ফিল্ম রিভিউঃ দেখে এলুম “দ্য স্পিডঃ ডু অর ডাই”

লিখেছেন - -সালেহ তিয়াস- | লেখাটি 918 বার দেখা হয়েছে

“খোঁজঃ দ্য সার্চ” দেখার পর থেকেই আবার আব্দুল জলিল ভাইয়ের সিনেমা দেখার জন্য প্রাণ আইঢাই করছিল। কারণ উনার সিনেমার মত নির্মল বিনোদন আমি এখনও অন্য কোন সিনেমায় পাই নি। ঐ যে ডাক্তাররা বলেন না, হাসলে আয়ু বাড়ে। জলিল ভাই মনে হয় একাই বাংলাদেশের সব মানুষের আয়ু বাড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। উনার এই মহৎ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।

 

“খোঁজঃ দ্য সার্চ” এর পর নানা কারণে জলিল প্রোডাকশনের দ্বিতীয় ছবি “হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ (Heart Breaking Blow)” দেখা সম্ভব হয় নি। হয়তো সে কারণেই “দ্য স্পিডঃ ডু অর ডাই” মুক্তি পাবার পরই মনে হল, নাহ, আর মিস করা যাবে না। তাই এক শুভ বিকেলে একগাদা বন্ধুবান্ধব নিয়ে চলে এলাম বলাকায়। টিকেট কাটলাম ১০০ টাকা দিয়ে। হঠাৎ মনে হল পুরো টাকাটা জলে দিচ্ছি না তো? পরক্ষণেই মাথা থেকে দূর করে দিলাম এইসব অশুভ চিন্তা।

 

সিনেমা হলের বাইরে “দ্য স্পিডঃ ডু অর ডাই”র একগাদা পোস্টার। আমরা তো পোস্টার দেখেই ফিদা। একে তো নায়ক আমাদের প্রিয় জলিল ভাই, আবার নায়িকা মালয়েশিয়ান পারভিন। পোস্টারে তার অঙ্গভঙ্গি দেখলে যে কেউ “কাইত” হতে বাধ্য। সাথে আরও আছে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা ভিলেন। দেখলাম ভিলেনদের নামের নিচে দেশও দেয়া আছে। আফ্রিকা, ইতালি বিভিন্ন দেশ থেকে ধরে আনা হয়েছে ভয়ঙ্কর চেহারার এইসব ভিলেনদের।

 

পোস্টারের লেখার একটা জায়গায় চোখ আটকে গেল। এই সিনেমায় কি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে সেইটা নাকি সিনেমাতেই দেখা যাবে। তাইলে সেই ক্যামেরার ছবি আবার কোন ক্যামেরায় তোলা হবে? বুঝলাম না এই আইডিয়া আবার কোথা থেকে আমদানি হল।

 

প্রথমে ভেবেছিলাম এত লোক হবে যে টিকিটই পাওয়া যাবে না। ভিতরে ঢুকে দেখি শেষের তিন রো তেই শুধু লোক বসেছে, তাও আবার মাঝে মাঝে ফাঁকা। বুঝলাম, জলিল ভাইয়ের মত গুণীর কদর এই মরার দেশে নাই। আমরা শেষের দুই রো তে ভাগাভাগি করে বসলাম।

 

জাতীয় সঙ্গীত হল। কয়েকজন দাঁড়াল। দুএকজন আবার আশেপাশে তাকিয়ে বসে পড়ল জাতীয় সঙ্গীত শেষ হবার আগেই। আমার দোস্তগুলো ভালো, তারা কেউ এইভাবে বসে পড়ে নি।

 

তারপর শুরু হল সেই অনেক প্রতীক্ষিত “দ্য স্পিডঃ ডু অর ডাই”, প্রথমেই নাম দেখানোর অংশ। এই অংশের গ্রাফিক্স এর কাজটা আসলেই দেখার মত ছিল। দেখলে অনেকটা মিশন ইম্পসিবল এর কথা মনে পড়ে যায়। দেখলাম, সিনেমায় জলিল ভাইয়ের নাম অনন্য।

 

পরের দৃশ্যেই দেখা যায় অনন্য বডিবিল্ডিং করছে। বক্সিং, রানিং, ওয়েট লিফটিং – কিছুই বাদ রাখে নাই। ট্রেডমিলে দৌড়ানোর সময় তার স্পিড থেকে মনে হয়েছে, নাহ, “দ্য স্পিডঃ ডু অর ডাই” সিনেমায় আসলেই স্পিড আছে।

 

অনন্য বিশাল AJI Industries এর মালিক। সে একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যবসায়ী। সে অনেক দয়ালু। তাই তো MBA পাশ করে তিন বছর বেকার থাকা জনৈক যুবককে সে সার্টিফিকেট দেখেই চাকরি দিয়ে দেয়।

 

অনন্য শুধু ভালো বিজনেসম্যান নয়, ভালো মেকানিকও বটে। কি একটা মেশিন বিগড়ে গেলে অনন্য নিজেই গ্লাভস পরে কাজে নেমে পড়ে। অনেক কষ্টে ঘেমেটেমে সে আবিষ্কার করে যে আসল মেকানিক ব্যাটা মেশিনটা প্লাগ ইন করে নাই। ব্যস, জায়গামত প্লাগ ঢুকিয়ে মেশিন ঠিক করে দেয় অনন্য।

