স্বপ্নকণা

লিখেছেন - মেহেদী হাসান মুন | লেখাটি 1095 বার দেখা হয়েছে

…… শত মানুষের ভিড়ে একা আমি ,আমি একাকীত্বের মাঝে বন্দী......

                   ......এই যে মেয়ে...তুমি আমার বন্ধু হবে কী????

১৫ জুলাই,২০০৯

রিং রিং রিং...

ছেলেঃধুর...ঘুমানোর  সময় কে ফোন দিলো??”হ্যালো,হ্যালো”।

মেয়েঃহ্যালো,এখান থেকে আমার নাম্বার এ একটা মেসেজ  এসেছিলো।আপনি কে???কোথা থেকে বলছেন?

ছেলেঃনাহ...আমি তো কোনো মেসেজ দেইনি।(আসলে আমি  ই দিয়েছি)।হয়তো ভুল করে  চলে গেছে।

মেয়েঃইটস ওকে।বাই।

ছেলেঃদাঁড়ান।দাঁড়ান।হ্যালো।হ্যালো।ধুর...রাজু শালা এটা কার নাম্বার দিল।কোনো রস-কষ নাই।আসলে এস.এস.সি. পরিক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে খুব একা একা লাগছে।কোথাও ঘুরতে যেতে দেয়না মা,কেউ ফোন ও দেয়না,তাই রাজু যখন বলল যে-“একটা মেয়ের নাম্বার পাইসি।লাগবে নাকি তোর?”আমি আর না করিনি।দেখি আরেকটা মেসেজ দেই,”আপনি কি আমার সাথে মেসেজ চ্যাট করবেন??আমি আপনাকে মিথ্যা বলেছি।আসলে আমি ই আপনাকে মেসেজ দিয়েছিলাম।“দেই এটা লিখে পাঠিয়ে।

২ ঘণ্টা পর...

ছেলেঃহাইইইম...মেসেজ  টা পাঠিয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।দেখি  মেয়েটা রিপ্লাই দিয়েছে নাকি!!হ্যাঁ,আরে  একটা মেসেজ এসেছে তো।ধুর...বোনাস  অফার এর মেসেজ।আরে এইতো আরেকটা মেসেজ এসেছে।হ্যাঁ,ওই মেয়েটাই-“আপনি সত্য স্বীকার করেছেন,তাই  আপনার সাথে চ্যাট করবো।আমার  মাত্র এসএসসি এক্সাম শেষ  হোলো তো তাই খুব বোরিং  লাগছে।আপনার নাম কি?আমি  বি.বাড়িয়ায় থাকি।আমার নাম কণা।”

“আমার নাম স্বপ্ন”।মেসেজ সেন্ট।

 

পৃথিবীর যেই প্রান্তেই  যাও তুমি...ভালোবাসা পাবে সেখানেই...

     আমাদের মাঝে  আজ থেকে তাই বন্ধুত্ব  শুরু এখানেই......

 

২৫ জুলাই,২০০৯

কনাঃহ্যালো,স্বপ্ন।আমার  আজ মেসেজ এর মেয়াদ শেষ  হয়ে যাবে।মোবাইল ও বন্ধ করে ফেলব।এটা    আব্বুর মোবাইল তো তাই।

স্বপ্নঃকেন??তাহলে  যোগাযোগ হবে কিভাবে??

কনাঃজানিনা।আর হবেনা  হয়তো।তুমি ভালো থেকো।আবার  হয়তো একদিন কথা হবে।

স্বপ্নঃনা,না,দাঁড়াও।দাঁড়াও।হ্যালো...হ্যালো...

 

        কোথায়  তুমি যাও ও বন্ধু...কোথায়  তুমি যাও...

              যেথায় তুমি যাবে ও বন্ধু...আমায়  ও নিয়ে যাও...

 

৩০ জুলাই,২০০৯

স্বপ্নঃকণার কোনো খবর  ই নেই।ওর সাথে কয়েকদিনেই  অনেক কিছু শেয়ার করে ফেলেছি।তাই কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা  লাগছে।৫০ টাকা দিয়ে ৫০০০ মেসেজ  কিনেছিলাম।কাকে পাঠাবো এখন  এগুলো???এক কাজ করি,ওকেই পাঠাই।হয়তো একদিন ও দেখবে।

 

    ......একা আমি  বসে আছি তোমার পথ চেয়ে......

               ...তোমার কি আমায় একবারও মনে পড়লনা,এই মেয়ে...

১ নভেম্বর,২০০৯

স্বপ্নঃকোচিং এ  বসে আছি।স্যার আসেনি।মোবাইল হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছি।এমন সময় রিং হোলো মোবাইল এ।কিন্তু নাম্বার টা চিনি না।“হ্যালো,কে বলছেন”।

অজানা কেউঃআমাকে ভুলে গেলে এত তাড়াতাড়ি,স্বপ্ন???

স্বপ্নঃকণা!!!!!তুমি???

কণাঃহ্যাঁ।এত তাড়াতাড়ি চিনে ফেললে!!

