তুমি আসবে বলে তাই, আমি স্বপ্ন দেখে যাই (এপ্লাইড ভার্সন)

লিখেছেন - নিশম | লেখাটি 1144 বার দেখা হয়েছে

কিছুদিন আগেই এই পেজে “তুমি আসবে বলে তাই, আমি স্বপ্ন দেখে যাই” নামে একটি গল্প লিখেছিলাম। আজকে যা ঘটলো, আমি খুবি অবাক। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রী এর যেমন এপ্লাইড সাবজেক্ট আছে, আমার গল্পেরও খুব সম্ভব এপ্লাইড ভার্সন ঘটেছে আজ!

 

গত ঈদে তার কিছু বান্ধবীর সাথে কথা বলে তাদেরকে রাজী করিয়ে ওকে বাসা থেকে বের করে আনিয়েছিলাম। কিন্তু এবার ঈদের আগের দিন রাত থেকে ভোর রাত পর্যন্ত তার সকল বান্ধবীদের ফোন করে সর্বশেষ যা বোঝা গেলো, তাকে বাসা থেকে বের করে বেইলীরোড আনাটা প্রায় অসম্ভব। তো, আমি নিজেই বললাম, “এতো রিস্ক নিয়ে আসবার দরকার নাই। থাক, বাদ দাও”। সে যে খুবি দুঃখ পেয়েছে, তা আমিও বুঝতে পারছিলাম, কারণ আমি নিজেই জানি আমি কতোটা কষ্ট পাচ্ছিলাম। তক্ষুনি প্ল্যান করলাম আমি যাবো কাল ওর বাসার নিচে !

 

ঘটনার পটভুমি জানার জন্য আরেকটু পেছনে রিওয়াইন্ড করা লাগে! ওরা কিছুদিন আগেই বাসা চেঞ্জ করেছে এবং তা আমার বাসা থেকে বহু দূরে! কতোটা দূরে, একটা উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে। সেখানে নদী আছে, নৌকাও চলে। এই তথ্যটা খুবি জরুরী আমার গল্পের জন্য, পাঠকেরা পারলে মুখস্ত করে ফেলুন!

বাসায় হালকা-পাতলা চাপা মেরে সকাল সাড়ে দশটায় রিকশা যোগে রওনা দিলাম! সঙ্গে ছিলো আমার জিগনী দোস্ত রাফি! সারা রাস্তা ওর সাথে ফোনে চিনে চিনে যেতে থাকলাম। পৌনে এক ঘন্টা পরে পৌছুলাম সেই যায়গায়! ও ফোনে জানালো, “ এই, একদম সরাসরি আমার দিকে তাকাবেনা কিন্তু! নিচে ভাইয়া, আব্বু থাকতে পারে, সমস্যা হবে!”।

 

মনটাই খারাপ হয়ে গেলো! সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে আসলুম কি চোরা চোখে তাকাতে? অবশ্য তিনিই আমাকে বুদ্ধি বাতলে দিলেন !

 

“ শুনো। তুমি এক কাজ করো, তুমি ঐখানে গিয়ে নৌকায় উঠো, তারপর নৌকায় করে আমাদের বারান্দা বরাবর আসো, তাহলে আমাদের বাসার নীচে থেকে তোমাকে দেখা যাবেনা! আমাকে দেখতে পারবা”।

 

আমার মনে তখন গান একটাই -

 

“ জীবন বড় না বৌ বড় ? ”

এদিকে রিকশাওয়ালা মামা উশখুশ করছে, সে চলে যাবে! তারে ছেড়ে দিলে ওদিকে রিকশাও নেই যে বাসায় ফেরত আসবো! তারে বুঝাইলাম, “মামা, আমি আপনার ভাগ্নের বৌ রে দেখতে আসছি, একটু দয়া না করলে আমি কিভাবে বাঁচবো?” মামা’র চোখে প্রায় জল আসার উপক্রম! সে অপেক্ষা করবে বলে জানালো!

