কিছুটা সম্মুখে... কিছুটা আড়ালে...

লিখেছেন - আসিফ শুভ | লেখাটি 995 বার দেখা হয়েছে

১)

দুই বছর আগের ঘটনা। সেবার বইমেলায় আমার একটা বই প্রকাশিত হয়েছিলো। অখ্যাত এক স্টলে সাজানো থাকতো আমার কবিতার বই। আর তার পাশে দাড়িয়ে থাকতাম আমি। দেখতাম মানুষের আনাগোনা। কালে ভদ্রে দুই একজন তরুণ তরুণী আমার বইটা হাতে তুলে নিতো। দু-চার পাতা উল্টে দেখতো তারা। তারপর মুখখানা কুচকে আবার জায়গামত রেখে দিতো। আমার মলিন মুখ উপেক্ষা করে তারা হাত বাড়াতো অন্য কোনো বইয়ের দিকে... আর এভাবেই অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকতো আমার স্বপ্নের বই। কি আর করা? দিনশেষে আমি নিজেই এক কপি কিনে বাড়ি ফিরতাম।

 

এভাবেই চলছিল দিন। প্রথম ১২ দিনে ১২টা বই বিক্রী হয়েছিলো। বলাই বাহুল্য, সব গুলোই আমার নিজের কেনা। বন্ধু বান্ধব কেউ কেনেনি বইটা। আমার কাছ থেকে ফ্রী ফ্রী নিয়েছে তারা! আর আমিও মানুষকে আমার বই কেনার জন্য অনুরোধ করতে ইচ্ছুক ছিলাম না। এটা আমার স্বভাবে নাই।

 

১৩ই ফেব্রুয়ারী বিকেলে আমি যথারীতি সেখানেই দাড়িয়ে ছিলাম। ফালগুনের প্রথম দিন। চারদিকে রঙের উৎসব। সব রমণীদের পরনে আগুন রঙের পোষাক। সেই সকাল থেকে বাসন্তি রঙ দেখতে দেখতে চোখ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আনমনে এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলাম। হঠাৎ করেই চোখে পড়লো নীল রঙের এক শাড়ি পরিহিতাকে। সে দাড়িয়ে ঠিক আমার পাশেই। কখন যে আমার পাশে এসে দাড়িয়েছে, কে জানে! এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, একটা মেয়ে আমার পাশে দাড়াতেই পারে। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তার হাতে আমার কবিতার বই। কোনো তরুণীর হাতে আমার কবিতার বই, এটা নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী ঘটনা!!

 

বেশ ভাবের সাথে বইটা উল্টে পাল্টে দেখছে মেয়েটা। তার মুখে স্মিত হাসি। হাসি হাসি মুখ করে স্টলের বিক্রেতাকে বললো, "আমার এই বইটা ২ কপি লাগবে।" বলেই ২টা একশ টাকার নোট বের করে দিলো সে। তারপর বাকি টাকা ফেরত পাবার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। এরমাঝে একবার হাত ঘড়িতে সময় দেখে নিলো সে।

 

আর এদিকে আমার আনন্দ তো আর ধরে না। এই প্রথম কেউ আমার বই কিনলো। এই মেয়েটা তো আমার জীবনে ইতিহাস হয়ে গেলো!! আমি কল্পনা করা শুরু করে দিলাম। বহুদিন পর, বহু বহুদিনপর, সাধারণজ্ঞান বইয়ের প্রশ্ন হবে এমনঃ আসিফ শুভর কবিতার বই প্রথম কে কিনেছিলো??

উত্তরঃ নাম না জানা এক নারী।

প্রশ্নঃ সেই নারী কি রঙের শাড়ি পরিধান করেছিলো?

উত্তরঃ নীল।

বিসিএস পরীক্ষায় এই প্রশ্ন আসবে!!

 

নিজেকে থামালাম। এতো বেশি কল্পনা ভালো না!

যাই হোক, আমি ভালো করে পর্যবেক্ষন করা শুরু করলাম নীল সেই শাড়ি পরিহিতাকে। একজন নারী হিসেবে নয়, বরং আমার বইয়ের পাঠিকা হিসেবে, প্রথম ক্রেতা হিসেবে।

 

