বিন্দারের জন্মদিনের গিফট অথবা একটি সিরিয়াস গল্প

লিখেছেন - রেজা শাওন | লেখাটি 1322 বার দেখা হয়েছে

গত এক ঘণ্টা ধরে ইশিতার জন্য অপেক্ষা করছি। বেইলি রোড জায়গাটা অবশ্য অপেক্ষা করার জন্য খারাপ না। প্যারিস যদি প্রেমের নগরী হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের বেইলি রোডও ঢাকার বুকে এক খণ্ড প্যারিস। সকল প্রেমিকপ্রবরদের তীর্থস্থান। আমি ঢাকার মেয়র হলে বেইলি রোডকে ‘প্রেমের অভয়ারণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করতাম। গত এক ঘণ্টায় আমি এক এলাকার প্রেমাক্রান্ত ছেলে মেয়েদের নিয়ে মোটামুটিভাবে একটা গবেষণা করে ফেলেছি। সবাই একধরনের সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ। শেষকক্ষপথে ইলেকট্রন শেয়ারের মত এরাও একে অন্যের হাত শেয়ার করছে। সবার এমন হাত ধরাধরি করে হাঁটায় অবশ্য নিরীহ পথচারীদের একটু সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু এটা কোনও সমস্যা না। প্রেমের জন্য সাত খুন মাফ।

 

বিকেল ৫টার মত বাজে। এই এলাকার স্কুল-কলেজগুলো ছুটি হয়েছে একটু আগে। কলেজপড়ুয়া মেয়েরা সব ব্যাগ কাঁধে বাড়ি ফিরছে। এই সময়টায় এভাবে উদ্দেশ্যহীনভাবে দাড়িয়ে থাকা মোটেও নিরাপদ না। শুনেছি এই এলাকায় সাদা পোশাকে ডিবির লোকজন ঘোরাফেরা করে। ইভটিজিং এর মামলা দিলে বিপদ! আমি ইশিতাকে ফোন দেই।

-কি রে? কই? আর কতক্ষণ?

-এইতো নামছি। আর পনেরো মিনিটের মত লাগবে। একটু ওয়েট কর প্লিজ।

-বুইঝো কিন্তু!! আমি পনেরো মিনিটের বেশি আর এক মিনিটও কিন্তু এইখানে নাই।

-আসছিতো! একটু দাড়া না। এমন করিস ক্যান?? (ইশিতা ফোন কেটে দেয়)

এতক্ষণ যারা ভাবছিলেন, আমি ইশিতার ভাগ্যবিরম্বিত প্রেমিক, তাদেরকে একটু ব্যাপারটা ক্লিয়ার করা করি। আমি যে ইশিতার কী? সেটা আমিও যেমন জানিনা, অন্যরাও জানেনা ইশিতাও জানেনা। আমি ভাই আর প্রেমিকের মাঝামাঝি একটা নোমান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছি। দুই দায়িত্বই খুশি মনে পালন করি। ইশিতা অবশ্য ভাই বানিয়ে ফেলার একটা অপচেষ্টা মাঝেমাঝেই করে। আমি খুব কৌশলী হওয়ায় সেটা আর সফল হয়ে ওঠেনা। আমি এই ইশিতাকে খুবই পছন্দ করি, এটা ইশিতা জানে। সমস্যা সেখানেই। বল এখন ইশিতার কোর্টে। ইশিতা সমানে গোল দেয়। আমিও নির্বিবাদে গোল খাই। প্রেমে পড়লে যে গোল খেতে হয়, নিয়মটাই এমন! আজকে অবশ্য অপেক্ষা করছি অন্য কারণে। আমাদের দুইজনেরই টিউশনি এই দিকে। মাঝে মাঝে টাইমিং মিলে যায়। আমরা একসাথে হলে ফিরি। আমার তিরিশ টাকা রিকশাভাড়া বেঁচে যায়। টাকার অঙ্কে তিরিশ টাকা অনেক। এই টাকায় পাঁচটা বেনসন সিগরেট পাওয়া যায় কিংবা নীলক্ষেত থেকে হাফ প্লেট তেহারি খাওয়া যায়। যেখানে তিরিশ টাকা বেঁচে যাচ্ছে সেখানে অপেক্ষা কোনো ব্যাপার না।