স্বপ্নঃহুম...তুমি কোথায়??মানে এতদিন পর??মানে কিভাবে???

কনাঃআরে নতুন মোবাইল কিনেছি,নতুন সিম,তাই।আর তুমি এগুলো কি করেছো??আমার আগের নাম্বার এ হাজার হাজার  মেসেজ পাঠিয়েছ কেন??ওটাতো  আব্বুর।এত মেসেজ কে পড়বে??

স্বপ্নঃজানিনা।এমনিতেই পাঠিয়েছি।সরি।আচ্ছা,এখন  থেকে কি আবার আগের মতো যোগাযোগ  হবে??

কণাঃতাই তো মনে হয়।হি  হি হি।

স্বপ্নঃতুমি একটা পাগলী।এই আমি কোচিং এ।পরে কথা  হবে,ওকে??

কণাঃওকে।ওকে।বাই।

স্বপ্নঃনা...না...বল আসি...

কণাঃহি হি...আচ্ছা  বাবা।আসি।

 

                      ...একাকীত্ব আজ দূর হোলো,পেলাম  এক চিলতে খুশি...

                               ...কানে এখনও বাজছে তোমার  সুর তোলা সেই হাসি...

 

৫ ডিসেম্বর,২০০৯,

স্বপ্নঃহ্যালো...কনা  পাগলী বলছেন??

কণা পাগলীঃজী না,কণার আম্মু বলছি।(গলা মোটা করে)।

স্বপ্নঃওহ...স্লামালিকুম।কণা  আছে??

কণাঃহি হি...হাবলু...ওই মদনু,ছাগলু...আমি ই তো কনা।তুমি আমাকে চিনতেও পারলানা।

স্বপ্নঃআরে আজিব তো।এরকম  কেউ করে নাকি??পাগলী একটা।

কণাঃহি হি হি।তুমি  একটা ভীতু।আস্ত একটা হাবলু।

স্বপ্নঃহুম...কচু।যাও  তোমার সাথে কথা নাই।

কণাঃএই না।দাঁড়াও  দাঁড়াও।হ্যালো...হ্যালো...

 

     ...অভিমান  চলছে বন্ধুত্বে...চলছে নিরব  ডাকাডাকি...

         ...ধরা  তো দুজনকেই দিতে হবে,যতই  দিক না এখন ফাঁকি...

 

২৫ ডিসেম্বর,২০০৯

কণাঃহ্যালো,স্বপ্ন।আমি তোমার ছবি দেখব।তুমি  নিউ ইয়ার এর আগেই ছবি দিবে।

স্বপ্নঃওকে।কিন্তু আমার তো পাসপোর্ট সাইজ ছবি  আছে।ওটা দিলে হবে??

কণাঃহবে।আমিও তো পাসপোর্ট সাইজ ছবি দিব।হি হি।

স্বপ্নঃওকে।কিন্তু কিভাবে পাঠাবো??

কণাঃকুরিয়ারে পাঠাবে।আমার  ফোন নাম্বার লিখে দিলেই  হবে।যখন ওটা বি.বাড়িয়ায় এসে পৌঁছাবে তখন ওরা ফোন দিবে আমাকে আর আমি গিয়ে নিয়ে আসবো।১ দিন লাগবে আসতে।

স্বপ্নঃতোমাকে কি কোনো গিফট পাঠাবো??

কণাঃহি হি হি।এগুলো কি কেউ জিজ্ঞেস করে নাকি??হাবলু  একটা।

স্বপ্নঃনা।আমি মানিনা।তুমি  আমাকে শুধু হাবলু হাবলু  বল কেন??যাও কথা নাই।আসি।

কণাঃনা।দাঁড়াও।হ্যালো...হ্যালো...

 

       ...উপহার এ কি হাসি নিবি???না নিবি চোখের জল???

            ...চাইলে তুই আনব পেঁজা  পেঁজা তুলো মেঘ...

                                  যাই আনতে তুই বল......

 

১ জানুয়ারী,২০১০,১২:০১ মিনিট...

স্বপ্নঃএই তোমাকে বলেছিলাম ১২ টার আগে না দেখতে,তুমি দেখেছো নাকি???

কণাঃআরে নাহ।দেখিনি সত্যি।তোমার কসম।(মিথ্যা কথা)

স্বপ্নঃনা...আমার কসম  খেয়েও মনে হচ্ছে তুমি মিথ্যা বলছো।আমি কিন্তু মরে  যাব।

কণাঃউহ...এসো না গিফট খুলি।

স্বপ্নঃওকে...দুজনে  একসাথে দেখব কে কি পাঠিয়েছি।ওকে?

কনাঃওকে।রেডি...স্টেডি...গো...

৫ মিনিট পর...

কণাঃও মা...এটা তো একটা হাবলুর ছবি।হি হি।তুমি তো আসলেই একটা হাবলু।

স্বপ্নঃআর তুমি তো পাগলী।এই যে পাগলীর মতো আউলা-ঝাউলা  চুল।হা হা হা।

কণাঃআর এগুলো কি পাঠিয়েছ??চকলেট আর ফুল।এগুলো দিয়ে কি করবো আমি??

