দুঃস্বপ্ন, প্রহেলিকা আর হলদে হয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলোর কথা

লিখেছেন - আফরিনা হোসেন রিমু | লেখাটি 666 বার দেখা হয়েছে

মনপ্রাণ দিয়ে যে শহরটাকে ভালবাসি, দিনের প্রখর রৌদ্রে তাকে ভাল লাগেনা। এত গাড়ি, মানুষ, হৈচৈ, শব্দ, ধোঁয়া আর জ্যামের পাহাড়, মাঝে মাঝে ছুটে পালাতে ইচ্ছে করে। আমার ভালবাসার ঢাকাটা দিন দিন মরে যাচ্ছে, এক একটা দিন তার নাভিশ্বাস ওঠে,তাকে দিন দিন আর চেনা যায় না।তবু, প্রকৃতির অকৃত্রিম ঋণে ঢাকা বেঁচে থাকে, আর কোটি কোটি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।

 

দিনের ঢাকা যেমনই হোক, রাতের ঢাকা, পুরো অন্যরকম। হলুদ সোডিয়াম লাইটগুলো এই লোহালক্কড়ের শহরটাকে হলদে পরীর বেশে সাজায় , সেই সাথে শতশত রঙবেরঙের বাতিগুলো তার ইট পাথরকে হাসিয়ে তোলে। তখন ভালবাসার সময়, প্রাণের আবেগে ছুটে যেতে ইচ্ছা করে, যেদিকে দু'চোখ যায় সেদিকেই। মাঝে মাঝে আকাশ ভরা সাদা মেঘের ভেলায় হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে, পূর্ণিমাগুলো এত বেশি কাছে ডাকে, হিমুকে খুব হিংসা হয়। হুমায়ুন আহমেদ স্যারকে বলতে হবে, আমাকে হিমু বানিয়ে দিতে।

 

ভালবাসাবাসির এসব রাত আমি প্রতিদিনই পাই। খুব অদ্ভুত হলেও সত্যি। কলমের সাথে যুদ্ধ করতে করতে আমার এক একটা দিন কাটে। পত্রিকার পাতাগুলো ভরিয়ে ফেলি, জানাতে চেষ্টা করি সবাইকে, পৃথিবীটা এখনো বেঁচে আছে। ভাল খারাপ সবকিছুর সাথেই দ্বন্দ্ব চলে, কিন্তু আমি আমার মত চলি। আমাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়, কিন্তু আমি আমিই। সত্য আর মিথ্যার মাঝে পার্থক্যটা আমি বুঝি।

 

 

#######

 

 

সবে শুরু হল জীবনটা। মাস্টার্স শেষ করলাম, তাও বেশিদিন হয়নি। কিন্তু সাংবাদিকতার এই জটিল ক্ষেত্রটাতে আরও আগে থেকেই আছি। লিখে যাচ্ছি, কলম ভেঙ্গে ফেলছি, লিখে যাচ্ছি।

কয়েকদিনই হল মাত্র চাকরিটা পার্মানেন্ট করতে পেরেছি। মনে আমার এখন আগুন হাওয়া। শহরের এমাথা থেকে ওমাথা ছুটে যাই, প্রিয় বাইকের টায়ার পোড়াতে পোড়াতে। বাইকের খাবার শেষ হয়ে যায়, সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ে হারিয়ে যায় একসময়, আমার এই ছুটে চলা থামে না। আমি মনে হয় থামতে জানিনা।

 

এক একটা ক্লান্ত দিন আমার, ক্লান্ত রাত। আমি অবাক হয়ে যাই মাঝে মাঝে। আমার কি কোন পিছুটান নেই? কাজের চাপে সময় পাইনা, নিজেকে নিয়ে ভাবার, এত ভাবতে যে স্পৃহাটুকু দরকার, তাও আমার নেই। ক্লান্তশ্রান্ত আমি ছুটে চলি, সবাইকে পেছনে ফেলে, বাতাসের সাথে মিতালীতে।  

 

