নারী ও একটি শিক্ষা

লিখেছেন - রিয়াজুল আলম শাওন | লেখাটি 783 বার দেখা হয়েছে

রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে জমপেশ আড্ডা চলছে মুনিরদের ৷ আজকের আড্ডার মধ্যমণি আলতাফ ভাই ৷ আলতাফ ভাই খুব আমুদে মানুষ ৷ রসিকতায় তার জুড়ি নেই ৷ মাঝে মাঝে তিনি মুনিরদের আড্ডায় এসে যোগ দেন ৷ সেদিনটা মুনিরদের খুব ভাল কাটে ৷ অশ্লীল গল্প বলে প্রায়ই মুনিরদের আনন্দের খোরাক জোগায় আলতাফ ভাই ৷ মুনির এবং তার বন্ধু কমল,লেজান,তুহিনের কাছে আলতাফ ভাইয়ের জনপ্রিয়তা প্রবল ৷ আলতাফ ভাইয়ের অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি প্রবল উত্‍সাহ রয়েছে ৷ যে অ্যাডভেঞ্চার গুলো মুনিরদের ও খুব ভাল লাগে ৷ অ্যাডভেঞ্চারের মূল উদ্দেশ্য থাকে মানুষকে যতটা সম্ভব বিরক্ত করা ৷ কোন এক আশ্চার্য কারনে মুনিরদের মেয়েদের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ রয়েছে ৷ তাই ওদের বেশিরভাগ অ্যাডভেঞ্চার হয় মেয়েদের নিয়ে ৷

গল্প খুব জমে উঠেছে ৷ হঠাত্‍ আলতাফ ভাই বললেন,চল আজ একটা নতুন অ্যাডভেঞ্চার করি ৷

লেজান আগ্রহস্বরে বলল,কি অ্যাডভেঞ্চার আলতাফ ভাই ? '

ঃ এই জায়গাটা তো বেশ নির্জন ৷ রিকশায় করে কোন মেয়ে আসলেই তার রিকশা থামিয়ে মজা করব ৷"

ঃ কি মজা ?"

ঃ প্রথমে তার ব্যাগ কেড়ে নিব ৷ তারপর ব্যাগের চেইন খুলে জিনিসপত্র নিচে ফেলে দিব ৷ কারন ছিনতাইয়ের কোন ইচ্ছা আমার নেই ৷ এরপর সেই মেয়েটাকে আমরা একশ দশটা গালি দেব ৷ একদম শেষে বলব,'নারীজাতি ধবংশ হোক' ৷ "

তুহিন ঃ ভাই ইভটিজিং কেসে ফাসবো না তো আবার ৷"

আলতাফ ভাই একটা গালি দিয়ে বললেন ,এই শব্দটা আমার সামনে কেউ বলবি না ৷ একটু মজা করলেই ইভটিজিং!আরে,যারা মরার তারা তো এমনিতেই মরবে ৷ একটু মুখ কালো করে কথা বললেই ইভটিজিং! মগের মুলুক্ক নাকি?? "

আলতাফ ভাইয়ের কথায় সবাই চুপ হয়ে যায় ৷ প্রস্তুত হয় অ্যাডভেঞ্চারের জন্য ৷ ওদের দৃষ্টি পড়ে থাকে শিকারের দিকে ৷ একটি ভাল শিকার ওদের চাই-ই চাই ৷ অনেকক্ষণ পার হয়ে যায় ৷ দূরে একটা রিকশা দেখা যায় ৷ রিকশাটা আর একটু কাছে আসতে একটা মেয়ের অবয়ব ফুটে উঠে ৷ সবার মুখ হাসিহাসি হয়ে যায় ৷ রিকশা আর একট কাছে আসতেই ওরা কিছুটা নিরাশ হয় ৷ মেয়েটা খুব বেশি রুপবতী নয় ৷ বয়স ও ত্রিশের কোটায় ৷ আলতাফ ভাই বলে উঠে,শোন আমরা বেশি সময় নিব না ৷ যা বলেছি সব দ্রুত করতে হবে ৷ এরপর পালাতে হবে ৷"