মেয়েটা মাঝারী উচ্চতার। মাথায় ঢেউ খেলানো চুল। তার ফরসা শরীরে নীল শাড়িটা মানিয়েছিলো বেশ। ফাগুনের প্রকৃতিতে প্রভাবিত চোখ আমার। সেই চোখে দেখছিলাম তাকে। তার পরণের নীল শাড়িটাকে মনে হচ্ছিলো নীল আকাশ। আর তার শরীরের ফরসা অনাবৃত অঙ্গগুলোকে মনে হচ্ছিলো সেই নীলাকাশের সাদা সাদা মেঘ। কপালের টিপটা মেঘের মাঝে উঁকি দেয়া সূর্য। সব মিলিয়ে আমার চোখে তখন আকাশ-মেঘের প্রতিচ্ছবি। কিছুটা দৃষ্টির সম্মুখে, কিছুটা দৃষ্টির আড়ালে। সেই মেঘের মাঝে একটা রঙিন ঘুড়ি ওড়াবো কিনা ভাবতে ভাবতেই শুনতে পেলাম বিক্রেতার কন্ঠ। বাকি টাকা ফেরত দিয়ে বিক্রেতা মেয়েটাকে বললো, "কবি উপস্থিত আছেন।"

 

মেয়েটা উচ্ছসিত হয়ে বললো, "তাই? সত্যি? কোথায় উনি?"

 

বিক্রেতা আমার দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলো।

 

বুঝলাম যে মেয়েটা এখন আমার দিকেই তাকাবে। হাতের আঙ্গুলগুলোকে চিরুনি বানিয়ে আমি চুল ঠিক করলাম। তারপর কবিসুলভ চেহারায় মেয়েটার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসলাম। সে আমাকে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলো। ভাললাগা নিয়ে যার বই কিনছে, সে তার পাশেই দাড়িয়ে, এটা সে আশা করেনি হয়তো।

নিজেকে সামলে নিয়ে মেয়েটা বললো, "আপনি অনেক সুন্দর লিখেন।"

 

চিরাচরিত ভদ্রতার বাণী ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে আমি বললাম, "লেখা না পড়েই কথাটা বলে দিলেন?"

 

মেয়েটা এবার আর অপ্রস্তুত হলো না। পাল্টা জবাব দিলো, "মন্তব্য করতে পুরো বই পড়া লাগে না। কয়েক লাইন পড়লেই বোঝা যায় কে কেমন লেখে!"

 

তার কন্ঠের দৃড়তা মুগ্ধ করলো আমাকে। বললাম, "অনেক কবিতা পড়েন বুঝি?"

 

মেয়েটার মুখ উজ্জল হয়ে উঠলো। রাজ্যের আনন্দ নিয়ে বললো, "খুব! কবিতা আমার অনেক ভাল লাগে! জীবনানন্দের সব কবিতা আমার মুখস্থ!"

 

আমি রোবটের মত বললাম, "বাহ!"

 

নিজের কথা এভাবে নিজেই বলে ফেলেছে, এটা বুঝতে পেরে প্রসঙ্গ পালটালো সে। বললো, "আমি ভেবেছিলাম, আপনি বয়স্ক কেউ।"

 

আমি একটু খুশি হওয়ার ভঙ্গিতে বললাম, "কিভাবে বুঝলেন আমি তরুণ?? আমাকে দেখেই বুঝে ফেললেন??"

 

মেয়েটা লজ্জা পেলো কিছুটা। মাতাল বাতাসে চোখের উপর এসে পড়া চুলগুলো হাত দিয়ে সরালো সে। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাস্যোজ্জল অভিব্যক্তি ছুঁড়ে দিলো। যার অর্থ- ভালোই তো কথা বলা শিখেছেন দেখছি!!

 

প্রথম কথা বলার দ্বিধা আর জড়তা কাটিয়ে বন্ধুর মত কথা বলছিলাম আমরা। অথচ, আমি যে তার অচেনা, সেদিকে তার খেয়ালই নেই। সে সহজ সরল বন্ধুভাবাপন্ন প্রিয়দর্শিনী...

স্টলের ভীড় এড়িয়ে কখন যে গল্প করার মত একটা ফাকা জায়গা খুঁজে নিয়েছি হাটতে হাটতে, খেয়ালই করিনি দুজন।

 

আমাদের মাথার উপর দিয়ে একঝাক পাখি উড়ে গেলো। ওদের ডানায় শান্তির আবেশ। সেই শান্তি, সেই ভাললাগার খানিকটা আমার মাঝেও ছিটকে এসে পড়লো। কিন্তু কেনো? আজ বসন্ত, এই জন্য? নাকি এর সাথে নীল শাড়ির কোনো সংযোগ আছে? কি জানি... সব জানতে হয় না। মাঝে মাঝে অজানাতে সুখ পাওয়া যায়… বুঝতে পারছিলাম, আমার চেহারায় তখন প্রেমিক প্রেমিক ভাব চলে এসেছে, সেই সাথে একটু লজ্জার ছোয়া..