 

এদিকে অনন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ভেজাল ব্যবসায়ী কিবরিয়া খান (আলমগির), কিবরিয়া খান ঘরে কমপক্ষে দশ রকম দৈনিক পত্রিকা রাখে। সেই প্রতিটি পত্রিকাতেই হেডলাইন - “ক্রমেই বেড়ে চলেছে অনন্যের শেয়ার”, “তরুণ ব্যবসায়ী অনন্য ক্রমেই হস্তগত করছে কিবরিয়া খানের শেয়ার” ইত্যাদি ইত্যাদি। কিবরিয়া হাতের উপর একসাথে দশটা পত্রিকা নিয়ে একটা একটা করে দেখে, হেডলাইন পড়ে, দাঁত কিড়মিড় করে এবং একেকটা পত্রিকা ঘরের একেক দিকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

 

কিবরিয়ার পার্টনাররা হুমকি দেয়, এই অবস্থা চলতে থাকলে তারা দল ছেড়ে অনন্যের সাথে যোগ দেবে। কিবরিয়া তখন অনন্যকে মারার পরিকল্পনা করে। কুখ্যাত মাস্তান (ইলিয়াস কোবরা) কে দায়িত্ব দেয়া হয় অনন্যকে মারার জন্য। একরাতে অনন্যের গাড়ি রাস্তায় থামিয়ে কোবরা তার দলবল নিয়ে শুরু করে প্রবল গুলিবর্ষণ। সবাই গুলি খেয়ে শুয়ে পড়লেও অনন্য আর কোবরার কিছু হয় না। তারপর তারা মারামারি শুরু করে। অভিকর্ষজ বলের সকল সূত্র উপেক্ষা করে অনন্য উড়ে উড়ে কোবরাকে যে লাথিগুলো মারে তাতে মনে হয় নিউটন বেঁচে থাকলে এই দৃশ্য দেখে লজ্জায় মরেই যেতেন। একপর্যায়ে কোবরা লাথি খেয়ে উড়ে একেবারে কিবরিয়ার ছাদের কাঁচ ভেঙ্গে তার ড্রয়িং রুমে পড়ে। তারপরই আ-আ-আ-ঠুস। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। মৃত্যুকালে তার পরনে ছিল ব্রাজিলের জার্সি।

 

অনন্যের ফ্যামিলি বলতে শুধু বড় ভাইয়ের মেয়ে দৃষ্টি (দিঘি), দশ বছর আগে দৃষ্টির বাবা মা মারা গিয়েছিল সন্ত্রাসীদের হাতে, তারপর থেকে সে অনন্য চাচুর সাথেই থাকে। ভাতিজির সাথে নানা প্রকার মেয়েলি ঢং করতে অনন্য সিদ্ধহস্ত। এই ঢঙ্গের মধ্যে নেচে কুঁদে গাওয়া গানও আছে।

 

এদিকে ইংল্যান্ড থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিং এর উপর পড়াশোনা করে “পাকিস্তান এয়ারলাইন্স” এর প্লেনে চড়ে দেশে ফেরে নায়িকা সন্ধ্যা (পারভিন), সন্ধ্যা আবার অনন্যের কোম্পানির জি এম এর বোন। সন্ধ্যা দেশে ফিরেই ভাইয়ের সাথে তার অফিস দেখতে চলে যায়। গিয়েই দেখে বিভিন্ন জায়গায় একজন মডেলের পোজ দেয়া অনেকগুলো পোস্টার টানানো। পোস্টারের মডেলের ফ্যান হয়ে যায় সে। ছবি তোলে নিজের আইফোন দিয়ে।

 

পরে সন্ধ্যা জানতে পারে যে এই পোজ মারা মডেলই হচ্ছে এই কোম্পানির এম ডি অনন্য। একটু পরেই ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে। বিস্ফোরণে কেঁপে কেঁপে ওঠে সমস্ত স্ক্রিন, সেই সাথে আমরাও। পু পু শব্দ করতে করতে অচিরেই চলে আসে ফায়ার ব্রিগেড। এসেই তারা আকাশের দিকে লক্ষ্য করে পানি মারা শুরু করে। কিন্তু কোথায় যে আগুন লেগেছে আর কোথায় যে পানিটা যাচ্ছে, সেটা সাধারণ দর্শকের কাছে রহস্যাবৃতই রয়ে যায়।

 

সন্ধ্যার আইফোনটা মনে হয় তার খুব প্রিয়, সে ঐ ফোন দিয়ে আগুন লাগার মনোরম(!) দৃশ্য ভিডিও করা শুরু করে। ফ্যাক্টরির গেট থেকে সুশৃঙ্খলভাবে প্রতি দুইজন আহত একজনকে  উদ্ধার করে কোলে করে ধরে ধরে নিয়ে আসতে থাকে। আর কোলে থাকা মানুষটা নিয়ম মেনে “আ-উ-মরে গেলাম” টাইপ মুখভঙ্গি করতে থাকে। এরই মধ্যে অনন্যকেও দেখা যায় একজনকে কোলে করে নিয়ে আসতে। দেখে তো সন্ধ্যা পুরা ফিদা। আরও মনোযোগ দিয়ে ভিডিও করা শুরু করে সে।

 

