তৃপ্ত জীবন,দাম-১০ টাকা কিংবা ফাও

লিখেছেন - মেহেদী হাসান মুন | লেখাটি 850 বার দেখা হয়েছে

১.

মধ্যাহ্ন।।

 

রোদ ঠিক এসে আমার সদ্য পড়তে শুরু করা চুলগুলো পেড়িয়ে চাঁদিতে লাগছে।“ধুর শালা এত গরম কেন?”,বিরক্ত হয়ে বলে উঠলাম।গায়ের পাঞ্জাবীটা ঘামে লেপটে আছে শরীরের সাথে।ভাগ্য ভালো তেলাপোকা কয়েক জায়গায় কেটে ফুটো করে রেখেছে,সেখান থেকে যা একটু বাতাস ঢুকছে ভেতরে।খিদেয় পেটটা চোঁ চোঁ করছে,কিন্তু পকেটে ১০ টাকা ছাড়া কিছুই নেই।টাকা থাকবেই বা কোথা থেকে,চাকরি ই তো নেই।বেকার মানুষের পকেটে ১০ টাকাই বেশী,তাও বাপের টাকা।আমার এন সিরিজের ১১০০ মডেলের(নোকিয়া-১১০০) মোবাইলটাও সকালে পকেটমার নিয়ে গেছে।বেচারা পকেটমার,এখন নিশ্চয়ই আমাকে খুঁজছে মোবাইল ফেরত দিয়ে দেয়ার জন্য।এই মোবাইল কিনে কেউ যদি পকেটমারকে ১০০ টাকাও দেয় তাহলে ওই ব্যাটা যে ছাগলের ৩ নাম্বার বাচ্চা তা সূত্র,অনুসিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রমাণিত হয়ে যাবে।তবে মূল সমস্যা হচ্ছে ফারিয়া তো আমাকে ফোনে খুঁজে পাবেনা,পকেটমার নিশ্চয়ই সিম বন্ধ করে ফেলেছে।অবশ্য না খুঁজে পেলেই ভালো,এই মেয়ের প্রতিদিন আমার সাথে ৩ বেলা ঝগড়া না করলে যেন পেটের ভাত হজম হয়না।গতকালও সে আমার সাথে ঝগড়া করেছে আমি বিড়ি খাই দেখে।আমি টিএসসিতে বসে বিড়িতে সুখটান দিচ্ছিলাম,এত সুখ যে চোখ বন্ধ হয়ে আসছিলো প্রায়।এমন সময় কে যেন হঠাৎ ছোঁ মেরে বিড়িটা কেঁড়ে নিলো।আরামে বুজে আসা চোখ খুলতেই দেখলাম ফারিয়া তার চাইনিজ মার্কা ছোট ছোট চোখগুলো যথাসম্ভব বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।

“এগুলো কি রুদ্র?হোয়াট ইস দিস?”,ফারিয়া প্রায় চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলো।আশপাশের ২-৪ টা কাঁক সেই চিৎকারের ভয়ে আবর্জনার সাথে প্রেমলীলা সাঙ্গ করে সাথে সাথে উড়ে গেলো।

আমি হেসে বললাম,“দিস ইস কাঁচামরিস”।

“আমার সাথে ফাজলামো করবেনা,ডোন্ট প্যানিক মি।টেল মি হোয়াট ইস দিস?”

 

ফারিয়া যখন খুব রাগ করে তখন ইংলিশ বুলি ঝাড়তে থাকে।আর তখন আমার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই হয় ওকে আরও রাগানোর।ওকে তখন ঠিক চাইনিজ দেবী প্রতিমার মতন লাগে।চাইনিজ বলার কারণ ও দেখতে চাইনিজদের মতন।ও এত ফর্সা যে হালকা রোদ লাগলেই গাল দুটো টসটসে লিচুর মতো লাল হয়ে যায়।মাঝে মাঝে এরকম হলে আমি টুক করে একটা চুমু একে দেই ওর গালে।ও তখন রাগ করে খুব যার ফলশ্রুতিতে গাল দুটো আরও লাল হয়ে যায়।ওর নাকটা একদম বোচা।এত ছোট নাক যে দূর থেকে দেখলে তো নাকের অস্তিত্বই টের পাওয়া যায়না।আর চোখ দুটো যেন নাককেও হার মানায়।মাঝে মাঝে ভাবি ওর চোখের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকবো কিন্তু এত ছোট চোখে তাকানো খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।তো আমি তখন ওর দিকে তাকিয়ে আমার মুখের হাসি আরও প্রশস্ত করে বললাম-দিস ইস বিড়ি।আকিজ বিড়ি,মেইড ইন বাংলাদেশ।

