রোমান্টিক ষড়যন্ত্র

লিখেছেন - আসিফ শুভ | লেখাটি 3653 বার দেখা হয়েছে

মাধবীকে নিয়ে আমি কোনোদিনই কোথাও খেতে বা ঘুরতে যেতাম না। মাধবী এবিষয়ে কিছু বললেই আমি বলে দিতাম- "প্রেম ভালোবাসা হচ্ছে হৃদয়ের ব্যাপার। খাওয়া দাওয়া, ঘুরে বেড়ানোর সাথে এর সম্পর্ক নাই। হৃদয় দিয়ে সবকিছু চিন্তা করো। i feel you and you feel me! এটাই আমাদের ভালোবাসা! কি বুঝলা?"

মাধবী বলতো, "বিয়ের পরেও এই কথাটা মনে রাখবা। সারাদিন আমাকে ফিল করবা। তোমার তো খাওয়া দাওয়া লাগে না। so, বিয়ের পর রান্না হবে না।"

 

এই হলো গল্পের পটভূমি। এবার মূল গল্প শুরু করি।

আমি শুভ। ও মাধবী। সে মিলা। এই তিনজনকে নিয়েই আজকের গল্প।

 

মিলা হলো মাধবীর সবচেয়ে কাছের বন্ধু, বেস্ট ফ্রেন্ড। অবশ্য মিলার সাথে আমারও অল্পসল্প পরিচয় আছে।

 

একদিন মিলা আমার ফেসবুক ওয়ালে লিখলো, "Hi!"

 

তো আমিও রিপ্লাই দিলাম, "Hello!"

 

এরপর মিলা প্রশ্ন করলো, "মাধবীর বয়ফ্রেন্ড কে?"

 

আমি একটু মুড দেখিয়ে সোজাকথায় কমেন্ট রিপ্লাই দিলাম, "আমি"

 

কিছুক্ষন পর মিলা আবার কমেন্ট দিলো, "তুমি বয়ফ্রেন্ড! আচ্ছা, তুমি মাধবীকে কী করো?"

 

এইটা আবার কেমন প্রশ্ন! অনেক দীর্ঘ উত্তর দেয়া যেতো। কিন্তু মাধবী যদি দেখে আমি অন্য মেয়ের সাথে এতো গল্প করছি, তাহলে আমার খবর আছে! তাই আবারো সংক্ষেপে লিখলাম, "ভালোবাসি"

 

একটু পরেই মিলার কমেন্ট, "ভেরী গুড! আচ্ছা, তোমার কি মনে হয়? মাধবী কাকে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড মনে করে?"

 

আমার একটু তাড়া ছিলো। তাই তাড়াতাড়ি কমেন্ট দিলাম, "তোমাকে"

তারপর ফেসবুক থেকে লগ আউট করে বাইরে চলে গেলাম।

 

বেশ কিছুক্ষন পর মাধবীর ফোন পেলাম।

 

আমি বললাম, "বলো জান!"

 

ওপাশ থেকে মাধবীর উত্তেজিত কন্ঠস্বর শোনা গেলো, "ঐ! তোমার এতো সাহস হয় কেমনে? শোনো, এই তোমাকে লাস্ট টাইম ফোন করলাম। আর জীবনেও তোমাকে ফোন করবো না। আমার সাথে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করবা না। আর লাস্টে একটা কথা বলি, আমার সাথে এরকম না করলেও পারতা। গুড বাই। সুখী হয়ো।"

 

আমি হা হয়ে গেলাম। বলে কি এই মেয়ে! বললাম, "কি হয়েছে তোমার? আন্টি বকা দিছে নাকি?"

 

ওপাশ থেকে বজ্রপাত, "Shut up!"

 

এই বলে মাধবী কল কেটে দিলো। আমি পড়লাম অথৈ সাগরে। কি হচ্ছে, কি ঘটছে কিছুই বুঝলাম না। ফেসবুকে ঢুকলাম। মাধবীর একটা ইনবক্স মেসেজ পেলাম। মেসেজে শুধু একটা লিংক দেয়া। আর কিছু না। লিংকে ক্লিক করলাম।

 

মিলার সেই ওয়ালপোস্টের পেজটা ওপেন হলো। সবকিছু দেখে তো আমার মাথায় হাত!! মিলা একি সর্বনাশ করলো আমার! শয়তান মেয়েটা নিজের সবগুলো কমেন্ট ডিলিট করে দিয়েছে। ওয়ালপোস্টটাতে শুধু আমার কমেন্টগুলো দেখা যাচ্ছে। তাহলে ব্যাপারটা কি দাড়ালো? মাধবী দেখেছে যে মিলা আমার ওয়ালে "Hi!" লিখেছে। আর সেখানে আমি চারটা কমেন্টের মাধ্যমে লিখেছি: "Hello! আমি ভালোবাসি তোমাকে।"

 

ফেসবুকে আমার অবর্তমানে ষড়যন্ত্রের নীল নকশা অঙ্কিত হয়েছে। এবং তা বাস্তবায়িতও করা হয়েছে। ফল ভোগ করছি আমি।

 

একরাশ হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে ফোন করলাম মিলাকে। ফোন ধরেই হাসতে হাসতে সে বললো, "কি খবর মাধবীর বয়ফ্রেন্ড! কেমন আছো?"