 

আবার অবাকও লাগছিলো। একটা মেয়ে আমার সাথে এতো কথা বলছে কেন! শহুরে মেয়েরা সাধারণত ছেলেদের পাত্তা দেয় না। হয়তো সে আমাকে কবি হিসেবে যথেষ্ট মূল্যায়ন করেছে!! কবিদের মেয়েরা ভালো চোখে দেখে!!

 

ততক্ষণে নাম পরিচয় জানা হয়েছে আমাদের। মেয়েটার নাম রোদশী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিওর ফিজিক্সে পড়ে সে। দ্বিতীয় বর্ষে। আমার সমবয়সী।

 

যাই হোক, সাধারণ স্রোতেই আমাদের কথাবার্তা চলছিলো। হঠাৎ করেই তার কন্ঠে একটা ব্যস্ত সুর বয়ে গেলো। ব্যাগ থেকে কলম বের করতে করতে বললো, "আসল কাজটাই তো করা হয় নাই!"

 

আমি বললাম, "কি কাজ?"

 

সদ্য কেনা বই দুইটার মধ্য থেকে একটা বই আর একটা কলম আমার দিকে এগিয়ে দিলো রোদশী। তারপর বললো, "একটা অটোগ্রাফ প্লিজ!" ভুবন ভুলানো তার সহাস্য বচন!

 

কবি কবি ভাব এনে বললাম, "রোদশী, তাই না??"

 

আমাকে অবাক করে দিয়ে লাজুক মুখে সে বললো, আমার জন্য কিছু লিখতে হবে না!! আমার রাজপুত্রর জন্য কিছু লিখে দিতে হবে! এই বইটা ওকেই উপহার দিবো! আর অন্য বইটা আমার নিজের জন্য। ওটাতে অটোগ্রাফ লাগবে না!"

 

এমন কিছু কথা শোনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। সাদা মেঘের ঐ রঙ্গিন ঘুড়িটা কোথায় যেন হারিয়ে গেলো।

 

হাসিমুখে বলার চেষ্টা করলাম, "ওহ! রাজপুত্রের নাম কি?" জানি, হাসিটা নকল ছিলো।

 

-অত কিছু তো বলা যাবে না! রাজপুত্র শব্দটা লিখলেই হবে।"

 

অনিচ্ছা সত্বেও লিখে দিলাম-

রোদশীর রাজপুত্র,

ভালো থাকবেন। অনেক শুভকামনা।

(তার নিচে পেচানো হরফে আমার নাম। তারিখ।)

 

হাসি হাসি মুখ করে রোদশী নামের মেয়েটা বললো, "আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

 

ধরনী দ্বিধা হও! আমার কাছে দোয়া চাওয়ার কি আছে?? কতই বা বয়স আমার! এই বয়সেই নিজেকে হঠাৎ বুড়ো বুড়ো মনে হচ্ছিলো! কে যেন আমার হাতে একটা বৃদ্ধদের পথ চলার লাঠি ধরিয়ে দিয়েছে। আমার শরীরের চামড়াগুলো যেন ঝুলে পড়েছে! আরো মনে হচ্ছিলো, মাথায় চুল নাই, মুখে দাঁত নাই.. আমি ফোকলা দাতের টাক বুড়ো…. উউউফফফ!! ভয়াবহ! এরপর আর কথা বেশিদূর যায়নি। বিদায় নিয়ে রোদশী চলে গেলো।

 

আমি বার বার আকাশের পানে চোখ রাখলাম... না, আর কোথাও কোনো পাখি নেই।

 

 

২)

পরেরদিন আমি আবার জায়গামত দাড়িয়েছিলাম। সেই অখ্যাত স্টলের পাশে। ভেবেছিলাম এই রোদশী নামের মেয়েটার কারনে আমার ভাগ্য বদলে যাবে। রোদশীর সব বান্ধবীরা আসবে বই কিনতে। সবার মুখে মুখে শুধু একটাই নাম! হুড়হুড় করে বিক্রী হয়ে যাবে আমার সব বই। কিন্তু তেমনটা হলো না। আগের দিনগুলোর মত একই দৃশ্য আমি চেয়ে চেয়ে দেখলাম। হঠাত করে মনে যে আশা জেগে উঠেছিলো, তা এভাবে শেষ হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি। খুব খারাপ লাগছিলো। খারাপ লাগাই স্বাভাবিক। একটা বইকে ঘিরে অনেক আশা থাকে। যার কিছুই আমার পূর্ণ হয়নি। ঐদিন বিকালে সিদ্ধান্ত নিলাম, কাল থেকে আর এভাবে দাড়িয়ে থাকবো না। অন্য সবার মত আমিও মেলায় আসবো, স্টলে স্টলে ঘুড়ে বেড়াবো, ইচ্ছা হলে বই কিনবো, তারপর ফুচকা খেয়ে ঘরে ফিরে যাবো। আমার বই কেউ কিনলে কিনুক, না কিনলে না কিনুক। তীর্থের কাঁকের মত আমি আর বই বিক্রীর প্রহর গুনবো না।