ফারিয়া হা করে তাকিয়ে থাকলো টানা ১ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আমার দিকে।আমি ঘড়ি ধরে ছিলাম ও যতক্ষণ হা করে ছিল।হা করা অবস্থায় ই আমার পাশে এসে বসল।বসার পর ওর অধরের মিলন ঘটালো আর আমি আফসোসের স্বরে বললাম-ইশ...অল্পের জন্য তুমি তোমার হা করে থাকার ওয়ার্ল্ড রেকর্ড টা ভাঙতে পারলেনা।৩ সেকেন্ড কম।ধুর...

ফারিয়া কান্না কান্না স্বরে আমাকে বলল-তুমি এমন কেন রুদ্র?এরকম উল্টাপাল্টা কাজ কর্ম কেন করো তুমি?

“আর কোন কাজ নেই,বেকার।তার জন্যই তো এরকম ওলট পালট কাজ করি।কিছু তো করতে হবে নাকি।”

“তাই বলে কেঁউ বিড়ি খায়?সিগারেট খেলেও একটা কথা ছিল।”

“সিগারেট তো আর ফ্রি তে দেয়না।দিলে তো খেতাম ই।একটা বেনসনের দাম আর এক প্যাকেট বিড়ির দাম একই।তাই বিড়ি খাই।তুমি চাইলে কিনে দিতে পারো একটা বেনসন।অনেকদিন খাইনা,দাওনা একটা কিনে।”

“আমি তোমাকে সিগারেট কিনে দিবো?তোমার লজ্জা করেনা এসব বলতে?প্রেমিকার কাছে সিগারেটের টাকা চাও?”

 

“আমার কি দোষ?তুমি ই তো বললে সিগারেট খেতে,তাই চাইলাম।হা হা হা...”

আমার কথা শুনে ফারিয়া গটগট করে হেঁটে চলে গেলো এক অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে।ছোট ছোট চোখ হলে কি হবে ফারিয়ার চোখ দিয়ে যদি আসলেই আগুন বের হতো তাহলে সেই আগুনে আমিসহ পুরো বাংলাদেশ হয়তো জ্বলেপুড়ে যেতো।ওর অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে তো একখানা কবিতাও লিখে ফেলেছিলাম একবার...

 

                       প্রেয়সী তোমার ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিলাই চোখ

                       দিয়ে তুমি দাও যখন আমায় এক অগ্নিদৃষ্টি

                       আমি সেই আগুনের স্ফুলিঙ্গে পুড়ে হই ছারখার

                        খুঁজে বেড়াই তখন শুধু একপশলা ভালবাসার বৃষ্টি...

 

কবিতা শুনে ভেবেছিলাম ওর ওই ছোট ছোট দুনয়নে আমার জন্য ভালবাসার সুনামি দেখবো তা না দেখে দেখলাম অভিমানের আইলা।আমাকে বলে-আমার চোখ বিলাইের মতো তাইনা?

“না না,আসলে এটা একটা উপমা।বিলাইের চোখ কি সুন্দর তুমি জানো?জাননা,তাহলে শুধু শুধু রাগ করার তো কোন মানে হয়না।”

“তাহলে যাও বিলাইকে যেয়ে বিয়ে করো।আমাকে করতে হবেনা।”এই বলে আরেকবার সে অগ্নিদৃষ্টি দিলো।

