একটি মরাল সমৃদ্ধ প্রায় রূপকথার গল্প

লিখেছেন - -সালেহ তিয়াস- | লেখাটি 4950 বার দেখা হয়েছে

এক দেশে ছিল এক যুবক। সেই যুবক ছিল অবিবাহিত।

“প্রেম করা খারাপ” এই মনোভাবের জন্যই হোক আর “কোন মেয়ে পাত্তা দেয় না” এই গূঢ় সত্যের জন্যেই হোক, ছাত্রাবস্থায় সেই যুবক প্রেম ও এই জাতীয় সকল ব্যাপার স্যাপার থেকে সফলতার সাথে দূরে থাকতে সক্ষম হল। কিন্তু পড়ালেখা শেষ করে দুই তিন বছর চাকরি করার পর তার আর সহ্য হল না। নিজের অন্তরে বাহিরে সে এখনই বিয়ে করার একটা তাগিদ অনুভব করতে লাগল।

কিন্তু বললেই তো আর বিয়ে করা যায় না, তার জন্য কিছু ফর্মালিটি আছে। যুবকের ঘাড়ে প্রথম কর্তব্য পড়ল বাপকে রাজি করানোর।

যুবক আবার বাপকে বেশ ভয় পায়। সে কিছুতেই ভেবে পেল না, বাপের কাছে কিভাবে কথাটা পাড়বে।

অনেক ভেবেচিন্তে সে বাপকে বলল, বাপজান! আমার বড় একা একা লাগে।

বাপ মুচকি হাসলেন। মুচকি হাসলেন বিধাতাও।

পরের দিন অফিস থেকে ফিরে যুবক দেখল, তার বিছানার পাশে একটা নতুন বিছানা। যুবক বলল, এইটা কি?

বাপ বললেন, আমার বিছানা। তোর না একা একা লাগে? তাই তোকে সঙ্গ দিতে এখন থেকে আমি তোর সাথে ঘুমাব!!!

 

কয়েকদিন পর।

যুবক এক নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করল। সে বাপকে বলল, আমার বিছানাটা অনেক বড়। এত বড় বিছানা তো আমার দরকার নাই, বলে একটা করাত নিয়ে সে নিজের জায়গাটা রেখে বাকিটুকু কেটে ফেলতে উদ্যত হল।

বাপ মুচকি হাসলেন। মুচকি হাসলেন বিধাতাও।

পরের দিন যুবক অফিস থেকে ফিরে এসে দেখে, তার পুরনো বড় খাটটা আর নাই। সেইটার জায়গায় একজনের শোবার উপযোগী একটা চৌকি বিরাজ করছে!!!

 

আরও কয়েকদিন পর।

যুবক অনেক ভেবেচিন্তে আরেকটা নতুন পন্থা আবিষ্কার করল। সে বাপকে বলল, অফিসের লাঞ্চ খেয়ে খেয়ে মুখটা পচে গেছে। নতুন কিছু চাই।

বাপ মুচকি হাসলেন। মুচকি হাসলেন বিধাতাও।

পরের দিন দেখা গেল বাসায় ফুলির মা নামে এক নতুন কাজের বুয়া আমদানি হয়েছে। এবং তার প্রচণ্ড হলুদ দেয়া খাবার নিয়ে ম্লান মুখে অফিসের দিকে যেতে হচ্ছে যুবককে!!

 

আরও কয়েকদিন পর।

যুবক বাপকে বলল, রাতে আমার বিছানা ফাঁকা ফাঁকা লাগে।

বাপ মুচকি হাসলেন। মুচকি হাসলেন বিধাতাও।

ঐ রাতেই দেখা গেল, যুবকের খাটে চার পাঁচটা বালিশ আর একটা কোলবালিশ জায়গা করে নিয়েছে। ঐগুলার ঠেলায় যুবকের প্রায় নড়ারই উপায় নাই!!

 

আরও কয়েকদিন পর।

যুবক বলল, বাপজান! রাতে আমার বড় ভয় করে!

