একজন রাবেয়ার গল্প

লিখেছেন - -ইমরান নিলয়- | লেখাটি 729 বার দেখা হয়েছে

১।

-এ রাবু , ক্যারে , খেলা একটু বন্ধ করা যায় না? সারাদিন কুতকুত  কুতকুত............ ক্যারে, একটু কাম কাজ কইরলেওতো পারিস।।নাকি???

রাবেয়ার মাথা চিড়িক দিয়ে ওঠে ওর মায়ের চেঁচামেচি শুনে । মনে মনে বলে...” ধুর বেটি।। এতো চিল্লাস ক্যারে??? খাইতে দিতে পারস না ঠিক মতো, আবার চিল্লায়... “ রাবেয়া পাশের বাড়ির মিলির সাথে আপন মনে খেলে যায়... কুত কুত...কুত কুত...ততত.........।

রাবেয়ার বাবা সালাম এখন পঙ্গু । আগে বাসের হেল্পার ছিল। কম বেশি হলেও আগে সবসময়ই খাওয়া জুটত। একটা ভয়ংকর এক্সিডেন্টে পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকেই ভয়ংকর টানাটানির সংসার। এমনও দিন গেছে , সারাদিন পেটে কোনও দানা পানি পড়ে নাই।  রাবেয়া  লুকিয়ে লুকিয়ে  তেতুল গাছের পাতা খায় সেইসব দিন। প্রথম প্রথম খারাপ লাগতনা। কিন্তু এখন বিস্বাদ লাগে, তেতুল গাছের পাতা খাওয়ার সময় নিজেকে ছাগল মনে হয়।

- কুত কুত কুত............

হঠাৎ  মিলি চেঁচিয়ে উঠলো । “ ওই পচা, পচা......। দাগে পা পড়ছে। হইত না...... এইবার আমার ।“

রাবেয়া কোর্ট থেকে সরে মিলিকে জায়গা করে দেয় । মিলির সাথে পারতপক্ষে ঝগড়া করে না রাবেয়া । মাঝে মাঝে খেলার মধ্যে রাবেয়াকে এটা সেটা খেতে দেয় । পেটের জ্বালা বড় জ্বালা । রাবেয়া জানে । জীবনের অনেক কিছুই সে এখন জানে । রাবেয়া যেই জামা গায়ে দিয়ে আছে তা মিলির পরিত্তাক্ত পুরান জামা। মিলি যে অনেক বড় ঘরের মেয়ে তাও না। কিন্তু ওর বাবা প্রতিদিনই রোজগার করে। ভালই চলছে তাদের । মিলিই এখন রাবেয়ার কাছের বন্ধু । একটু পরে হয়ত মিলি বিস্কুট খাবে, রাবেয়া এই জন্য অপেক্ষা করছে। এখন মায়ের সাথে কাজ করতে গেলে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত না খেয়ে থাকা লাগবে ।  

 

 

২।

 কিছুদিন যাবত রাবেয়ার মায়ের সাথে এক লোক দেখা করতে আসছে । কি নিয়ে অনেক্ষন কথা বলে । রাবেয়ার মা মাথা নাড়ায়, না সূচক । রাবেয়ার জানার কোনও আগ্রহ হয় না । ধুর, যা খুশি তা নিয়ে কথা বলুক । কি যায় আসে? সেই তো আসে পাশের বাড়িতে ফুট ফরমায়েশ খেটে খাওয়া দাওয়া যোগাড় করতে হবে ।  রাবেয়ার কোনও মাথা ব্যথা নেই । এতো কিছু ভেবেও লাভ নেই। সে এখন মিলিকে খুঁজছে। কুত কুত খেলবে সে । তার বিনোদনের একমাত্র উপায় । রাবেয়া মিলিদের বাড়ির দিকে যাচ্ছে। হঠাৎ  লোকটা সামনে এসে দাঁড়ালো । সেই লোক, যে মাঝে মাঝেই তার মায়ের সাথে কথা বলতে আসে । লোকটার নাম ধাম কিছুই জানেনা রাবেয়া ।

- আম্মা, কিমুন আছুইন?

