শায়লা

লিখেছেন - -সালেহ তিয়াস- | লেখাটি 1018 বার দেখা হয়েছে
সেদিন ছিল সম্ভবত বৃহস্পতিবার। না না, শুক্রবার। না না, বৃহস্পতিবার।
 
রোজকার মত আমি চেম্বারে বসে আছি। বইপত্র উল্টেপাল্টে দেখছি। এমন সময় দরজায় নক হল, আসতে পারি?
 
আসুন।
 
মানুষটা ভিতরে ঢুকল। দেখি, ভাল জামাকাপড় পরা একটি মেয়ে। বয়স, হবে চব্বিশ পঁচিশ।
 
 বসুন।
 
মেয়েটি আমার সামনের চেয়ারে বসল। কেমন জড়সড় হয়ে আছে, দেখে মনে হচ্ছে ভিতরে ভিতরে সে প্রচুর আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছে।
 
আমি বললাম, আপনার নাম?
 
শায়লা।
 
নামটি শুনে আমি চমৎকৃত হলাম। শায়লা নামটা বেশ আধুনিক। আমার নাতনী হলে আমি নাম রাখব শায়লা।
 
বললাম, কি সমস্যা আপনার?
 
শায়লা বলল, বেশ কয়েকদিন হল আমি আমার হাজব্যান্ডকে দেখছি।
 
মানে? হাজব্যান্ডকে দেখছেন এতে সমস্যাটা কোথায়? কোথায় আপনার হাজব্যান্ড?
 
আমার হাজব্যান্ড পাগল হয়ে গেছেন। তাকে একটা মেন্টাল ইন্সটিটিউট এ রাখা হয়েছে।
 
ওহ! আই অ্যাম সরি!
 
না, সরি হবার কি আছে? যাকগে, আমার সমস্যাটা শুনুন। আমার হাজব্যান্ড রয়েছেন মেন্টাল হাসপাতালে, অথচ প্রতিদিন আমি ঘুমাতে গিয়ে দেখি বিছানার উপর বসে আছেন। গোসল করতে গিয়ে দেখি উনি বাথট্যাবে শুয়ে আছেন। খেতে গিয়ে দেখি খাবার টেবিলের এক কোণায় বসে উনি আমার দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে আছেন।
 
হোয়াট?
 
হ্যাঁ। বিশ্বাস করুন।
 
আই সি। আচ্ছা, উনার ড্রেস আপ, মানে পোশাক আশাক কিরকম থাকে?
 
উনি সবসময় একই ড্রেস পরে থাকেন। সাদা স্ট্রাইপের গেঞ্জি আর পায়জামা।
 
উনার সাথে আপনার কথা হয়?
 
জি হয়। তিনি বলেন যে তিনি নাকি প্রাকৃতিকভাবে পাগল হন নাই, কেউ তাকে ওষুধ খাইয়ে পাগল বানিয়েছে। ধীরে ধীরে ওষুধ খাইয়ে পাগল বানিয়েছে।
 
আর কিছু বলেন না তিনি? কে তাকে ওষুধ খাইয়েছে এ সংক্রান্ত?
 
না। শুধু বলেন, তিনি প্রতিশোধ চান। ভয়াবহ প্রতিশোধ।
 
সেদিনকার মত শায়লার সাথে আমার সেশন শেষ হল। শায়লা আমাকে ৫০০ টাকা দিল। সেটা পকেটে পুরে আমি শায়লার চলে যাওয়া দেখলাম।
 
শায়লা চলে যাবার পর ওর সমস্যাটা নিয়ে ভাবতে বসলাম আমি। সে জানে তার হাজব্যান্ডকে দেখা একটা অস্বাভাবিক ঘটনা। অশিক্ষিত মেয়ে হলে অবশ্যই জিনভুতের ব্যাপার মনে করত। কিন্তু এই মেয়েটা সেরকম কিছু মনে করে নি। তার মানে সে যথেষ্ট শিক্ষিত, কথা বলার স্টাইল দেখেও তা-ই মনে হয়।
 
বোঝাই যাচ্ছে মেয়েটার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। সোজা বাংলায় বললে বিভ্রম হচ্ছে। মেয়েটা নিজেও সেটা জানে। মেয়েটার মস্তিষ্ক তার স্বামীর একটা কাল্পনিক সত্ত্বা তৈরি করে মেয়েটিকে দেখাচ্ছে। প্রতিশোধ নিতে বলছে। কেন?
 