 

তার পরের দিন আমি মেলায় গেলাম। ঘুরতে শুরু করলাম এদিক সেদিক। ঘুরতে ঘুরতে হঠাত করেই দেখলাম রোদশীকে। নজরুল মঞ্চের কাছে। সালোয়ার কামিজ পড়েছিলো সে। মায়াময় চেহারা। তার চোখের দিকে তাকালাম। তার উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টি দেখেই বুঝলাম সে কাউকে খুঁজছে। একটু পর পর মোবাইল টিপছে। তারপর মোবাইলটা কানের কাছে আনছে। কিছুক্ষণ পর মোবাইল হাতে নিয়ে আবার টিপছে। কাউকে হয়তো কল দেয়ার চেষ্টা করছে সে। সম্ভবত যাকে কল দিচ্ছে, সেই ব্যক্তি কল ধরছে না।

 

আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে এই দৃশ্য দেখছিলাম। আর অন্য কোনো দিকে খেয়াল ছিলো না। সুতরাং যা হবার তাই হলো, ধাক্কা লেগে গেলো এক মধ্যবয়ষ্কা মোটা মহিলার সাথে। শুনতে পেলাম তার কর্কশ চিৎকার- "সাইড করতে পারেন না?? এইসব লোকেরা জানে না মেয়েদের সাথে কিভাবে ভদ্রতা করতে হয়।"

আমি তাজ্জব বনে গেলাম! আমি "লোক" আর সে কিনা "মেয়ে"!! আমি তাড়াতাড়ি করে বললাম, "সরি আপু"

আপু সম্বোধন শুনে সাথে সাথেই মহিলার মুখে দেখা গেলো সেই রকম হাসি, "ইটস ওকে! ইটস ওকে!"

"আপু" ঝামেলা শেষ করে রোদশীর দিকে তাকালাম। আবারো যা হবার তাই হলো। রোদশী ওখানে নেই। হারিয়ে গেছে ভীড়ের মাঝে।

 

কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও আর রোদশির দেখা পেলাম না। ক্লান্ত হয়ে সময় দেখার জন্য মোবাইল বের করলাম। মোবাইলের দিকে চোখ রেখেই আমি অবাক! ৭টা মিসকল! একটা অচেনা নাম্বার থেকে। যথারীতি তখনও আমার মোবাইলে টাকা ছিলো না। তাই আর কল ব্যাক করা হলো না। পাঠক, বলে রাখি, মনের মধ্যে একটা গোপন আশা দানা বাধতে শুরু করছে তখন...

 

 

৩)

রাত এগারোটার দিকে সেই গোপন আশাটা অনেক বড় আকার ধারন করলো। গোপন আশা সঠিক নাকি ভুল, তা যাচাই করার জন্য অবশ্য মোবাইলে ফ্লেক্সিও করেছিলাম সন্ধ্যায়। যাই হোক, আমি জানালা খুলে দিলাম। বিস্তৃত আঁধারঘেরা রাতের আকাশ আমার সামনে। আমি কল দিলাম সেই অচেনা নাম্বারে। একটা সুমধুর নারীকন্ঠ শুনতে পেলাম। শুরুতেই নারীকন্ঠ বললো, "হ্যা বলুন। কেমন আছেন?"

ফোন ধরেই এমন কিছু শুনতে পাবো আশা করিনি। অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। আমতা আমতা করে বললাম, "জী মানে, কে বলছিলেন প্লিজ?"

ওপাশ থেকে শোনা গেলো, "আমি তো জানতাম কবি রা অনেক স্মার্ট হয়।"

 

এবার কন্ঠটাও চেনা চেনা লাগলো। বুঝতে পারলাম, যে গোপন আশা বুকে বেধে রেখেছিলাম, তা সত্যি হয়েছে!!

আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললাম, "কেমন আছেন রোদশী?"