স্বপ্নঃআমি কি জানি?আর তুমি পাঠিয়েছ শো-পিস।এর কোন  কাজ আছে??তুমি তো তাও চকলেট  খেতে পারবা,আমি কি শো-পিস  খাব??

কণাঃতুমি এই কথা  বলতে পারলা???ওকে।বাই।না সরি,আসি।

স্বপ্নঃআরে না না।দুষ্টামি  করলাম তো।দাঁড়াও।হ্যালো...হ্যালো...

 

        দেখা  হোলো দুজনার...হোক না সে  পাসপোর্ট সাইজ ছবিতে...

               কবিতার যেই সৌন্দর্য...তা  মূলত কবিতার নয়...থাকে  তার কবি তে...

 

১৪ ফেব্রুয়ারী,২০১০,১২:০১ মিনিট...

স্বপ্নঃহ্যালো...কণা।আমরা দুই বন্ধু মিলে ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করছি।তাও ফোনে,চরম  ব্যাপার না?

কণাঃহুম...কচু।আমার একটা বয়ফ্রেন্ড থাকলে এইদিন  ওর সাথে হাত ধরে ঘুরতে  যেতাম,ও আমাকে কতকিছু কিনে দিতো,তা কিছুই হলনা আর তোমার  তার উপর তোমার সাথে ফোনে প্যাঁক প্যাঁক করতে হচ্ছে।

স্বপ্নঃতুমি চিন্তা করনা।আমি তোমাকে গিফট দেবো তো,সুন্দর একটা গিফট।

কণাঃতুমি দিবে???কি দিবে আমাকে??

স্বপ্নঃদেখা যাক,১৮ তারিখে পেয়ে যাবে।

কণাঃআচ্ছা,আমার খুব  ঘুম পেয়েছে,এখন রেখে দেই??

স্বপ্নঃউহ...তুমি এত ঘুমাও কেন??আজ থেকে তোমার  নাম দিলাম ঘুমকুমারি।

কণাঃওয়াও...সুন্দর নাম।আর তোমার নাম হাবলু।হি হি।

স্বপ্নঃতুমি তো একটা পাগলী।এই কণা,কিছু বলবে আমাকে???

কণাঃহুম...গুড নাইট।আসি...

স্বপ্নঃআচ্ছা,আসি...

 

      ......ঘুমের  রাজ্যে ঢলে পড়লেও কি  দেবে সেই ছেলে হানা???

               ......জানিনা আমি...বুঝি না  আমি...মেয়েটি করে নি তো  মানা...

 

১৮ ফেব্রুয়ারী,২০১০

কণাঃএই হাবলু,তুমি আমাকে লাল কাঁচের চুড়ি দিয়েছো কেন???আমি তো শাড়ি ই  পরি না...কাঁচের চুড়িও পড়া হয়না।

স্বপ্নঃসমস্যা নেই,যেদিন  আমার সাথে দেখা হবে সেদিন  পরে এসো।হা হা।

কণাঃএই শোন,আমাকে  না আমার বড় ভাইয়ার এক ফ্রেন্ড  আজ প্রপোজ করেছে।ছেলেটা যা হ্যান্ডসাম,তবে আমি কিছু বলিনি।ভাবলাম তোমার সাথে পরামর্শ করে নেই।তুমি কি বল??

স্বপ্নঃও...তোমার ইচ্ছা,আমি  কি জানি?তোমার ভালো লাগলে  তুমি একসেপ্ট করো।আমাকে  আম্মু ডাকছে,আমি যাই,বাই।

কণাঃকেন???দাঁড়াও দাঁড়াও।এই...হ্যালো হ্যালো...

 

      ...এ কি???হচ্ছে  কি এসব???তুমি কে বাবা  ঢুকছ আমার গল্পের মাঝে  হঠাৎ????

          মানিনা আমি...মানবনা...তোমায়  এখন হতে হবে ওই অমাবস্যার  চাঁদ...

 

১৫ মার্চ,২০১০

স্বপ্নঃহ্যালো,কণা।আমি  গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি।এখন লঞ্চের ডেক এ।টাইটানিকের সেই দৃশ্যটা মনে পড়ে  গেলো।

কণাঃও...তাই নাকি??তা কোনো মেয়েকে নিয়ে ডেকের সামনে  গিয়ে দু জনে দু হাত উঁচু করে রাখো।হি হি।

স্বপ্নঃকেও তো নেই।চল তুমি আর আমি হাত উঁচু করে দু পাশে ছড়িয়ে দিয়ে জীবনকে আপন করে নেই।

কণাঃএই হাবলু...আমি  কি আর তোমার পাশে নাকি???

স্বপ্নঃতাতে কি??মনে করো কল্পনায় আমরা এরকম করছি।একবার চোখ দুটি বন্ধ করে ভাব।

কণাঃহুম...

স্বপ্নঃকণা...কিছু বলবে আমাকে??

কণাঃকি বলব??

স্বপ্নঃএই যে,কোন  কথা আছে যা বলতে ইচ্ছে  করছে আমায় খুব!!!!

