পিশাচ

লিখেছেন - ইয়াসির আরাফাত | লেখাটি 1738 বার দেখা হয়েছে

অন্তু কিছুই দেখতে পাচ্ছে না ।

কারন তার চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে । আর একটা কাপড় দিয়ে তার মুখ বাঁধা । তবে সে সব কিছু শুনতে পাচ্ছে । অনেক্ষণ ধরে চোখে কাপড় বেঁধে রেখেছে বলে এখন একটু একটু ব্যাথা করছে অন্তুর । তবে সবচে বেশি কষ্ট হচ্ছে কারন তার এখন বাথরুম পেয়েছে । খুব ভালো মত পেয়েছে । কিন্তু যা কিছু ঘটছে সেটাতে সে বেশ মজা পাচ্ছে । একটু আগে সে একটা বিষয় আবিষ্কার করলো । অনেক্ষন ধরে কিছু একটা দিয়ে চোখ বেঁধে রাখলে চারদিকের অন্ধকার ভাবটা আর থাকে না । একধরনের আলো ফুঁটে উঠে অন্ধকারের ভিতর । অন্তু ভাবছে আজ রাতেই সে তার বাবাকে এই আবিষ্কার সম্পর্কে বলবে । আর এটাও বলবে , সে এখন আর ছোট নেই । সে এখন অনেক কিছু বুঝতে শিখেছে । সে যে বড় হয়ে হয়ে গেছে সেটা তার আব্বু খুব মেনে নেয় । কিন্তু সমস্যা হল পাশের বাড়ির সাথী আপু । সে কিছুতেই মেনে নিতে চায় না যে, তার বয়স ৭ বছর হলেও তার অনেক বুদ্ধি । যেমন এখন সে যদিও কিছুই দেখতে পাচ্ছে না কিন্তু বুদ্ধি করে বের করে ফেলেছে, তার সামনে যে দুজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে তার একজন মতি কাকা । অন্যজনের গলার আওয়াজ ও তার চেনা , তবে সে শিউর না মানুষটা কে ।

 

 

 

                  একটু আগে অন্তুর ভয় ভয় লাগছিল । কিন্তু যখন সে বুঝতে পেরেছে তার সামনে দাঁড়ানো মতি কাকা তখন তার ভয় পুরোপুরি কেটে গেছে । এখন সে নিশ্চিত এটা একটা খেলা । মতি কাকার সাথে এই ধরনের খেলা সে আগেও খেলেছে তাদের বাড়ির পেছনের সুপারী বাগানে । অন্তু ,মতি , তাদের কাজের ছেলে মিজান , পাশের বাড়ির বাবলু মিলে প্রায় ডাকাত-পুলিশ খেলতো । মিজান বাবলুকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রাখতো , অন্তু আর মতি পুলিশের মত বাবলুকে বাঁচাতো । বাবলু গত বার বেশ কান্নাকাটি করে বলেছিল সে একবার পুলিশ হতে চায় । অন্তুর মনে হল তাই বুঝি আজ তাকে বন্দি বানানো হয়েছে আর মতি কাকাকে ডাকাত । কিন্তু এটা বুঝতে পারছে না মতি কাকার সাথে আরেকজন কোথা থেকে এলো ? আর বাবলুরা ই বা এতো দেরী করছে কেন ?

অন্তু মাগরেবের আযান শুনতে পেল ।

 

 

                   চোখ মুখ শক্ত করে বসে আছে মতি মিয়া । তাকে বেশ অস্থির মনে হচ্ছে । এর মধ্যই সে ১০টা সিগারেট খেয়ে ফেলেছে । তার মাথায় কিছুতেই আসছে না কাশেম আর আব্বাস এতক্ষন দেরী করছে কেন ? কোন ঝামেলা হয়ে গেলো না তো ; শেষেমেষ ধরা পড়ে যাবে নাতো । মতির নিজের উপর বিশ্বাস আছে । সে বেশ বিচক্ষন ছেলে । যা-ই করে অনেক ভেবে চিন্তে করে । এতোদিন ধরে এই বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসাবে আছে সে , কিন্তু কেঊ তার মতলব বুঝতে পারেনি । কাশেমের উপর ভরসা রাখা যায় । কিন্তু আব্বাস ছেলেটা এই লাইনে নতুন । বিপদ আসলে তার দিক দিয়েই আসতে পারে । কাশেম এই বাড়ির কাজের ছেলে । আজকে তার দায়িত্ব বাড়ির লোকজনের সাথে থাকা । তাদের মতিগতি লক্ষ করা । সবাই একসাথে বাড়িতে না থাকাটা সন্দেহ জনক । আর আব্বাসের কাজ হচ্ছে গাড়ি ম্যানেজ করে বাড়ির পেছেন দিকের রোড়ে এনে রাখা । আব্বাস এন্তুদের গাড়ির ড্রাইভার । আজকে অবশ্য সে ছুটি নিছে চিটাগাং যাবে বলে ।