 

এবার ওপাশ থেকে নীরবতা। এই নীরবতার কারন অজানা... এতো তাড়াতাড়ি আমি বুঝে ফেলবো, এটা হয়তো সে ভাবে নি। বেশ অনেকক্ষণ রোদশী চুপ করে ছিলো।

আর তখন আমার মনে চলছে ভাবনার ঝড়। মেয়েটার প্রতি প্রচন্ড আকর্ষণ আর ভালোলাগা কাজ করছিলো। কেনো জানি না। ভাবছিলাম, মেয়েটা আমাকে কল দিয়েছিলো কেনো? আমার কবিতা পড়ে সে কি আমার প্রেমে পড়ে গেছে? না না, তা কিভাবে হয়? তার তো ভালোবাসার মানুষ আছেই... রাজপুত্র... এই রাজপুত্রের কথা চিন্তা করেই কেমন যেন রাগ আর হতাশায় ডুবে গেলাম আমি। আর ভাবতে ইচ্ছা করলো না...

 

নীরবতা ভেঙে রোদশী আবার কথা বলা শুরু করলো। এবার কথা বলার ধরনটা একটু অন্যরকম, স্নিগ্ধতাপূর্ণ, "এইতো ভালো আছি। বললেন না তো, আপনি কেমন আছেন?"

 

রাজপুত্রের কথা চিন্তা করে আমি তখন হতাশ। তাই আমার নির্লীপ্ত জবাব, "আমিও আছি ভালোই। তারপর কি খবর?"

 

আমার এই নির্লীপ্ত ভঙ্গির কারনেই হয়তো রোদশী আবার আগের মত তীক্ষ্ম সুরে ফিরে গেলো। বললো, "দুপুরে আপনাকে কল দিয়েছিলাম। মাইন্ড করেননি তো?"

 

এমন প্রশ্নের উত্তর কি হবে, তা রোদশী নিজেও জানে। তাই আমার জন্য অপেক্ষা না করে সে বলে যেতে লাগলো, "আসলে আপনার ঐ বইটার ভেতরে একটু সমস্যা ছিলো। যেটা আমার নিজের জন্য কিনেছিলাম, ঐটার কথা বলছি। একটা পেজ ছেড়া। তাই ভাবলাম চেঞ্জ করে নিবো। কাল আপনাদের স্টলে গিয়েছিলাম। আপনি তো ছিলেন না। স্টল থেকে নাম্বার নিয়ে আপনাকে কল দিলাম। আপনি বোধহয় ব্যস্ত ছিলেন, কল ধরেননি। তাই আর চেঞ্জ করা হয়নি।"

 

কল করার কারন জানতে পেরে আমি আরো হতাশ হয়ে গেলাম। রোদশীকে বললাম, "স্টলে বললেই তো চেঞ্জ করে দিতো। নাম্বার নিতে পারলেন আর চেঞ্জ করার কথা বলতে পারলেন না?"

 

রোদশী মন খারাপ করে বললো, "একি, আপনি মাইন্ড করেছেন দেখছি। সরি সরি।"

 

আমি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলাম, "আরেহ নাহ! কি যে বলেন! আমরা তো বন্ধু! নাম্বার নিতেই পারেন! কাল বইটা নিয়ে আসবেন। আমি থাকবো ওখানে।

 

রোদশী বেশ খুশি হয়ে বললো, "তা ঠিক। কাল আসবো। আপনি থাকবেন কিন্তু!"

 

তারপর হঠাত করেই সে আবার বললো, " আচ্ছা, আজ রাখি, হ্যা? কাল দেখা হবে। বাই।"

আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই রোদশী কল কেটে দিলো। আমি বুঝে নিলাম, খুব কষ্ট পেয়ে বুঝে নিলাম, রোদশীর রাজপুত্র কল দিয়েছে। তাই এতো ব্যস্ততা...

 

 

৪)

পরদিন আমি আবার পুরনো ডিউটি শুরু করলাম। স্টলের পাশে দাড়িয়ে থাকা। তবে অপেক্ষা এবার বই বিক্রীর জন্য নয়, অপেক্ষা রোদশীর জন্য। মনের মাঝে একটা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিলো- অন্য একটা ছেলের ভালোবাসার মানুষের জন্য এভাবে অপেক্ষা করাটা কি ভালো দেখায়?

আমি নিজেই নিজেকে অজুহাত দেখালাম, বই পাল্টে দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছি তো! সমস্যা কি?

আমি জানি, অজুহাত না থাকলেও আমি অপেক্ষা করতাম। কিছু একটা হয়ে যাচ্ছে আমার ভেতরে...

 

বিকাল ৫টায় রোদশী আসলো। বন্ধুসুলভ আলাপচারিতা শেষে আমি জানতে চাইলাম, "বইটা এনেছেন?"

নিচের ঠোঁটে কামড় দিয়ে রোদশী বললো, "হায় হায়, বইটা আনতেই তো ভুলে গেছি..."