কণাঃও হ্যাঁ...ভাইয়ার ওই ফ্রেন্ড টা না আজ আমাদের বাসার সামনে আমাকে দেখার  জন্য অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে  ছিল।কি রোমান্টিক,তাই না??ভাবছি,ওকে  হ্যাঁ বলে দেবো।

স্বপ্নঃও।দাও,বলে  দাও।আমি যাই,আম্মু ডাকছে।

কণাঃআজিব তো...এই দাঁড়াও দাঁড়াও...হ্যালো...

 

    ......বলি বলি  করেও হচ্ছেনা বলা...এ এমন  কি কথা???

          ...আরে দাওনা বলে...আমি জানি  তো...কেও পাবেনা কোন ব্যথা...

 

১৮ এপ্রিল,২০১০

স্বপ্নঃকণা,তুমি কি ওই শালা কে হ্যাঁ বলেছ???

কণাঃআজিব,ওকে শালা বলো কেন??ও তোমার কি করেছে???

স্বপ্নঃআরে তুমি রাজি হয়েছ নাকি সেটা বল।

কণাঃনা...মানা করে দিয়েছি।

স্বপ্নঃকেন???মানা করলে কেন??

কণাঃআমার ইচ্ছা।আমার ভালো লাগেনি তাই।

স্বপ্নঃও...আর কোন কারণ নেই??

কণাঃহুম...আছে।আমি  আরেকজন কে পছন্দ করি,তাই।

স্বপ্নঃকি???সত্যি??কিন্তু আমি তো ওর মতো হ্যান্ডসাম না,কালো,মোটা।সব দিক দিয়ে খারাপ।

কণাঃআরে...আরে...পাগল নাকি??হি হি হি।তোমাকে পছন্দ করি  তা কে বলল??

স্বপ্নঃও হ্যাঁ  তাইতো।ধুর...আমি আসলেই একটা হাবলু।থাক।আমি ফোন রেখে দেই।আমার কেন যেন ভালো লাগছে না।

কণাঃএই দাঁড়ান।একটা  কবিতা শুনে যান।চুপ করে  শুনবেন।

 

                                  ......।।“স্বপ্নকনা”।।......

দেখিনি কখনো তোমায়  সামনাসামনি...ছুই নি কখনো তোমার হাত......

        তাতে  কি হয়েছে?আমার মন ঠিক  ই ছুয়েছে তোমার মনটাকে...হোক  সে দিন,হোক সে রাত......

কখনো তোমার ওই দু চোখে আমি চোখ রেখে ভাসিনি ভালোবাসার অতল সাগরে......

        কিন্তু,আমি আমি তোমার কল্পনার মাঝে হারিয়েছি...

                   শুনেছি তোমার স্বপ্নের  কথা হা করে......

তোমার ডাকা সেই ঘুমকুমারি  ডাক অথবা সেই রেগে মেগে পাগলী বলা......

         আরে  হাবলু...আমিও মনে প্রানে  চাই শুরু হোক আমাদের  একসাথে পথচলা......

মানুষ বলবে,এটা কিছু হোল নাকি??চেনা নেই...জানা নেই...এটা  কেমন ভালোবাসা???

        আমি  জানি...আর তুমিও জানো...একে  অপরকে কতোটা বুঝি মোরা......

                      কতো টা জানি একে অপরের  আশা...

স্বপ্ন...তোমার মাঝেই  আমি খুঁজে পেয়েছি আমার অস্তিত্ব......

        তোমার  দেয়া ভালোবাসায় হয়ে গেছি  আজ ভালোবাসার ই ভৃত্য......

তুমি কিন্তু ভাবুক  হয়ো না...পড়েনা যেন কোনো অশ্রু নোনা......

        তোমার  জন্যই তো লিখেছি দেখো  আমি আমাদের ভালোবাসা ...।।“স্বপ্নকনা”।।...

 

  :আমি জানতাম...এরকম হবে...আরে হাবলু...কাঁদো কেন???আমি তোমাকে ভালোবাসি তো হাবলু...ওই দেখো আরও জোরে কাদে।উহ...বলাটাই ঠিক হয়নি।রেখে দিব ফোন??

স্বপ্নঃনা...না...দাঁড়াও।আমি ঠিক আছি।

কণাঃহিহি।এই কাদসো  কেন তুমি???

স্বপ্নঃওই যে তুমি সব বুঝতে পেরেছ যে তাই।তারপর  আবার ওইটা বলেছ যে তাই কান্না চলে আসছে।

কণাঃকোনটা??

স্বপ্নঃওই যে শেষে যেটা বললা।

কণাঃকি বলেছি বলো  তো।

স্বপ্নঃওই যে,একটা কথা।উহ...পারতেসিনা...পারবোনা।

কণাঃহি হি...এতদিন  জানতাম ছেলেরা প্রপোজ করে।আর এখানে আমি প্রপোজ করলাম,তাও  কোন রিপ্লাই পাইনা।একবার  তো বলেন হাবলু।

স্বপ্নঃওকে...ওকে...আই লাভ ইউ।

কণাঃউহু...বাংলায় বলো।ওটা  বেশি রোমান্টিক লাগে।

স্বপ্নঃআচ্ছা...আমি...আমি...তো তো...মা...কে...কে...কে...

