টাইটানিক যদি হত বাংলা সিনেমা

লিখেছেন - আসিফ শুভ | লেখাটি 2254 বার দেখা হয়েছে

১)

হাডুডু খেলে 'টাইনাটিক' জাহাজের টিকিট জিতেছে জ্যাক। টিকিট জেতার আনন্দে জ্যাক বাড়ির উদ্দেশ্যে দৌড় দিলো। বাড়িতে পৌঁছেই জ্যাক ডাকাডাকি শুরু করলো, "মা, ও মা, দেখে যাও! তোমার ছেলে আজ টাইটানিকের টিকেট জিতেছে!"

 

ছেলের ডাক শুনে মা উঠোনে বের হয়ে এলেন। ছেলে জ্যাককে বুকে টেনে নিলেন তিনি। অশ্রুসিক্ত চোখে মা বললেন, "তুই আমার গর্ব! আজ তোর বাবা বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন।"

তারপর ঘরে ঢুকে দেয়ালে টাঙানো জ্যাকের বাবার ছবির সামনে যেয়ে দাড়ালেন মা। বললেন, "ওগো, তুমি দেখতে পাচ্ছো? আজ তোমার ছেলে মস্ত বড় জাহাজ টাইটানিকের টিকিট জিতেছে। বলো, তুমি খুব খুশি হয়েছো, তাই না?"

জ্যাক আবেগ সামলে নিয়ে বললো, "মা, আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। টাইটানিক ছাড়ার সময় হয়ে গেছে। দোয়া করো মা!"

জ্যাকের মা তখন জ্যাকের হাতে একটা তাবিজ বেধে দিয়ে বললেন, "এটাই তোকে বিপদ থেকে রক্ষা করবে।"

তারপর জ্যাক মায়ের দোয়া নিয়ে ব্যাগ ব্যাগেজ হাতে বেরিয়ে পড়লো।

 

রাস্তায় এসেই ঘড়ি দেখলো জ্যাক। টাইটানিকের যাত্রা শুরু হতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি।

জ্যাক একটা রিকশা ডাকলো, "এই মামা, টাইটানিকে যাবেন?"

রিকশাওয়ালা অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে বললো, "না, যামু না।"

 

কি আর করা। টাইটানিকে পৌঁছাতেই হবে! জ্যাক দৌড় শুরু করলো। নায়ক জ্যাক দৌড়াতে দৌড়াতেই টাইটানিকের কাছে পৌঁছে গেল!

কিন্তু তাড়াতাড়ি দৌড়ানোর কারনে টাইটানিকে ঢুকতে যেয়ে জ্যাকের ধাক্কা লাগলো এক সুন্দরী মেয়ের সাথে। ধাক্কা লাগার কারনে দুজনের ব্যাগ ব্যাগেজই জাহাজের ফ্লোরে পড়ে গেল। মেয়েটা রেগে বললো, "এই যে মিস্টার, দেখে চলতে পারেন না?"

জ্যাক বললো, "দুঃখিত মেমসাহেব। আমি জ্যাক। আপনি? একই জাহাজে থাকবো, পরিচয় থাকা ভালো!"

উত্তরে মেয়েটা বললো, "আমার নাম রোজ"

 

তারপর দুজন একসাথে ফ্লোর থেকে ব্যাগ তুলতে যেয়ে কপালে ধাক্কা খেলো। কপালে ধাক্কা খাওয়ার সাথে সাথে দুজনের চোখে চোখ পড়লো! চোখে চোখ পড়তেই দুজনার কি যেন হয়ে গেল! সেকেন্ড যায়, মিনিট যায়, দুজন অপলক চেয়ে থাকে! হঠাত্‍ পেছন থেকে রোজের মা রোজকে ডাকলেন। সম্বিত ফিরে পেয়ে রোজ চলে গেল। আর রোজের গমনপথের দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকলো জ্যাক। জ্যাক মনে মনে গাইলো,  

"প্রেমে পড়েছে, ও মনটাআ প্রেমে পড়েছে! অচেনা এক মেয়ে এসে পাগোওল করেছে! আ-হা!"