 

 

                 মতি আরেকটা সেগারেট ধরালো । তার লুঙ্গির পেছনে গুঁজে রাখা জিনিসটাতে আরেকবার হাত বুলিয়ে নিল । যদি সত্যি কোন বিপদ হয় এই জিনিসটাই তার শেষ ভরসা । কিছুক্ষন আগে মিজান কে সুপারি বাগানের দিকে যেতে দেখেছে । সবাই মনে হয় ইতিমধ্যে খুঁজতে শুরু করে দিয়েছে । হাতে সময় খুব কম । তবে প্রকান্ড সুপারী বাগান পার হয়ে অনেক বছরের পুরানো আধা ভাঁঙ্গা এই কাঠের দুইতলা বাড়িতে এত তারাতারি কেউ তাদের খুঁজতে আসবে না । এটা ভেবে কিছুটা চিন্তামুক্ত হয় মতি । তবে একসময় কেউ না কেউ তো অবশ্যই আসবে ।

 

 

 

                       শফিউল আলমের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে আসছে । শফিউল আলম অন্তুর বাবা । টেকনাফে তার হোটেলের ব্যবসা । অত্র এলাকায় দুই একজন ধনী ব্যক্তির মধ্যে একজন তিনি । বিশাল একটা দুইতলা বাড়ি । বাড়ির একপাশে বিরাট দিঘি । অন্যপাশে বাড়ির কাজের লোকদের জন্য লেইনকরে বাঁধা কয়েকটা ঘর । বাড়ির পেছনে প্রকান্ড সুপারী গাছের বাগান । ঘরে সুন্দরী বউ । বাড়ি ভর্তি কাজের লোক । ফুঁটফুটে দুইটা বাচ্চা । বিত্তবান সুখি একজন মানুষ । কিন্তু মতির বিবেচনায় উনি একজন বোকা মানুষ । বিরাট ভেন্দামার্কা লোক । সুখি মানুষ ভান্দা হয় সেটা মতি জানে তবে এমন ভেন্দা সে তার ২৪ বছর বয়সে দেখেনি । সে তার এই অল্প বয়সে অনেক খারাপ কাজ করেছে । বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে মানুষের বাড়িতে থেকেছে । কিন্তু কেউ তাকে কিচ্ছু করতে পারেনি । আজকেও সে বেঁচে যাবে বলে তার বিশ্বাস । নিজের উপর মতির একটু বেশি বিশ্বাস । আর খুব তারাতারি মানুষের বিশ্বাস অর্জন করার ক্ষমতাও তার আছে । মতির এখনো মনে পড়ে তিনমাস আগে বাগেরহাট থেকে সে টকনাফ এসেছিল কাজের খোঁজে । এখানে এসেই তার পরিচয় হয় খুলনার কাসেম আর আব্বাসের সাথে । টেকনাফ সীমান্তে একটা কোম্পানির কুলির কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় আরো কয়েকজনের সাথে । যাদের জন্য এই কাজ সে হাতে নিয়েছে । অনেক প্লান করে আব্বাস আর কাশেম সহ এই বাড়িতে দাখিল হয়েছে । যাদের হয়ে মতি কাজ করে তাদেরকে সে বেশি ভালো ভাবে চিনে না , তবে এটুকু জানে তারা অসম্ভব ভয়ংকর লোকজন । কাজ ঠিক ঠাক করতে না পারলে তার খবর আছে ।

 

 