কণাঃআরে ধুর...শাহরুখ এর মতো কে কে করতেস কেন??বল ঠিকমতো নাহলে ফোন রেখে দেবো।

স্বপ্নঃওকে...আমি তোমাকে ভালোবাসি।রাখি...আম্মু ডাকছে  আমাকে।আসি।

কণাঃওই ওই...দাঁড়া।।হি  হি...হ্যালো...হি হি...হাবলু একটা।

 

    এ কেমন ভালোবাসা  হলো সৃষ্টি???একি বিধাতার  কোন কারসাজি???

           কিন্তু,এ ভালোবাসা যে  পবিত্র...তাতে যে কেও লাগাতে  পারবে বাজি...

 

১৮ এপ্রিল,২০১০,১২:০১ মিনিট...

স্বপ্নঃহ্যালো,ঘুমকুমারি???হ্যাপি অ্যানিভার্সারি।

কণাঃহুম...হ্যাপি অ্যানিভার্সারি।

স্বপ্নঃকি ব্যাপার???মন খারাপ কেন?কি হয়েছে?

কণাঃএকটু আগে তানযিলা  ফোন দিয়েছিলো।ওকে বললাম  আজ আমাদের ভালোবাসার এক বছর  পূর্ণ হলো।আর ও হাসা শুরু করলো,ও বলে যে-কি প্রেম করস বুঝিনা...এখন পর্যন্ত একবার ও দেখা করলিনা,আবার প্রেম,ভালোবাসা,অ্যানিভার্সারি।

স্বপ্নঃশোন কণা...আমার বন্ধুরাও এগুলো বলে।ওরা  আরও খারাপ ভাবে বলে।ওরা  বলে যে-“তুই ঢাকার ছেলে,ভালো কলেজে পড়িস,কতো মেয়েই  তো তোকে বয়ফ্রেন্ড বানাতে চাইবে,আর তুই তা না করে ওই মফস্বলের মেয়ের পিছনে ঘুরস”।ওরা আরও অনেক খারাপ কথা বলে।কিন্তু আমি গায়ে লাগাই না।কারণ,আমি  জানি আমাদের হয়তো সামনাসামনি কখনো দেখা হয় নি,কিন্তু আমার ভালোবাসার অনুভুতি টা মন থেকেই এসেছে।আমি তোমাকে হৃদয় থেকেই ভালোবাসি।আমাদের  ভালোবাসা পবিত্র।আমারও ইচ্ছে  করে তোমার হাত টা ধরে  হাটতে।তোমার চোখের মায়ায়  ভাসতে,কিন্তু পারি না।তবে এতে  আমাদের ভালোবাসা তো একটুও  কমেনি,কমবেওনা।

কনাঃহুম...আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি।তবে তুমি আসার চেষ্টা করো।একবার তো অন্তত  দেখা করো।

স্বপ্নঃহ্যাঁ,করবো।এখন আমার পাগলী টা কি একটু হাসি দিবেন??আপনার হলুদ দাঁত গুলো দেখি একটু।

কনাঃকি!!!!আমার দাঁত হলুদ???তোমার  দাঁত হলুদ।তোমার চোদ্দ গুষ্টির  দাঁত হলুদ।হি হি।

স্বপ্নঃএইতো সেই হাসি।এই  হাসির জন্যই তো আমি পাগল।হাসি  দেখার চেয়ে শুনতেই তো বেশি ভালো লাগে।মানুষ হাসি দেখে পাগল হয় আর আমি হাসি শুনে পাগল।

কণাঃহুম...বুঝছি।এইজন্যই  তো তুমি একটা হাবলু।এখন ঘুমাতে দাও।ঘুম পেয়েছে খুব।

স্বপ্নঃহায়রে ঘুমকুমারি।ঘুমান  আপনি।তোমার স্বপ্নে আসবো দাঁড়াও।ওখানে তোমাকে জ্বালাবো।

কণাঃহি হি।আচ্ছা।আসি হাবলু।

স্বপ্নঃআসি...

 

............সময়ের সাথে  সাথে এই ভালোবাসা হচ্ছে  দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর......

                এ বন্ধন এখন ভাঙতে পারবেনা  কোনো তুফান অথবা ঝড়  ও......

১৮ এপ্রিল,২০১১,১২:০১ মিনিট...

কণাঃহ্যাপি অ্যানিভার্সারি।২ বছর হয়ে গেলো দেখতে দেখতে।

স্বপ্নঃহুম...এখন তো বন্ধুরাও কিছু বলেনা।সবাই বুঝে গেছে যে এত সময় ধরে  একসাথে আছি আমরা,এটা ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুনা।

কণাঃস্বপ্ন,তুমি কবে  আসবে দেখা করতে???এভাবে আর কতদিন?আমাকে আজ তুমি প্রমিস করো আগামী বছর আমার সাথে আমাদের অ্যানিভার্সারি করবা।প্রমিস  করো।

স্বপ্নঃহা হা।ওকে,প্রমিস।তুমি  তো জানোই আমার ফ্যামিলির  অবস্থা।তোমার সাথে দেখা করবো দেখেই তো টিউশনি নিলাম।আগামী  বছর বেশ কিছু টাকা জমিয়ে  ফেলব।১৮ এপ্রিল ই আসবো আপনার সাথে দেখা করতে।খুশি??