 

২)

 

রোজের মনে খুব দুঃখ। রোজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে এক ধনীর লম্পট ছেলের সাথে। সেই লম্পটের পরিবারের সাথেই রোজের পরিবার এই টাইটানিকে ভ্রমন করতে এসেছে। লম্পটটা তার সাথে ভাব জমাতে চেয়েছিল। কিন্তু রোজ বলে দিয়েছে, "লম্পট শয়তান, তুই আমার দেহ পাবি, কিন্তু মন পাবি না!" লম্পট ভিলেন ক্যাল তখন অট্টহাসি দিয়ে বলেছে, "আমি সেটাই তো চাই সুন্দরী!"

তাই রোজ মনের দুঃখে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিলো। আত্মহত্যা করার জন্য রোজ জাহাজের শেষ মাথায় চলে গেল। পানিতে ঝাপ দিয়ে সে জীবন বিসর্জন দেবে।

 

 

জাহাজের ডেকে শুয়ে শুয়ে জ্যাক গোল্ডলিফ সিগারেট খাচ্ছিলো আর রোজের কথা ভাবছিলো। হঠাত্‍ তার হাত থেকে সিগারেটটা নিচে পড়ে গেল। হঠাত্‍ করেই জ্যাকের মনে উঁকি দিলো অজানা আতঙ্ক। হাত থেকে সিগারেট পড়ে গেল কেন? সিগারেট পড়ে যাওয়াটা নিশ্চয় বিপদের সংকেত! কিন্তু কিসের বিপদ? আমার রোজের কিছু হয়নি তো??

"রোজ! আমার রোওজ!" বলে চিত্‍কার করতে করতে জ্যাক ছুটলো জাহাজের শেষ মাথায়।

 

 

জাহাজের শেষ মাথায় পৌঁছে জ্যাক দেখলো যে রোজ পানিতে ঝাপ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জ্যাক আবেগঘন কন্ঠে বললো, "না রোজ, না! আমাকে ছেড়ে তুমি চলে যেও না। ফিরে এসো প্রিয়তমা!"

জাহাজের রেলিংয়ের অপর পাশে দাড়িয়ে রোজ বললো, "না না নাআআআ! এ জীবন আমি রাখবো না! আমি কেন বাঁচবো? কেন কেন কেন?? আর আপনি আমাকে তুমি করে বলছেন কেন?? কেন?"

 

জ্যাক রেলিংয়ের কাছে এসে বললো, "তুমি আমার জন্য বাঁচবে.. কারন আই লাভিউ রোজ!"

রোজের চোখে পানি চলে এলো! অতি আবেগঘন কন্ঠে রোজ এবার বললো, "তুমি সত্যি আমাকে ভালোবাসো?"

জ্যাক বললো, "মেমসাহেব, আমি গরীব হতে পারি, কিন্তু মনটা খাটি। এই আকাশ সাক্ষী, বাতাস সাক্ষী, টাইটানিক সাক্ষী, রোজ, তুমি শুধু আমার"

দুচোখে পানি নিয়ে রোজ বললো, "ও গো জ্যাক, আই লাভিউ ঠু!"

 

রেলিংয়ের দুপাশ থেকেই দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো! কিন্তু আবেগের আতিশায্যে স্লিপ করলো রোজের পা! রোজ চিত্‍কার করে উঠলো, "বাঁচাও! বাঁচাও!"

 

নায়ক জ্যাক তখন বীরপুরুষের মত টেনে তুললো রোজকে।

জ্যাকের শক্তি সাহস দেখে রোজ মনে মনে বললো,

"পোলা তো নয়, এ তো আগুনেরই গোলা!! উহ!! পোলা তো নয় একখান আগুনেরই গোলা!!"