নাহ, কেসটা ইন্টারেস্টিং। আমার ডায়েরিতে কিছু পয়েন্ট নোট করে রাখলাম।
 
দু'দিন পর আবার শায়লা এল। দারুণ দেখাচ্ছিল শায়লাকে। শুরু হল আমাদের সেশন।
 
আমি বললাম, আবার দেখেছেন আপনার হাজব্যান্ডকে?
 
শায়লা উত্তর দিল, জি। দু'বার।
 
কখন কখন?
 
আপনার কাছ থেকে বের হয়ে সেদিন বাড়ি যাবার সময় ট্যাক্সিক্যাবে আমার পাশে বসে ছিল সে। আরেকবার ঘুমাতে গিয়ে, গতকাল।
 
পরনে কি ছিল?
 
একই ড্রেস। সাদার উপর স্ট্রাইপের গেঞ্জি আর প্যান্ট।
 
কি বললেন উনি?
 
একই কথা। কে নাকি তাকে ওষুধ দিয়েছে। সেজন্যেই সে পাগল হয়েছে। আমি যেন তার প্রতিশোধ নিই।
 
আপনার স্বামী কোথায় আছে বললেন?
 
অমুক মেন্টাল হাসপাতালে।
 
উনার সাথে আপনি শেষ কবে দেখা করেছেন?
 
এই ধরুন, এক সপ্তাহ আগে।
 
আমাকে উনার সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন?
 
লাভ নেই। ওকে এখন Highly sedative drug দিয়ে চব্বিশ ঘণ্টাই ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়।
 
শায়লা যাবার পর আমি আবার ওর কেসটা নিয়ে ভাবতে বসলাম। ট্যাক্সিক্যাবে তার পাশে তার স্বামী বসে ছিল, এটা বলতে সামান্য ইতস্তত আমার চোখ এড়ায়নি। তাহলে কি সে কিছু লুকাতে চাচ্ছে?
 
আর সাধারণ মানুষ হিসেবে Highly sedative drug কথাটা সে কোথা থেকে জানল? সে কি নিজে ডাক্তার? নাকি ফার্মাকোলজির স্টুডেন্ট? নাকি কেমিস্ট?
 
আমি ডায়েরিতে সযত্নে কথাগুলো লিখে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন একে দিলাম।
 
আমাদের তৃতীয় সেশন। শায়লাকে দারুণ আকর্ষণীয় লাগছে। খুব উগ্র একটা সেন্ট ব্যবহার করেছে সে।
 
বললাম, আপনি কখন থেকে বুঝলেন আপনার স্বামী পাগল হয়ে গেছে?
 
মাসখানেক আগে উনি হঠাৎ করে চিৎকার করা শুরু করেন যে উনি নাকি উনার মৃত সন্তানকে দেখতে পাচ্ছেন। অথচ আমাদের ছেলেপুলেই হয় নি। মূলত সেই ঘটনার কিছুদিন পরেই তাকে পাগলা গারদে পাঠানো হয়।
 
আপনি কি করেন?
 
আমি?
 
হুম।
 
আমি ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে একটা ফার্মে আছি।
 
আমি হতাশ হয়ে বললাম, আপনাদের বিয়ে হয়েছে কত বছর?
 
ছয় বছর।
 
ছেলেপুলে হয় নি কেন? আপনারা ইচ্ছা করে নেন নি?
 
সেটা নয়। উনার একটা সমস্যা ছিল।
 
আপনি শিওর উনার সমস্যার কারণেই আপনার সন্তান হয় নি?
 
শিওর।
 
উনার রান্নাবান্না কে করত?
 
এক কাজের বুয়া ছিল।
 
উনি কি কোন ওষুধ খেতেন?
 
হ্যাঁ, উনার প্রেশার ছিল। প্রেশারের ওষুধ খেতেন উনি।
 
কখন খেতেন?
 