এসব শুনে হয়তোবা কেউ ভাববে , আমি একা, বড্ড একা। মনে হবে, একাকিত্বের কষ্টটা মোছার জন্যই হয়তোবা আমার এই নাটক। জানিনা, জানতে চাই নি আসলে, মায়ার বাঁধনে বাঁধা পরতে আমার সবসময়ই সঙ্কোচ। আমি খোলস ছেড়ে বেরুতে চাই যে! আমায় এসব টানে না।

 

 আমারও কিন্তু ভালবাসা আছে, আমার জন্য অপেক্ষা করে। সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমার জন্য বসে থাকে, একসময় খাবার টেবিলটায় মাথা রেখে ঘুমিয়ে। আমি পাষাণ, বাড়ি ফেরার সময় হয়না আমার। রাতের ঢাকা যখন নিশ্চুপ, একটা একটা করে বাতি নিভে যাচ্ছে, আমার তখন মনে পড়ে। শ্রাবণীর কথা।

 

আমার একটাই বউ। বউ তো মানুষের একটাই হয়, তাই না? কিন্তু আমি যে শ্রাবণীর কথা বলছি, আসলে তাকে এক কথায় বললে কম বলা হবে। এই মেয়েটা আমার মত এই হতভাগার জন্য অনেক করেছে, অনেক। মাথা পেতে নিয়েছে সব দুঃখকষ্ট। ওকে খুশি বা সুখি রাখা, কোনটারই আমার সামর্থ্য নাই।

 

তবুও এই এককালের চরম অস্থির চিত্তের মেয়ে, আমার সাথে আছে।। কেন, জানিনা। বহুবার জিজ্ঞেস করেছি। ইস্পাত কঠিন হৃদয়ের এই আমি, মাঝে মাঝে ভেঙ্গে পড়ি। "কেন তুমি আমাকে এতোটা ভালবাস?" চিৎকার করে জিজ্ঞেস করি শ্রাবণীকে। অদ্ভূত হল, শ্রাবণী তখন সেই অপার্থিব হাসিটা দেয়, আমাকে দুমরে মুচরে দেয়ার জন্য। আমি অবাক তাকিয়ে থাকি। মুখে রা সরে না।

 

 আমি আসলে শ্রাবণীর সাথে নেই। সারাদিনের ছুটোছুটি আর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাতে আমি ভুলে যাই এই মেয়েটার অস্তিত্ব। অথচ আমি জানি, পৃথিবীর যদি লিস্ট করা হয়, সবচেয়ে ভাগ্যবানদের তালিকায় আমার নাম উপরের দিকে থাকবে।ভালবাসার যোগ্য নই, তবে আমাকে শ্রাবণী এতোটাই ভালবাসে।

শ্রাবণীর বাবা মা আমাদের সম্পর্কটা মেনে নেননি। মেয়ের সাথে তাদের এখনো কোন যোগাযোগ নেই। এই মেয়ে ব্যাপারটা গা করেনা, আমি এটাও বুঝতে পারিনা। কেমন নির্লিপ্ত এই ব্যাপারগুলোতে। আমি চিন্তাই করতে পারিনা, আমার নিশ্বাস আটকে আসে। অথচ এই মেয়ে অবলীলায় সব সামলে যাচ্ছে। আমি আসলে সত্যি বলতে, শ্রাবণীর এই শক্তিটাকেই ভালবাসি। ও সব করতে পারে, সব। খালি একটা ব্যাপারই করতে পারে না জানি।

 

 

আমাকে ছেড়ে যেতে পারে না শ্রাবণী.........

 

 

একটা বছর হতে চলল আমাদের, বিয়ে করেছি। একটা বছর, হিসেব করলে আসলে খুব বেশি কম সময় না। ৩৬৫ দিন। সেকেন্ডে হিসেব করলে কোটির ঘরে চলে যায় সংখ্যা। আমি শ্রাবণীকে তারও আগে থেকে চিনি। একই বিষয়ে পড়িনি। কিন্তু এত বেশি চেনা পরিচয় ছিল, বুঝতে পারিনি, শ্রাবণী এমন বরশীতে ধরা পরা মাছের মত আমার জন্য পাগল হয়ে যাবে। আমি কিছুই করিনি, সত্যি। শুধু মাঝে মাঝে কতগুলো টেক্সট পেতাম। জবাবও ঠিক মত দিতাম না, তবু, শ্রাবণীর পাগলামি কমেনি।

আমি শ্রাবণীকে ভালবাসি কিনা এটা বোঝার আগেই শ্রাবণীকে বিয়ে করে ফেলি। ভীষণ জেদি এই মেয়েটা মাত্র একমুহূর্তেই আমাকে রাজি করিয়ে ফেলে। কি ছিল সেই জাদুকরি বস্তু, যার কারণে এই আমি এমন করলাম!

