স্বপ্ননীড়

লিখেছেন - রিয়াজুল আলম শাওন | লেখাটি 1032 বার দেখা হয়েছে

থি লাইব্ররীতে বসে কি যেন পড়ছে। জিশান কাছে গিয়ে দেখল জীবনানন্দ দাশের কবিতাসমগ্র। যুঁথির পুরো মনযোগটা বইয়ের দিকে। জিশান পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই চমকে উঠল যুঁথি। জিশানকে অগ্রাহ্য করে বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে বলল, "তুই লাইব্রেরীতে! সূর্য আজ কি পশ্চিমে উঠেছে?"

জিশান বলল, "তোকে খুজছিলাম"।

: আমাকে কেন?

: ফেরদৌস স্যারের ক্লাস করিস না কেন?

: ক্লাসে কিছু বুঝি না। স্যার খুব ভাল পড়ান। কিন্তু আমি কিছু বুঝি না।

: স্যার আজ খুব খেপেছে। বলেছে রোল টুয়েন্টি কে আর প্রেজেন্টই দেবেন না। পরপর আটটা ক্লাস মিস!

যুঁথি হাই তুলতে তুলতে বললঃ কি আর করা। এই সাবজেক্টে ফেল করব। পরের বছর পরীক্ষা দেব।

: ভাল সিদ্ধান্ত নিয়েছিস।

: এখন কথা বলে জ্বালাতন করিস না তো।

: একটা গুরুত্বপূর্ণ নিউজ দিলাম এটাকে জ্বালাতন বলছিস?

: আর পড়াশুনা নিয়ে ভেবে কি হবে? দুমাস পরে আমার বিয়ে। ঘর সংসার করব। বাচ্চা কাচ্চা মানুষ করব। সুখের জীবন। আর পড়াশুনা করতে ইচ্ছা হয় না।

জিশান ভীষন হতবাক হয়ে বলে, "তোর বিয়ে ?!! তোর ?!"

: বাহ! বয়স তো কম হয় নি। বিয়ে করবো না। আইবুড়ো হয়ে থাকব নাকি?!!

: কিন্তু তোর ক্যারিয়ার। মাস্টার্স কমপ্লিট না করেই বিয়ে?

: বিয়ের পর মাস্টার্স কমপ্লিট করব। আর আমার চাকরি করার কোন ইচ্ছা নেই।

জিশান শুকনো মুখে বলল, "ও আচ্ছা"।

: ছেলেদের ঢাকা শহরে দুটো বাড়ী। একটা মোহাম্মাদপুরে আর একটা উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে। বিশাল বড়লোক। ছেলে একটা বিদেশী এন জিওর মনিটরিং অফিসার।

: ছেলের হাইট কত?

: পাঁচ ফিট ছয়।

: তোর সাথে মানাবে না। তুই তো পাঁচ ফিট চার। আরও লম্বা ছেলের প্রয়োজন।

: আমার তো জিরাফ দরকার নেই। দরকার মানুষ। পাঁচ ফিট ছয় পারফেক্ট হাইট।

: ছেলের নাম কি?

: কাজল।

: কাজল?! এটা তো মেয়েদের নাম। ছেলের চেহারায় কি মেয়েলী ভাব আছে?

: ছিঃ! কি বলিস! মেয়েলী ভাব থাকবে কেন? পুরোদস্তুর পুরুষ। এই দেখ ছবি। অত্যন্ত সুপুরুষ।

: বাহ! এখন থেকেই এত মায়া? ছবি নিয়ে ঘুরছিস?

: লজ্জা দিস না।

 জিশান ছবিটা হাতে নেয়। আসলেই অত্যন্ত সুদর্শন পুরুষ। জিশান হিংসাভরা দৃষ্টি নিয়ে ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ জিশানের কাছে জগৎটাকে অর্থহীন মনে হয়। কত স্বপ্ন বুনেছিল জিশান। আর এক বছর পরই মাস্টার্স কমপ্লিট হবে। একটা ভাল চাকরি জোগাড় করবে। তারপর যুঁথি কে বলবে, "আমার সাথে সারাজীবন থাকবে? একসাথে চলবে বাকিটা পথ ?" যুঁথি নিশ্চয়ই না বলতো না। আসলে দোষটা জিশানেরই। এতবছর একসাথে পড়ছে। অথচ মনের কথাটা বলাই হয় নি যুঁথিকে। আসলে জিশান ভাবতেই পারে নি যুঁথি ওর পাশ থেকে দূরে চলে যেতে পারে।

যুঁথি : কি রে চুপ করে গেলি কেন?