-হ, বালা।

রাবেয়ার বিরক্ত লাগছে। সে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাচ্ছে । লোকটার দৃষ্টি মোটেই ভালো না । রাবেয়ার ঘেন্না লাগছে। রাবেয়া দৌড় দিলো।

মিলিকে বাড়িতে পাওয়া গেলো না । মিলি তার খালার বাড়িতে গেছে । রাবেয়ার মনটাই খারাপ হয়ে গেলো । রাবেয়া  তারপরও কিছুক্ষন মিলিদের বাড়িতে বসে আছে, বের হলেই আবার ওই লোকের সামনে পরতে হবে ।  

বাড়িতে ঢুকতেই রাবেয়ার আম্মা তাকে একটা কষে থাপ্পড় দিলো। খিস্তি শুরু করল।

- এতো বড় ধিঙ্গি ছেরি, হারাদিন কুতকুত কুতকুত। মানুষের চোখ লাগেনা?

রাবেয়ার চোখে পানি চলে আসে । বেথায় না। লজ্জায়। কি করবে সে? কিই বা করার আছে তার । মাকেও সে অনেক ভালোবাসে । বুঝতে পারে মা কি বলতে চাচ্ছে। কিন্তু খেলতে গেলে মাঝে মাঝে একটু খাওয়া পাওয়া যায়। লজ্জায় এটা বলতে পারছে না ।

-আর যামুনা আম্মা। ......... কেঁদে কেঁদে জবাব দেয় রাবেয়া।

রাবেয়ার আম্মা , সখিনাও কাঁদছে।এই মেয়েটা তার অনেক আদরের । আর একটা ছেলে আছে। দেড় বছর বয়স । বড় সন্তান সব বাবা মায়েরই প্রথম স্বপ্ন । তাদের উপর ভরসাও বেশি। সখিনার কপাল খারাপ, সে তার সন্তানদের মুখে দুমুঠ খাওয়া দিতে পারেনা ।

 

রাতে শোয়ার সময় সখিনা রাবেয়ার কাছে এসে বসলো। “ মারে , ঢাকা যাবি নি? তোর আব্বার এক বন্ধু  কয়েকদিন ধইরাই কইতাসে ঢাকায় এক বাড়িতে কামের কথা। বালা ঘরে। ৩ বেলা পেট ভইরা খাওন পাইবি। ঈদ চান্দে কাপর দিবো । কাজ কামও বোলে অল্প। আমিতো তোগোরে খাওইতে পারিনারে মা। দেখ যদি কপাল টা ফিরে।“

রাবেয়া বুঝতে পারছেনা কি বলবে। ক্ষুধার যন্ত্রণা আর সহ্য হয়না। আবার মা, বাবা, ভাই কে ছেরে যেতেও মন চায় না।

-আম্মা, আমি কিছু কইবার পারতাম না। তুমি যেইডা চাও হেইডাই করো।‘’

সখিনা কিছুতেই চায়না তার মেয়ে তাকে ছেড়ে যাক । এতো আদরের । কেনও যে কপালটা এরকম । অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে। কি করবে সে। বুকটা খাঁ খাঁ করছে। এতদিন ধরে তিল তিল করে মেয়েটাকে বড় করেছে । এখন বয়স ১৪ এর মাঝামাঝি ।

 

 

৩।

কোনও এক সকালে  রাবেয়া তার পোটলা পুঁটলি সহ  ওই লোক এর সাথে রাওনা দিলো। কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে সে । সখিনার চোখে পানি নেই । পাথর হয়ে গেছে সে । বুকটা ফেটে যাচ্ছে তার । ১.৫ বছরের রবিউলও গলা ছেড়ে কাঁদছে ।

বাসে ওঠার পর থেকেই লোকটা অদ্ভুত আচরন করছে।এদিক সেদিক তাকাচ্ছে আর কিছুক্ষন পরপর কার সাথে ফোনে কথা বলছে। কথার কোনও আগা-মাথা কিছুই বুঝতে পারছেনা রাবেয়া । তার খুব ঘুম পাচ্ছে । বাসে উঠলেই তার ঘুম আসে । খুব ইচ্ছা করছে লাফ দিয়ে বাড়ি চলে যেতে। রবিউল এর মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে বারবার । বিছানায় পঙ্গু বাবার কথাও মনে পড়ছে । মায়ের চোখ দুটো মনে হচ্ছে এখনও তারদিকে তাকিয়ে আছে । মিলির সাথে কুতকুত খেলতে ইচ্ছা করছে । আবার কবে কুতকুত খেলবে মিলির সাথে? ভাবতেই চোখে পানি চলে আসছে.........