কণাঃহুম...এইজন্যই  তো তোমাকে এত ভালোবাসি।মাঝে  মাঝে মনে হয় তোমাকে এত ভালো করে জানি,বুঝি,তাও যেদিন  সামনে আসবে সেদিন কি তোমাকে এত টা আপন মনে হবে??

স্বপ্নঃহ্যাঁ,হবে  না কেন??অবশ্যই হবে।কারণ,আমি  তোমাকে ভালোবাসি।

কণাঃওই যে তোমার  প্রতি কোথায় ভালোবাসি বলার বদভ্যাস শুরু হয়ে গেলো।শয়তান একটা।

স্বপ্নঃহ্যাঁ...আমি  শয়তান।এবং আমি তোমাকে ভালোবাসি।

কণাঃউহ...তুমি একটা হাবলু,মদনু,পাগল।

স্বপ্নঃজী,আমি একটা হাবলু,মদনু,পাগল তাও তোমাকে ভালোবাসি।

কণাঃএই রেখে দিব  কিন্তু???

স্বপ্নঃদাও...আমি তোমাকে ভালোবাসি।

কণাঃওকে।আসি।

স্বপ্নঃনা না...দাঁড়াও।হ্যালো...হ্যালো...

কণাঃহি হি...রাখিনি তো হাবলু।আমিও তো তোমাকে ভালোবাসি।

স্বপ্নঃনা,আমি ভালোবাসি।

কণাঃজী না।আমি বেশি বাসি।

স্বপ্নঃনা আমি তার  চেয়েও বেশী।

কণাঃআমি তো তার চেয়েও  ইনফিনিটি বেশী...

............................................................

............................................................

 

.........ভালোবাসার মাঝে  কোন অনুভূতি টি নেই??বলতে  আমায় পারো কেউ???

           সুখ,দুঃখ,হাসি,ঠাট্টা আছে...তার  সাথে আছে আবেগের ঢেউ......

 

১৭ এপ্রিল,২০১২

কণাঃএই যে মিস্টার,কাল  সকালে কয়টায় রওনা দিবে??

স্বপ্নঃ৭ টায়।আরেকটু দেরিও হতে পারে।বাস এর টিকিট কাটা হয়নি।ওখানে গিয়ে যেই বাস পাবো ওটার ই কাটবো।

কণাঃকেন??ভালো একটা এসি  বাস এ আসলেই তো হতো।

স্বপ্নঃআরে নাহ...ওগুলার যেই ভাড়া!!বাদ দাও।আপনি কি পড়ে আসবেন কাল??

কণাঃওই যে লাল শাড়ি টা আর তোমার সেই চুড়িগুলো।চুড়িগুলো  ছোট হয়ে গেছে।সাবান দিয়ে পড়তে হবে।একবার পরলে আর খোলা যাবেনা।

স্বপ্নঃহা হা।ভালই  হয়েছে।পড়ে থেকো সারা জীবন।

কণাঃহুম...কচু।তোমার  পিঠে ভাঙব ওগুলা।

স্বপ্নঃইশ...আমাকে  মারবা তুমি??

কণাঃহুম...অনেক মারব।এতদিন পড়ে আসবা যে তাই।

স্বপ্নঃএই আমাকে তুমি চিনবে তো দেখলে????

কণাঃমনে তো হয়।তোমার কমদামি মোবাইল এর ক্যামেরা দিয়ে তোমার যেই সব ছবি  দিয়েছো তা দেখলে তো মনে  হয় যেন তুমি রক্তাক্ত হয়ে  আছো।যেই লাল লাল ছোপ  পড়ে।তাতে কি??আমার মনের চোখ  দিয়ে চিনে নেবো।

স্বপ্নঃকাল আমি  তোমার হাত দুটো ধরে বসে  থাকবো সারাদিন।আমার অনেক ইচ্ছে তোমার হাত দুটো ধরে তোমার চোখে তাকিয়ে সারাদিন বসে থাকার।

কণাঃআচ্ছা কাল দেখা যাবে।এখন ঘুমিয়ে পড়ো।তুমি বাস থেকে নামার আগে আমাকে  ফোন দিয়ো।

স্বপ্নঃজো হুকুম জাঁহাপনা।হা  হা।আসি।

কণাঃতোমাকে কেন যেন ছাড়তে ইচ্ছে করছেনা।আস আরও কথা বলি।

স্বপ্নঃতাই নাকি??কাল  বলো এই কথা,তাহলে বিয়ে করেই নিয়ে আসবোনে।

কণাঃএহহ...হাবলু আসছে আমাকে বিয়ে করতে।যাও ঘুমাও।আসি।

স্বপ্নঃহা হা।ওকে।আসি...