রাতে, ঘুমুতে যাবার আগে।
 
ওষুধ কি উনি নিজে খেতেন নাকি আপনি খাইয়ে দিতেন?
 
শায়লা ইতস্তত করে বলল, উনি নিজে খেতেন।
 
আপনাদের বিবাহিত জীবন কেমন ছিল?
 
বুঝতেই পারছেন, অসুখী হলে আমাকে খুব একটা দোষ দেয়া যাবে না। একটা ইজাকুলেটরি ফেইলর অলা পুরুষের সাথে ছয় বছর থাকাটাই তো অনেক।
 
কি বললেন? ইজাকুলেটরি ফেইলর?
 
হ্যাঁ।
 
আই সি। তারমানে আপনি অসুখী ছিলেন?
 
বলতে পারেন। হুম।
 
বিয়ের আগে আপনার কারো সাথে পরিচয় ছিল? প্রেম টেম?
 
না তো! না না, কখনই না।
 
সত্যি করে বলুন।
 
না না, কি যা তা বলছেন।
 
আপনার কোন বন্ধু কি ফার্মেসি পড়ছে? বা কেমিস্ট হয়েছে?
 
শায়লা ভয়ানকভাবে চমকে উঠল। কিন্তু পরক্ষণেই সামলে নিয়ে বলল, না। কেন?
 
আপনার তিনটা বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম্বার আমাকে দিতে পারবেন?
 
হ্যাঁ, হ্যাঁ অবশ্যই। আমি লিখে দিচ্ছি। এই নিন।
 
সেদিন ডায়েরিতে আমি নতুন অনেক কিছু লিখে রাখলাম। পাশে এঁকে দিলার দু-দুটো প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
 
আমাদের চতুর্থ সেশন।
 
শায়লা খুব সেক্সি একটা ড্রেস পরে এসেছে। তার সাদা ধবধবে পিঠের প্রায় পুরোটাই দেখা যাচ্ছে। টাইট ড্রেসের সাথে ম্যাচ করে কেনা ওড়নাটা শায়লা গলায় পেঁচিয়ে এক পাশ দিয়ে নামিয়ে দিয়েছে। তাকে দেখতে ভয়াবহ অতিমানবীয় সুন্দর লাগছে।
 
আমি কিছুক্ষণ হা করে ওর দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলাম। A doctor must not enter into any type of personal relationship with the patient. Such a relationship is always regarded unethical.
 
বললাম, আবার দেখেছেন?
 
হ্যাঁ।
 
ক'বার?
 
তিনবার। ইদানীং ওকে যেন বেশি বেশি দেখছি।
 
এবার আপনি একটু আমার দিকে তাকান। আমি যা বলব খুব মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।
 
শায়লা আমার দিকে তাকাল। আমি বলতে শুরু করলাম, আপনি বলেছেন আপনার স্বামী প্রতিদিন একই ড্রেস পরে আপনার বিভ্রমে হাজির হন। ড্রেসটা উদ্ভট, সেটা মেন্টাল হাসপাতালের রোগীদের ড্রেস। স্বাভাবিকভাবেই মাথায় আসে, আপনি আপনার স্বামীর সাথে দেখা করতে গিয়ে তাকে এই ড্রেস পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন। তাই আপনার কল্পনার স্বামীও এই ড্রেস পরে আছে।
 
কিন্তু আমি নিজে মেন্টাল হাসপাতালে গিয়ে খবর নিয়েছি। আপনার স্বামীর সাথে আপনি কোনদিনও দেখা করেন নি। আর সাধারণ রোগীদের যে ড্রেস থাকে আপনার স্বামীর সে ড্রেস ছিল না। তার পরনে ছিল স্পেশাল কেবিনে থাকা রোগীদের ড্রেস।
 
সুতরাং প্রশ্ন জাগে, তবে কি আপনি আমাকে মিথ্যা বলেছেন? আপনার আসলে হ্যালুসিনেশন হয় না? বিভ্রমের ব্যাপারটা পুরাই ফেইক? এবার প্রশ্ন জাগে, কেন?
 