গাড়ি যাত্রাবাড়ি পার হচ্ছে । রাবেয়ার ঘুম ভেঙ্গে গেলো । “ আম্মা, ঘুম শেষ? “ রাবেয়ার বাবার বন্ধু বদরুল জানতে চাচ্ছে । “ আমরা আইয়া পরছি পেরায় ।“

রাবেয়া আরমোড় দিচ্ছে । কমলাপুর যেয়ে তারা গাড়ি থেকে নামলো । বদরুল রাবেয়াকে নিয়ে আরেকটা বাসে উঠলো । লোকাল বাস । মিরপুর যাবে ।

রাবেয়ার কাছে সব কিছু গোলক ধাঁধার মত লাগছে । কোথায় নামলো , কোথায় যাচ্ছে কিছুই জানে না ।

 

মিরপুর এসে বাস থেকে নামলো বদরুল , রাবেয়া কে নিয়ে । নিয়ে গেলো মিরপুরের এক বস্তির ঘুপচি এক ঘরে । “ আম্মা , আইজকা এই হানে থাকুইন । একটু জিরাইয়া লন ।  কাইলকা লইয়া জামু নি ।“  রাবেয়াকে এক ছেলে এসে ভাত দিয়ে গেলো । সাথে গরুর মাংস । অনেকদিন গরুর মাংস খায়নি রাবেয়া । খুব ক্ষুধার্ত । পেট ভরে খেলো সে ।  খাওয়ার পর খুব ঘুম আসলো ।  জানেনা কতক্ষন ঘুমাল সে ।  যখন ঘুম ভাঙল , সব অন্ধকার । নিশ্চুপ  চারিদিক ।

খুব কান্না পাচ্ছে । ভয় লাগছে রাবেয়ার । কোনও সাড়া  শব্দ নেই ।  রাবেয়া চোখ বন্ধ করে  তার বাবা , মা , আর ভাই এর চেহারা মনে করছে ।

 

আযান শুনতে পাচ্ছে রাবেয়া । একটু একটু করে আলো ফূটছে ।  ভোর হচ্ছে । আজকেই তাকে কাজে যেতে হবে । না জানি কী কাজ করতে হবে ।

 

 

সকালে তাকে ২ তা পরটা খেতে দেওয়া হোলো । সেই ছোটো ছেলেটাই আসলো নাস্তা নিয়ে । চুপচাপ নাস্তা দিয়েই চলে যায় । তার কিছুক্ষণ পর , বদরুল আসলো । “আম্মা , আইজকা আর কামে যাওয়া হইতেসেনা । যাগো বাসায় নিমু , হেরা কোনে যেন বেড়াইতে গেছে । “

- “ও , আইচ্ছা”

- তাইলে তুমি আইজকাও সারাদিন রেস্ট নেও । কাইলকা কামে লইয়া যামুনি । কিছু খাইতে মনে চায়?

 - না

- আইচ্ছা । তাইলে আমি যাই । পরে আবার আমুনি ।

দিনে আর কেউ এলোনা ।একা একা রাবেয়ার কান্না চলে আসলো । ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদল ও কিছুক্ষন । কোথায় এসে পরেছে সে । “ আম্মা , আমারে লইয়া যাও । আমি তোমার বেক কাম কইরা দিমু ।  ভাল্লাগতেছেনা গো ।“  সন্ধ্যার সময় সেই পিচ্চি ছেলে খাবার দিয়ে গেলো । ক্ষুধায় রাবেয়ার  বমি আসছিলো । গোগ্রাসে সব খেলো । এত তৃপ্তি । রাবেয়া এত মজার খাবার কখনো খেয়েছিল কিনা মনে করতে পারছে না ।

 

 

৪।

ঘুম ভাঙল রাবেয়ার । একটা বড় ঘরে, সুন্দর এক বিছানায় শুয়ে আছে সে । প্রথমে ভাবলো স্বপ্ন । কি সুন্দর ঘর । মিলিদের ঘর ও এত সুন্দর না । রাবেয়ার আস্তে আস্তে মনে পরছে সে ছিল বস্তির এক ঘুপচি ঘরে । এখানে এলো কিভাবে । ভাবতে ইচ্ছা করছে না কিছু । ঘুম আসছে এখন ও । আবার ঘুমিয়ে পড়ল রাবেয়া ।