রাতে সন্ধ্যার ভাই সন্ধ্যাকে অনন্যকে পামপট্টি মেরে অনেক কথা বলে। অনন্য সৎ, অনন্য নিষ্ঠাবান, অনন্য ছোটবেলায় বাপ মাকে হারিয়ে বড় ভাইয়ের কাছে মানুষ ইত্যাদি ইত্যাদি। সন্ধ্যা বারবার আইফোনে অনন্যের সেই উদ্ধারকার্যের দৃশ্য দেখতে থাকে। তারপর রুমে গিয়ে দেখে চার দেয়ালে শুধু অনন্যের ছবি। ছবির অনন্যের লিপস্টিক দেয়া লাল ঠোঁটের দিকে এগিয়ে যায় সন্ধ্যার ঠোঁট। তারপর গান। গানের শেষে চটকা ভাংলে সন্ধ্যা আবিষ্কার করে, রুমে আসলে অনন্যের কোন ছবি নেই। সবই তার হ্যালুসিনেশন!

 

সন্ধ্যা যায় দোকানে ফুল কিনতে। গিয়ে শোনে তার পছন্দের তোড়াটা আগেই বুক হয়ে গেছে। কিন্তু নাছোড়বান্দা সন্ধ্যা ঐ তোড়াটা কিনেই ছাড়বে। এটা নাকি সে তার ভালোবাসার মানুষের জন্য নেবে। এদিকে ঐ তোড়াটা আসলে অনন্যই বুক করেছিল। সন্ধ্যাকে ফুলের দোকানেই প্রথম দেখে সে। ছেড়ে দেয় ফুলের তোড়ার অধিকার। সন্ধ্যা কিন্তু অনন্যকে দেখে না।

 

সন্ধ্যা অনন্যের কোম্পানিতে ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে যোগ দিতে চায়। অনন্য তার কথা তার ভাইয়ের মুখে শুনে তাকে রুমে ডাকে। গিয়েই দেখে এ সেই মেয়ে, হাতে সেই ফুলের তোড়া। তবে ও না বলল ভালোবাসার মানুষের কথা? আমিই কি তার ভালোবাসার মানুষ? ভাবে অনন্য। চাকরি হয়ে যায় সন্ধ্যার।

 

এদিকে দৃষ্টির স্কুল একদিন দু ঘণ্টার আগে ছুটি শুরু হয়। অনন্য মিটিঙে ছিল, তাকে কিছু না জানিয়ে সন্ধ্যা দৃষ্টিকে আনতে স্কুলে যায়। স্কুলে গিয়ে দৃষ্টিকে নিজের পরিচয় দেয় সে (চিনল কেমনে?), দৃষ্টি বলে, “সন্ধ্যা আন্টি আমাকে একটু শিশুপার্ক নিয়ে যাবে?” দৃষ্টির জোরাজুরিতে অনন্যকে কিছু না বলেই তারা শিশুপার্কে চলে যায়। তারপর ভিডিও করতে করতে আর খেলনায় চড়তে চড়তে তাদের আর সময়জ্ঞান থাকে না।

 

এদিকে স্কুল ছুটির স্বাভাবিক টাইমে অনন্যের লোক স্কুলে গিয়ে দেখে দৃষ্টি নেই। খবর শুনে অনন্য পাগলের মত হয়ে যায়। সব থানা আর হাসপাতালে খোঁজ নিতে বলে নিজে অফিসে এ সির মধ্যে বসে থাকে সে। আর তার লোকেরা থানা হাসপাতাল নয়, বিভিন্ন মাঠেঘাটে খুঁজে বেড়ায় দৃষ্টিকে।

 

প্রখর রৌদ্রের মধ্যে “সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে” দেখে দৃষ্টি ফোন করে অনন্যকে। ওখানে আসতে বলে তাকে। অনন্য ডায়লগ দেয়, “ঢাকা শহরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে তোমাকে খোঁজা হয় নি” ( নিজে কিন্তু বসে ছিল অফিসের এ সির তলে), তারপর অনন্য যায়। গিয়ে সন্ধ্যাকে ঝাড়ি দেয় অনন্য। তখন সন্ধ্যার হয়ে ওকালতি করে দৃষ্টি। তাকে নাকি দৃষ্টির দারুণ পছন্দ (এই যে নায়কের মন গলল)।

 

রাতে দেখা গেল দৃষ্টি একটা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। কি সেই ছবি? ছবিতে দৃষ্টি এবং তার বাবা মাকে দেখা যাচ্ছে । হিসেব মতে এই ছবি কমপক্ষে দশ বছর আগের, কারণ তার বাবা মা দশ বছর আগে মারা গেছে। কিন্তু ছবির দৃষ্টি এবং বাইরে যে দৃষ্টি দাঁড়িয়ে কাঁদছে তাদের মধ্যে চেহারার কোন পার্থক্য নেই। তার একটাই মানে, দৃষ্টি হয় বয়স না বাড়ার রাখার কোন গোপন ওষুধ ব্যবহার করেছে, নাহলে বাপ মা মরার সাথে সাথে মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের কাছে টিপস নিয়ে শীতল ঘরে ঘুমিয়ে গেছে। তারপর সিনেমার শুটিং শুরু হতেই আবার জাগিয়ে তোলা হয়েছে তাকে। আবার টাইম মেশিনে করে দশ বছর টাইম ট্রাভেলও করতে পারে, অসম্ভব কিছু না। আবার ফটোশপও হতে পারে, এই দৃষ্টি ঐ দৃষ্টির ক্লোনও হতে পারে।