: তোর বরটা খুব সুন্দর।

: থ্যাংক ইউ। কবে যে ও আমার হবে।

: আর দেরি সহ্য হচ্ছে না?

: না রে। সারারাত ওর কথা ভাবতে ভাবতেই পার করে দিই।

: বাহ! ভাল। খুব ভাল।

জিশান উঠে গেল। জিশান উঠে যাওয়ার পরই যুঁথি জোরে হেসে উঠল। লাইব্রেরির সবাই বিরক্তমুখে যুঁথির দিকে তাকাল।

জিশান পুরো বিষয়টি ওর বন্ধু এবং ক্লাসমেট তৌসিফের সাথে শেয়ার করে। তৌসিফ ঠান্ডা মাথার ছেলে। কোন কিছুতেই সহজে ঘারড়ায় না। তৌসিফ জিশানের কাঁধে হাত রেখে বলল, "দোস্ত,চিন্তা করিস না। আমি আছি।"

এদিকে জল আনেক দূর গড়িয়েছে। পরদিন যুঁথি কাজলকে ক্যাম্পাসে নিয়ে এল। জিশান এবং তৌসিফ রক্ত শূন্য দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে রইল। যুঁথি ওদের দেখে কাজলকে নিয়ে এগিয়ে গেল। কাজলের হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছে যুঁথি। জিশান মনে মনে ভাবল এতটা ন্যাকামি না করলেই কি নয়! যুঁথি জিশানের দিকে তাকিয়ে বলল "চিনতে পেরেছিস ওকে! ও কাজল।আমার ইয়ে।" কাজল হাসিমুখ জিশানের দিকে হাত বাড়াল। কিন্তু জিশান হাত বাড়াল না। ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে রইল।

কাজল বলল "ভাই আপনাদের কথা ওর মুখে অনেক শুনেছি। বিশেষ করে জিশান সাহেবের কথা। এত বেশি শুনেছি যে জিশান সাহেবকে আমার হিংসা করতে ইচ্ছা হয়েছে।'  জিশান মনে মনে বলল, "হারামজাদা! তুই মর। শালা বদের বদ"! যুঁথি এবার তৌসিফের দিকে তাকিয়ে বলল, "তৌসিফ তোর ব্যাগে তো সবসময় ক্যামেরা থাকে আমাদের কিছু ছবি তোল তো। আর আমার মোবাইল দিয়ে ও কয়েকটা ছবি তোল"। কাজল আর যুঁথি অন্তরঙ্গভাবে বেশ কিছু ছবি তোলে। জিশান মনে মনে ভাবে, "পৃথিবী থেকে কি লজ্জা উঠে গেল? নাকি যুঁথি দেখাতে চাইছে যে ও অনেক সুখী"।

ছবি তোলা শেষে যুঁথি আর কাজল চলে যায় ক্যাম্পাসের উত্তর পার্শে। ক্যাম্পাসের সবচেয়ে নির্জন এলাকায়।

জিশান তৌসিফকে বলল, "তৌসিফ সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আর কোন আশা নেই"।