বাপ মুচকি হাসলেন। মুচকি হাসলেন বিধাতাও।

পরদিন দেখা গেল, যুবকের খাট আর নাই। যুবক বাপকে বলল, কি হইল?

বাপ বললেন, তোমার খাট আমি বেচে দিয়েছি। তুমি এখন থেকে আমার কাছে শোবে!!!

 

যুবক বুঝল, এইভাবে হবে না। আরও স্পষ্ট করে কিছু বলতে হবে।

যুবক অনেক সাহস করে বাপকে বলল, বাপজান! আমার শরীরের কি কোন চাহিদা নাই?

বাপ বললেন, আছে।

যুবক আমতা আমতা করতে লাগল। আর কিছু বলতে পারল না।

বাপ মুচকি হাসলেন। মুচকি হাসলেন বিধাতাও।

পরদিন তার টেবিলে একটা ওভালটিনের প্যাকেট পাওয়া গেল। ওটার গায়ে লেখা... “শক্তি বুদ্ধি উচ্ছলতায়...শরীরের সব চাহিদা মেটায়...” ইত্যাদি ইত্যাদি!!

 

যুবক বাপকে বলল, বাপজান! আপনার কি নাতিপুতির শখ হয় না?

বাপ বললেন, হয়।

যুবক আমতা আমতা করতে লাগল। আর কিছু বলতে পারল না।

বাপ মুচকি হাসলেন। মুচকি হাসলেন বিধাতাও।

কয়েকদিন পর যুবকের বড় ভাই ফোন করে বললেন, হাঁদারাম, সুখবর আছে। তুই চাচা হতে চলেছিস!!

 

যুবক বলল, বাপজান! সঙ্গী ছাড়া কি মানুষ বাঁচে?

বাপ বললেন, না।

যুবক আমতা আমতা করতে লাগল। আর কিছু বলতে পারল না।

বাপ মুচকি হাসলেন। মুচকি হাসলেন বিধাতাও।

পরদিন যুবক বাসায় ফিরে দেখল, বাসায় একটা কুত্তা রাখা হয়েছে। এইটা নাকি তার জন্য!!

 

নাহ! মেজাজ খারাপ হয়ে গেল যুবকের। পাশের বাসার ছুঁইটি বেগম, যার প্রতি সে অনেক আগ থেকেই অনুরক্ত, তার নামে সে বাপকে বলল, বাপজান! এই মেয়েটা খুব ভালো, এই মেয়েটা হ্যাং, এই মেয়েটা ত্যাং... ইত্যাদি ইত্যাদি।

বাপ বললেন, তাই?

যুবক বলল, হু। কিন্তু আর কিছু বলল না সে।

বাপ মুচকি হাসলেন। মুচকি হাসলেন বিধাতাও।

কয়েকদিন পরে শোনা গেল, যুবকের বাপ তার বন্ধুর পুত্রের জন্য একটা মেয়েকে সাজেস্ট করেছেন। মেয়ের নাম ছুঁইটি বেগম!!

 

লজ্জার মাথা খেয়ে অবশেষে যুবক বলল, ছুঁইটি বেগমকে এই বাড়ির বউ করে আনলে ভালো হয়।

বাপ বললেন, তাই?

যুবক বলল, হু। কিন্তু আর কিছু বলতে পারল না সে।

বাপ মুচকি হাসলেন। মুচকি হাসলেন বিধাতাও।

কদিন পরে জানা গেল, যুবকের মেজভাইয়ের বউ হিসেবে ছুঁইটি বেগমকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন যুবকের বাপ!!

 

নাহ! আর পারা গেল না। যুবক এবার অনেক সাহস নিয়ে বাপের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বলল, আমি ছুঁইটিকে পছন্দ করি। আপনি আমার সাথে ওর বিয়ার ব্যবস্থা করেন।

বাপ মুচকি হাসলেন। মুচকি হাসলেন বিধাতাও।

তিনদিনের মধ্যে বিয়ে হয়ে গেল যুবক ও ছুঁইটি বেগমের মধ্যে।

 

 

মরালঃ যা বলতে চান সবসময় সেটাই বলবেন। ঘুরায় পেঁচায় কথা বলবেন না।

 

Share