 

নৌকায় উঠতে যাবো। ২টা জিনিস দেখে ব্যাপক চমকালাম!

১) নৌকার মাঝি। বয়স অত্যাধিক হলে ১০-১২ বছর!

২) নৌকাটা কি কাঠের নাকি কাগজের, এখনো সন্দেহ আছে!

 

আগে রাফি উঠলো, আমি উঠার সাথে সাথে নৌকার দু ধার পানির সমান সমান হয়ে গেলো! সাথে সাথে মনে পরলো “ হায় হায়! এ আমি কি গল্প লিখেছিলাম! আমার অবস্থা তো রাকিনের থেকে খুব একটা ভালো না!” নৌকার তলায় পা লাগার সাথে সাথে অভিজ্ঞ মাঝি জানালেন, “মামা, তলায় পা দিয়েন না, তলা খুইল্লা যাইবো!” কলিজায় নাড়া দিয়ে উঠলো! বহু ভয়ে ও আশংকায় কোনোমতে পাটাতনে বসলাম।

 

নদীর মাঝে গিয়ে দেখলাম, দূরে এক বিল্ডিং এর তেতলায় জানালায় একটা শাদা পরী দাঁড়িয়ে আছে। আমার প্রাণটা জুড়িয়ে গেলো! আহ, জীবন স্বার্থক! আমার ঈদ স্বার্থক ! ব্যাপক আনন্দে আমি হাত নাড়ালাম! অঘটন সেখানেই!

 

হাত নাড়ানোর সাথে নৌকা ডানে কাত হয়ে গেলো! ভয়ে রাফি আমাকে জাপটে ধরলো, এবং চাপের কারণে নৌকা বামে কাত হয়ে গেলো! আমার তখন একটাই কথা,

“হে আল্লাহ! আমি রাকিন না! আমার পকেটে কোনো স্বর্ণের চুরি নাই, একটা মোবাইল আছে শুধু! আল্লাহ, আমাকে বাঁচাও!”

ততক্ষনে, আপনাদের ভাবী সবই দেখছিলেন, এখনও তার অনুভূতি জানা যায়নি! তবে, মাঝিভাই আমাদের অবস্থা বেগতিক ও ডুবে না মরলেও হার্ট এটাক করে মরবার আশংকায় তাড়াতাড়ি নৌকা ভিড়ালো। আজব ব্যাপার হলো, কিছুক্ষনের মাঝেই আমি একটা মাটির ঢিবি খুজে বের করলাম, যেখান থেকে স্পষ্ট ওর জানালা দেখা যায়। শুধু শুধু এই আকাম করে আসলাম! ভয়ে কলিজা গুর্দা শুকিয়ে গিয়েছিলো!

 

এরপর আর কি! বেশীক্ষন থাকাটা ওর জন্য নিরাপদ না, আমার তো সারাদিনই দেখতে ইচ্ছে করে তাকে! আবারো মামার রিকশায় উঠলাম, শেষবারের মতো একবার দেখে আবার রওনা হলাম বাসার দিকে। মনটার ভেতর তখন যে কি একটা শান্তি, কি একটা অদ্ভুত ঠান্ডা অনুভুতি খেলা করছিলো! মনে হচ্ছিলো ওকে একবার জড়িয়ে ধরে বলতে পারতাম, “ গাভিটা আমার, ঈদ মোবারক জান”

 

এ ঘটনার পরে আপনাদের ভাবীর স্ট্যাটাস ছিলো এটা -

 

keu amr jonno atota krte pare jiboneo vabinai... shudhu matro 1ta polok dekhar jonno atto kisu??? um really lucky 2 have u BABU...

 

এমন কথা শুনবার জন্যও তো অন্ধের মতো প্রেম করতে ইচ্ছা করে। ভালোবাসি, অনেক অনেক ভালোবাসি।

 

Share