আহ!!এসব কথা এখন মনে করে লাভ নেই।এখন আমাকে আগে খাবার খুঁজতে হবে।পেটের মধ্যে ছুঁচোরা গ্যাংগনাম ড্যান্স শুরু করে দিয়েছে।কিন্তু ১০ টাকায় আর কি খাবো?আকাশে হঠাৎ করে মেঘেরাও তো জড়ো হতে শুরু করেছে।দুটা সিঙ্গারা খাওয়া যায় কিন্তু যে ক্ষুধা পেয়েছে তা সিঙ্গারা খেলে কেবল বাড়বেই কমবেনা বৈকি।বেকার থাকার অনেক সমস্যা।পরিবারে শান্তি নেই,প্রেমিকার সাথে দ্বন্দ্ব,পকেট যেন ধু ধু বালুচর,আরও কতো কি।৩ বছর ধরে বেকার বসে আছি আমি,চেষ্টা তো আর কম করিনি।কিন্তু ভাগ্যদেবী যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তো নিয়েছেই আর তাকানোর নাম নেই।কেন ভাই আমার চেহারা সুরত কি এতই খারাপ?ভাগ্যদেবীকে সামনে পেলে কানের নীচে দু খানা সপাৎ করে থাপড় লাগাতাম আর বলতাম আমার দিকে তাকাবিনা ভালো কথা,আমার পরিবারের মানুষগুলার দিকে তাকা।ওরা যে এত কষ্টে দিনযাপন করছে ওদের দোষ কি?ফারিয়ার দিকে তাকা,মেয়েটার জন্য একটা ভালো ছেলে এনে দে।আমার মতো চালচুলোহীন ছেলের সাথে প্রেম করে ওর কি লাভ হবে?

 

“আমি খামু বড় রোস্ট টা,তুই ছোটডা খা।”

“না ভাইয়ও,আমারে বড়ডা দেও না,ভুক লাগসে অনেক।”

 

দুই বাচ্চা ছেলের চিৎকার চেঁচামেচিতে আমার ভাবনায় ছেদ পড়লো।পাশে তাকাতেই দেখলাম এক লোক একটা ডেকচি নিয়ে ছোট একটা টেবিল পেতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।আর সেই টেবিলের সামনে একটা মোড়ায় দুইটা বাচ্চা ছেলে গাদাগাদি করে বসে আছে।ওরা মনে হয় টোকাই কারণ ওদের পাশে বস্তা দেখা যাচ্ছে।ছেলে দুটোর সামনে রাখা দুটা ছোট বাটিতে বিরিয়ানি আর রোস্ট দেখা যাচ্ছে।দেখে অবাক হলাম যে রাস্তার পাশে বিরিয়ানি আসলো কোথা থেকে?কৌতূহলী হয়ে কাছে যেতেই একটা হালকা বোটকা গন্ধ নাকে এসে বাড়ি দিলো।সাথে সাথেই বুঝে গেলাম বাসি বিরিয়ানি,হয়তো কোন কমিউনিটি সেন্টারের বিয়ের অনুষ্ঠানে ফেলে দেয়া উচ্ছিষ্ট।যেই রোস্ট নিয়ে ওরা কাড়াকাড়ি করছে তাতে দেখলাম মাংস কেবল হাড়ের সাথে কোনমতে লেগে আছে।এ কি অবস্থা?এগুলাও মানুষ খায় নাকি?

“ভাই,খাইবেন নাকি বিরিয়ানি?রোস্ট আর এক পিস আসে।”

“এগুলো এনেছ কোথা থেকে?নষ্ট নষ্ট গন্ধ আসছে তো।”

“না ভাই,নষ্ট হইব কেন?ভালোই আসে।আমি বেচি তো প্রায়ই।কমিউনিটি সেন্টারের লোকেগো লগে সেটিং আসে।ওরা দেয় এক ডেকচি ৩০০ টেকা কইরা।আর আমি রাস্তায় আইনা বেচি।রিকশাওয়ালা,টুকাইরা খাইয়া যায় মাঝে মাঝে।হেরা তো আর এইসব ভালো ভালো খাওন কিন্না খাইতে পারেনা।তাই ওই বিয়া,মুসলমানি অনুষ্ঠানে যেইগুলান বাইচ্চা যায়,ফালায়া দেয় অইগুলাই আমি আইন্না বেচি ১০ টেকা বাটি কইরা।এইগুলাই হ্যাঁগো কাসে বেহেস্তি খাওন।দেহেন না পুলা দুইডা কেমনে খাইতাসে?”

আমি ছেলে দুইটার দিকে তাকাতেই দেখলাম হাড়সর্বস্ব রোস্ট ই তারা অমৃতের মতো তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছে।আমার কেন যেন চোখে পানি চলে আসলো।সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আমিও আজ এটাই খাবো।

“দাও মিয়া এক বাটি দাও আমাকেও,আমিও খেয়ে দেখি জিনিসটা কি?কি আছে জীবনে?দাও...”