 

আমি মনে মনে খুশি হলাম। বই পাল্টানোর কারনে আরো একদিন রোদশী আসবে আমার কাছে।

যেহেতু কাজ হলো না, তাই আমরা হেটে হেটে গল্প করলাম।

রোদশী অন্য কারো প্রেমিকা- এটা ভাবলেই একটা অপরাধবোধ কাজ করতো আমার মাঝে। তবু হৃদয়ের কথা শুনে এই অপরাধবোধকে অগ্রাহ্য করেছি প্রতিটাক্ষণ...

 

এটা তো সেদিনের ঘটনা। কিন্তু একই ঘটনা আরো ৩ দিন ঘটলো। প্রতিদিনই রোদশী বইটা আনতে ভুলে গেলো। আর চলতে থাকলো আমাদের হাটাহাটি গল্প। সেই সাথে চললো আমার অপরাধবোধ আর হৃদয়ের যুদ্ধ...

 

 

ততোদিনে আপনি থেকে তুমি তে নেমে এসেছি আমরা। গল্প করতে করতে একদিন রোদশীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "তুমি একাই মেলায় আসো, তোমার সেই রাজপুত্র কই? সে আসে না কেনো?"

রোদশী লজ্জা পেয়েছিলো প্রশ্নটা শুনে। পরক্ষণে চেহারায় কিছুটা বিষাদের ছায়া এনে বলেছিলো, "ও একটু ব্যস্ত থাকে। আমাকে খুব বেশি সময় দিতে পারে না। তাই আসেনি। পরে আসবে।"

রোদশীর মুখে এই "ও" শুনে আমার হতাশা দ্বিগুন হয়েছিলো সেদিন...

 

 

৫)

বইমেলা শেষ হয়ে গেলো। রোদশীর বইটাও পাল্টানো হলো না। মেলা শেষ হয়ে যাওয়াতে আমাদের আর দেখা হতো না। দেখা করতে চাই- এমন কথা বলার সাহস কিংবা অধিকার কোনোটাই আমার ছিলো না। মাঝে মাঝে মোবাইলেই কথা বলতাম।

 

আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। রোদশী আমার সাথে সব কিছু শেয়ার করতো, শুধুমাত্র রাজপুত্র বিষয়ক কথাগুলো আমাকে বলতো না। এমনকি এই রাজপুত্রের নামটা কি, এটাও আমাকে জানতে দেয়নি কোনোদিন। প্রথম প্রথম খুব জানতে চেয়েছি। বলে নি রোদশী। পরে আমিও আর আগ্রহবোধ করিনি। হয়তো এটা আমার ইগো, অথবা অন্যকিছু। যাই হোক, কি দরকার মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে টানাটানি করার।

 

রাজপুত্র রোদশীকে সময় দিতে পারতো না নাকি। তাই ওর দিনের অনেকটা সময় কাটতো আমার সাথে কথা বলে। ও সারাদিন কি কি করে, কি কি খায়, সবই আমার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিলো। দুটো মানুষ যখন সারাদিন গল্প করে, তখন আবেগের জায়গাটা খুব ভালোভাবে চোখে পড়ে। আমি খুব সাবধানে নিজের আবেগ অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করতাম। কারন আমি চাই না এই একাকীত্বের সময়ে ও আমার উপর দুর্বল হয়ে পড়ুক। মানুষের মন খুব অদ্ভুত, শুধু আশ্রয় খোঁজে। আমি রোদশীর আশ্রই হতে চাই না। যে আছে, সেই থাকুক। আমি কারো সুখ নষ্ট করতে ইচ্ছুক নয়। সবচেয়ে ভালো হতো আমি দূরে চলে গেলে। কিন্তু স্বার্থপরের মত চলে যেতে পারতাম না।

মায়া, একটা মায়াবতীর মায়ার টানে বাধা পড়ে গিয়েছিলাম...

 

 

৬)

এভাবেই দুই মাস কেটে গেলো। বৈশাখের এক ঝড় বৃষ্টির রাতে জানালার পাশে বসে আমি বৃষ্টি দেখছিলাম। হঠাত হঠাত বৃষ্টির পানি এসে আমাকে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছিলো। অন্যরকম অনুভূতি। মোহনীয় পরিবেশ। এমন একটা মুহূর্তে রোদশী ফোন করলো আমাকে। জানালার বাইরে হাত বাড়িয়ে আমি জলকণা ছুয়ে দেখছিলাম আর রোদশীর সাথে কথা বলছিলাম। ভালোলাগা বারবার সীমা অতিক্রম করছিলো। না করলেই অবাক হতাম...

