হাত বাড়াও,ছুঁয়ে দাও আমাকে

লিখেছেন - আয়শা কাশফী | লেখাটি 1822 বার দেখা হয়েছে

সাধারণত সকাল সাতটার মধ্যেই আমার ঘুম ভাঙে।আধো ঘুম অবস্থায় আমি আরও বেশ কিছুক্ষণ বিছানায় গড়াগড়ি দিই।এটাকে আমি বলি বিলাস ঘুম।বিলাস ঘুমের সময় আমি কাঁথার ভেতর মাথাটা পুরোপুরি ঢুকিয়ে দিয়ে একটু পরপর আবার অল্প করে উঁকি দিই।আজকে আমার বিলাস ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছে।ঘুমের মধ্যে একটু পরপর স্বপ্ন দেখলাম এরোপ্লেন এর চাকার সাথে বেঁধে আমাকে ফেলে দেয়া হচ্ছে। তারপর দেখলাম প্রবল শব্দে কেউ আমার কানের কাছে তবলা বাজাচ্ছে।

 

 অনেকক্ষণ পর বুঝতে পারলাম নীচতলা থেকে কিছু একটা ফ্লোরের উপর দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার শব্দ আসছে।নীচতলায় আজকে নতুন ভাড়াটে আসার কথা।মানুষের আক্কেল ঠিক কতখানি কম থাকলে এই সাতসকালে জিনিসপত্র নিয়ে টানাটানি করতে পারে?

 

 রান্নাঘরের দিকে রওনা হলাম।বাবা বারান্দায় বসে গভীর মনোযোগে পেপার পড়ছেন।কোনোভাবেই তার চোখের সামনে পড়া যাবেনা।কারণ রিটায়ার করার পর আমার বাবা লেকচার দেয়ার বদভ্যাস অর্জনকরেছেন।চা বানিয়ে একটা চুমুক মাত্র দিয়েছি,পাখির ডাকে কান ঝালাপালা হয়ে গেল।পাখির ডাকের এই অতি কুৎসিত ডোরবেল বাবা কিছুদিন আগে চরম উৎসাহ নিয়ে লাগিয়েছেন।একটু পরপর নিজেই অকারণে বাজিয়ে দেখেন।সেই সময় আনন্দে তার মুখ ঝলমল করে।কিন্তু এই সকাল বেলায় কে এল?যে এসেছে সে ক্রমাগত বেল বাজিয়ে যাচ্ছে। তার মনে হয়ধারণা আমাদের বাসার সবাই বধির।তীব্র বিরক্তি নিয়ে  দরজা খুললাম।আমারই সমবয়সী একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে।শুকনা,মাথায় নুডুলসের মত কোঁকড়া কোঁকড়া চুল।গায়ের রঙ কুষ্ঠ রোগীদের মত সাদা।সবচে আশ্চর্যের ব্যাপার,সে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা চেকচেক নকশা করা লুঙ্গী পড়ে।সব মিলিয়ে চেহারায় মুদি দোকানদার টাইপ ভাব আছে।এই বয়সের কোন ছেলে যে আমার মত একটি তরুণী মেয়ের সামনে এই পোশাকে এত সাবলীল ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে আমার কল্পনাতেও ছিলনা! সে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,"আপনাদের বাসায় হাতুড়ী হবে?"

আমি মুখ কুঁচকে বললাম,"আমাদের বাসায় হাতুড়ী হবে কিনা সেটা জেনে আপনি কি করবেন?"

 

"না মানে,দেয়ালে পেরেক মারার জন্য দরকার ছিল।একটু পরেই ফেরত দিয়ে যাবো।"

 

আমি নির্বিকার ভঙ্গিতে বললাম,"আমাদের বাসায় হাতুড়ী আছে,কিন্তু আপনাকে তো দেয়া যাবেনা।দয়া করে বিদায় হন।"

আমার কথা শুনে সে আহত চোখে তাকিয়ে রইল।আমি খট করে তার মুখের উপরেই দরজা লাগিয়ে দিলাম। নতুন ভাড়াটেদের বাসা থেকে প্রথম দিনের পর থেকে আর তেমন সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি।বাসায় বসে কি তারা বোমা বানায় না কি করে সেটা দেখার জন্য একদিন বিকালে নীচ তলায় হানা দিলাম।মহিলাটি বেশ হাসি খুশি।আমাকে যত্ন করে বুটের ডালের হালুয়া খাওয়ালেন।আমি হাসিমুখে সেই ঢলঢলে বিস্বাদ হালুয়া খেলাম।তাদের বাসায় দেয়ালজোড়া অপূর্ব সব পেইন্টিং।একটা ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম।বাচ্চা একটা মেয়ে লাল একটা স্কার্ফ মাথায় জড়িয়ে সবুজ ঘাসের উপর বসে আছে।তার চোখে অদ্ভুত বিষণ্ণতা।ছবিটা দেখলে কেমন যেন মন খারাপ হয়ে যায়।আমি জিজ্ঞেস করলাম"এত সুন্দর পেইন্টিং কোথা থেকে কিনেছেন?"

 

"এগুলো আমার ছেলে এঁকেছে।ওর নাম সৈকত'।"

আমি অভিভূত হয়ে গেলাম।ছেলেটাকে একবারই দেখেছি।তাকে দেখে আমার ধারণা হয়েছিল তার নাম হবে ঝণ্টু,পিণ্টু অথবা এই জাতীয় কিছু।হয়ত তিন চারবার ইন্টার ফেল।সে নাকি আবার ঢাকা ইউনিভারসিটিতে কেমিস্ট্রিতে পড়ে।আমার ধারণা ছিল এই ছেলে আমাকে দেখা মাত্রই ফ্যা ফ্যা করে হাসবে আর গায়ে পড়ে খাতির জমানোর চেষ্টা করবে।তা না করে সে মুখের উপর একটা বই ধরে পড়তে লাগলো।সূক্ষ্ম একটা অপমান বোধ হল। তার সামনের চেয়ারে গিয়ে ধপ করে বসে পরলাম।আমাকে

দেখে বেচারা বড়সড় একটা ধাক্কা খেল।কথা বলা উচিৎ নাকি হাসা উচিৎ,নাকি কোনটাই করা উচিৎ না সেটা নিয়ে সে বেশ বিপদে পড়েছে।আমি বললাম,"হাতুড়ী খুