অপরাজিতা

লিখেছেন - রেজা শাওন | লেখাটি 852 বার দেখা হয়েছে

১। 

অপরাজিতার সাথে প্রথম দেখার দিনই বুঝে গিয়েছিলাম- অপরাজিতা রাস্তাঘাটে ছেলেদের চড় মারতে সিদ্ধহস্ত। মেয়েরা যে রাস্তাঘাটে ছেলেদের দুই একটা চড়-থাপ্পড় মারে না, এমন তো নয়। এমন ঘটনা অনেক দেখেছি, পাড়ার মোড়ের হীনমন্য দুর্বল ধরণের বখাটে শিষ দিয়ে পালিয়ে না গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। যে মেয়েটার উদ্দেশ্যে শিষটা দেওয়া, সে এসে শিষের জবাবে বখাটের বাম গালে চড় বসিয়েছে। বাসে দেখেছি মেয়েদের গায়ের উপর ঢলে ঢলে পড়া স্পর্শ লিপ্সু পুরুষেরা স্যান্ডেলের বাড়ি খেয়ে জাতে উঠছে। আমাদের চারপাশে এই দৃশ্যগুলোর চিত্রায়ন বোধহয় ঘটে চলে প্রতিনিয়তই।

 

অস্বাভাবিক দৃশ্য তখনই সৃষ্টি হয়-যখন দেখি শিশুসুলভ চাহনির মাঝারি গড়নের একটা মেয়ে ফোনে কথা বলতে বলতে লাইনে তার ঠিক পেছনে দাঁড়ানো ছেলেটার গালে হুট করে চড় বসিয়ে দেয়। চড় খাওয়া ছেলে হতবাক, আর সেই ছেলেটার পেছনে দাঁড়ানো আমি-খানিকটা কৌতূহলী। আরে অদ্ভুত মেয়ে তো!!

আমার হাতে অফুরন্ত সময়। মানুষের মাঝে গল্প খুঁজে বেড়াই। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকের কথা। বাতাসে শিমুল তুলো ভেসে বেড়ানো দিন। বইমেলার ভিড় ঠেলে পুরোটা সময় অপরাজিতার পিছে পিছে ঘুরেছিলাম বোধহয়। মেলার ধুলোয় ঢেকে থাকা চত্বরে খুব সাহসী একটা মেয়ে নিজের মত করে রাস্তা খুঁজে খুঁজে হাঁটছে। সবাই তো অন্যের মাড়িয়ে যাওয়া পথে ধুলো এড়িয়ে চলে। অপরাজিতার সে ভয় নেই। অপরাজিতা তাঁর পথ নিজে তৈরি করে হাঁটে। সাবলীল সে পথ চলতে গিয়ে পথের ধুলো তাঁর লাল-কালো রঙা শাড়ির পাড়ে লেগে যায়। সেদিকে কি তাঁর খেয়াল আছে?

 

পুরোটা সময় অপরাজিতাকে আমি মুগ্ধ হয়ে দেখে, শেষে এসে হারিয়ে ফেলি। মেলা থেকে বের হওয়ার সময় ভিড়ের মাঝে অপরাজিতা হারিয়ে যায়। তবে অপরাজিতার গল্পটা তখনও অনেকটা বাকী।

 

২।

 

বিকেলের টিউশনিটা শেষ করে হেঁটে হেঁটে ধানমণ্ডি থেকে লালমাটিয়ার দিকে চলে যাই। হাঁটতে বেশ ভালো লাগে। মানুষ দেখা যায় অনেক। দিনশেষে বাড়ি ফেরা সব ব্যস্ত মানুষের ঢল। এক একজন মানুষ, এক একটা গল্প। আমি গল্প খুঁজে বেড়াই। অন্যসব দিনের মত সেদিন বিকেলেও গল্প খুঁজছিলাম। একমনে হেঁটে চলা। পাশ থেকে হঠাৎ মহিলা-কণ্ঠ হাঁটা থামিয়ে দেয়।

 

-ভাই কিছু টাকা দে, তোর বোন দুধ খাবে।

 