এক পর্যায়ে ও আমাকে কবিতা শোনাতে বললো। আমিও শুরু করলাম-

 

আমার আকাশে আজ পাখি নেই

জানি , বৃষ্টি নামবে ।

আমার পাশে আজ তুমি আছো

জানি না , ভালোবাসো কিনা ।

 

আমার হৃদয়ে আজ তুমি আছো

জানি , ভালোবাসি ।

আমার আমি আজ তোমার অপেক্ষায়

জানি না , ভালোবাসবে কিনা ।

 

কবিতা শুনে রোদশী চুপ। আবারো সেই চিরচেনা নীরবতা, যার কারনটা অজানা। আমি বললাম, "কিছু বলো" 

রোদশী শীতল গলায় বললো, " এটা কার জন্য লেখা?" 

আমি একটু হেসে বললাম, "তা তো জানি না!"

ও আবারো একই সুরে বললো, "কবে লিখেছো এটা?"

আমারো একই উত্তর, "জানি না তো! ভুলে গেছি!"

রোদশী এবার বেশ জোর দিয়ে বললো, " আমার সাথে দেখা হওয়ার আগে না পরে??"

 

প্রশ্নটা শুনে খুব অবাক হলাম। মনের ভেতর একটা ভয় উঁকি দিলো। আমি বললাম, " ঊঊমম, মনে হয়, পরে... কেনো? এই প্রশ্ন কেনো? কি ভাবতেছো তুমি?"

রোদশী খুব নির্লীপ্ত ভাবে বললো, "না, এমনি।"

 

ঠিক তখনই ঝড়ো বাতাসে কয়েক ফোটা বৃষ্টির পানি আমার চোখে এসে পড়লো। কেউ দেখলে মনে করবে আমি যেন কাঁদছি..

 

তার পরেরদিন সকালে আবার আমাদের কথা হলো। যে প্রশ্নটা করবো করবো বলে ভাবছিলাম, সেদিন সকালে প্রশ্নটা করেই ফেললাম। অনেক কথার পর আমি বললাম, " আচ্ছা, তোমার রাজপুত্রের সাথে তোমার কি কোনো ঝামেলা চলতেছে?"

রোদশী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "কই? না তো। সব ঠিকই তো আছে।"

উত্তরে দৃঢ়তা খুঁজে পেলাম না। আমি বললাম, " একটা কথা বলবা? রাজপুত্র কি তোমাকে কষ্ট দেয়?"

রোদশী আবারো কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর শান্ত গলায় বললো, "হ্যা দেয়। ও আমাকে বোঝে না।"

কথার অর্থ বুঝলাম না। বললাম, "বোঝে না মানে?"

 

রোদশী আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বললো, "তুমি আজ আমার সাথে দেখা করতে পারবা? বসুন্ধরা সিটিতে। বিকাল সাড়ে পাঁচটায়।"

দুঃখ, আনন্দ, বিস্ময়- এই তিনটা অনুভূতি যেন আমি একসাথে অনুভব করলাম। বিচিত্র অবস্থা। আর রোদশীকে শুধু বললাম, "হ্যা, আজ দেখা হবে।

 

 

৭)

পুরনো অপরাধবোধটা বার বার ফিরে আসছিলো। তবুও একটা নীল পাঞ্জাবী গায়ে চাপিয়ে আমি হাজির হলাম বসুন্ধরা সিটিতে। রোদশী আগেই চলে এসেছিলো। ও পরেছিলো গোলাপী শাড়ি। বসুন্ধরা সিটির ফুডকোর্টে আমরা দুজন সেদিন সামনা সামনি বসেছিলাম। খাবার অর্ডার দেয়া শেষে রোদশীর দিকে তাকালাম আমি। চোখে চোখ পড়লো। দেখলাম, ও গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে আমাকে। আমি একটু বিব্রত হয়ে বললাম, "কি?"

রোদশী মিষ্টি হেসে বললো, "পাঞ্জাবীটা সুন্দর।"

আমিও হাসলাম। বললাম, "তোমার শাড়িটাও।"

রোদশীর মুখটা আরো হাসি হাসি হয়ে গেলো..

 

আমরা খেতে খেতে গল্প করলাম। আমি নাকি মোটা হয়ে গিয়েছি একটু। আগের চেয়ে এই নতুন হেয়ারস্টাইলটাই বেশি ভালো হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমিও অনেক কিছুই বলেছিলাম...

 

খাওয়া শেষে রোদশী হঠাত বললো, "শুভ"

আমি একটু চমকে ওর দিকে তাকালাম, "হুম, বলো"

রোদশী বললো, "তোমাকে কাছে একটা কথা জানতে চাইবো। যদি সত্য বলো, তাহলে আমি তোমাকে একটা উপহার দিবো।"

 

ভয় পেলাম বেশ। ঢোক গিলে বললাম, " আচ্ছা, বলো,কি জানতে চাও।"

রোদশী আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, "তুমি আমাকে ভালোবাসো?"