 

এক দৃশ্যে দেখা গেল দৃষ্টি ছবি আঁকছে। প্রথমে ভাবলাম, এটা তো তার প্রিয় অনন্য চাচুর ছবি। সেই লম্বা লম্বা চুল, মেয়েলি চেহারা, লাল ঠোঁট। কিন্তু ছবি শেষ হতেই টাশকি খেলাম। এটা অনন্যের না, এটা সন্ধ্যার ছবি! সেটা আবার দেখে ফেলল অনন্য নিজেই। দৃষ্টি বলল, আমি এখন থেকে সন্ধ্যা আন্টিকে আমাদের বাসায় থাকতে বলব (আহা, যেন সন্ধ্যা আন্টির নিজের কোন ঘরবাড়ি নাই)।

 

ভাতিজির গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে বিশাল এক নাটক করল অনন্য। পরদিনই বরখাস্ত করল সন্ধ্যাকে। সন্ধ্যা ছলছল চোখে জিজ্ঞেস করল, “আমাকে বরখাস্ত করার কারণ জানতে পারি?” অনন্য তখন সম্ভবত নেটে কিছু একটা করছিল (ফেসবুক না কিন্তু), সে ভাব মেরে উত্তরই দিল না।

 

সন্ধ্যা বাড়ি ফিরে দেখে অনেক গয়নাগাটি সোফায় সাজানো। ভাবলাম আমিন জুয়েলার্সের কোন এক্সিবিশন, কিন্তু পরে দেখা গেল এটা নাকি সন্ধ্যার বিয়ের জন্য কেনা হয়েছে। সন্ধ্যা তো বিয়ে করবেই না, সে ইংল্যান্ড চলে যাবেই যাবে। ঠিক তখনই জানা গেল, পাত্র অনন্য নিজেই। ব্যস, আনন্দে ভাইকে জড়িয়ে ধরল সন্ধ্যা।

 

তো বিয়ে হলে তো বাসর হবেই। অনন্য আর সন্ধ্যা বাসর ঘরে ঢুকল। ভাবলাম, এইখানেই দেখব পরিচালকের বুদ্ধির দৌড়। এমন সিন থাকবে যা দর্শকও খায়, সমালোচকও খায়।

 

হায় হায়, বিছানায় দেখি দৃষ্টি! দৃষ্টি এইখানে কি করে? অচিরেই অনন্য নিজেকে দৃষ্টির বাপ এবং সন্ধ্যা নিজেকে দৃষ্টির মা হিসেবে ঘোষণা করল। এইবার ফচকে দৃষ্টি উঠে বলে, তোমরা থাকো, আমি থাকলে তোমাদের ডিস্টার্ব হবে! আমি গেলাম। পরে সে অনন্যকে বলল, তোমরা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পোড়ো কিন্তু। হায়, এইটুকু পিচ্চি এই অল্প বয়সে কতকিছু শিখে গেছে!

 

তারপরই এল সেই চরম আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। অনন্য বন্ধ করে দিল বাসর ঘরের দরজা। কিন্তু সন্ধ্যা কই? দেখা গেল সন্ধ্যা ম্যাক্সি পরে বাথরুমে মুখ ধুচ্ছে। একটু পরেই অনন্য আর সন্ধ্যা শুরু করল ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা। আমরা তো তখন পাগলের মত চিৎকার শুরু করেছি। সেই খেলার এক পর্যায়ে সন্ধ্যাকে কোলে তুলে নেয়া হল। ছুঁড়ে ফেলা হল বিছানায়। সাথে সাথে উত্তেজনায় ষাঁড়ের মত খেপে উঠল দর্শক, দু একজন দাঁড়িয়ে গেল সিট ছেড়ে। তার একটু পরেই দুইজন বিছানার চাদরের নিচে, দর্শকদের চোখের বাইরে। সবার হৃদয়ে তখন আফসোস, মুখে গালাগালি, চোখে হতাশা। আর মনে একটাই প্রশ্ন, কি রে, চাদরের তলে অত নড়াচড়া করস ক্যান?

 

এদিকে অনন্যর জন্য কিবরিয়া তার বিদেশি বিজনেস পার্টনার অ্যান্ড্রুর কাছ থেকে ভেজাল মাল নিতে পারে না। পরে অ্যান্ড্রু নিজেই মালয়েশিয়া থেকে “পাকিস্তান এয়ারলাইন্স” এ করে বাংলাদেশে এসে অনন্যকে সাইজ করতে সিদ্ধান্ত নেয়। অনন্যের অফিসে যেয়ে তাকে নিজের বিজনেসের সাথে যুক্ত করতে চায় অ্যান্ড্রু।

 

কিন্তু অনন্য ভেজাল ব্যবসা করবে না জানিয়ে দেয়। শুধু তাই না, সে ফাঁস করে দেয় অ্যান্ড্রুর আসল পরিচয়। অ্যান্ড্রু আসলে শুটার এনায়েতুল্লাহ। কোন একটা গেমসে মালয়েশিয়ায় গিয়ে ক্যাম্প থেকে উধাও হয়ে যায় সে। উধাও হবার পর সে নিজের নাম আর চেহারা দুটোই চেঞ্জ করে স্মাগলার সেজে বসে (নায়ক এতকিছু জানল কেমনে?)।