সারে পাঁচটার দিকে মহীয়সী ইশিতার দেখা মেলে। ঢাকা শহরেরে নিষ্ঠাবান মহিলা গৃহশিক্ষিকাদের লিস্ট বানালে, সেই লিস্ট ইশিতা উপরের দিকে থাকবে। গুনে গুনে টানা তিন ঘণ্টা পড়ানোর মত ধৈর্য সবার থাকে না। ইশিতার আছে। আমার ছাত্র অবশ্য আমার মতই অদম্য মেধাবী। গত পরীক্ষায় সাত বিষয়ে আট বার ফেল করেছে। একটা পরীক্ষা রিটেক ছিল, অদম্য মেধার পরিচয় দিয়ে আমার ছাত্র সেই বিষয়েও ফেল করেছে। কিন্তু ইশিতার ছাত্রী নাকি ইশিতার মতই লক্ষ্মী। ক্লাসে প্রতিবারই ফার্স্ট হয়।

দূর থেকে ইশিতাকে দেখি। মেয়ে পানিশূন্যতায় ভুগছে মনে হয়। চোখ-মুখ খুব শুকনো দেখাচ্ছে। আমি ওর জন্য এক প্যাকেট টেস্টি স্যালাইন কিনে ফেলবো কী না, যখন এই জাতীয় একটা সিধান্তহীনতায় পরে গেলাম, তখন দূর থেকেই ও ডাক দেয়।

-দাড়িয়ে দেখছিস কী? রিকশা দেখ।

-রিকশা দেখবো?

-তো????

-খাওয়াবিনা কিছু??

-কি খাবি??

আবারও একবার ধান্ধায় পড়ে গেলাম। কী খাব এইটাতো জানিনা। বলার দরকার মনে হলো,বললাম। বলে ফেলে নিজের কাছেই খারাপ লাগছে। এই মেয়ে তিন ঘণ্টা একটানা পড়িয়ে এসেছে। ওর চোখ মুখ দেখেই বোঝা যায়, ও কতটা ক্লান্ত। তবুও সে ‘না’ বলবে না। হাসি হাসি মুখ নিয়ে আমাকে খাওয়াবে এবং নিজেও ভাব নিবে যে, খুব মজা করে খাচ্ছে। আসল ব্যাপারটাতো তা না। এখন ফাস্টফুডে বসার মত মানসিক বা শারীরিক কোনও অবস্থাতেই ইশিতা নেই। কিন্তু ওই যে, ওর মাঝে আমি একজন ‘মা’ কে দেখি। ‘মা’ রা যেমন না বলেন না, ইশিতাও না ঠিক তেমন, না বলতে কোথায় যেন ওর সমস্যা।

আমি কথা ঘুরিয়ে ফেলি।

-থাক বাদ দে। আজকে আর না। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।

-তো?? সমস্যা কি? তোর কি কাজ?

-অবশ্যই কাজ আছে । রাতের শিফটে একটা ডেটিং আছে। রিকশা ডেটিং। রিকশায় করে ঢাকা শহরের সব চিপায় চাপায় ঘুরাঘুরি করবো।

-খুব জরুরী??

-অবশ্যই খুব জরুরী। আমার কথার দাম আছে। একজনকে কথা দিয়েছি, তার সাথে আজকে আমার “আন্ধার রাতে প্রেম” করার কথা।

-কাকে কথা দিছিস? কি নাম?