 

 

 খোঁজার চেষ্টা করেছি অনেক। বুঝিনি, পাইনি, আর তাই খুঁজতেও যাই নি।

 

 

বিয়ের প্রথম দুটো মাস, আমার খুবই খারাপ কেটেছে। আমি ঘোর থেকে বেরুতে পারিনি। আগে পিছে কেউ নেই দুনিয়াতে, এমনকি বন্ধুবান্ধবের সংখ্যাও নিতান্ত হাতে গোণা। কাউকে বলতে পারিনা, আমার না বলা কথা। কারণ সব যে শ্রাবণীকে নিয়েই। আমি এই মেয়েটাকে বুঝতে পারিনা। এত ভালবাসা তার কোথা থেকে আসে, বুঝতে পারিনা।

 

মেয়ে, তুমি আমাকে এত ভালবেসোনা, তোমার দোহাই............

 

 

একসময় এই অদ্ভুত ভালবাসা থেকে পালাতে শুরু করলাম। শ্রাবণীর কাছে গেলেই আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, আমি কিছু দেখতে পারিনা। দু'চোখে স্বপ্ন দেখার একটা ব্যাপার নাকি থাকে, আশ্চর্য, আমি স্বপ্ন দেখতেও ভুলে গেলাম। আমাকে স্বপ্ন টানে না, আমাকে বাস্তব টানে না, আমাকে টানে শুধু শ্রাবণী।

 

কিন্তু আমাকে যে পেছন ফিরলে চলবে না।আমি তাই দুদ্দার বেগে এগুতে থাকি, ভুলে থাকি আমার ভালবাসাকে। আমি জানি, আমার উদাসীনতা শ্রাবণীকে কষ্ট দেয়, আমার নির্লিপ্ততা ওকে কাঁদায়। আমিই কি কম কাঁদি? আমার কান্নাগুলো বৃষ্টির সাথে ধুয়ে মুছে যায়, বাঁধভাঙ্গা স্রোত সে। তবু তাকে দেখা যায়না, অনুভবও করা যায় না।

 

কখন যে শ্রাবণী কন্সিভ করেছে, জানিনা। ঐযে বললাম, আমি সব সময় পালিয়ে পালিয়ে থাকতে চাইতাম। আমাকেও অনেকদিন শ্রাবণী বলেনি। একা একাই ডাক্তারের কাছে গিয়েছে, সব করেছে, কাউকে সাথে না নিয়েই।

 

জানতে পারলাম প্রায় একমাস পর। আশ্চর্য রকমের বেচারি এই মেয়েটা, এত বড় আনন্দের খবরটা যার সাথে ভাগাভাগি করবে, সেই মানুষটাকেও ঠিক মত বলতে পারেনি একটাবার। হয়তোবা ওয়াশরুমের দরজা খুলে রাতে ডুকরে কেঁদেছে, হয়তো চিৎকার করেছে, কিন্তু আমি এই মেয়েটার পাশে থাকিনি। আমাকে সে খুঁজেই পায়নি বলার জন্য। সম্পর্কটা এমন কেন আমাদের! এত বাঁধার প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে শ্রাবণীকে পাওয়া আমার কখনোই সম্ভব না।

 

আমি আছি আমার ব্যস্ততা নিয়ে, আমার তো কাজের ফিরিস্তির শেষ নেই। নতুন একটা পত্রিকায় যোগ দিলাম, যেখানে আমিই সব কিছু। দু'হাতে সব সামলে যাচ্ছি, কত হাস্যজ্জ্বোল আমি, জ্বলছি যেন। কথার খই ফুটিয়ে সবাইকে নির্দেশ দি, সবাই আমাদের বাধ্যগত।  