                    এখন অন্তুর খুব কান্না পাচ্ছে । কারন একটু আগে সে প্যান্টে হিসু করে দিয়েছে । তাই মতি কাকা তাকে শুয়রের বাচ্চা বলে গালি দিয়েছে । আন্তু আরো কষ্ট হচ্ছে কারন মুখ বেঁধে রাখার কারনে সে ভালো ভাবে কাঁদতেও পারছে না ।

মতি রাগের মাথায় বললো ,'' জব্বর আলী , এক কাম কর ; ছুরি দিয়া এই ইবলিসটার ( \ ) কাইট্টা নে । মুতামুতি জন্মের মত বন্ধ । শুউরের বাইচ্চা ।

কথাটা শুনেই জব্বার আলীর চোখ খুশিতে চিক চিক করে উঠলো । গালের হলুদ সব কয়টা দাঁত বের করে হেসে দিল । কাটা কাটির কাজ করতে তার খুব ভালো লাগে । তাই সে কাজ নিয়েছে টেকনাফ বাজারের মুরগির দোকানে । চালু দোকান । দিনে ৫০-৬০টা মুরগী জবাই করতে হয় জব্বার আলীর । জব্বর বললো , " উস্তাদ , কাইট্টা বিঁচি দুইডা সুতা দিয়া বাইঁন্ধা রাখি । কি কন ? ''

মতি কিছু বললো না । সে এখন বেশ চিন্তিত । কারন তার রাগ বাড়ছে । মাথার পেছেনে যন্ত্রনা হচ্ছে । এসব কাজ করতে হয় ঠান্ডা মাথায় । কাশেম আর আব্বাসের কোন খবর নেই এখনো । আব্বাস কি গাড়ি নিয়ে কোন ঝামেলায় পড়লো ?

 

 

                '' অন্তু , ও অন্তু ! '' সাবিনা বেশ কিছুক্ষণ ধরেই থেমে থেমে ডাকছে । 

কই যে গেলো ছেলেটা ! সাবিনা নিজে নিজেই গজ গজ করতে থাকে ।

সে কাশেমকে ডেকে বললো , " কাশেম , অন্তু কই গেছে রে ? যা গিয়ে দেখ , কোন সুপারী বাগানে খেলতেছে কি না । "

খালাম্মা, মিজাইন্যা গেছে খুঁজতে , কাশেম জবাব দেয় । 

'' তোর পায়ে কি শেকড় গজাইছে ? তুই ও যা , কই গেছে দেখ । '' বলেই সাবিনা নিজেও খুঁজতে বের হলেন । 

এমন সময় অন্তুর ছোট চাচা হেলাল বাইরে থেকে সবে মাত্র বাসায় এসেছে । 

'' হেলাল , ভাই তুমি একটু দেখো তো ছেলেটা কই যে গেলো !  ২-৩ ঘন্টা হয়ে গেলো কোন খবর নেই । '' বলতে বলতে অনেকটা কেঁদে ফেলেন সাবিনা । 

হেলাল বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে , কার কথা বলছেন ভাবি ? অন্তুর ? 

হুম , 

'' আরে আছে হয়ত কোথাও । আপনি চিন্তা করবেন না , আমি দেখছি । '' হেলাল তার ভাবি কে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে । 

'' আমার মনে কেমন জানি করছে । ছেলেটা বিকেলে বললো চা দিয়ে বিস্কিট খাবে , তারপর কই যে গেলো ! তুমি যাও না ভাই একটু ঐ দিকটাতে দেখো । " সাবিনা কাঁদতে থাকে । 

হেলাল অন্তুর নাম ধরে ডাকতে ডাকতে সুপারী বাগানের দিকে পা বাড়ায় । 

 

 

 

         শফিউল আলম মাগ্রিবের নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছেন । বিচিত্র কারনে আজ তার মন মেজাজ অশান্ত , কিছুটা বিক্ষিপ্ত । বাড়ির মেইন গেইটে পা দিতেই সাবিনার গলা শুনতে পান তিনি । স্বামী শফিউল আলমকে দেখে ঢুকরে কেঁদে উঠেন সাবিনা । স্ত্রীর কান্না দেখে বিচলিত শফিউল আলম , কন্ঠে রাজ্যের উত্‌কন্ঠা নিয়ে বলেন , কি হয়ছে তোমার ? কান্দো কেনো ? 