 

......অবশেষে এল সে  দিন,যেদিন জয় হবে প্রকৃত  ভালোবাসার......

       ...যেদিন  মিল হবে দুজনের অনেক  দিন ধরে পুষে রাখা কাঙ্খিত  আশার......

১৮ এপ্রিল,২০১২,দুপুর  ১২:৪২ মিনিট...

কণাঃআজিব ছেলে...আমাকে  ১ ঘণ্টা আগেই বলল যে কাছাকাছি চলে আসছি আবার এখন কোন  খবর নেই।ফোন ও ঢুকছেনা।যাই  আমি বের হই।বি.বাড়িয়ায় তো নেটওয়ার্ক ও পাওয়া যায়না।

৩০ মিনিট পর...

কণাঃউহহ...ফোন ধরছেনা কেন ও???নিশ্চয়ই কোনো গিফট কিনতে গিয়েছে।এই ছেলেটা কে নিয়ে পারি ই না।দেখি  আরেকবার ট্রাই করে.........

রিং রিং রিং

কণাঃউহ...ধরো স্বপ্ন প্লিস।

অপরিচিত কণ্ঠস্বরঃহাল্ল...

কণাঃহ্যালো...হ্যালো...আপনি কে???এই মোবাইল এর মালিক কই??আপনি কোথা থেকে বলছেন??

অপরিচিত কণ্ঠস্বরঃজী  আফা...এইডা তো আশুগঞ্জ।এইহানে একটা বাস অ্যাকসিডেন্ট করসে।এই  মোবাইল ডা পইড়া আসিলো তাই  আমি লইসি।বেবাক মানুষ মারা গেসে বাস এর।কয়েকজন বাইচা  আসে মনে হয়।

কণাঃকি????না...না...এগুলা  কি বলছেন আপনি???প্লিস সত্যি  কথা বলেন।

অপরিচিত কণ্ঠস্বরঃআফা আমি হাছা কথাই কইসি...আপনে আসেন তাড়াতাড়ি যদি আপনের  পরিচিত কেও থাইকা থাকে...

কণাঃআমি...আমি............আসছি......স্বপ্ন!!!!!

 

......বিধাতা তুমি ভালোই  খেলছ দুটি জীবন নিয়ে...এত  নিষ্ঠুর খেলা কি তোমায়  মানায়???

       .........এদের  ভালোবাসা কি তোমার চোখে  পড়েনি???তাহলে কি বলব?খুঁত  আছে তোমার জানায়...

 

৩০ মিনিট পর...

কণাঃস্বপ্ন...স্বপ্ন...এই যে দেখো আমি এসে গেছি...স্বপ্ন...এই...

স্বপ্নঃকে??কে??কণা????তুমি এসেছ???দেখেছো আমার কি অবস্থা???পাঞ্জাবিটা পুরো রক্তে লাল হয়ে গেছে।তোমার চিনতে সুবিধাই হলো।আমার সব ছবি ই তো এরকম লাল লাল  ছোপওয়ালা দেখেছো।আমার না খুব কষ্ট হচ্ছিল,রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছি,কেও সাহায্যের  জন্য ও আসছিলনা...আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম মায়ের কথা,তোমার  কথা।কিছুই করতে পারলাম না মায়ের জন্য।তোমার জন্য,তুমি আসার পর এখন আর ব্যথা করছেনা কণা।আমার খুব কষ্ট হচ্ছে যে হয়তো বাঁচবোনা,তোমাকে বিয়ে করতে পারবনা।বিয়ের পর আমাদের প্রথমে মেয়ে হবে বলেছিলে তুমি তাই না??নাম দিয়েছিলাম আমি নীলিমা।নীলিমার সাথে খেলতে পারবোনা।আমার না মরতে ইচ্ছে করছেনা কনা।আমি বাঁচতে চাই।তুমি কি আমাকে বাঁচাতে পারবে???আমাকে বাঁচাও না প্লিস।আমার অনেক কাজ বাকি আছে তো।বাবা রিটায়ার করবে কয়েক বছর পর,তখন আমার বাবা মা কিভাবে থাকবে??ওদের তো আর কেও নেই,এখন কি হবে??এই তুমি আমার দেয়া লাল চুড়ি গুলো পড়েছ দেখি।তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে কণা।খুব সুন্দর...

কনাঃপ্লিস স্বপ্ন তুমি চুপ করো,প্লিস।তোমার কিছু হবেনা।আমি কিছু হতে দেবনা।এইতো একটু পড়ে এ্যাম্বুলেন্স  এসে পড়বে।তুমি চুপ করে থাকো।

স্বপ্নঃএই পাগলী তুমি কান্না করছ কেন???তোমাকে বাঁধা  দিতেও ইচ্ছে করছেনা।কান্না  করলে তোমাকে আরও বেশী সুন্দর লাগে।আমি থাকবো তোমার পাশে সারাটি জীবন।আমাকে তুমি অনুভব  করতে পারবে আমার দেয়া ভালোবাসায়।এখন  কান্না থামাও তো।বেশী কান্না করলে সুন্দর লাগেনা তোমাকে।

কনাঃস্বপ্ন আমাকে  ক্ষমা করে দাও...আমার তোমাকে আসতে বলাই ঠিক হয়নি।ভালোই তো চলছিল আমাদের জীবন।কেন যে মানুষের কথায় পড়ে বারবার তোমাকে আসার জন্য চাপাচাপি করলাম।আমাকে ক্ষমা করে  দাও...