 

আহারে, আর আমার লক্ষ্মী বউটা, সব ফেলে আমার প্রতীক্ষায় বসে থাকি। আমিও ফিরি, সন্ধ্যায় যেমন সব পাখিরা তাদের নীড়ে ফিরে আসে, আমারও একসময় বাড়ির কথা মনে হয়। রাতের ঘণ্টা ১২টার ঘর পার হয়ে ১ টা ছুঁই ছুঁই , তখন।

 

সময় কারো জন্য বসে থাকেনা, আমার জন্যও থাকেনি। আমি কাজ করে যাচ্ছি আমার মত, সেখানে শ্রাবণীর ভিতর বেড়ে উঠছে আরেক সত্ত্বা। আমার আর শ্রাবণীর মিলিত রূপ যে। আমাকে প্রচুর ভাবায় এই বিষয়টা। আমার পত্রিকা তর তর করে এগিয়ে যাচ্ছে, ওই সত্ত্বাটার মতই বড় হচ্ছে, আমি আরও বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ছি।

 

শ্রাবণীর খোঁজ রাখিনা। আমার দায়গুলো পালন করা থেকে আমি যেন আরও পিছিয়ে পড়ছি। বিবেকটা মরচে পরা লোহার মত হয়ে গেছে, বেঁচে আছে ঠিক, কিন্তু অনুভব করতে পারিনা। আমার এই লক্ষ্মী বউটা সব একা একাই করে। নিজের যত্নআত্তি, নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যাওয়া, আমার দেখাশুনা করা, সব। কোন রা নেই এই মেয়েটার মুখে। বুঝিনা, মানুষ এতোটা নিস্পৃহ কেন হয়? আমি চাই, শ্রাবণী আমাকে জোরে করে ডাকুক, বাড়ি মাথায় তুলে চিৎকার করে বলুক, "পাষাণ ছেলে, তুমি আমাকে কেন বুঝ না?" কিছুই হয় না।

 

 সময় কিন্তু একজায়াগায় থাকে, ঘটমান বর্তমান। আমার সময়গুলোও ঘটমান বর্তমানের চক্রে আবদ্ধ থাকে, আমি ভুলে যাই অতীতের কথা, এমনকি ভবিষ্যতের কথা। আমি আরও দেরি করে ফিরি। যেন না ফিরতে পারলেই বাঁচি।

 

প্রায় ৭ মাসের সময়ে শ্রাবণীর শরীর অনেক ভারী হয়ে যায়, আরও নানা রকম জটিলতাও ধরা পড়তে থাকে। কখনোই রক্তচাপের সমস্যা ছিল না, কিন্তু এই সময়টায় সেটা ধরা পরল। শ্রাবণী ধিরে ধিরে কাজকর্ম কমিয়ে দেয়। আমার জন্য আর আগের মত বসেও থাকতে পারে না। প্রচণ্ড ঘুম পায় তার। একটা কাজের মানুষের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে বাসায়। শ্রাবণীর অবসর এখন। আমার ওর সাথে এখন আর দেখা হয়না বললেই চলে, কিন্তু কোন অভিযোগ নেই শ্রাবণীর। আমারও না।  

 

যেদিন ঘটনাটা ঘটে, আমি খুব বেশি কাজ নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছি। মিটিং চলছে, একটার পর একটা। মানুষজনের কথা শুনতে শুনতে মাথা ধরে যাচ্ছে, আমি চিড়বিড় করছি। কত রকম চিন্তা যে আসছে, বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তখন জানিনা, আমার জীবনটাই বাতিলের খাতায় যাওয়ার উপক্রম হয়ে গেছে ততক্ষণে।

 

ফোনটা যখন দেখি, ততক্ষণে শ্রাবণীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই ঘণ্টা কেটে গিয়েছে, মানুষে আর জমে টানাটানি অবস্থা। প্রচুর রক্তপাত হয়েছে, প্রচুর।

 