সামনে দুজন বেদেনী পথে আটকে দাঁড়িয়ে আছে। আমার যে ‘বোন’টার কথা তারা বলেছে, সে বোন তাদের হাতে ধরা বাক্সে বন্দী। ধানমণ্ডির এ দিকটায় এই সমস্যা বেড়েছে। টাকা না দিলে, বাক্স থেকে বোন বের হয়ে আসে। সাপ প্রাণী গর্তে লুকিয়ে থাকার প্রাণী, তার সকল সৌন্দর্য মানুষের চোখের আড়ালে। এই প্রাণী চোখের সামনে চলে আসলে, যে অনুভূতি হয় সেটা মোটেই স্বাভাবিক কিছু না। তবে সাপের ভয়ের চেয়ে বড় বাস্তবতা হচ্ছে, আমার এখন বোনকে দুধ খাবার টাকা দেবার সুযোগ নেই। মাসের শেষ। হাত ফাঁকা।

 

এই পরিস্থিতিগুলোতে আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকি। আমাকে যতই কিছু বলা হোক, আমি মুখ খুলবো না। চোখে থাকে ফাঁকা দৃষ্টি। গত পাঁচ মিনিট ধরে এভাবেই আছি। সামনের দুইজন বেদেনী অনবরত কথা বলেই যাচ্ছে। একটু পর আমার গায়ে সাপ ছেড়ে দেবে বোধহয়।ঠিক এই পরিস্থিতিতে তৃতীয় একজন পাশে এসে দাঁড়ায়।

 

-আরে উনি কথা বলতে পারে না মনে হয়। এমন করছেন কেন? উনার পথ ছেড়ে দাঁড়ান। মেলা ক্ষণ ধরে দূর থেকে দেখছি, আপনারা উনার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।তৃতীয় জনের কথাতেই সে বার ছাড়া পেয়েছিলাম বোধহয়। তৃতীয় সে জন অবশ্য আমার দিকে ফিরেও তাকালো না। সে তাঁর মত সামনে এগিয়ে যায়। আমি হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিয়ে তৃতীয় সে জনের পাশে চলে যাই।

 

-ধন্যবাদ আপনাকে।-আপনি কথা বলতে পারেন? ওমা। আমি তো ভেবেছি…-আসলে মাঝে মাঝে বোবা হয়ে যেতে হয়। এতে করে কিছু টাকা বেঁচে যায়।

 

অপরাজিতার সাথে সেদিন আমার দ্বিতীয় বারের মত দেখা। সেদিন মেলা কিছু জেনেছিলাম ওর কাছ থেকে। কেন সে বই মেলায় লাইনের পেছনে দাঁড়ানো ছেলেটাকে চড় মেরেছিল। আরও অনেক কিছু। বিকেলের আলো ফিকে হয়ে আসছিল। অপরাজিতাকে অনুজ্জ্বল সে আলোতে আলাদা করে চেনা যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত চোখের পাতা ফেলে সে। কথা বলে হাত নেড়ে নেড়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে।

 

৩।

 

তৃতীয় যে বার আমি অপরাজিতাকে দেখি তখন সে মানুষের মাঝে। ওকে ঘিরে শত মানুষ। ফরিদের কোন এক বোনের বিয়ে তে। ফরিদের সে বোনটা যে আমাদের অপরাজিতা, এটা জেনে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। ওকে ঘিরে অনেক মানুষ। ছবি তুলছে সবাই। ফ্ল্যাশের উজ্জ্বল আলোতে অপরাজিতা আর ওর পাশে বসা ছেলেটাকে দেখি। নতুন একটা গল্প শুরু করবে এরা দুজন।

 

আমার তাড়া ছিল। আমি মূলত খেতে এসেছি। আমার কাছে বিয়ে বাড়ির খাওয়া মানেই, ডাল আর ডিমভাজির চক্র থেকে একদিনের জন্য বের হয়ে আসা। ফরিদকে মনে করে একটা ধন্যবাদ দিতে হবে। খাওয়া মাঝপথে ছিল। হঠাৎ করেই তীব্র ধরণের অচেনা একটা শব্দে আমাকে উঠে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। যে দৃশ্য দেখলাম, সেটার জন্য হয়তো কোনভাবেই প্রস্তুত ছিলাম না।