 

 

এদিকে রোজের চিত্‍কার শুনে লোকজন নিয়ে ছুটে এসেছে রোজের হবু স্বামী লম্পট ক্যাল।

রোজের সাথে জ্যাককে দেখে হুংকার ছাড়লো ক্যাল, "তুই কে ছোটলোক! বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়িয়েছিস! এত বড় সাহস? তোর ঐ হাত আমি কেটে নিবো!"

   রোজ বললো, "না ক্যাল না। জ্যাকের কোনো দোষ নেই। ও আমার জীবন বাঁচিয়েছে! আমাকে টেনে তুলেছে।"

এটা শুনে ক্যাল কিছুটা শান্ত হলো। ক্যালের এসিসটেন্ট বললো, "তার মানে ছেলেটা নায়কের মত কাজ করেছে! হুজুর, ছেলেটাকে কিছু টাকা দিয়ে দিলেই হয়!"

এ কথা শুনে ক্যাল পকেট থেকে টাকা বের করে জ্যাকের হাতে দিলো।

কিন্তু জ্যাক টাকাগুলো ছুড়ে ফেলে বললো, "আমি গরীব হতে পারি! কিন্তু ছোটলোক না! মনে রাখবেন, টাকা দিয়ে ভালোবাসা কেনা যায় না! আমি রোজকে ভালোবাসি!"

 

 

ক্যাল তখন বললো, "ভালোবাসা? হাহাহাহা! ছোটলোকের আবার ভালোবাসা! রোজ আমার হবু বউ। রোজ আমার! আর কোনোদিন রোজের আশেপাশে দেখলে তোকে আমি গুলি করে মারবো! এখনি মারতাম। কিন্তু বিয়ের আগে খুনখারাবী করতে চাচ্ছি না। ঠিক বলছি না এসিসটেন্ট??"

পাশে দাড়ানো এসিসটেন্ট দাত বের করে সায় জানালো, "জি হুজুর জি হুজুর"

 

জ্যাক টান দিয়ে গায়ের শার্ট খুলে ফেললো! তারপর হাতে লাগানো তাবিজ দেখিয়ে বললো, "এই তাবিজ থাকতে তুই আমার কিচ্ছু করতে পারবি না শয়তান!"

 

 

ক্যাল আঙ্গুল উচিয়ে শাসালো, "বিয়েটা হয়ে যাক, তারপর তোর সাথে হিসাবটা মিটিয়ে নেবো।"

এ কথা বলেই ক্যাল তার লোকজন সহ রোজকে টানতে টানতে ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের দিকে চলে গেল।

 

পেছন থেকে জ্যাক চিত্‍কার করলো, "রোজের কাছ থেকে কেউ আমাকে আলাদা করতে পারবে না! ক্যা..অ্যাঁ...অ্যাঁ...ল!!!!"

কিন্তু জাহাজের লোকজন এসে জ্যাককে ধরে ফেললো। দূর থেকে রোজের কান্নামিশ্রিত কন্ঠ শোনা যাচ্ছিলো, "জ্যাআআক..."

 

 

৩)

রোজকে তার কেবিনে বন্দী করে রাখা হয়েছে। জ্যাকের কথা ভেবে কাঁদছিলো রোজ।

হঠাত্‍ রোজের কেবিনের দরজা খুলে গেলো। ভেতরে ঢুকলো ক্যাল। ক্যালের হাতে একটা জুয়েলারী বক্স। বক্সের ভেতর থেকে একটা ডায়মন্ড নেকলেস বের করে ক্যাল বললো, "এটা তোমার জন্য রোজ। পছন্দ হয়েছে? জ্যাক তার সারাজীবন চাকরী করেও এই নেকলেস কিনে দিতে পারবে না তোমাকে! এটার দাম দশ লাখ টাকা!"

রোজ বললো, "শয়তান, একটা ডায়মন্ড নেকলেস দিয়ে তুই আমার ভালোবাসা পেতে চাইছিস?? তোর সেই ইচ্ছা আমি কোনোদিনও পূরণ হতে দেবো না শয়তান!"