 

ধরা খেয়ে অ্যান্ড্রু অনন্যর পরিবার সম্বন্ধে খোঁজ নেয়। কিবরিয়া আর সে মিলে প্ল্যান করে অনন্যের বড় কোন ক্ষতি করার।

 

এদিকে হানিমুনের জন্য বিদেশ যাবার প্রস্তাব করে দৃষ্টি। কিন্তু নায়ক বিশাল দেশপ্রেমিক, বিদেশ নয়, দেশের কক্সবাজার, রাঙ্গামাটিই তার বেশি ফেভারিট। ব্যস, তিনজন মিলে হানিমুনে যায়। ভালোই গান টান হতে থাকে, কিন্তু গানের শেষে হঠাৎ মাটির নিচ থেকে একদল মানুষ উঠে ঠা ঠা করে গুলি করতে থাকে। অনন্য একাই পিস্তলের গুলিতে একের পর এক গুণ্ডাকে কুপোকাত করতে থাকে, কিন্তু শেষরক্ষা হয় না। দৃষ্টি মারা যায়। ঠিক তার পরই “আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না” বলার মত ভঙ্গিতে দৌড়ে আসে একদল পুলিশ (ভাগ্য ভালো বলে নাই)।

 

এইবার দেখলাম স্পিডের আসল খেল। গুলি খাইল কুয়াকাটায়, আর সাথে সাথে দৃষ্টিরে নেয়া হইল CARe হাসপাতালে। CARe মানে Centre for Assisted Reproduction! যতদূর জানি এইখানে তো দেয়া হয় প্রজনন বিষয়ক সেবা। ইমারজেন্সি সার্ভিস এইখানে আসলো কেমনে? আর এইটা অবস্থিত ঢাকার ধানমণ্ডিতে (খুব সম্ভবত), কুয়াকাটা থেকে নায়করা এত তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসলো কেমনে? কুয়াকাটা টু ধানমণ্ডি নতুন রকেট সার্ভিস চালু হয়েছে নাকি?

 

যাই হোক, দৃষ্টি মরে গেল। নায়ক নায়িকা গেল ব্যবসার কাজে মালয়েশিয়া। একদিন নায়ক বাসায় এসে দেখে বাসায় নায়িকা নাই, দৃষ্টির একটা ফটো মাটিতে পড়ে আছে, ফ্রেম ভাঙ্গা। একটা শিশুপার্কে খুঁজে পাওয়া গেল নায়িকাকে। নায়িকার আবার হ্যালুসিনেশন হইসে, সে অন্য একটা শিশুর মধ্যে দৃষ্টিকে খুঁজে পাইসে। তা দেখে নায়কও দিল ভ্যা করে কেঁদে, তারপর তারা ঘুরতে গেল সমুদ্রের ধারে দারুণ একটা জায়গায় (কোথায় গেল সেই দেশপ্রেম?) তারপর হাবিবের গান।

 

দৃষ্টিকে খতম করার পরেও অনন্যর স্পিড কমছে না দেখে অ্যান্ড্রু আর কিবরিয়া নায়িকাকে হাইজ্যাক করার প্ল্যান করল। ল্যাপটপে অনেক প্ল্যান প্রোগ্রাম করে তারা স্পিডবোটে করে সমুদ্রের ধারে এসে নায়িকাকে হাইজ্যাক করে নিয়ে গেল। নায়ক বুকে ঠিক হার্ট যেখানে থাকে সেখানে গুলি খেয়ে উল্টে পড়ে গেল। আমরা ভাবলাম, এইবার শেষ।

 

কিন্তু না, নায়ক বেঁচে রইল। হাসপাতালে তাকে একটা গিফট পাঠাল কিবরিয়া। তাতে একটা সিডি, আর একটা ঘড়ি। আধুনিক হাসপাতাল তো, ডিভিডি প্লেয়ার আছে, ওয়াইডস্ক্রিন টিভিও আছে। নায়ক সেই টিভিতে সি ডি টা ছেড়ে দিল।

 

দেখা গেল তার ইন্ডাস্ট্রিতে গাদা গাদা শয়তান এসে বন্দুক দিয়ে ঠা ঠা করে গুলি করছে। তাদের সাথে তার নিজের লোকেরা পেরে উঠছে না। পিঁপড়ার মত মারা পড়ছে দুপক্ষের লোক। একসময় দেখা গেল একদম প্রথমে দয়ার সাগর অনন্য তিন বছর বেকার থাকা MBA পাশ যে যুবককে চাকরি দিয়েছিল, সে-ই তার সাথে বেইমানি করেছে। (এইখানে একটা বিস্ফোরণের দৃশ্য আছে, যেইটা প্রথমে আগুন লাগার দৃশ্যের কার্বন কপি, মানে একই দৃশ্য দুই জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে। এইটা হইল কিছু? আমরা কি এতই বুদ্ধু?)