 

অপরাজিতা হাতে একটা রিভলভার ধরণের কিছু একটা নিয়ে দাঁড়িয়ে। একেবারে শান্ত, প্রায় খানিকটা নিস্তরঙ্গ। ওর বুঝি চোখের পাতাও পড়ছে না, এমন। আর বুকের ইঞ্চি খানেক নিচে গুলি খাওয়া মধ্যবয়স্ক ওর ঠিক সামনে একজন অচেতন। কিছুটা সময় সবাই হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। একটু পর থেকে শুরু হল প্রচণ্ড শোরগোল। কারা যেন ঝড়ের বেগে অপরাজিতাকে বের করে নিয়ে চলে যায়। চারদিকে ছুটোছুটি শুরু হয়ে গিয়েছে। ফরিদও আমাকে নিয়ে দ্রুত বের হয়ে আসে।

 

সব কিছু এতো দ্রুত ঘটে যায়, আমরা কেউ কিছু বুঝতেই পারি না। ফরিদও সেদিন আমাকে বিশেষ কিছু বলতে পারলো না। ব্যাপারটা এতোটাই অস্বাভাবিক যে, আমিও কিভাবে ওকে কি জিজ্ঞেস করবো, কিছু ভেবে পাই না। ফরিদটাও এই ঘটনার পরে কিছুদিন গায়েব। পুলিশী মামলা নাকি একটা হয়েছে, পুলিশ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী খুঁজে বেড়াচ্ছে। এদিকে আবার নিজেদের আত্মীয়স্বজনের মাঝে ব্যাপারটা ঘটে যাওয়ায় কেউই কিছু বলতে চাচ্ছে না। ফরিদ আগাগোড়াই ভীতুদের লিডার। ওর ভয় পাওয়া স্বাভাবিক।

 

এই ঘটনার প্রায় সপ্তাহখানেক পর ক্যাম্পাসে ফরিদের দেখা মেলে। আমিই কথা শুরু করি। ফরিদকে কিছুটা নিষ্প্রভ দেখলাম।-সেদিন আসলে কি হল? বলতো দেখি। আমি তো কিছু বুঝলাম না।-আমিও বুঝিনি। বুঝলে তোকে বলতাম।-তুই আমাকে অপরাজিতার সাথে একবার দেখা করিয়ে দে।ফরিদ বিরক্ত হয়। তুই দেখা করে কি করবি?-কি করবো জানি না, তবে আমার মনে হচ্ছে এখানে একটা গল্প আছে। গল্পটা আমার দরকার।-অদ্ভুত!! অন্য মানুষের গল্প দিয়ে তোর কি কাজ?-আমার কোন গল্প নেই। আমার তো সাদা খাতার জীবন। তাই মানুষের গল্প খুঁজি।

 

ফরিদ কোনভাবেই আমাকে অপরাজিতার সাথে দেখা করাতে চায় না। অপরাজিতা নাকি পিজি হাসপাতালের মানসিক ওয়ার্ডের কোন এক কেবিনে। সারাদিন দুইজন পুলিশ ওর কেবিনের দরজায় পাহারায় থাকে। আত্মীয়-স্বজন ছাড়া অন্য কারো নাকি দেখা করা সম্ভবই না।আমার শুধু এইটুকু তথ্য দরকার ছিল। বাকীটা আমার নিজের কাজ।

যথাসময়ে থানা-পুলিশ ম্যানেজ করে অপরাজিতার কাছে চলে গেলাম। অদ্ভুত এই দেশে থাকার এই এক সুবিধা। এখানে কঠিন কঠিন সব কাজ চাইলেই সহজে করে ফেলা যায়।

 

৪।

 