ক্যাল ভিলেনি সুরে বললো, "সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে কিভাবে আঙ্গুল বাঁকা করতে হয়, তা আমি খুব ভালো করেই জানি সুন্দরী!"

তারপর ক্যাল নোংরা হাসি দিয়ে রোজের এগিয়ে এগোতে শুরু করলো! রোজ কিছুটা পিছিয়ে যেয়ে বললো, "আমার জ্যাক তোকে টুকরো টুকরো করে ফেলবে!" বলেই সে জ্যাক বলে চিত্‍কার দিলো!

 

প্রেমের অত্যধিক শক্তির জোরে রোজের চিত্‍কারধ্বনি দরজার ছোট্ট এক ফাক দিয়ে বেরিয়ে গেল কেবিনের বাইরে! তারপর পৌঁছে গেলে জ্যাকের কাছে! প্রতিধ্বনিত হতে থাকলো বারবার!

 

 

মনের দুঃখে আবারো গোল্ডলিফ সিগারেট খাচ্ছিলো জ্যাক। কিভাবে রোজকে উদ্ধার করা যায় ভাবছিলো। কিন্তু কোনো কুলকিনারা পাচ্ছিলো না। রোজের চিত্‍কার শুনে আবারো হাত থেকে সিগারেট পড়ে গেলো! নিশ্চয় রোজের বিপদ!

দৌড় শুরু করার আগে জ্যাকও চিত্‍কার করলো, "রোজ, আমি আসছি রোওজ!"

প্রেমের অত্যধিক শক্তির জোরে জ্যাকের চিত্‍কার ধ্বনি দরজার ঐ ছোট্ট ফাক দিয়ে পৌঁছে গেল রোজের কেবিনে! প্রতিধ্বনিত হতে থাকলো বারবার!

 

রোজ খুশিতে বলে উঠলো, "আসছে, জ্যাক আসছে! ওকে কেউ আটকাতে পারবে না!"

ক্যালের মুখ দুশ্চিন্তায় ছেয়ে গেলো। কার্ল এসিসটেন্টকে ডাকলো, "জ্যাককে আটকাও!"

 

৪) সব প্রতিবন্ধকতা ভেঙে রোজের কাছে ছুটে চললো জ্যাক! রোজের চিত্‍কারের প্রতিধ্বনি তখনো জ্যাকের কানে বাজছে! প্রতিধ্বনি শুনতে শুনতে এগিয়ে চললো সে। কিন্তু বাধা হয়ে দাড়ালো একটা তালাবদ্ধ কলাপসিবল গেট! জ্যাক কিছুটা পিছিয়ে গেল। তারপর তীব্র গতিতে ছুটে যেয়ে ধাক্কা মারলো গেটে! কিন্তু না! তালা ভাঙলো না! ওদিকে তখনো রোজের চিত্‍কারের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে!

 

হঠাত্‍ জ্যাক টান দিয়ে গায়ের শার্ট খুলে ফেললো! তারপর তাবিজটা হাতে নিয়ে গেটে ধাক্কা দিলো, "ইয়াআআআলিইইই!!

সাথে সাথেই খুলে গেল তালা!

 

রোজের কেবিনের সামনে যেয়ে আবারো বাধার মুখে পড়লো জ্যাক! কার্লের লোকজন পিস্তল তাক করে আছে জ্যাকের দিকে!

জ্যাক তার তাবিজটা হাতের মুঠোয় ভালো করে আটকে নিলো। তারপর বললো, "আজ তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না ক্যাঅ্যাঅ্যাল!"

এ কথা বলে বীরদর্পে রোজের কেবিনের দিকে এগিয়ে গেল জ্যাক। চারপাশ থেকে কার্লের লোকজন গুলি ছুড়লো, কিন্তু একটা গুলিও জ্যাকের গায়ে লাগলো না! কারন, প্রেমের শক্তি অত্যধিক!!