তৌসিফ: দোস্ত আমি এখন ও মরে যাই নি। ধৈর্য ধর"।

জিশান ভাবতে লাগল যুঁথির জন্য ও পাগলের মত কত কিছুই না করেছে। নিজে ভালভাবে এসাইনমেন্ট না করে যুঁথির এসাইনমেন্ট করে দিয়েছে। পরীক্ষার সময় ঝুকি নিয়ে যুঁথিকে দেখিয়েছে। যুঁথি অংকে দুর্বল। তাই যুঁথির বাসায় গিয়ে ম্যাথমেটিক্যাল টার্মগুলো বুঝিয়ে দিয়েছে। প্রতিমাসে যুঁথির মোবাইলে টাকা পাঠিয়েছে। যুঁথি অবশ্য জানত না কে ওর মোবাইলে টাকা পাঠায়। জিশান ভেবেছিল একদিন বলবে। মনের সব কথা ওকে বলবে। কিন্তু বড্ড দেরী হয়ে গেছে। অবশ্য যুঁথি ও ওর জন্য কম করে নি। যে কোন বিপদে আপদে যুঁথিই এগিয়ে এসেছে সবার আগে। প্রতিনিয়ত ওকে নানাভাবে শাসন করেছে। নিয়মিত চুল কাটা, সেভ করা, বেশি রাতে বাইরে না থাকা, বাইরের খাবার না খাওয়া এসব অভ্যাস যুঁথিই করিয়েছে।

এছাড়া জিশানের কবিতা লেখার পেছনে ও মূল অনুপ্রেরণা যুঁথি। কতদিন যে ক্যাম্পাসের বটতলায় বসে যুঁথি কে কবিতা শুনিয়েছে জিশান। সেই বটতলার দিকে দৃষ্টি যেতেই জিশানের মনে হলো সবকিছু আজ শূন্য। চারিদিকে আসীম শূন্যতা।

তৌসিফ হঠাৎ বলে উঠে "যে করে হোক যুঁথির বিয়েটা ভাঙতে হবে। তুই শালা গর্দভ এতদিনেও মনের কথাটা যুঁথি কে বলতে পারলি না। শোন যুঁথি যখন ওর মোবাইলটা আমার হাতে দিল তখন আমি কায়দা করে কাজলের নাম্বারটা নিয়েছি"।

: তো----? নাম্বার দিয়ে কি হবে?

: আরে ওই ব্যাটাকে হুমকি দিতে হবে। যুঁথি সম্পর্কে উলটা পালটা কথা বলতে হবে।

: আমি পারব না।

: মানে?

: যুঁথি সম্পর্কে উল্টাপাল্টা কথা আমি বলতে পারব না।

: ইশ! ওরে আমার সাধু বাবা। এত সাধু হলে যুঁথি কে পাওয়া লাগবে না। বসে বসে আংগুল চোষ।

 

 

দুদিন পরে পার্কে বসে জিশান, তৌসিফ এবং ওদের আরেক বন্ধু তুহিন বাদাম চিবুচ্ছিল। তৌসিফ এবং তুহিন চেষ্টা করছিল জিশানের মন ভাল করার। কিন্তু জিশান হ্যাঁ, না ছাড়া কোন কথাই বলছে না। হঠাৎ তৌসিফ লাফিয়ে উঠল। জিশান বলল, "কি রে লাফিয়ে উঠলি কেন?

: ওই দেখ সামনের বেঞ্চে।

: সামনের বেঞ্চে কি?

: কাজল আর একটা মেয়েকে নিয়ে বসে আছে। দেখ কাজল মেয়েটার কপালে টিপ পরিয়ে দিচ্ছে। টিস্যু দিয়ে লেপ্টে যাওয়া লিপষ্টিক মুছে দিচ্ছে।

: আরে! তাই তো! এতো কাজল ই!

: শালা একটা ক্যারেক্টারলেস।

: কি করবি এখন?

: ওদের ছবি তুলতে হবে। তারপর যুঁথিকে দেখাতে হবে।

: কিভাবে ছবি তুলবি আমাদের তো চিনে ফেলবে।

: তুহিনকে পাঠাব। তুহিনকে কাজল চিনবে না।'