অপরাজিতার কেবিন ঘরটায় সবুজ পর্দা টেনে দেওয়া। মার্চের কড়া রোদ বাইরে। অথচ ভিতরে কী চমৎকার একটা সবুজাভ শান্তি। সবুজ বুঝি মেয়েটার প্রিয় রং।

-ভাল আছেন আপনি? চিনতে পারছেন আমাকে? ওই যে বই মেলা আর ধানমণ্ডির বেদেনী…

অপরাজিতা ছোট্ট করে হাসে। সে হাসিতে ঠোঁটজোড়া কাপে শুধু।

 

-আপনি ফরিদের বন্ধু, লেখালিখি করেন এটা বললেই তো হয়। অযথা বাংলা একাডেমী আর ধানমণ্ডি ঘুরছেন কেন? ফরিদ আমাকে আপনার কথা বলেছে। আপনি আমার কাছে এসেছেন গল্প খুঁজতে।

 

আমি কিছুটা লজ্জা পেয়ে হাসলাম। মেয়েটা বেশি সরাসরি কথা বলে। অপরাজিতা ছোট করে একটা নিশ্বাস নেয়। আমি ওর দিকে তাকালাম একবার। কেন জানি মনে হচ্ছে, আমি এ ক’বছরে এমন শান্ত-নিস্তরঙ্গ কোন মানুষের চেহারা আর দেখিনি। অপরাজিতা ওর গল্পটা শুরু করে।

 

-জানেন, আমার ছোটবেলাটা ছিল একটা পাখিবেলা। শুধু মনে আছে-আমি এক ঝাঁক পাখির পেছনে ছুটছি। চিটাগাং শহরে পাহাড়ের উপরে আমাদের যে বাড়িটা ছিল, সেটা ছিল একটা পাখি-বাড়ি। ভোর হতেই বাড়ির চারপাশের গাছগুলো থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে যেত। আর আমি আকাশের দিকে মুগ্ধ চোখে শুধু তাকিয়ে দেখতাম। আমার মনে হত- পাখি হওয়াটা বুঝি খুব সুখের। খুব পাখি হতে ইচ্ছে করতো। একটা সময় মনে হয়, আমি বুঝি সত্যি সত্যি একটা পাখি। শুধু মনে পড়ে, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসার রাস্তাটায় আমি চোখ বন্ধ করে দৌঁড়াচ্ছি। আমি যেন উড়ছি। হারিয়ে যাচ্ছি একটা আকাশে।

 

আমার নিজের একটা আকাশ ছিল। অন্য সবার আকাশের একটা করে রং থাকে। আমার আকাশের কোন রং ছিল না। আমার পাখিগুলোর রং ছিল। পাখির রঙের সাথে আকাশের রং বদলাতো। ভোরবেলা এক ঝাঁক স্লেটরঙা পাখি উড়ে গেল, আমার ইচ্ছা আকাশের রং হয়ে গেল হালকা ধূসর। আবার সন্ধ্যায় আমার নীলরঙা পাখির ঝাঁকটা যখন ঘরে ফিরতো, তখন আকাশের রং নীল। অদ্ভুত সুন্দর সব রং দেখতাম আমি, আমার আকাশে।

 

আমার যখন তেরো বছর, ক্লাস সিক্সে পড়ি-সেবার টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে শহর পানিতে ডুবে গেল। রাস্তা-ঘাট সব পানির নিচে। পাহাড়ের ঢাল থেকে নিচে নেমে আসার রাস্তাটা থেকে কাগজের প্লেন বানিয়ে আমরা শুধু নিচে ছুঁড়ছি। সেসব গিয়ে পানিতে পড়ছে, ভেসে যাচ্ছে। লাল নীল হলুদ রঙের শত শত কাগজের ফুল যেন ফুটেছে নিচের পানিতে। আমাদের স্কুল পড়াশুনা সব বন্ধ। পানি ভেঙে বাইরে যাওয়ার কোন উপায় নেই। বাবা-মা শুধু পানি ভেঙে অফিসে যান, আর আমি রোজ করে পাখিদের সাথে হারিয়ে যাই।

 