 

জ্যাকের একটা কিকেই রোজের কেবিনের দরজা ভেঙে গেল। জ্যাককে দেখে রোজ আনন্দে চিত্‍কার করলো, "জ্যাক এসেছে, আমার জ্যাক এসেছে! ক্যাল, এবার মর তুই শয়তান!"

ক্যাল এগিয়ে গেল জ্যাককে মারতে। দুজনের বেশ ধস্তাধস্তি হলো। ধস্তাধস্তি করতে করতে দুজন কেবিনের শেষপ্রান্তে দেয়ালের কাছে পৌঁছে গেল! জ্যাক ক্যালকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো! তারপর ক্যালের মুখ বরাবর একটা শত শত টন ওজনের ঘুষি মারলো! কিন্তু চালাক ক্যাল সময় মত মুখটা সরিয়ে নিলো। আর ঘুষিটা যেয়ে পড়লো দেয়ালে।

 

প্রথমে দেয়াল কিছুটা কেঁপে উঠলো। তারপর সব চুপ! কয়েক সেকেন্ড কোনো সাড়াশব্দ নেই।

হঠাত্‍ করেই দেয়ালে একটা ফাটল দেখা গেল! এবং চারপাশ থেকে মানুষের কোলাহল, চিত্‍কার শোনা গেল, "টাইটানিক ভেঙে পড়েছে! টাইটানিক ডুবে যাবে!"

 

ক্যাল নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না! হতভম্ব ক্যালকে রেখে রোজের হাত ধরে জ্যাক ছুটলো কেবিনের বাইরে!

 

 

৫) কিছুক্ষনের মাঝেই টাইটানিক ডুবে গেল। রোজ আর জ্যাক একটা কাঠের টুকরো আকড়ে ধরে ভেসে থাকলো। কিন্তু কাঠের টুকরোটা দুজনের ওজন সামাল দিতে পারছিলো না। তখন জ্যাক বললো, "রোজ, তুমি কাঠের উপরে উঠে বসো, আমি কাঠটা ধরে পানিতে ভেসে থাকছি।"

রোজ দ্বিমত পোষন করলো, "না জ্যাক, না। পানি খুব ঠান্ডা। একটু পরেই তুমি জমে যাবে..."

জ্যাক ধমকের সুরে বললো, "হু টোল্ড ইউ? কাঠের উপর বসে থাকো।"

কিন্তু পানিতে নামার কিছুক্ষন পরেই জ্যাক টের পেলো যে রোজের কথাই সত্যি। জ্যাক কাপতে কাপতে বললো, "উহুহুহু, ইটস বেসম্ভব ঠান্ডা!!"

রোজ আতংকিত হয়ে বললো, "তাহলে এখন কি হবে জ্যাক? আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না"

 

 

তখন জ্যাক তার হাতের মুঠোয় থাকা তাবিজটা দেখলো। বললো, "কিচ্ছু হবে না। আমি তোমার সাথে আছি"

তারপর নায়ক জ্যাক সাতার কাটতে শুরু করলো কাঠের টুকরোটা ধরে। বড় বড় ঢেউ আর বেসম্ভব ঠাণ্ডা পানি ভেদ করে রোজকে সাথে নিয়ে জ্যাক পাড়ি দিলো আটলান্টিক মহাসাগর! সুউচ্চ ঢেউ, শীতলতা, ক্ষুধা সবকিছুই পরাজিত হলো নায়ক জ্যাকের কাছে!

 

সিনেমার শেষ দৃশ্যঃ নায়ক জ্যাক ও নায়িকা রোজ কোমর দুলিয়ে নাচছে! ব্যাকগ্রাউন্ডে গান বাজছেঃ 

 

"তুমি আমার আলু

আমি তোমার পটল! 

আমাদের এই প্রেম 

রবে ওগো অটল!

তুমি আমার রোজ 

আমি তোমার জ্যাক!

 আমাকে কোনো দিন 

দিও না গো ছ্যাক!"

 

Share