আমি আপনার সম্বন্ধে খোঁজ খবর নিলাম। আপনার বিয়ের আগে প্রেম ছিল। বিয়ের পরেও আপনি সেই ছেলের সাথে সম্পর্ক রেখেছেন। সেই ছেলে একজন কেমিস্ট।
 
আমি যখন আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম আপনার কোন কেমিস্ট বন্ধু আছে কি না তখন আপনি কি বলেছিলেন মনে আছে? বেশ কয়েকবার না বলেছিলেন। অথচ এতবার না বলার কোন দরকারই ছিল না।
 
আসলে আপনি আমার মধ্যে সন্দেহ জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন আমি যেন আপনাকে ইনভেসটিগেট করি। এজন্যেই বলার সাথে সাথে আপনার বন্ধুদের নাম্বার আমাকে দিয়ে দিয়েছিলেন আপনি।
 
আপনি আপনার বাসার কাজের বুয়ার সাথে কথা বলেছি। প্রায়ই আপনাদের হাজব্যান্ড ওয়াইফের মধ্যে জোরে জোরে ঝগড়া হত। ঝগড়ার বিষয়টা আপনার হাজব্যান্ডের অক্ষমতা ঘিরেই আবর্তিত হত। আপনি তাকে তার অক্ষমতার জন্য অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতেন। এতে তার প্রেশার বেড়ে যেত। এজন্যেই তিনি প্রতিদিন রাতে প্রেশারের ওষুধ খেতেন।
 
আপনি সম্ভবত শারীরিক চাহিদা মেটাতে আপনার কেমিস্ট বন্ধুর শরণাপন্ন হন। সে-ই আপনাকে ড্রাগটার সন্ধান দেয়।
 
শায়লা হঠাৎ করে ধমকে উঠল, ওয়েট ওয়েট, আপনি কি বলতে চান আমিই উনাকে পাগল করার ওষুধ দিয়েছি? কি প্রমাণ আছে?
 
আমি বললাম, আপনি প্রচণ্ড বুদ্ধিমতী, শায়লা। আপনি আপনার স্বামীর সাথে এমন একটা গেম খেলেছেন যে জগতের কারো পক্ষে গেম ধরা সম্ভব হয় নি। হ্যাঁ, ওষুধ আপনি দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটা পাগল হবার ওষুধ বা হ্যালুসিনোজেন টাইপ কিছু নয়। আপনি তাকে দিয়েছিলেন হাই ডোজ আলফা ব্লকার। এটাই ছিল উনার প্রেশারের ওষুধ!
 
আলফা ব্লকারের একটা অ্যাডভার্স ইফেক্ট হচ্ছে ইজাকুলেটরি ফেইলর। এটা আপনাকে জানিয়েছিল আপনার কেমিস্ট বন্ধু। সম্ভবত সে-ই আপনাকে খুব বেশি ইজাকুলেটরি ফেইলর করে এমন একটা আলফা ব্লকার সাপ্লাই দিত।
 
আলফা ব্লকার খেলে পসচুরাল হাইপোটেনশন হয়। আপনার স্বামীরও হত। বুয়া নিজে দেখেছে ওষুধ খাবার পরপরই তিনি আর দাঁড়াতে পারতেন না, দাঁড়িয়ে থাকলে তার মাথা কেমন ঝিম ঝিম করত। তাই তিনি সাথে সাথে বসে বা শুয়ে পড়তেন।
 