এমন অদ্ভুত স্বপ্নময় একটা সময়ে আমি একটা বিপদে পড়ে গেলাম। ‘বুলি’ নামের আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধুটির বাবা; যে লোকটা খুব চমৎকার ছবি আঁকতে পারতেন- সে মানুষটা আমার ঘরে এসে দরজা চাপিয়ে দিলেন। আমি তখনো বুঝিনি, বুলি’র বাবা আমার আকাশটাকে আড়াল করে ফেলছেন। আমি আমার আকাশ হারিয়ে ফেলছি। রং হারিয়ে ফেলছি। বিশ্বাস করুন, মিনিট পনেরোর একটা দুঃস্বপ্নে আমি আমার আকাশটাকে পুরোপুরি হারিয়ে ফেললাম।

 

বুলি’র বাবা চমৎকার সব ছবি আঁকতেন। সেদিনের পর থেকে, কাউকে ছবি আঁকতে দেখলেই আমি প্রচণ্ড ভয় পাই। ছবি আঁকার প্রতি আমার ভয়াবহ একটা ভীতি চলে আসলো। আমি একদমই ছবি আঁকতে চাইতাম না। বাবা-মা আমার ভয়টাকে বোঝাতে পারিনি। আমার কাছে শব্দ ছিল না, যে শব্দটায় আমি চিৎকার করে বাবা-মাকে বলতে পারি, আমি ভয় পাচ্ছি।

 

চিটাগাঙে আমরা যে কদিন ছিলাম, সে কটা দিনে এই মানুষটা এর পরেও অসংখ্যবার আমাদের বাড়িতে এসেছে। লোকটা বুলিকে নিয়ে গল্প করতেন। আমাকে ছবি আঁকা শেখাতে চাইতেন। বাবা-মাও চাইতেন, আমি ছবি আঁকা শিখি। বুলি’র বাবা আমার ঘরে চলে আসেন। বাবা-মা যখন বাসায় থাকতো না, ঠিক সে সময়টায় লোকটা ছবি আঁকা শেখাতে খুব পছন্দ করত।

 

এরপর থেকে আমি শুধু পাগলের মত আমার আকাশটাকে খুঁজেছি। কী কষ্ট! কী যে একটা কষ্ট! আমি শুধু অন্ধের মত পথ হাতড়ে চলছি। যে কোন কিছুর স্পর্শেই আমার যেন একবার করে মৃত্যু হচ্ছে।

 

আমার বিয়ের দিনে খুনটা কেন করলাম জানেন? আমি জানি, আমার মেয়েটাও না ঠিক আমার মতই হবে। ওর আকাশটা হবে অবারিত, আমার চেয়েও অনেক অনেক বড়। অন্ধকারে আমার মেয়েটা যখন ভয় পাবে, তখন আমি ওর মাথায় হাত রেখে, আমার গল্পটা শোনাবো। ওকে বলবো, তোমার মা’রও একটা আকাশ ছিল, সে আকাশটা একদিন চুরি হয়েছিল। কিন্তু তোমার মা সেটা ফিরিয়ে এনেছে। তোমার মা’র ফিরিয়ে আনার গল্পটা এদেশের প্রতিটা শহরে ছড়িয়ে পড়েছিল। রাজধানী থেকে সবচেয়ে দূরের যে মফস্বলটা, যেখানে সন্ধ্যার পরপরই ঝিঝি পোকার সাথে সাথে ঘুম নেমে আসে-সেখানেও।

 

প্রিয় পাঠক, অপরাজিতা তাঁর এই গল্পটা শেষ পর্যন্ত এদেশের সবার কাছে ছড়িয়ে দিতে পেরেছিল কিনা, সে খবর জানা নেই। তবে এ কথা নিশ্চিত জানি- তাঁর এই গল্পটা নতুন নয়। আমাদের চারপাশে গল্পগুলো ঘুরে ফিরে বেড়ায়। আমাদের তুলে দেওয়া দেয়াল ভেঙে সে গল্প বেরুতে পারে না। আকাশ চুরি হয় আমাদের অজান্তে, প্রতিনিয়ত।

 

Share