মনে হয় অনন্তকাল ধরে ঘুমাচ্ছে রাবেয়া ।মাঝে একবার ঘুম ভাঙ্গে আবার ঘুমিয়ে পরে । আবার জাগা আবার ঘুম । হঠাৎ একবার স্বপ্নে দেখল বাবার কোলে বসে আছে , আর রবিউল তাড় চুল ধরে টানছে । রবিউল বলছে , “ ওই , তুই উঠ , আমি বমু “ রবিউল এখনও ঠিক মত কথা বলতে পারেনা । কিন্তু স্বপ্নে তার কথা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে । “ আমি উঠতে পারতাম না ।তুই আম্মার কোলে বয়” । হঠাৎ করে রবিউল মিলি হয়ে গেলো । “রাবু , চল কুত কুত খেলমু ।

কুত কুত কুত কুত ...।ওই তুই পচা......। না । আমি পচা না । তুই পচা ।  মিলি কোত্থেকে পানি এনে রাবেয়ার মুখে মেরে দিলো ।

রাবেয়া পরে গেলো । মিলি ডাকছে ...ওঠ , অই...ওঠ ...।। ওঠ..............................

কে যেন ডাকছে রাবেয়াকে । “এই মেয়ে ? ওঠ ওঠ ...।।আর কত ঘুমুবিরে তুই? উঠে যা ।“

রাবেয়া  ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে । মধ্য বয়সী এক মহিলা ।মাথায় সিঁদুর । রাবেয়ার মাথা এখনও ঝিমঝিম করছে । উঠে বসার চেষ্টা করছে সে ।  মনে মনে ভাবছে হিন্দু বাসায় কাজ করতে হবে?  “ ২ দিন যাবৎ ঘুমাচ্ছিশ ...বাব্বা , মানুষ এত ঘুমায় কিভাবে ।যা গোসল করে, খাওয়া দাওয়া করে নে ।এই তোর বাথরুম , “

রাবেয়া ধাধায় পরে গেলো । সে তো কাজ করতে এসেছে । এত আরামের জায়গা হলে কাজ করতে আর কি সমস্যা ।

ওই মহিলা রাবেয়া কে পরার জন্য শাড়ি দিলো  । রাবেয়া আগে কখনো শাড়ি পড়েনি । সাবান ও দিলো । সুন্দর গন্ধ  । রাবেয়া মনে মনে ভাবছে , এখানেই কাজ করবে সসে । আর কোথাও যাবে না ।

 গোসল করে আসার পর রাবেয়াকে ওই মহিলা খাবার দিয়ে গেলো । সাথে রাবেয়ার বয়সী আরও কিছু মেয়েও আসলো । “ ওরা সবাই আমাকে মাসী বলে ডাকে । বুঝেছিশ ? তুইও মাসী ডাকিস । “ “ তোর নাম কিরে? “ একজন জানতে চাইলো ।

মাসী বলল , “ আগের নাম চলবেনা এখানে । নতুন নাম দিবো তোকে । উমমম , যা তোর নাম আজকে থেকে  রেশমা । “

রাবেয়ার অদ্ভুত লাগছে ।কাজ করতে গেলে আবার নাম পাল্টাতে হবে কেন ? জানতে চাইলো সে, “ আমার নাম পালটাইতে হইবো ক্যা ? “

মাসী বলল ,” তোকে শুধু নাম পরিবরতন করলেই হবেনা । সাজগোজ করতে হবে , গায়ে পারফিউম দিতে হবে । যেসব লোক আসবে , তাদের সাথে সুন্দর করে কথা বলতে হবে , হাসতে হবে । “

রাবেয়ার ভয়ে হাত পা কাঁপছে ।“ আমারে কি কাজ করতে হইবও এইখানে ? সাজগোজ করতে হইবও ক্যারে?”