সাবিনা বিকেল থেকে অন্তুকে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে ফুঁপিয়ে কেঁদতে থাকেন । সব কিছু শুনে শফিউল আলম নিজেও খুঁজতে গেলেন পাড়ার দিকে । 

 

 

              উস্তাদ , হালারা এহনো আসেনা ক্যান ? মতিকে উদ্দেশ্য করে বলে জব্বর আলী ।

সে চিন্তিত মুখে তাকিয়ে আছে মতি মিয়ার দিকে । মতি ঝিম ধরে বসে আছে । কি করা যায় তাই নিয়ে চিন্তা করছে । হঠাত্‌ হেলালের আওয়াজ শুনে তার ধ্যান ভাঁঙ্গে । তার বুকের ভিতর ভয় জেগে উঠে । যেকোন সময় সবাই খুঁজতে খুঁজতে এদিকে ও চলে আসতে পারে । হাতে সময় একেবারে কম । যা করার এখনই করতে হবে । সে একবার ভাবে জব্বার কে পাঠাবে কিনা বাড়ির পেছেনের দিকের রোড়টাতে , যদি কোন খবর পাওয়া যায় আব্বাস আর কাশেমের । আবার চিন্তা করে , না , তাকে একা পাঠানো ঠিক হবে না । তাছাড়া এর মধ্যে যদি কিছু হয়ে যায় , নিজের আশেপাশে আপন কাউকে তার দরকার । 

 

 

              ঠিক এমন সময় সামনের দরজায় কে যেন ধাক্কা দেয় । মতি আর জব্বার দুজনেই বসা থেকে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ায় । মতি দ্রুত চিন্তা করতে থাকে , কে হতে পারে ? একবার ভাবে জিজ্ঞেস করবে কি না । কিন্তু সেটা সে করে না । আব্বাস হউক অথবা কাশেম দুজনকেই বলা আছে , পেছনের দরজা দিয়ে আসতে । তাহলে এখন যে দরজায় ধাক্কা দিল সে কে ? 

দরজায় আবার ধাক্কা দেয় মিজান । এবার সে ডাক দেয় ,''  অন্তু , ও অন্তু । ''

মতি দৌঁড়ে গিয়ে অন্তুর মুখ চেপে ধরে । যদিও অন্তুর মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা । অন্তু প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকে জবাব দিতে । হাত পা ছুঁড়তে থাকে শিশু অন্তু । জব্বার এসে পা চেপে ধরে অন্তুর । 

দরজায় আর কোন শব্দ নেই । মিজান বাগানের পূর্ব দিকের ঝোপ ঝাঁড়ের দিকে পা বাড়ায় । 

 

 

              মতি মিয়া জব্বার কে ডেকে আনে পাশে । এখন জব্বারকে প্লান বুঝানোর সময় চলে এসেছে , মতি মিয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় । 

'' জব্বার , চল পুলাটারে দমদমা ( বাঁশের বেঁড়া দিয়ে তৈরি ছাদ ) র উপরে নিয়া যাই । এইখানে রাখা নিরাপদ না । যেকোন সময় অন্যকেউ চলে আসতে পারে । জব্বার সম্মতি দেয় । মতি আন্তুর হাত ধরে , জব্বার পা । কাঠের শিঁড়ির দিকে যেতে থাকে তারা । অন্তু প্রাণপণে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য হাত পা ছুঁড়া ছুঁড়ি করতে থাকে । জব্বার লাথির আঘাতে মেঝেতে পড়ে যায় । সেখান থেকে উঠে রেগে গিয়ে সে সজোরে একটা লাথি মারলো অন্তুর তলপেটে । ব্যাথায় অন্তুর কিছু সময়ের জন্য মনে হলো সে মারা যাচ্ছে । প্রাণ ফাটিয়ে চিত্‌কার করে অন্তু । কিন্ত সে আওয়াজ তার মুখের ভেতরেই থেকে যায় । 

 