শ্রাবণী বাথরুমে হঠাৎ করে পা পিছলে পরে যায়। ভারী আর অসুস্থ শরীর নিয়ে সামাল দিতে পারে নি। অনেকটা সময় কেউ দেখেওনি অসহায় মেয়েটাকে। শেষ পর্যন্ত বাসার মেয়েটা পাশের ফ্ল্যাটের মানুষের সাহায্যে শ্রাবণীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

 

যখন দরকার ছিল, তখন আমাকে পাওয়া যায়নি। ফোনের পর ফোন বেজে গেছে, কেউ ছিল না ধরার। কত অসহায় মুহূর্তগুলো, তাই না? নিশ্চয়ই আকাশ বাতাসও আমাকে অভিশাপ দিয়েছে তখন, নিশ্চয়ই সবাই হাহাকার করে ফিরেছে, আমি শুধু জানতে পারলাম না......

 

শ্রাবণীকে বাঁচানো যায় নি। অনেকক্ষণ ডাক্তার আর নার্সরা মিলে আজরাইলের সাথে যুদ্ধ করেছেন। ক্ষতিটা এত বেশি ছিল, ফেরত আসে নি শ্রাবণী। খবরটা যখন শুনি, আমি তখন হাসপাতালের চেয়ারে বসা। নিথর নিস্তব্ধ আমি, কোন কথা বের হয় নি তখন। শুনে গেলাম শুধু। আমার রিঅ্যাকশন দেখে ডাক্তারও কেমন সন্দেহে পড়ে গিয়েছিল মনে হচ্ছিল। সব কিছু অস্বাভাবিক, কিছুই আমার মাথায় ঢুকছিল না।

 

বাচ্চাটাও অনেক আগেই চলে এসেছে, এমনিতেই সময় হয়নি। সৌভাগ্যক্রমে কয়েকদিন এই ছোট্ট প্রাণীটিকে বাঁচানোর সুযোগ দেয়া গিয়েছিল। আমি দেখতে যেতাম। ইনকিউবেটরে রাখা ছোট্ট শরীরটা আমাকে খুব কাছে টানত। কখনোই, কখনোই যা করিনি, তাই করতাম। খুব কাঁদতাম। আমার মনে হতো, অবিকল শ্রাবণীর চেহারা পেয়েছে মেয়েটা। আমি ধরতে পারতাম না। খুব ইচ্ছা হতো, খুব।

 

 

 

########

 

 

 

সবসময় একাই তো ছিলাম। বাবা মা সেই কবেই চলে গেছেন আমাকে ছেড়ে। ভালবাসা কি, বুঝিনি। আফসোস, একটা মানুষ এসেছিল এই হতভাগাকে ভালবাসা দিতে, আমি সুযোগটা দেই নি। নিজেকেই আসলে বঞ্চিত করেছিলাম।

 

 ওর ভালবাসা মরে যায়নি, ভালবাসা মরতে পারে না।

 

এখন রাস্তাগুলোই আমার আপনজন। মাইলকে মাইল ছুটে চলি আমি, গন্তব্যহীন।

 

রাতগুলো পোড়ায় আমাকে, বুঝিনা, এত কিসের কষ্ট বুকে বাজে!

 

 মাঝে মাঝে আমি ওদের দেখতে পাই, হলুদ সোডিয়াম লাইটের নিচে। হেঁটে যাচ্ছে, পরস্পরের হাত ধরে। শ্রাবণীর হাত ধরা আমার মেয়েটা, বড় হয়ে গেছে, অবিকল শ্রাবণীর প্রতিরূপ। আমি ডাকি, ডাকতেই থাকি।

 

একসময় ঘুরে তাকায় তারা। আর কি শ্রাবণী আমাকে উপহার দেয় সেই অদ্ভূত হাসিটা, আমি যা কখনোই বুঝতে পারি নি।

 

 

এভাবেই ছুটে চলা আমার...... নিরন্তর...... প্রহেলিকার পিছনে......... মরীচিকার পিছনে...... রাতের ঢাকায়...... হলদেটে হয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলোকে সঙ্গী করে...

 

 

 

 

Share