মাসী হাসছে , কুৎসিত হাসি । “ অনেক নাগর আসবে রে । সুন্দর কথা না বললে কি তারা আসবে? “

“ আমি কাজ করতাম না । আমারে বাড়ি দিয়া আসেন ।আমি যামুগা ।“ রাবেয়া কাঁদছে ।

“সেটা বললে কি হবে রে । এত টাকা দিয়ে তোকে এনেছি । তুই নতুন । তোর খদ্দেরই তো বেশি হবে ।আর যাবি কিভাবে? কলকাতা থেকে বাংলাদেশ তো অনেক দূর ।“ মাসীর ঠোঁটে কুৎসিত হাঁসি ।

“আমারে ছাইরা দেন । আমারে যাইতে দেন ।আফনে আমার আম্মা ।আমারে যাইতে দেন ।“ রাবেয়ার করুন আকুতি । মাসীর কুৎসিত হাঁসি । আর সাথের মেয়েদের করুন দৃষ্টি তাকে এই নোংরা জগতে আমন্ত্রন জানাচ্ছে ।

 

 

৫ ।  

দুই দিন পর এক সন্ধ্যায় , মাসী রাবেয়ার ঘরে এক মধ্যবয়সী লোককে ঢুকিয়ে বাহির থেকে আঁটকে দিয়ে গেলো । রাবেয়া দরজা খোলার শব্দ শুনেই খাটের তলায় লুকিয়ে পড়ল ।  মধ্যবয়সী লোকটা তাকে খুজে বের করে ফেললো । “ এই , খাটের তলায় আমি যাবনা ।বেরিয়ে এসো । ভয় কি ? এসো এসো । আমাকে বলেছে তুমি নতুন ।“

“ আমি বাহির হমুনা । আফনে যান গা ।“ ভয়ে ভয়ে বলছে রাবেয়া ।

-হে হে হে , এটা বললে কি হবে ? যাওয়ার জন্য তো আসিনি ।

রাবেয়া  কোনও ভাবেই বের হবে না ।

লোকটা রাবেয়ার পা ধরে টানা শুরু করলো । রাবেয়া শক্তিতে পারলনা । লোকটাকে লাথি মারছে সে । লোকটা হাসছে ।

 

রাবেয়া কে আছড়ে নিয়ে ফেললো খাটে । কাঁদছে রাবেয়া । “ আফনে আমার আব্বা । আমারে ছাইড়া দেন । আফনের মাইয়ার মতো আমি । আমারে ছাইড়া দেন । “

লোকটা হাত চেপে ধরল রাবেয়ার । রাবেয়া চিৎকার করে ছেরে কাঁদছে । “ আমারে ছাইড়া দেন । আম্মা আমারে লইয়া যাও । ও মা । ও মা ।  “

রাবেয়া জ্ঞান হারালো ।

 

মধ্যবয়সী লোক তার টাকা উসুল করে নিলো ।  

 

এরপর অনেক দিন চলে গেলো । কোনও এক যুবক কে  অনুরোধ করে , বিভিন্ন কৌশলে সে পালিয়ে আসলো , তার বাড়িতে , তার মা বাবার কাছে ।

 

এখন আর খেলার সুযোগ নেই । মিলির বিয়ে হয়ে  গেছে । এখন গ্রামে সবাই জেনে গেছে সে কি পেশায় ছিলও এতদিন । তাদের পরিবার এখন এক ঘরে । গ্রামে তারা এখন উপেক্ষিত ।  রাবেয়ার মা এখন কারো ঘরে কাজ পায় না । রাবেয়া এখন এক বোঝা । এর মধ্যে একবার মিলি শ্বশুর বাড়ী থেকে এসেছিলো ।

কিন্তু রাবেয়াকে দেখেই পালিয়ে গেলো । এখনো রাবেয়া কাঁদে । এখন কাকে সে বোলবে তার দুঃখের কথা । মাঝে মাঝে সে তেঁতুল গাছটার গোড়ায় বসে থাকে আর কথা বলে ।  

কোনও এক সকালে রাবেয়া দুটি কলসি যোগাড় করল । আর ছোটো ২টা দড়ি । বিড়বিড় করে নিজের বানানো গান গাইছে সে । মাত্র চার লাইন এর গান । শেষ দুইটা লাইন ,

 

“ ওহহোরে মোর জীবন ,

আইজকা তোরে দিমু কঠিন এক মরণ ।“

 

সকালে বাড়ীর সামনের পুকুরটাতে রাবেয়ার ওড়না ভাসতে দেখা গেলো ।  

 

রাবেয়ার মা এখন কাজ পায় । কোনও না কোনও ভাবে খাবার জুটেই যায় ...............।।

 

Share