বর্ষা বসন্তের প্রকৃতি, তোমার জন্য সেই মাতাল ভালোবাসা আজো একইরকম আছে। সেই কবেকার পাতার বৃষ্টি সময়ের দেয়াল পেরিয়ে এখনো আমার শহুরে হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। লিখতে লিখতে অনেক বেলা হয়ে গেলো। এখন বারান্দায় তোমার সাথেই কিছুটা সময় কাটাবো, তাই চিঠির সমাপ্তি আপাতত.. পরে

 

বি: দ্র: দিয়ে আরো একটা চিঠি না হয় লিখে ফেলবো! তারপর উড়িয়ে দেবো মেঘলা হাওয়ায়। ভালো থেকো, ভালোবাসায় থেকো... 

 

ইতি, 

 

সূর্য বালিকা পত্রলেখক____

 

জলধারা মোহনা

   --------------------------------------------------------------------------------------------

 

পত্র নাম্বার ৩

 

আজও কোন সম্বোধন ছাড়াই চিঠি টা শুরু করলাম. . .জানি আপনার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। হয়তো এখন আপনার সেই মুচকি হাসিটা এখন আপনার ঠোঁটের কোনে, যেটা দেখলে আমার পৃথিবীতে সুনামি উঠে আর আমি ভাবি একটা ছেলের হাসি এত অসাধারন কিভাবে হয়! ! !পিকনিক থেকে আসার সময় বাসে প্রথম যখন আপনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়েছিলেন আমি তো তখনই নাই হয়ে গিয়েছিলাম।থাক আর বলব না। ছেলেদের বেশি প্রশংসা করলে তারা আবার আসমানে উঠে যায়। আমি আপনাকে আসমানে উঠতে চাই না। আমি চাই আপনি আমার আশেপাশে ই থাকেন।সবসময়।সবসময়।সবসময়।জানেন আজকে আমি একটা লাল টকটকে ড্রেস কিনেছি। যদিও আমার ধারণা আমাকে লালে জঘন্য লাগে, কিন্তু এবার কিনেছি আপনার কথায়। আপনার পছন্দ বলে।আজকে মনে হয় ঝুউউউউউম বৃষ্টি হবে। মনে আছে আপনি আমাকে বলেছিলেন আমার সাথে একদিন বৃষ্টিতে ভিজবেন। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় লাল শাড়ি পরে, খুব করে সেজে আপনার হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজব। আমার চোখের কাজল যখন ছড়িয়ে যাবে তখন আপনি মুছে দিবেন. . .আর তখন যদি আমার চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা জল ঝরে পড়ে আপনি না বুঝেই সেই জলটুকু ও মুছে দিবেন. . .এর মাঝে ই আমি খুঁজে নিব আমার পূর্ণতা।কালকে আমার বান্ধবী রিয়া আমাকে বলছিল, এ কেমন ভালবাসা তোর? চার বছর হয়ে গেল আজ পর্যন্ত আপনি থেকে তুমি তে যেতে পারলি না! ! জানি অনেকে ই হয়ত তাই ভাবে। কিন্তু কারো কিছু ভাবা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। আপনি আমার কতটা কাছের আমি তো জানি। আপনার চোখে যখন আমি নিজেকে দেখি তখন মনে হয়. . .এই তো আমি. . .আপনার একদম কাছে. . .আপনার সত্ত্বায় মিশে আছি। হলাম নাহয় আমরা সবার চেয়ে একটু আলাদা।আপনি কিন্তু এখনও আমাকে long drive এ নিলেন না।আপনার এই boss আপনাকে দিয়ে আর কত কাজ করাবে? আজকাল আপনার সাথে দেখাই করতে পারি না। খুব খারাপ। জানেন আপনাকে ছাড়া একা একা coffee খেতে আমার একটুও ভালো লাগে না। কবে সময় হবে আপনার??? আপনি যখন মুচকি হাসি দেন আমার কোন একটা বোকামি তে আর বলেন পাগলি কোথাকার. . .আপনার ওই হাসি দেখার জন্য আমি অস্থির হয়ে আছি।শেষ একটা কথা. . .একটু যদি তাকাও তুমি মেঘগুলো হয় সোনা. . .আকাশ খুলে বসে আছি তাও কেন দেখছ না. . .একই আকাশ মাথার উপর এক কেন ভাবছ না. . .আকাশ খুলে বসে আছি তাও কেন দেখছ না. . .

 

আপনার পাগলি. . .

 

 

__Nishat Badhan

Share