              অন্তুকে টেনে হিছড়ে কাঠের শিঁড়ি দিয়ে উপরে তুলছে মতি মিয়া । জব্বার কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে । কাঠের শিঁড়ি থেকে অর্ধেক বের হয়ে থাকা পেরেকে লেগে অন্তুর পিঠের বড় একটা জায়গা ছিঁড়ে গেছে । ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে সেখান থেকে । সেদিকে কারো খেয়াল নেই ; না মতির , না জব্বারের । দমদমার ধারালো বাঁশের কানায় লেগে কেটে গেছে আরো বেশ কয়েকটা জায়গা । সে কি যন্ত্রণা !! অন্তু গোঙ্গানীর মত শব্দ করেতে থাকে । মা মা বলে কলিজা ফাটিয়ে চিত্‌কার করতে থাকে সে । কিন্তু সে আওয়াজ কারো কান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না ।

 

 

 

               নীচতলা থেকে উপরে তুলতে টানাটানিতে অন্তুর মুখের বাঁধন খুলে যায় । শব্দ করে কাঁদে উঠে অন্তু । কেঁদে কেঁদে বলে , '' মতি কাকা আমার খুব কষ্ট হচ্ছে , আমাকে ছেড়ে দাও নাইলে আমি আম্মু কে সব বলে দিব ।। '' 

অন্তুর কথা শুনে আউলায় যায় মতির মাথা । অন্তুকে ছেড়ে দেয়া মানে নিশ্চিত মৃত্যু বলেই মনে হয় মতির । এদিকে আব্বাস কিংবা কাশেমের কোন খবর না পেয়ে শেষ স্বীদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলে মতি । লুঙ্গির পেছনে গুঁজে রাখা ছুরিটা বের করে আনে সে । জব্বারের চোখ চিকচিক করে উঠে ছুরি দেখে । মতির হাত থেকে মুহুর্তেই ছুরিটা অনেকটা কেড়ে নিয়ে বসিয়ে দেয় অন্তুর গলায় । ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়ে কিছুটা জাব্বারের মুখে এসে পড়ে । কোরবানীর পশুর মত ছটফট করতে থাকে অন্তু । সে কি ভয়াবহ যন্ত্রণা ! হাত পা এদিক ওদিক ছুঁড়তে থাকে অন্তু । চারদিক যেন রক্তে ভেসে যাচ্ছে । যে দৃশ্য কেউ কখনো দুঃস্বপ্নেও দেখেনি । 

 

 

              ঠিক এমন সময় হেলাল আর মিজান জোরে জোরে দরজা ধাক্কাতে থাকে । পুরানো বাড়ির দরজা । অল্পতেই ভেঙ্গে যায় । হেলাল আর মিজান এদিকে ওদিকে তাকায় । কোথাও কাউকে না পেয়ে চলে যাবে তারা , এই সময় দমদমার বাঁশের বেড়ার ফাঁক বেয়ে একফোঁটা রক্ত এসে পরে হেলালের গালে । কিছু না বুঝেই সে বিকট চিৎকার দিয়ে উঠে । আশে পাশের সবাই এসে জড়ো হয় সেখানে ।

কেউ কিন্তু এখনো জানে না একটু পর উপরে উঠে তারা যা দেখবে , সে দৃশ্য দেখে তাদের কয়েক জন সারা জীবনের জন্য হারিয়ে ফেলবে তাদের বাকশক্তি । আর কিছু মানুষ তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে কিনা সে আশংকা নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিবে । 

 

 

 

 

পরিশিষ্ট : ছুরি হাতেই গ্রেফতার করা হয় মতি আর জব্বারকে । পরে পুলিশের কাছে শিকারোক্তির ভিত্তিতে আব্বাস ও কাশেমকে ও গ্রেফতার করা হয় । কিন্তু বিবেক কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না পিশাচগুলো কেন এখনো পৃথিবীর আলো বাতাসে দিব্ব্যি বেঁচে আছে । 

 

এই ঘটনাটি বাংলাদেশে প্রায় সবকটি পত্রিকাতে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয় । 

 

যত কঠিন শাস্তিই দেয়া হউক না কেন , আমরা, আমাদের পরিবার কখনোই ফিরে পাবো না অন্তুকে ( অলি উল্লাহ ) , অস্বাভাবিক একটা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে তার মাকে । কেউ তার মাকে ফিরিয়ে দিবে না এই ঘটনার আগেরকার রঙ্গিন জীবন । 

 

Share