অপ্রিয়. . .

লিখেছেন - মারিয়া অহনা | লেখাটি 1043 বার দেখা হয়েছে

আসলে আপনাকে কোনো বিশেষণে সম্বোধন করতে চাইনা আমি।আপনি আমাকে সেই অধিকারটুকু দিলেও আমি তা স্বসম্মানে ফেরত দিয়েছি ; তাও একবার না,বার বার।এবারের শীতটা বেশটা ভালোভাবেই জেঁকে বসেছে।গত শীতকে তাই ভীষণভাবে মনে পড়ে।শুধু একারণে নয়,গত বছরেও এমন দিনগুলো আসলেই অন্যরকম ছিলো একটু।এই শীতের রাতগুলো কাঁপতে কাঁপতে কোনো এক শুভাকাঙ্খীর পাশ ধরে হেঁটে গিয়ছি।বিকেলের হলুদ-কমলা আলো যখন

 

 নিভু নিভু প্রায়,তখন ক্যাম্পাসের অলি-গলি চষে বেড়িয়েছি।আর আনোয়ার মামার টঙ এ না গেলে তো আড্ডাটা জমতোই না।আমাদের দেখলেই মিঠু ভাইয়ের সেই দুষ্টুমি মাখা কথা,"ভাবী,কফি তো ?" আর তা শুনে চোখ মুখ শক্ত করে আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতাম,আপনি বোকার মতো মাথা নিচু করে ফেলতেন।এ অবস্হা দেখে কার না হাসি পায়।আমিও আটকাতে পারতাম না।এখনও টুকিটাকি চত্বরে বসলে আর বলতেই হয়না, কফি সরাসরি চলে আসে।

কফি তে চুমুক দিতে গিয়ে পুরনো পাতাগুলো ঘাঁটতে থাকি।গরম কাপের ধোঁয়ায় নতুন চশমার কাঁচ ঝাঁপসা হয়ে আসে, তবু পাতায় কোনো আঁচড় পড়েনা।

 

আমাদের প্রথম সাক্ষাতের কথা মনে আছে আপনার ??? এক প্রকার ভূতের মতোই সেই রাতের ঘুঁটঘুঁটে আঁধারের মাঝে আপনার আগমন,তাও শহীদ মিনারের মতো নির্জন রাস্তায়।এরপর, লাইব্রেরীর পেছনে সাগর ক্যান্টিনে ক্যাম্পাসের প্রিয় বড় ভাইয়ের প্রিয় বন্ধু হিসেবে আপনার সাথে দ্বিতীয় সাক্ষাত।এবার আপনাকে দেখতে আর কষ্ট পেতে হয়নি।আপনিও আমাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলেন,জানি।আপনার হাজারটা প্রশ্নের

 জবাব দিতে গিয়ে আমার মেজাজ সপ্তম আসমানে চড়ে আবার মর্ত্যে নেমেছিলো।প্রথম প্রথম আপনার ফোন পেয়ে বেশ বিরক্ত হতাম।কিন্তু ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম বেশ।শেষ দিনগুলোতে যখন আপনি আর আমাকে বিরক্ত করতেন না,তখন আমি অপেক্ষায় থাকতাম একটি নাম ভেসে ওঠার।এখনও সেই বদঅভ্যাসটা ছাড়াতে পারিনি।আমার জন্মদিনে সেই কোন সাত সকালে,ভোরের আলো তখনও ফোটেনি হয়তো, আমার হলের সামনে ফুল নিয়ে

 আপনার দাঁড়িয়ে থাকা।চোখ কচলাতে কচলাতে সদ্য ঘুম থেকে উঠে হতবাক আমি।ঐদিন আপনাকে চাইলেও ফেরাতে পারতাম না।তাই সারাটা সময় আপনার সাথেই ছিলাম।

আচ্ছা, আপনার কি রাগ হয় আমার উপর ??? যার জন্যে এতোটা কষ্ট করেছেন, সেই মেয়ে বার বার আপনাকে প্রত্যাখান করেছে।তবু আপনার মাথা চুলকানো সেই ক্যাবলাকান্তো হাসিটা মিলিয়ে যায়নি।

 

জানেন ??? আপনার দেয়া সেই রঙিন ডায়েরীটা এখনো আছে।তার প্রতিটি পাতা আমার প্রিয় মানুষকে নিয়ে টুকরো স্মৃতিমালায় ভরিয়ে দিয়ছি ।জীবনের পাতার মতো সেখানেও আপনার কোনো স্হান নেই।হয়তো ইচ্ছে করেই করেছি এমন. . . . . . . . .

 

মনে পড়ে কি ??? চাদর চাপিয়ে সেই শীতের সন্ধ্যা রাতগুলো ইবলিশ চত্বর,পশ্চিম পাড়া,প্যারিস রোডের সোডিয়াম আলোয় হন্টন যাত্রা আর কাজলা গেটের মালাই চা খেয়ে কাটিয়ে দিয়েছি।আর ঐ যে, এক প্যান্ট কেনা নিয়ে নিউ মার্কেট টু ক্যাম্পাস তিন চারবার চক্কর দেয়া।একটু রেগে গেলেই চিমটি দেয়া আর ছোটোখাটো ঝগড়া তো চলতোই।সেইসব পাগলামি যে কেনইবা করেছিলাম।গত সময়েও কেউ বাসায় ফেরার পথে বাসে উঠিয়ে

 দিয়ে বলেছিলো, "পৌছে একটু জানিয়ে দিও অন্তত।" কিন্তু আমি তো আমিই।ভুলোরোগ নিয়ে বসে থাকতাম।এখন আমি একা একাই বাসায় যেতে পারি।

 

ডিজিটাল এই সাদা আর নীলের রাজ্যের রঙিন স্হির চিত্রগুলো যখন আপনি ভরিয়ে দেন অন্য কারো সঙ্গী হয়ে; তখন অদ্ভূত ভোঁতা এক অনুভূতি হয়।এটাকে বিশ্লেষণ করা যাবে না কোনো মতেই।আপনার প্রতি ভালো লাগাটা আগের মতোই রয়ে গেছে।বিশ্বাস করুন, সেই সম্মানের জায়গাটুকু একটুও বদলায়নি।কিন্তু এটাকে ভালোবাসার সংজ্ঞায় ফেললে ভুল হবে;  হয়তো আমারও কিছু ভুল ছিলো . . . . . . . . .

 

বিচ্ছিন্ন স্মৃতিগুলোকে মনের সিন্দুকে তুলে রেখেছি আর কিছু কথা বরং অসমাপ্তই রয়ে যাক।এতেই ভালো . . . . . .

 

অপ্রিয় শুভাকাঙ্খী,

ভালো থাকুন আপনি।

 

Share