 

তারপর সি ডি তে দেখা গেল নায়িকাকে একটা গ্যাস চেম্বারে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানের অক্সিজেন আস্তে আস্তে কমছে, কার্বন ডাই অক্সাইড ধীরে ধীরে বাড়ছে। পাঁচ দিনের মধ্যে তাকে উদ্ধার না করলে নায়িকা শ্বাসকষ্টে মারা যাবে, আর যেখানে নায়িকাকে রাখা হয়েছে সেই বাড়িটাও ধ্বংস হয়ে যাবে। গ্যাস চেম্বার খুলতে গেলে কিবরিয়া আর অ্যান্ড্রু সহ পাঁচজনের রেটিনাল স্ক্যান করতে হবে। তারপরই লেখা উঠল, ইয়োর টাইম স্টার্টস, নাউ! ব্যস, গিফট পাওয়া ঘড়িটায় দেখা গেল টাইমিং শুরু হয়ে গেছে, নায়িকা যে গ্যাস চেম্বারের মধ্যে আঃ উঃ করছে তাও দেখা যাচ্ছে।

 

নায়ক বেরিয়ে গেল। শুরু হল হৃদয় খানের গান। গান গাইতে গাইতে রাত থেকে দিন হল, আবার মনে হয় রাত হল। আমরা মনে মনে বললাম, গান গেয়ে একদিন নষ্ট করলে নায়িকাকে উদ্ধার করবে কখন?

 

এদিকে মালয়েশিয়ার রাস্তায় এক মেয়েকে তিন গুন্ডা ধরেছে। “ওহ বেবি”, “বেবি কাম অন” ধ্বনিতে মুখর হচ্ছে চারপাশ। তখনই এগিয়ে গেল অনন্য। “ইশটপ!” ধুপধাপ সবকয়টাকে সাবাড় করে মেয়েটার সামনে দাঁড়াল সে। জানা গেল, মেয়ে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি। মেয়ে প্রতিশ্রুতি দিল নায়ককে সাহায্য করবে।

 

প্রথম ভিলেনের খোঁজে নায়ক গেল হর্স রাইডিং করতে। সবচেয়ে ভালো ঘোড়াটায় উঠে চরকির মত পাক খেতে লাগলো সে। তখনই ভিলেন এসে বলল, ঐ সাদা ঘোড়া আমার চাই।

 

তারপর নায়ক ভাব মেরে ঘোড়া থেকে নামল। ন্যানোসেকেন্ডের মধ্যে পিস্তল বের করে আসল ভিলেনের ঐ জায়গায় গুলি করল আর আশেপাশের সবকয়টাকে সাবাড় করল। তারপর আসল ভিলেনের চোখের সামনে তার ঘড়িটা ধরল, ব্যস হয়ে গেল রেটিনাল স্ক্যান। তারপরই গুলি মেরে ওটাকে পরপারে পাঠিয়ে বীরবেশে চলে এল নায়ক।

 

রাতে মেয়ের সাথে একটা পার্টিতে ওয়েটার সেজে গেল সে। মেয়ে গেল বেলি ড্যান্সার সেজে। তারপর মিলার গানের সাথে নাচল মেয়েটা। এই গানটা নিঃসন্দেহে এই সিনেমার বেস্ট গান এবং নাচটার কোরিওগ্রাফি পুরো সিনেমার সবকয়টা নাচের মধ্যে বেস্ট। গানটার কম্পোজিশন ফুয়াদের।

 

গান শেষ হলে নায়ক মদের বোতল হাতে এগিয়ে গেল। তাকে চেক করতে গিয়ে পকেটে পিস্তলের অস্তিত্ব টের পেল ওরা। ব্যস, ঢিশা ঢিশা মারামারি, চিউ চিউ গোলাগুলি। ফলাফল, সব শয়তানের মৃত্যু এবং নায়কের হাতে গুলি লেগে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

 

রাতে নায়কের গুলি বের করে সেবা শুশ্রূষা করতে গিয়ে নায়কের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল মেয়েটা। সকালে উঠে নায়ক সুইমিং কস্টিউম পরে রওনা দিল পরের ভিলেনকে ধরার জন্য।

 

দ্বিতীয় ভিলেন একটা ছোট স্টিমারমত জলযানে দুই সুন্দরীর সাথে শুয়ে মৌজমাস্তি করছে, এমন সময় ব্ল্যাক নিনজার মত নিঃশব্দে জাহাজের ডেকে উঠে এল কস্টিউম পরা নায়ক। আরে, তার পরনে তো কোন ডুবুরির পোশাক নেই! এই সমুদ্রের মাঝখানে সে কি খালি হাতে সাঁতার কেটে এসেছে? (“কৃশ” এর কথা মনে পড়ে গেল)

 

নায়ক এসে একটা ছুরি দিয়ে ঘ্যাঁচঘ্যাঁচ করে একের পর এক শত্রুর গলা কাটতে লাগলো। এভাবে বাইরের সবকয়টা খতম হবার পর ভিতরে ঢুকতেই সুন্দরীরা পালালো। তারপর ইয়া ঢিশা ঢিশা, পকাত, এবং আরেকটি রেটিনাল স্ক্যান। অতঃপর যেখানে ফাঁকা স্টিমারটা নিয়েই নায়ক চলে আসতে পারত, সেখানে নায়ক পানিতে লাফ দিল। ভাবটা এমন, নিলাম না তোর স্টিমার, হুহ!