তুহিন বুদ্ধিমান ছেলে। অল্পকথায়ই সব বুঝে গেল। তুহিন বলল, "দোস্ত চিন্তা করিস না। আমি ছবি তুলে আনছি"। তৌসিফ ওর ক্যামেরাটা তুহিনকে দেয়। তুহিন কাজলের আশেপাশে কয়েকটি চক্কর দেয়। তুহিন এমন ভাব দেখাচ্ছে যে ও পার্কের অপরূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে ছবি তুলছে। যেন ও এক আদর্শ প্রকৃতি প্রেমিক। কাজল আর মেয়েটা এতটাই প্রেমে ব্যস্ত যে তুহিনকে খেয়ালই করল না। তুহিন অনেকগুলো ছবি তোলে। তুহিন ফিরে আসলে ওরা গাছের আড়াল থেকে কাজল আর মেয়েটিকে লক্ষ্য করতে লাগল। কাজল আর মেয়েটি আইসক্রিম খেল,বাদাম খেল,ফুচকা খেল। আর ন্যাকামির কথা বলে শেষ করা যাবে না। দৃশ্যগুলো দেখে জিশান, তুহিন,তৌসিফ খুব আনন্দ পেল। অনেকদিন পর জিশানের মুখে হাসি ফুটল। রাতে জিশান যুঁথিকে ফোন করল।

: হ্যালো, যুঁথি তোর সাথে খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।

: এত হাঁপাচ্ছিস কেন? কি বলবি বল।

: একটু বাইরে বেরুতে পারবি?

: না। এত রাতে--- মাথা খারাপ!

: যুঁথি কাজল একটা ফ্রড, বড় ফ্রড। ও তোকে ঠকিয়েছে। ও -----।

: কি উল্টপাল্টা বলছিস? তোর মাথা ঠিক আছে তো?

: আজ পার্কে দেখলাম ও একটা মেয়ের সাথে ডেটিং করছে। অনেক ধরনের ন্যাকামিপনা করেছে।

: শোন তোর সাথে কাজলের কিসের এত শক্রুতা? পুরুষমানুষ এত হিংসুটে হয়??

: আমি ওকে হিংসা করব কেন? আমরা ওদের ছবি তুলেছি।

: ছবি তুলেছিস? নাকি ছবি জোড়া লাগিয়েছিস? শোন কাজলের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। ওর সম্পর্কে উল্টাপাল্টা কথা বলবি না। আর প্লিজ ছোটলোকের মত কোন কাজ করিস না।

: তুই আমাকে এমন করে বলতে পারলি!!!

: হ্যাঁ পারলাম।

যুঁথি ফোন রেখে দিল। জিশান অবাক হয়ে ভাবে ভালবাসা মানুষকে এতটা অন্ধ করে দেয়!! জিশান সিদ্ধান্ত নিল মাস্টার্স আর কমপ্লিট করবে না। ওর বড় ভাই ইংলান্ডের সিটিজেনশিপ পেয়েছে। জিশানকে বারবার চলে আসতে বলছে। শুধু যুঁথির টানে জিশান যায়নি। এবার ওকে যেতেই হবে। জিশানের সবচেয়ে বড় কষ্ট যুঁথি একটা প্রতারককে বিয়ে করবে। বিয়ের পর যুঁথি বুঝবে কত বড় ভুল ও করেছে। আচ্ছা যুঁথি কি ওকে একটু ও ফিল করবে না? এত ভাল আন্ডারষ্ট্যান্ডিং, বন্ধুত্ব কিছুই মনে থাকবে না যুঁথির? জিশানের সবসময়কার ধারনা ছিল যুঁথি ওকে পছন্দ করে। কিন্তু জিশান আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছে। নিজের প্রতি ঘৃণা ধরে জিশানের।

 

পরদিন ক্যাম্পাসের পেছনের দিকে পুকুরে পাড়ে একা বসে ছিল জিশান। কাল সারারাত ঘুম হয় নি। শুধু মনে হয়েছে মৃত্যু কি সব সমস্যার সমাধান? নাকি দূরে চলে যাওয়া? পরক্ষণেই মনকে শক্ত করেছে জিশান। তাকে দূরে চলে যেতে হবে। যুঁথি থেকে অনেক দূরে। হঠাৎ চুড়ির শব্দে জিশান চমকে উঠে। পেছনে ফিরে দেখে যুঁথি দাড়িয়ে। কি সুন্দর করে সেজেছে যুঁথি। কালো টিপ। অথচ হাতে নীল চুড়ি। তাতেই চমৎকার মানিয়েছে ওকে। মুখটা কত সিগ্ধ, কোমল, নিষ্পাপ। জিশান ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।

যুঁথি: বসতে পারি?