 

মেজাজ চরম খারাপ হয়ে গেলো। তবু নিজেকে শান্ত রাখলাম। কারন এই মহাবিপদে মিলা একমাত্র সহায়। ভদ্রভাবে বললাম, "দেখো, এইসব নিয়ে ফান করা উচিত না। সিরিয়াস কিছু হয়ে যেতে পারে। প্লিজ এই নাটক বন্ধ করো। মাধবীকে সব বলে দাও।"

 

মিলা ব্যঙ্গাত্বক সুরে বললো, "তুমি আমাদের সবার জামাই বাবু! তোমাকে কি এতো সহজে ছাড়া যায়? আসো, একটা চুক্তি করি!"

 

আমি বললাম, "কিসের চুক্তি? আমাকে কি করতে হবে?"

 

মিলা বললো, "চাইনিজ খাওয়াতে হবে! আজ বিকাল পাঁচটায় কলেজের পাশের চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আসো।"

 

টাকার মায়া ত্যাগ করে বলে দিলাম, "ওকে। আসবো। বাই।"

 

 

এরমাঝে মাধবীর কোনো খোঁজ নাই। মাধবীর ফোন অফ।

বিকালে আমি সেই চাইনিজে গেলাম। খাবার অর্ডার দিলাম। চোখ কান বন্ধ করে একটু একটু করে খেতে লাগলাম। মিলার খাওয়া শেষ হলেই বাঁচি।

হঠাত্‍ মিলার মোবাইল বেজে উঠলো। মিলা আমাকে বললো, "এক বান্ধবী ফোন করেছে।"

তারপর ফোনে কথা বলা শুরু করলো সে। তাকে বলতে শুনলাম, "আরে হ্যা! আমার সেই বয়ফ্রেন্ডের সাথে! কলেজের ডান পাশের চাইনিজটাতে। হ্যা হ্যা! তুই আয়! পরিচয় করিয়ে দিবো!"

 

আমি অবাক হয়ে বললাম, "এইটা কি বললা তুমি??!!"

 

মিলা হেসে বললো, "আমি আবার কি বললাম?"

 

উত্তরে আমি কিছু বলার আগেই ক্ষিপ্রগতিতে চাইনিজে মাধবীর প্রবেশ!!!

 

বুঝলাম ফাঁদে পড়েছি! মুখ লুকানোর জায়গা খুঁজে পেলাম না। করুন চোখে একবার মাধবীর দিকে তাকালাম।

 

মাধবী আমাদের পাশে এসে দাড়ালো। ও মিলাকে বললো, "তোকে বলেছিলাম না! এর মতো গাধা দুনিয়াতে আর নাই!!"

একথা শুনে মিলা হাসতে লাগলো! মিলা বললো, "তাই তো দেখতেছি!"

 

মাধবী আমার দিকে তাকিয়ে বললো, "এই যে জনাব, আপনি নাকি আমাকে বিয়ে করবেন? এই আপনার সাহস! যা কিছু ঘটলো, সেগুলো আমাকে না বলে আপনি আমার বান্ধবীর সাথে চাইনিজে আসছেন চুক্তি করতে! ইডিয়ট কোথাকার!"

 

আরো একবার আমি বিস্ময়ে হতবাক। তোতলাতে তোতলাতে বললাম, "তু তু তুমি সবকিছু আগে থেকে জানতে?"

 

মাধবীর উত্তর, "জি জানতাম। এটাও জানতাম যে তুমি গাধা। তবে এটা জানতাম না যে তুমি মহা গাধা।"

 

আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। মিষ্টি করে হেসে বললাম, "পাবলিক প্লেসে এসব বলো না। মানুষ তোমাকে খারাপ ভাবতে পারে! রাতে ফোন করবো। তখন যা ইচ্ছা বলো!"

 

মাধবী অন্যদিকে ঘুরে বললো, "নির্লজ্জ!"

 

মিলা তখনো হাসছে! মিলা বললো, "আমি যাই বাবা! আমার কাজ শেষ। বাকিটা তোমরা বোঝো!"

 

মাধবীর ঠোটেও তখন মায়াবী হাসি। সত্যি সত্যি মিলা চলে গেলো। আর মাধবী আমার সামনে বসে পড়লো।

 

সূর্য ডুবছে। চাইনিজের বাইরে দিন আর রাত মুখোমুখি। চাইনিজের ভেতরে আমি আর মাধবী মুখোমুখি। প্রকৃতি খুউউউউব রোমান্টিক

.........................

 

Share