 

প্রশ্নটা শুনে আমি নিথর হয়ে গেলাম। আমার মনে হচ্ছিলো আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছে। পুরো বসুন্ধরা সিটি যেন ভেঙে পড়বে... আমি চোখ নামিয়ে নিলাম। মনে পড়ছিলো গত আড়াই মাসের শত শত মুহূর্তের কথা... নিজের অজান্তেই সব অপরাধবোধ ভুলে বলে ফেললাম, "হ্যা, ভালো-ল- ও-বা-সি..."

 

বলেই একটু সাহস করে ওর মুখের দিকে তাকালাম। ওর মুখটা এখনো হাসি হাসি। একভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর হ্যান্ড ব্যাগ থেকে wrapping পেপারে মোড়ানো একটা বই টাইপের কিছু বের করলো রোদশী। জিনিসটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে ও বললো, "তোমার গিফট। খোলো এটা।"

 

আমি গিফট হাতে নিলাম। তারপর নীরবে র‍্যাপিং পেপার খুললাম। ভেতর থেকে বের হলো ৩টা বই। সবার উপরের বইটার দিকে চোখ রেখে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চমকটা পেলাম। এটা আমারই লেখা কবিতার বই। রোদশীর দিকে অবাক হয়ে তাকালাম। রোদশী হাসি হাসি মুখ করেই বললো, "বইটা খোলো।"

 

আমি খুললাম। প্রথম পৃষ্ঠাতে আমার সেই লেখাগুলো, যখন অটোগ্রাফ দিয়েছিলাম- রোদশীর রাজপুত্র, ভালো থাকবেন। অনেক অনেক শুভকামনা।

তার নিচেই রোদশী নিজে হাতে কিছু লিখেছে। সেগুলো পড়ে আমার হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাবার মত অবস্থা! রোদশী লিখেছে- রাজপুত্রের নামঃ শুভ।"

 

অবুঝ শিশুর মত রোদশীর দিকে তাকালাম। দুনিয়ার কোনো কিছুই তখন আর মাথায় ঢুকছে না। ঘোরের মাঝে চলে গিয়েছি। রোদশী দুষ্টুমির হাসি দিয়ে বললো, "বলেছিলাম এই বইটা আমার রাজপুত্রকে উপহার দিবো! এইতো, আজ দিলাম!"

আমার মুখটা আরো হা হয়ে গেলো, বললাম, "মানে কি?"

রোদশী লজ্জা লজ্জা মুখ নিয়ে বললো, "মানে তুমি আমাকে যা করো, আমিও তোমাকে তাই করি..."

রোদশী চোখ নামিয়ে নিলো। ও লজ্জা পাচ্ছে খুব। আজ ওর লজ্জা পাবারই দিন..

 

সত্যি বলছি, আমি তখন ঐ গরমকালে শিউলী ফুলের গন্ধ পাচ্ছিলাম! এতো সুন্দর লাগছিলো সবকিছু! বিস্ময়ের ঘোর যখন কেটে গেলো, তখন শুধু হেসেছি। আমরা দুজনই, মিটিমিটি...

 

বাকি দুইটা বই অন্য লেখকদের। সেখানেও রাজপুত্রের জন্য অটোগ্রাফ নেয়া! এবং অটোগ্রাফের নিচে রোদশীর সেই প্রেমময় শব্দগুচ্ছ- রাজপুত্রের নামঃ শুভ।"

 

পরে রোদশীর কাছে শুনেছিলাম, অনেকদিন আগে থেকেই ও এভাবে ওর অদেখা রাজপুত্রের জন্য গিফট কিনে রাখতো! আর আমি শুধু অবাক হয়ে ভাবছিলাম- মেয়েটা ভালোবাসতেও পারে, আবার খুব ভালো অভিনয়ও করতে পারে...!!

 

অনেকক্ষণ পর রোদশীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "সত্যি বলে বলো তো, তোমার ঐ বইটার পেজ কি সত্যি সত্যি ছেড়া ছিলো?"

রোদশী বাচ্চাদের মাঝে মাথা নেড়ে হাসতে হাসতে ও উত্তর দিলো, "নাআআহ! দেখার করার জন্য ঐ নাটক করেছিলাম!"

 

ওর হাসিতে এক অদ্ভুত মায়া। মায়াবতীদের হাসি বোধহয় এমনই হয়...

 

Share