ছেলে দুটো আমার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে দিলো।ছোট ছেলেটার ঝোল-ভাত মাখা মুখের হাসি দেখে মনে হল এতো নিষ্পাপ হাসি অনেকদিন দেখিনা।এ হাসি হয়তো তৃপ্তির হাসি।যে তৃপ্তি সে পেয়ে গেছে নষ্ট হয়ে যাওয়া সেই বড়লোক মানুষদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে আর সেখানে বড় বড় ধনী ব্যক্তিরাও তো এত কমে তৃপ্তি পায়না।আমিও তো পাইনি কখনো এত তৃপ্তি।মাত্র ১০ টাকা দাম মানুষের তৃপ্তির???

 

“ভাইও,আফনে মোড়ায় বহেন,আমরা মাডিত বই”,বড় ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বলে উঠলো।

“না না,কারোই মোড়ায় বসতে হবেনা,আমিও মাটিতেই বসি তোমাদের সাথে চল।”

 

২. 

বৃষ্টি আসি আসি করছে।আমি পেট ফুলিয়ে রাস্তায় বসে আছি রুস্তম আর জয়নালের সাথে।রুস্তম আর জয়নাল হচ্ছে সেই টোকাই দুজন।খাওয়া-দাওয়া শেষ করে এখন হাওয়া খাচ্ছি।এই বুদ্ধি অবশ্য রুস্তমেরই।ছোট পিচ্চি,খালি চোখেই পাঁজরের হাড় গোনা যায় আবার নিজের নাম রেখেছে রুস্তম।খাওয়া শেষ হওয়ার পর আমাকে বলে-চলেন স্যার একটু রেস্ট লইয়া লই।খাওয়াডা হজম হইতে হইব তো।নাইলে প্যাট খারাপ করবনে।আমিও হেসে রাজি হয়ে গেলাম।বিরিয়ানিটা প্রথম প্রথম খেতে বেশ খারাপ লাগছিলো,কিন্তু পেটের ছুঁচোরা ওতেই খুশী হয়ে গেছে তাই আর পরে ডিস্টার্ব দেয়নি।ফারিয়াকে ফোন করা দরকার।মেয়েটা বোধহয় এতক্ষণে পাগল ই হয়ে গেছে কিন্তু পকেটে তো আর কানাকড়িও নেই যে দোকানে যেয়ে ফোন দেবো।এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ রুস্তম বলে উঠলো-“স্যার চা খাইবেন?”

“না রে,ভাবছিলাম একজনকে ফোন দিবো।তার ই টাকা নাই আবার চা।”

“সমস্যা নাই ভাই,এই লন ২ টেকা।আর চা তো আমগো লেইগা ফ্রি ই থাকে এইহানে।সমস্যা নাই।আমরা লইয়া আইতাসি।আপনে ফোন দিয়া আহেন।”

আমি হাতে রুস্তমের দেয়া ছেঁড়া ২ টাকার নোটের দিকে তাকিয়ে আছি।কতো সহজেই না এরা আপন করে ফেলতে পারে একজন মানুষকে।অবশ্য এই ছেঁড়া দুই টাকা দোকানদার নেয় নাকি কে জানে।অবশ্য সমস্যা নেই হাতে টাকা ধরিয়ে কশে একটা দৌড় দিলেই হবে।

 

“হ্যালো,বিলাই বলছেন???”

“তুমি কই?কই তুমি?হোয়ার আর ইউ?”

“আমি আপাতত রাস্তায়,১০ টাকার বিরিয়ানি খেয়ে এখন ফাও চা খাওয়ার অপেক্ষায়।”

“এগুলোই করে বেড়াও তুমি।আর এদিকে আমাকে আজ ছেলেপক্ষ দেখে পছন্দ করে গেছে।এখন সারাজীবন তুমি শান্তিমত এসব করে বেড়াও,কেঁউ বাঁধা দিবেনা।”এই বলে ঠাস করে ফোন রেখে দিলো ফারিয়া।হঠাৎ করে বুকের ভেতর থাকা সব অনুভূতিগুলো ঠুশ করে কোথায় যেন উড়ে চলে গেলো।দোকানদারের হাতে দুই টাকা গুজে আবার হাঁটা শুরু করলাম।পেছন থেকে দোকানদারের শত চিৎকারও যেন কানে আবছা আবছা শোনা যাচ্ছে,মনোযোগ দিতে পারছিনা।অবশ্য আমিতো তাই চেয়েছিলাম যে ফারিয়ার বিয়ে হয়ে যাক একটা ভালো ছেলের সাথে।তাহলে এত খারাপ লাগছে কেন?আমার তো ভালো লাগার কথা।কি জানি ঠিক বুঝতে পারছিনা।