: অনুমতির কি আছে?

: মন খারাপ?

: না মন খারাপ কেন হবে?

: তুই এত বোকা কেন?

: বোকাই তো। বোকা না হলে এত বছর ধরে তোকে------।

: কি? এত বছর ধরে কি?

: না থাক।

: হ্যাঁ থাক। তোকে কিছু বলতে হবে না। ছাগল কোথাকার। সারাজীবন মনের কথা মনেই রাখ।

: বলে লাভ নেই। সব শেষ।

: তবু বল।

: তোকে ভালবসতাম।

: এখন বাসিস না ?

: বাসি। তবে এখন ভালবাসা না বাসা সমান কথা।

: গাধা কোথাকার! একটা মেয়ের মন এত বছরেও বুঝলি না। ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তোর মুখ থেকে ভালবাসার কথা শুনতে আমি কতই না আকুল ছিলাম। আর তুই একবার ও বলতে পারলি না। শেষ পর্যন্ত কাজল থেরাপিতে কিছুটা কাজ হলো।

: মানে?!!!

: আরে বোকা। কাজল আমার খালাত ভাই। আমার চেয়ে দু'বছরের ছোট। একটা বেসরকারি ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়ছে। ওর বাড়ী, চাকুরি সম্পর্কে যা বলেছি সব ভুয়া। কাজল রূপা নামে একটা মেয়েকে ভালবাসে। গতকাল পার্কে রুপার সাথেই কাজলকে দেখেছিস। কাজলের কথা বলে তোর ভালবাসাকে পুরোপুরি জাগিয়ে দিলাম। পুরো বুদ্ধিটা অবশ্য তৌসিফের শিখিয়ে দয়া। কাল ফোনে তোকে যে কথাগুলো বললাম তাও তৌসিফের শিখিয়ে দেয়া"।

 

জিশান হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। ওর মাথা ঘুরতে লাগল। এটা স্বপ্ন না তো। যুঁথিকে ছুয়ে দেখলে ও হারিয়ে যাবে না তো!

যুঁথি : আমাকে সুন্দর লাগছে না।'

জিশান মাথা নাড়ায়। মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না।

:তোর জন্য সেজেছি। শুধু তোর জন্য।

জিশানের চোখের কোণে পানি জমে।

: ভ্যাবদা পুরুষ আমার একদম পছন্দ না। চোখে পানি কেন? আচ্ছা তোর লেখা আমার সবচেয়ে প্রিয় কবিতার কয়েক লাইন শোনা তো।'

 

জিশান বিড়বিড় করে বলতে থাকে,

 

"আমার কুশ্রী জীবনে

তোমায় ভেবেছি আশার সঞ্চারিনী।

বৃহৎ অভিলাষে, শূন্যতা সরিয়ে

গড়েছি হরেক রঙের স্বপ্ন নীড়।

 

তোমার হাতের মায়াময়ী স্পর্শে,

আমি ভয়ানক প্লাবণকে ভেবেছি নব্যপুলক।

আমি মহাপুরুষ নই, নই শুভ্র মানব;

তবু তোমার স্বপ্নপুরুষ হতে ছুটছি আলোকের দিকে"।

 

যুঁথি : অসাধারন। তোর কবিতা শুনেই আমি বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে পারব। শোন, আজ সারাদিন আমরা একসাথে থাকব। ঘুরব, প্রেম করব, দুষ্টমি করব, ন্যাকামি করব, অব্যক্ত কথা বলব। আর আমাদের স্বপ্ননীড়কে সাজাব নিজেদের মতন করে। "

জিশান কিছু বলতে পারে না। গলায় যেন কিছু আটকে আছে ওর।

 

যুঁথি : তুই রাজী থাকলে কাজি অফিসে ও যেতে পারি। বল, 'কবুল।'

জিশান যুঁথির মুখ স্পর্শ করে বলল "কবুল"।

 

Share