আলফা ব্লকার খাবার কারণেই আপনার সাথে শারীরিক মিলনে তিনি তেমন সফল হতে পারেন নি। হয়তো তার আগে থেকেই জেনেটিক্যালি ইজাকুলেশনে সমস্যা ছিল, আপনার আলফা ব্লকার সেটাকে আরও উসকে দিয়ে এমন অবস্থা করল যে সেক্সের পরে উনার ইজাকুলেশনের বারোটা বাজিয়ে দিল, হয়তো এমন অ্যামাউন্টের সিমেন বেরই হল না যাতে আপনি কনসিভ করতে পারেন। এরকম ঘটনা ঘটতে লাগল দিনের পর দিন। আমি জানি আপনার চেয়ে আপনার হাজব্যান্ড বারো বছরের সিনিয়র, এই বয়সে উনার হাইপারটেনশন থাকতেই পারে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ড্রাগ নেয়া শুরু করেছিলেন তিনি, কিন্তু মাঝখান দিয়ে আপনি এসে কৌশলে আলফা ব্লকার খাওয়ানো শুরু করলেন তাকে, এটাও হাইপারটেনশনের ওষুধ, তা-ই আপনি রয়ে গেলেন সন্দেহের বাইরে। আপনি উনাকে বারবার খোঁটা দিতেন, আপনার খোঁটা খেয়ে উনি ডাক্তারের কাছে যেতে চাইতেন, কিন্তু পরক্ষণেই লজ্জা পেতেন প্রচণ্ড তা-ই আর যাওয়া হয় নি। উনি ভাবতেন এটা উনারই সমস্যা।
 
তো স্ত্রীকে সুখী করতে না পারার দুঃখ আর আপনার দেয়া ক্রমাগত মানসিক আঘাতে তিনি একদমই ভেঙ্গে পড়েন। প্রায় ছয় বছর ধরে এই কষ্ট সয়ে সয়ে অবশেষে তার মধ্যে মানসিক বিকৃতি আসে। তার ধারণা হয় আপনাদের সন্তান না হবার জন্য একমাত্র উনি নিজেই দায়ী। তাই তার হ্যালুসিনেশন হয়। উনি উনার মৃত সন্তানকে হ্যালুসিনেশন হিসেবে দেখা শুরু করেন। অথচ আপনাদের কোন ছেলেপুলে ছিল না।
 
আপনি আর আপনার বন্ধু এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিলেন। আপনারা তাকে পাগলা গারদে দিয়ে আসেন। নিজের বউয়ের হাতে পাগল সাব্যস্ত হতে দেখে আপনার স্বামী আরও বেশি পাগলামি শুরু করেন। তাকে রাখা হয় স্পেশাল সেলে।
 
আপনি আসলে কখনই হ্যালুসিনেশনে আপনার স্বামীকে দেখেন নি। হ্যালুসিনেশন হতে হলে বড় কোন ট্রমা বা মেজর ইনজুরি থাকতে হয়, কোনটাই আপনার ছিল না। বরং আপনি যে কয়দিন আমার কাছে এসেছেন অনেক ভালোভাবে সুস্থ সুন্দরভাবে সেজেগুজে এসেছেন, কথা বলেছেন। আমি আপনার বুয়ার কাছে শুনেছি, সে কখনই আপনাকে চিৎকার দিতে দেখে নি। অদৃশ্য কারো সাথে কথা বলতে দেখে নি।
 
আমার ধারণা আপনি আমার সাথে একটা মাইন্ড গেম খেলেছেন। আপনি দেখতে চেয়েছেন কে বেশি বুদ্ধিমান, আমি নাকি আপনি। আপনি দেখতে চেয়েছেন পৃথিবীর আর কেউ আপনার যে সিম্পল ট্রিকটা বোঝে নি সেটা আমি বুঝতে পারি কি না। আসলেই মন বড় বিচিত্র জিনিস, বুঝেছেন মিস শায়লা। আপনার অবচেতনে ক্রমেই জমা হচ্ছিল অনুতাপ, কিন্তু আপনার সচেতন মন কারো কাছে সব স্বীকার করতে বাঁধা দিচ্ছিল। অবশেষে আপনার সচেতন আর অবচেতন একটা নেগোসিয়েশনে এল, যার ফলাফল হিসেবে আপনি একটা মাইন্ড গেম খেলতে সাইকিয়াট্রিস্ট, মানে আমার কাছে চলে এলেন। আপনার প্ল্যান ছিল আমি যদি আপনার ট্রিক ধরতে না পারি তাহলে আপনার অবচেতন অনুতাপ থেকে মুক্ত হবে, তাই না? কারণ আপনি তো নিজেকে ধরিয়ে দেবার চেষ্টা করেছেনই, আমার কাছে এসে।
 
বাট শায়লা, ইউ লুজ। আই অ্যাম সরি।
 
শায়লার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে চোখের পানি থামাতে কিন্তু পারছে না।

Share