 

তৃতীয় ভিলেনের সাথে নায়কের মোলাকাত হল রাস্তায়। তারপর দেখলাম আসল “স্পিড”।  নায়ক দারুণভাবে তার স্পোর্টস কারটা ১৮০ ডিগ্রিতে ঘুরিয়ে নিল, যে দৃশ্য সাধারণত Fast and Furious মুভিগুলোতেই দেখা যায় বেশি। তারপর হল রেসিং। উফ, সত্যি বলছি, রেসিং দেখে মনে হল হলিউডের কোন মুভি দেখছি বা NFS RUN খেলছি। রেসিং এর ফাঁকে ফাঁকে গোলাগুলি হল। শেষে একটা ব্রিজের উপর এসে নায়কের গাড়ি ঘ্যাঁচ করে ভিলেনের গাড়ির সামনে ব্রেক করল। তারপর দুইজন বের হয়ে ইয়া ঢিশা ঢিশা, পকাত পকাত। এই নায়কের আল্লায় দিলে সেইরকম মাসল, মার খেয়ে অনন্য সাহেব ছিটকে পড়লেন রাস্তায়। ভাইটাল এনার্জি শেষের দিকে চলে এল তার।

 

তখনই আবার সুন্দরী বউ আর ভাতিজির কথা মনে পড়ল তার। ব্যস, মুহূর্তেই রিচার্জ হয়ে গেলেন অনন্য সাহেব। পকাত করে ভিলেনের জায়গায় মারলেন এক লাথি। ভিলেন হা করে বসে পড়ল। নায়ক রেটিনাল স্ক্যান করে ব্রিজের উপর থেকে লাফ দিলেন পানিতে। কারণ পুলিশ তাকে অলরেডি দুইটা খুনের জন্য খুঁজছে। ওরে, সে কি লাফ। এক লাফে পানির নিচে উধাও।

 

তো বাকি থাকল খালি অ্যান্ড্রু আর কিবরিয়া। দুইজন ছিল একই জায়গায়। নায়ক গেল ওদের ডেরায়। ছুরি দিয়ে একটার পর একটা খতম করতে করতে এক শয়তান মরার আগে রিফ্লেক্স হিসেবে আকাশের দিকে ফায়ার করল। ব্যস, শব্দ শুনে সতর্ক হয়ে গেল অ্যান্ড্রু আর কিবরিয়া।

 

সব ধ্বংস করতে করতে অ্যান্ড্রুর মুখোমুখি হল নায়ক। তারপর ইয়া ঢিশা ঢিশা, পকাত পকাত। পকাত পকাত করতে করতেই অ্যান্ড্রুর রেটিনাল স্ক্যান, অতঃপর আঃ-আঃ-ঠুস।

 

সব শেষে থাকল কিবরিয়া। কিবরিয়ার কপালে পিস্তল ধরতেই কিবরিয়া হু হা হু হা করে হাসতে হাসতে বলল, অনন্য, স্পিডের খেলায় তুমি হেরে গেছ। নায়ক বলল, অসতের চেয়ে সততার “ইশপিড” অনেক বেশি। কিবরিয়া তখন নিজের মাথায় গুলি করে সোফায় লুটিয়ে পড়ল। নায়ক এগিয়ে কিবরিয়াকে ধরে ঝাঁকাল, এই কিবরিয়া, এই! কিন্তু কিবরিয়া তো ততক্ষণে পরপারে। আমরা সবাই বুঝলাম, কিন্তু নায়ক বুঝল না। সে ঝাঁকাতেই থাকল, এই কিবরিয়া, এই। তারপর নায়ক হাত দিয়ে কিবরিয়ার চোখের পাতা খুলতে গেল। কিন্তু এ কি? কিবরিয়ার চোখের পাতা তো সুপার গ্লু দিয়ে আটকানো! নায়কের এত মোটা মোটা হাতও সেই সুপার গ্লু আলাদা করতে পারল না। (নায়ক যখন চোখের পাতা ধরে টানাটানি করছিল, বোঝাই যাচ্ছিল মৃত কিবরিয়া সাহেব ইচ্ছা করে শক্ত করে চোখ বুজে রেখেছেন!)

 

নাহ, হল না। নায়ক রেটিনাল স্ক্যান না করেই গেল গ্যাস চেম্বারে। এখানে গত চার দিন তেইশ ঘণ্টা আটান্ন মিনিট পর্যন্ত নায়িকা খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে শ্বাসকষ্টের ঠেলায় একই ভঙ্গিতে আঃ উঃ করেছে। কিন্তু নায়ক আসার ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে সে দুর্বল হয়ে মাটিতে পড়ে গেছে। টাইমিং দেখে আমরা আবার টাশকিত।

 

নায়ক এসে বীরদর্পে এগিয়ে গেল গ্যাস চেম্বারের দিকে। ঠা ঠা করে অনেকগুলো গুলি করল সে। কিন্তু না, বুলেটপ্রুফ কাঁচের কিছুই হল না। এবার নায়ক গেল গ্যাস চেম্বার কন্ট্রোল করার যন্ত্রের কাছে। যেটা কিনা আবার ডিজেদের সাউন্ড মিক্সার যন্ত্রের মত দেখতে। ভাবলাম, এখানেও হয়তো নায়ক কোন প্লাগ খুঁজে বের করে যন্ত্রটা কব্জা করে ফেলবে। কিন্তু না, হল না। নায়ক রাগে ঐ যন্ত্রে ঠা ঠা করে গুলি করল। কিন্তু না, এবারও কিছু হল না।

