টুকরো বন্ধু পত্র

লিখেছেন - ফারহানা নিম্মী | লেখাটি 915 বার দেখা হয়েছে

১.

 

স্কুলের দিনগুলোর কথা মনে আছে তোর ?? একবার রফিক স্যার কি মার টাই না

দিলো আমাকে... তোরা সবাই রাগ করে স্যারের ছাদে লাগানো টমেটো গাছের সব

টমেটো গুলোকে অকালে ভর্তা করেছিলি ...

 

২.

 

বেচারী আন্টিরা...আমের সিজনে ছাদে আম শুকাতে দিতে পারত না শান্তি মত ...

আমরা ৫ বিচ্ছু থাকতে সেটা কেমনে  possible ছিলো ?? ক্লাশ নাইনের টাইম টা

best ছিলো ...সেইবার কোন এক আন্টি বয়াম ভর্তি আমের আচার ছাদে শুকাতে

দিলো...টিফিন পিরিয়ডে শান্ত সুবোধ বালিকাদের মত ছাদে উঠে গেলাম...তারপর

আচারের অবস্থা আর না ই বললাম...খালি বয়াম টা কি করব,বুঝতে না পেরে ছাদ

থেকে ছুড়ে ফেলে স্কুলে চলে গেলাম...

 

আচ্ছা,এরপর আর আন্টিরা কি আর ছাদে আচার শুকাতে দিত??

 

৩.

 

হুমায়ুন আহমেদের বই পড়ার জন্য আমরা competition দিতাম,মনে আছে??কে আগে

কয়টা বই পড়ে ফেলতে পারে তার competition...তুই কোন একটা বই পেলেও লুকিয়ে

ফেলতি ... যদি আবার তোর থেকে বেশি পড়ে ফেলি???

 

৪.

 

এই ছেলে,আমার কথা মনে থাকে না,না??ফাযিল,তোর সাথে কত হাসি-কান্নার স্মৃতি

জড়িয়ে আছে...আমার মন খারাপ হলে,সবার আগে তো তোকেই ফোন দেই...লাস্টবার যখন

আমার একটা খরগোশ মারা গেলো,তোকে ফোন দিয়ে আমার সে কি কান্না !!

পরে তো তুই হেসেই বাঁচিস না...তাতে কি??আমি পাগল আছি,পাগল ই থাকব...তোর

কোন সমস্যা আছে???

 

৫.

 

ঈদের সময়টা আমরা কতই না enjoy করতাম... সকালটা শুরু করতাম,সোমার আম্মুর

রান্না করা কাস্টার্ড দিয়ে...এরপর মুর্শিদাদের বাসার কাবাব,তিশাদের বাসার

চটপটি,বাবলিদের বাসার নুডলস,সুমিদের বাসার পোলাও কোরমা,জেনিদের বাসায় তো

যা দিত তাই খেতাম,আর সবশেষে আম্মুর রান্না করা সুগন্ধি পোলাও আর আট-নয়টা

আইটেম...কিন্তু,কপাল!!!! আম্মুর রান্না করা কিছু খাওয়ার জন্য পেটে জায়গা

বাঁচলেই তো !!!

 

বন্ধুদের জন্য তো সবই চলে... sorry আম্মু...

 

৬.

 

পহেলা বৈশাখ...সবাই মিলে কলোনির মেলায় স্টল দেয়া...মেয়েরা সবাই মিলে লাল

পেড়ে শাড়ি পড়া...পুরোটা দিন মজা করে ফুচকা খাওয়া,নাগরদোলায় চড়া,ছবি

তোলা...প্রতিটা জিনিষ যদি আবার ফিরে পেতাম...আজ আর কোন মেলায় যাওয়া হয়

না...তোদেরকে ছাড়া কিচ্ছু ভাল্লাগে,বল??

 

৭.

 

আমি যেদিন চলে এলাম,কি যেন বলেছিলি??

-"মনে করিস না তোর জন্য কাঁদছি...আমার আসলে সর্দি লেগেছে..."

 

তোদের জন্য বাথরুমের দরজা বন্ধ করে কত কেঁদেছি...আমার কিন্তু সর্দি ছিলো

না...আমি সত্যিই কেঁদেছি...

 

৮.

 

বিনু,সুমি,বাবলি,সারা,সামান্তা,

শুভ সবাই ঢাকায় পড়ছিস...পড়ালেখা করে

বিদ্যাসাগর হয়ে যাচ্ছিস খুব...কারিশমা কুমিল্লায় পড়ছিস,জেনি তো সংসার

পেতেছিস,ফাহিম আমার সাথে একই ভার্সিটিতে পড়িস তবুও দেখা হয়

না...শান্তা,রেখা,তিশা,লিমা তোদের তো পাত্তাই পাই না সবসময়...আমি আছি

আমার মত...সবসময় যোগাযোগ হয় না তোদের সাথে...কিন্তু ভীষণ মিস করি,জানিস

তো??

তানভীর,অণু,রাসেল,মিজান,আশরাফ,

পাভেল,লিয়ন তোদের কথা কি আলাদা করে বলতে

হবে??তোরা তো হচ্ছিস,পাওয়ার হাউজ...প্রতিটা মিটিং এর প্রাণ...অনেকদিন পর

সবাই একত্রিত হলে,তোরাই তো পার্টি দিস...অনেক থ্যাঙ্কস দোস্ত...

 

৯.

 

অনেক কথাই বলি তোদের সাথে...কখনো বলা হয় না,কতটা ভালবাসি তোদেরকে,কতটা

মিস করি...আজকের এই টুকরো চিঠিগুলো তোদের জন্য...ভাল থাকিস খুব...অনেক

অনেক বড় হ.....

বিনু,শম্পা,তারিন তোরা ডাক্তার হয়ে যা,আমার অসুখ হলে কিন্তু free treatment চাই...

শুভ,তুই মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার না??এদের কাজটা কি??যাই হোক,আমার জন্য free

তে করে দেয়ার মত কিছু থাকলে করে দিস...

সুমি,জার্নালিজমে পড়িস...আমার একটা-দুইটা গল্প ছাপাতে পারিস কিনা দেখিস তো...

লিয়ন,তোর কাজ হচ্ছে,বাসার লাইট ফিউজ হয়ে গেলে সেটা ঠিক করে

দেয়া...ইলেক্ট্রিকালে পড়ছিস কিজন্য??? :P

 

১০.

 

এতগুলো চিঠি মনে মনে জমা করে রেখেছি...কখনো দেয়া হয় না...আমার জন্য বছরের

প্রতিটা দিনই বন্ধু দিবস...ভালবাসা তো প্রতিদিনের জন্যই,তাই না...বছরের

৩৬৫ দিন ছাড়াও,লিপ-ইয়ারের ৩৬৬ দিনই তোদের কে খুব খুব ভালবাসি...

খুব ইচ্ছা করে আবার স্কুলে ফিরে যাই...আর,পড়া না পেরে কান ধরে দাঁড়িয়ে

থাকি...খুব ইচ্ছা করে,তোদের সাথে মিলে কলোনীর সব সাইকেলের পাম্প ছেড়ে

দিই,এমডির বাংলোর গাছগুলো থেকে পেয়ারা,ডেউয়া চুরি করে লবন-মরিচ দিয়ে

খাই...কিছুই করা হয় না...পুরোনো ভালবাসা আর ইচ্ছাগুলোকে তাই আকাশের

ঠিকানায় তোদের কাছে পাঠিয়ে দিলাম...অনেক ভালবাসি তোদেরকে...

 

Share