উত্তেজনায় ওদের বুক কাঁপতে থাকে ৷ অ্যাডভেঞ্চারের আনন্দ ওদের সারা শরীরে বিচরণ করতে থাকে ৷ ওরা এগিয়ে যায় ৷ রিকশা থামায় ৷ রিকশাওয়ালাকে একটা চড় মেরে তাড়িয়ে দেয় ৷ রিকশাটা রাস্তার একপাশে নিয়ে যায় ৷ আলতাফ ভাই মেয়েটির ব্যাগটি কেড়ে নেয় ৷ ব্যাগের চেইন খুলে জিনিসপত্র নিচে ফেলে দেয় ৷ মেয়েটি চিত্‍কার করার চেষ্টা করে না,হতভম্ব দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকে ৷ এর পর শুরু হয় গালাগালি পর্ব ৷ মুনিরও চিত্‍কার করে গালি দিতে থাকে ৷ মেয়েটি কানে আগুল দেয় ৷ ভয়ে কিছুটা কাঁপতে থাকে ৷ বলে উঠে,থামুন, পিলজ ৷ '

আলতাফ ভাই সজোরে মেয়েটিকে চড় মারে ৷ এর পর'নারীজাতি ধ্বংশ হোক' বলে সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায় ৷

রহমতের দোকানে গিয়ে ওরা জড়ো হয় ৷ মুনিরের আদ্ভুত আনন্দ হতে থাকে ৷

মুনির : আলতাফ ভাই আপনার কোন তুলনা নেই ৷ আপনি যদি প্রতিদিন আমাদের একটু সময় দিতেন তবে আমরা এরকম অ্যাডভেঞ্চার আরও করতে পারতাম ৷

আলতাফ ভাই হেসে বললেন,প্রতিদিনই ভাবি আসব কিন্তু সময় পাই না ৷ মানুষের উপকারে সবসময় ব্যস্ত থাকতে হয় ৷" গল্প অন্যদিকে মোড় নেয় ৷

 

মুনির হাসিমুখে বাড়ীর দিকে রওয়ানা দেয় ৷ আজ তার মনটা খুব ভাল ৷ মায়ের জন্য স্পেশাল পান কেনে মুনির ৷ মায়ের আবার পান খুব পছন্দ ৷ বাড়ীর ড্রইং রুমে ঢুকে চমকে উঠে মুনির ৷ সেই মেয়েটি তাদের ড্রইং রুমে বসে আছে ৷ মেয়েটিকে ঘিরে বসে আছে মুনিরের মা,বাবা সবাই ৷ সবার চোখের দৃষ্টি কেমন যেন অন্যরকম ৷ কেমন যেন ভয় পেয়ে যায় মুনির ৷ কে এই মেয়ে?? মুনিরের মনে প্রশ্ন জাগে ৷ মেয়েটি উঠে দাঁড়ায় ৷ হাসিমুখে মুনিরের দিকে এগিয়ে আসে মেয়েটি ৷ বলে উঠে ,"মুনির আমি তোমার খালা হই ৷ আমাকে তুমি অনেক ছোটবেলায় দেখেছ ৷ রাস্তায় আমি কিন্তু তোমায় দেখেই চিনেছি ৷ তোমার কাছে আমার একটাই প্রশ্ন তুমি কি তোমার মায়ের ও ধ্বংশ চাও? কারন তোমার মা ও তো একজন নারী ৷ পিজ তার মুখে একটা চড় দাও এবং তোমার প্রিয় কিছু গালি দাও ৷ মুনির,নারী জাতি ধ্বংশ হয়ে গেলে তোমাদের মত কুলাঙ্গারদের ঠিক করবে কে?"

মুনিরের পৃথিবীটা কেমন যেন দুলে উঠে ৷ সে তার অ্যাডভেঞ্চারের পরিণতি দেখার জন্য অপক্ষা করতে থাকে ৷

Share