আমি তথমত খেয়ে যাই। মিথ্যা বলার জন্য যথেষ্ট স্মার্ট হতে হয়। আমি মোটেও স্মার্ট না। তবে ইশিতাকে আমি আর সুযোগ দেই না। রিকশায় উঠে বসি। তারপরও ইশিতা কিছুক্ষণ নামানোর জন্য টাল-বাহানা করে। আমি নামিনা। আমি এক কথার লোক। শেষে হাল ছেড়ে দিয়ে, ও রিকশায় উঠে বসে। রিকশায় ঘুরাঘুরি আমাদের দুজনেরই খুবই পছন্দের। আমরা প্রায় ঘুরি। ঘুরতে ঘুরতে রাজ্যের গল্প করি। সেসব গল্পগুলোও বড় অদ্ভুত। অধিকাংশ সময় আমিই গল্প করি। ইশিতা শুধু শোনে, আর চুড়ি ভাঙ্গা শব্দে হাসে।

রিকশায় উঠে অনেকক্ষণ দেখি মেয়ে কিছুই বলেনা। পানিশূন্যতা ওকে মনে হয় হয় ভালই ধরেছে। তখন স্যালাইন না খাইয়ে বিরাট ভুল করেছি। এভাবে একা একা বসে যাওয়া যায়? তারপরও আমি মুখে তালা মেরে অনেকক্ষণ বসে থাকলাম। একটা সময়ে এসে গুনগুনিয়ে গাই-

“ও প্রেমের কবুতর,

এই মনের খোপে বাঁধলে তুমি ভালবাসার ঘর।।

বাক বাক বাকুম বাক

বাক বাক বাকুম বাক।।

আমি এই কয় লাইনই বার বার ঘুরেফিরে গাই।একটা সময় ইশিতা ঘাড় ঘুরায়।

-এইটা কোন ধরনের গান?

-এইটা বংলা ছবির গান। ছবির নাম ‘প্রেমের কবুতর’।

-গ্রাম বাংলার নিটোল প্রেমের কাহিনী। ইলিয়াস কাঞ্চন আর দিতি অভিনিত। হৃদয়কাঁপানো ছবি।

-তুই বাংলা সিনেমা দেখিস?

-অবশ্যই। সারাদিনই দেখি। আমার প্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। প্রিয় নায়িকা অঞ্জু ঘোষ। আর প্রিয় ছবি হলো-’বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’।

ইশিতা হাসে। সেই চুড়ি ভাঙ্গা হাসি। আমি হাবার মত ওর দিকে চেয়ে থাকি। মনের অজান্তেই আবার গুনগুনিয়ে উঠি,

তোমার এই মিষ্টি হাসি

বড় যে বাংলাদেশী

-এই বদ, এটা আবার কার গান?

-সাকিব খানের। দি কিং খান।

ইশিতা আবারও চার পাশ কাঁপিয়ে হাসে। দিন দিন যান্ত্রিক হয়ে আসা এই শহরটায় প্রান ফিরে আসছে বোধহয়।

ইশিতাকে হলে নামিয়ে দিয়ে আমার হলে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যে হয়ে যায়।

হলের গেটে সাব্বিরের সাথে দেখা।

-কী রে? কই থেকে? হলে দেখিনা।

-আছি আর কি। বেইলি রোড থেকে আসলাম।

-কার সাথে?

-ইশিতা, আমার ইশিতা।(চোখে মুখে ব্যাপক মজনু মার্কা একটা ভাব ফুটিয়ে উত্তর দিই)

-ইশিতা ছিল মানে? তুইনা গত বছর সোমার প্রেমে সন্ন্যাস নিলি!! এক বছরতো এখনো হয় নাই!!

-সোমা অতীত। ইশিতা বর্তমান। আমার একমাত্র ঘটমান বর্তমান, "the present continious"।

 

সাব্বির কী বলবে বুঝে উঠেতে পারেনা। চোখে মুখে প্রশ্ন নিয়ে ও আবার বলে,

-আচ্ছা বলতো, ন্যাড়া কয় বার বেল তলায় যায়?