ঝুম বৃষ্টি নেমে গেছে।ওইতো তফাতে রুস্তম আর জয়নালের চিৎকার শোনা যাচ্ছে।রুস্তম তার হাফপ্যান্ট খুলে নেংটো হয়েই বৃষ্টিতে ভিজছে।আমি রুস্তমের আনা চায়ের গ্লাস নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজছি।এক চুমুক,এক চুমুক দিয়ে গ্লাস একটু একটু করে খালি করছি আবার বৃষ্টির বিশুদ্ধ পানি এসে তা পূরণ করে দিচ্ছে।চা পাতলা হয়ে গেলেও স্বাদ মন্দ না।রুস্তম আমাকে ধরে টানাটানি করছে ওদের সাথে বৃষ্টিতে জলকেলি করার জন্য।এসব দেখে হঠাৎ ই আমি আমার জীবনের সাথে এইসবের একটা প্রতীকী মিল খুঁজে পেলাম যেন।আমার জীবন হচ্ছে ওই চায়ের গ্লাসের মতো।এর মতই সস্তা কিন্তু স্বাদ আছে।সেই স্বাদ ফারিয়া হয়তো আমার মাঝে খুঁজে পেয়েছিলো।ফারিয়াকে হারিয়ে এই চায়ের গ্লাসের মতই জীবন যেন শূন্য হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কোথা থেকে যেন কিছু একটা এসে আবার জীবনকে পূর্ণ করে দেয়ার চেষ্টা করছে।হয়তো জীবনটা আগের মতো হবেনা কিন্তু স্বাদ এক ই থাকবে।এই কিছু একটা আসলে কি?রুস্তমের চোখের দিকেই তাকাতেই বুঝে গেলাম এর অর্থ।এই কিছু একটা হচ্ছে তৃপ্তি।যা কিছুই হোক না কেন জীবনে,জীবন নিয়ে আসলে তৃপ্ত থাকতে হবে।তাহলেই জীবন পূর্ণতা পাবে।জীবন নিয়ে আফসোস করার কিছু নেই।আমার চেয়ে খারাপ জীবন যাপন করছে কিন্তু চোখে মুখে তৃপ্ত জীবনের দ্যুতি ঠিকরে বের হচ্ছে তার জলন্ত প্রমাণ তো আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।

চায়ের গ্লাসটা রেখে আমিও রুস্তম,জয়নালের সাথে যোগ দিলাম জীবনের উৎসবে।এই উৎসবে আজ মাতবো আমরা।মাতাবো পুরো পৃথিবীকে।তৃপ্ত জীবনের দাম আসলে ১০ টাকা কিংবা ফাও।তৃপ্ত জীবন ওই নষ্ট বিরিয়ানিতে,তৃপ্ত জীবন ওই ফাও খাওয়া চায়ের কাপে।তৃপ্ত জীবন এই ভুশভুশ করে পড়া বৃষ্টিতে......

 

[ফারিয়ার কি হল???ফারিয়ার বিয়ের দিন রুদ্র টোকাই বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ফারিয়াকে নিয়ে পালিয়ে এলো,কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করলো।আর ওদের বিয়েতে সাক্ষী ছিল প্রাপ্তবয়স্ক দুজন টোকাই।বেকারত্ব তো একসময় না একসময় ঘুচে যাবেই,তাই বলে কি ভালবাসাকে ছেঁড়ে দেয়া যায়।ভাগ্যদেবী আমাদের দিকে দৃষ্টি দিক আর নাইবা দিক,আমরা আমাদের মতো করেই দুঃখ,কষ্টের মাঝেও তৃপ্তি খুঁজে নেবো।হয়তো সব গল্পের শেষ এত সুন্দর হবেনা কিন্তু চেষ্টা করতে দোষ কি?তৃপ্ত জীবনের  মূল্যতো আর কোটি টাকা না!তৃপ্ত জীবন,দাম-১০ টাকা কিংবা ফাও]

 

…………………………………………………..সমাপ্ত................................................ 

উৎসর্গ-তৃপ্ত সুপ্ত আপু।আপু জানে কেন...:)

Share