 

আর কোন উপায় নাই। টানটান উত্তেজনা। আর মাত্র এক মিনিট আছে। এমন সময় নায়ক তার ঘাড় থেকে তাবিজ খুলে হাতে ধরল। তারপর আল্লাহর নাম করে বিড়বিড় করে কি যেন বলল। ব্যস, ঝকঝক করে উঠল তাবিজ, মানে তাবিজে গায়েবি পাওয়ার চলে এসেছে। তারপর তাবিজ থেকে হাই ভোল্টেজ প্রচণ্ড শক্তিশালী অদৃশ্য হাজার হাজার টেরাজুল হাইপারকসমিক রে বের হয়ে বুলেটপ্রুফ কাঁচকে ভেঙ্গে ফেলল। কনফিউশনে পড়ে গেলাম, বলাকা কর্তৃপক্ষ ভুল করে আলিফ লায়লা ছেড়ে দেয় নি তো? তারপর নায়ক তার বউকে কোলে তুলে বেরিয়ে এল ঐ বিল্ডিং থেকে। একটু পরেই বুউউউউউম করে বিস্ফোরিত হল বিল্ডিঙটা। বুঝলাম, ন্সিনেমা প্রায় শেষ।

 

শেষে দেখাল, মালয়েশিয়ান আদালতে অনন্যর বিচার হচ্ছে। শীর্ষ কিছু সন্ত্রাসীকে খুন করার জন্য মালয়েশিয়ান সরকার তাকে ৪ লাখ রিঙ্গিত পুরষ্কার দিয়েছে। আর সাথে সাথে তাকে ও বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ দিয়েছে।

 

ব্যস, শেষ হয়ে গেল “দ্য স্পিডঃ ডু অর ডাই”, টানা প্রায় পনে তিন ঘণ্টা একটানা এনজয় করে অবশেষে বেরিয়ে এলাম বাইরে। সবারই মুখে দেখি হাসি, সবাই দেখি বলছে “জোস!”, তাই দেখে আমি মনে মনে ভাবলাম, বিদেশের মানুষ জিম ক্যারি, মিস্টার বিনকে দেখে হাসে। আর আমরা হাসি ওদের দেখে। কারণ বেচারা বিদেশিরা এখনও জলিল ভাইয়ের কেরামতি দেখে নাই। হা হা হা হা।

 

 

 

নিজস্ব এক দুইটা কথাঃ

 

 

 

১/ দৃষ্টির বডিগার্ড হিসেবে যে দুইজন ধুমসিকে রাখা হয়েছে এবং তাদের যে টাইট ফিটিং পোশাক আশাক, তাতে তো দৃষ্টির বহু আগেই অজ্ঞান হয়ে যাবার কথা। হয় নাই ক্যান?

 

২/ জলিল ভাই বেশ বুদ্ধিমান। খোঁজ দ্য সার্চের মত এইবার “খ্যাত” ইংরেজির বন্যা বওয়ায় দেন নাই। কিন্তু যে দশটা ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেছেন তার মধ্যে আছে “ইশটপ”, “ইশপিড” ইত্যাদি।

 

৩/ প্রথম নায়িকা অনেক সুন্দর, কিন্তু সেকেন্ড নায়িকা অনেক বেশি আকর্ষণীয়। তার অ্যাটিচুড দারুণ, নাচটা দারুণ এবং ক্লোজ আপে দেখালে তাকে অনেক সুন্দর লাগে (এজন্যেই মনে হয় তার মুখের খুব কাছ থেকে অনেকবার দেখানো হয়েছে)।

 

৪/ সিনেমায় অনেক পজিটিভ জিনিস আছে। যেমন নায়িকার ভাইর মুখে সরকারের গুণগানের কথা (যেটা বর্তমান সরকার না হয়ে বাংলাদেশ সরকার হলে ভালো হত, তাহলে মনে হত না এটা বিশেষ কাউকে তেল দেবার জন্য বলা হয়েছে), তারপর নায়কের মুখে দেশের কিছু ভালো ভালো টুরিস্ট সাইটের নাম বলা। এছাড়া মালিক হয়ে শ্রমিকদের সাথে ভালো ব্যবহার, নিজেই কাজ করতে এগিয়ে যাওয়া, শ্রমিকদের সাহায্য করতে নিজের জীবন বিপন্ন করা, ভেজাল ব্যবসায়ীর সাথে আঁতাত না করা – আর কয়টা বলব? অভিনয় যেরকমই হোক, সিনেমা যেরকমই হোক, যে সিনেমা অন্তত একটা ভালো বোধও হৃদয়ে জাগ্রত করতে না পারে সেই সিনেমা বানানোর কোন সার্থকতা নেই।

 

৫/ আমরা যারা গিয়েছিলাম তারা হচ্ছে, রাগিব, সালেহ, মিশু, আসিফ, কামরুল, কমর,  আশিক, তারিক, মাহফুজ, সাইফ, সা’দ, দেবজিত।

 

৬/ কষ্ট করে পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। এবার যান, বন্ধুর সাথে বলাকায় গিয়ে একশ টাকা খসিয়ে সিনেমাটা দেখে ফেলুন।

 

Share