আমি সাব্বিরকে একটা ক্রুর হাসি উপহার দিলাম । সাব্বিরটা একটা আয়তাকার গাধা, মানে চারপাশ থেকে গাধা। এতো সহজ প্রশ্ন কেউ করে নাকি?? আমি উত্তর দিলাম,

-একবারই যায়। তবে হেলমেট পড়া থাকলে একাধিক বারও যেতে পারে।

সাব্বির মনে হয় আমার উত্তরে নিদারুন আশাহত হলো। কিছু না বলেই ঘাড় গোঁজ করে চলে যায়। আমিও রুমের পথ ধরি। সন্ধার আগেই আপার বাসায় যেতে হবে। আজকে বিন্দারের জন্মদিন। 'বিন্দার' হলো আমার পাঁচ বছরের ভাগিনা 'তাহমিদ'।

তাহমিদ এই পাঁচ বছর বয়সেই বাঁদরামির সতেরো কলা পূর্ণ করেছে। তাই ওকে আর বান্দর বলে, বাঁদরদের অপমান করিনা। আমি বলি 'বিন্দার'।

বিন্দারের খুব প্রিয় একটা শব্দ হচ্ছে 'মামী'।

ওর এই শব্দটা যে কতটা প্রিয়, তা একটা ঘটনা বললেই পাঠক বুঝবেন।

একবার আমি বাজারের ব্যাগ হাতে বের হচ্ছি।

বিন্দার বলে, -মামা কই যাও?

-বাজারে যাই।

-আমিও যাবো।

-তুই কি করতে যাবি?

বিন্দার মনে হয় একটু লজ্জা পায়। তারপর দাঁত কেলিয়ে বলে ওঠে,

-মামী কিনতে যাবো!!

আমি ওর কথায় তব্দা খেলাম, ঠিক কী বলব বুঝে উঠতে পারলাম না। অনেক ক্ষণ ভেবে বললাম,

-মামীতো সব শেষ বাবা। মামী সকালে পাওয়া যায়। এখনতো দুপুর।

-তাহলে বলো, কালকে কিনে দিবা। বলো! বলো! বলো!

-আচ্ছা যা। কালকে অবশ্যই এক হালি মামী কিনে দিব। প্রমিজ!! বিন্দার এক হালি মামী পাওয়ার আনন্দে লাফাতে লাফাতে চলে যায়। আসলে ওর দোষ দিয়ে লাভ নাই। ওর 'মামী' শব্দটা এতো পছন্দ পছন্দ হওয়ার পেছনের কারণটাতো আমি নিজে।

গত ঈদে বিন্দারকে নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছি। ও তখন আরও ছোট। রিকশায় আমার পাশে বসা। সাতমসজিদ রোডে আমরা দুইজন আইস্ক্রিম খেতে খেতে ঘুরছি। দূরে দেখি এক রিকশা ভরতি হুতাশন(আগুন) সুন্দরী। এক রিকশায় তিন জন বসা। সুন্দরী দেখলেই আমার প্রতিভা বেড়ে যায়। দুষ্টবুদ্ধি চিরবিড়িয়ে ওঠে। আমি বিন্দারকে বললাম,

-বাবা, ওই যে দেখছিস রিকশা। ওইটা কাছে আসলেই জোরে মামী বলে একটা চিৎকার দিবি।

-মামী কী?

-মামী কিছু না। তুই চিৎকার দিতে পারবিনা?

বিন্দার হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুখ থেকে আইস্ক্রিম মুছে ফেলে খুব উৎসাহী চোখে বলে,

-পারবো। দাঁরাও খালি, আগে কাছে আসুক!!

আমি দম বন্ধ করে রিকশায় শক্ত হয়ে বসি। বিন্দারও চোখ মুখ শক্ত করে সামনের দিকে তাকিয়ে। আমি গোনা শুরু করি।

এক...দুই...তিন...চার...!!