স্বপ্নঃচুপ...আমি তোমাকে ভালোবাসি কণা।তুমি ভালো একটা ছেলেকে বিয়ে করো,আর তোমার  যদি কোন মেয়ে হয় তার নাম  রেখো নীলিমা।আমাকে ওয়াদা  করো তুমি তোমার জীবনটাকে সুন্দর ভাবে সাজাবে।তাহলেই  আমি খুশি হবো।ওয়াদা করো  আমায়...

কনাঃনা প্লিস স্বপ্ন।তোমার কিছু হবেনা।আর একটু অপেক্ষা  করো।

স্বপ্নঃআর সময় নেই  যে কণা...আর সময় নেই...তুমি তাড়াতাড়ি আমাকে ওয়াদা করো।বলো  প্রমিজ।আর আমাকে শেষবারের মতো হাবলু বলো।বলো কণা।

কনাঃআমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি হাবলু...অনেক অনেক ভালোবাসি।তুমি যা বলবে আমি  তাই করবো।আমি তোমাকে ওয়াদা  করলাম...

স্বপ্নঃএইতো...আজ মনে  হয় বৃষ্টি হবে।কতো ইচ্ছা  ছিল আমার তোমার হাত ধরে  কোন বৃষ্টি ভেজা বিকেলে হাঁটবো কোন এক মেঠো পথে...এখন দেখেছো বৃষ্টি আছে...মেঠো পথ আছে কিন্তু আমি থাকছিনা...একটা কবিতা  তোমার জন্য লিখেছিলাম একবার  মনে আছে কণা???এসো দুজনে  মিলে আবার সেই কবিতাটা  পড়ি...তুমি পারবেনা???মনে আছে তোমার???পারতে হবে কণা তোমাকে।পারতে হবে...

......................................................................................................

......................................................................................................

স্বপ্নকণা দুজনে একসাথে............

             বৃষ্টির ঝিরি ঝিরি ধারা  আর বজ্রের আর্তনাদ......

                 বেজে গিয়েছে দেখো মোদের  ভালোবাসার শঙ্খনাদ...

             ইচ্ছে করছে তোমার হাত  দুটো আলতো করে ধরি

                  আমার আঙ্গুলের মাঝে বেঁধে  নেই তোমার আঙ্গুল......

             দেখেছো বৃষ্টি ফোঁটাগুলো  ও খেলছে লুকোচুরি

                  তারা নিজেরাও আজ তাদের  ভালোবাসায় মশগুল......

             ওই মেঠো পথে হাটি চল,ভেজা ঘাসগুলো মাড়িয়ে

                  পুকুরে দেখো বৃষ্টির খেলা,ধাঁরেতে মোর দাঁড়িয়ে......

             তোমার লাল শাড়ির রঙ উঠে যাচ্ছে...দেখেছো লাল ধারা হচ্ছে সৃষ্টি...

                   ওই দেখো দেখা যাচ্ছে  রুপালি ধারার বৃষ্টি......

              আকাশও আজ কালো হয়ে আছে...হয়ে  আছে একরঙা...

                   এই যে দেখো মাঠের ঘাসে কতো সবুজ হয়ে আছে জমা......

              আচ্ছা সব রঙ ই তো পেয়ে  গেলাম,কিন্তু নীল কোথা  পাই বলোতো??

              নীলিমার মাঝেই তো নীল  রয়েছে,সেখান থেকেই নিতে  পারোতো...

              এ যে হয়ে গেলো সব রঙে রাঙা ভালোবাসার রঙধনু......

              স্বপ্নকনার মাঝে যা নিংড়ে  দেবে ভালোবাসা প্রতি  অণু......

 

(পরিশিষ্ট-স্বপ্নকনা  দুজনে বৃষ্টিতে ভিজে  কবিতা পড়ছে...স্বপ্ন কণার  কোলে মাথা রেখে শুয়ে  আছে...বৃষ্টির ধারায় স্বপ্নের  রক্ত আর কণার শাড়ির  লাল রঙ মিশে ধুয়ে যাচ্ছে...সেই  লাল ধারা বয়ে চলছে অজানার  উদ্দেশ্যে...বয়ে চলা সেই  স্রোতের লালিমা...বৃষ্টির  রুপালি ধারা...আকাশের কালো  মেঘ...মাঠের সবুজ ভেজা  ঘাস... আর নীলিমার নীল নিয়ে  সৃষ্ট হয়েছে যেন ভালোবাসার  রঙধনু...সেই রঙধনু আকাশের  বুকে জায়গা করে নেবে  কিছুখন পর যখন স্বপ্নকণার  স্বপ্নভঙ্গ হবে)

Share