পাঁচ গোনার আগেই বিন্দার ধানমণ্ডি কাঁপিয়ে মামী...ইইই বলে চিৎকার দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় তিন সুন্দরীর উপরে বসা জন উপর থেকে গড়িয়ে পড়তে পড়তে শেষমুহূর্তে এসে নিজকে সামলে ফেলে। বাকীদেরও একই হাল। রিকশাওয়ালাও তুমুল শক খেয়েছে। বিন্দারের চিৎকারের ভয়াবহতায় দেখলাম রিকশাওয়ালা বেচারা তিন বার বুকে থুথু দিল। সুন্দরীরা বুকে থুথু দিল কী না, তা আর দেখা হলো না। বিন্দার আবারও একবার 'মামী' বলে চিৎকার দেওয়ার প্লানে ছিল। আমি কোনমতে মুখ চেপে ধরলাম।

শুরুতেই শতভাগ সাফল্যে বিন্দার মোটামুটি আনন্দের সপ্তম আসমানে উঠে যায়। সেবার ঈদের ওই বিকেলে 'বিন্দার' বৃহত্তর ধানমণ্ডি এলাকায় মোটামুটিভাবে শতাধিক মামী বানিয়ে বাড়ি ফেরে।

আজ সেই বিন্দারের পঞ্চম জন্মদিন। বিন্দারকে সত্যি সত্যি একজন মামী উপহার দিলে খুব ভাল হয়। আমি ইশিতাকে একটু পর পর মিসড কল দেই। এক সময় ইশিতা ফোন ব্যাক করে। আমি তারাতারি বিন্দারকে ডাক দেই।

-বাবা, তোর জন্য সত্যি সত্যি মামী পেয়েছি। বিন্দার আনন্দে প্রায় লাফিয়ে ওঠে।

-কই???

-এই যে ফোনে, কথা বল।

-হ্যালো মামী!! তুমি ভাল আছ? তুমি আমাদের বাসায় আসো না কেন? তুমি একটা পচা মামী!!

ওপাশ থেকে ইশিতা কী বলছে, আমি শোনার চেষ্টা করছি। কিন্তু বিন্দারের হাসির যন্ত্রণায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। বিন্দারটা ভাল বদ হয়েছে। নারীকণ্ঠের ফোন সে ছাড়তেই চায় না। আমি জোর করে ফোন কেড়ে নিলাম। ওপাশে হাই ভোল্টেজ শক খেয়ে ইশিতা কেমন আছে, জানা দরকার।

-হ্যালো ইশিতা

-কিরে? তুই বাচ্চা পোলা পানরে এই সব কী শিখাচ্ছিস?

-আমি আবার কী শিখালাম। এখনকার শিশুরা একটু এমনই।

-ও আমাকে মামী বলে কেন?

-শিশু মানুষ, ফেরেশতার কাছাকাছি। ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছে মনে হয়।

-তার মানে কী?

-মানে বিশেষ কিছু না। ওর একটা মামী খুব দরকার। ইশিতা অনেক ক্ষণ চুপচাপ থাকে। আমিও কথা বলি না। একটা সময় ওপাশ থেকে ইশিতা বলে,

-শোন, আমি ঢং একেবারেই পছন্দ করি না। তোর কিছু বলার থাকলে সিরিয়াসলি বল।

-ঢং কই করলাম? সিরিয়াসলি ওর একটা মামী দরকার। মাঝে মাঝে মেয়েরা জেনে ভুল করে। আবার মাঝে মাঝে ভুল করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। সেদিন রাতে ইশিতা কী ভেবেছিল, আমার আর জানা হয়নি।

ওপাশ থেকে ইশিতা শুধু বলেছিল

, -মামী হতে তার কোন সমস্যা নেই। শর্ত একটাই। আমাকে নাকি সিরিয়াস হতে হবে।

আমিও সেই শর্ত মেনে নিয়েছিলাম। শর্ত অনুযায়ী পর দিন সকালে ঠিক নয়টায় ওর হলের সামনে আমার দাঁড়ানোর কথা।

কথা ছিল ও নীল শাড়ি পরে বের হবে। আমরা রিকশায় করে সারা ঢাকা শহর ঘুরবো। পেট ভরে প্রেমফল(বাদাম) খাব।

আমি সন্ধ্যারাতেই বাসার সব ঘড়িতে Alarm দিলাম। কাল সকালে আমার সিরিয়াস হওয়ার খুব গুরতপূর্ণ একটা পরীক্ষা আছে।

Share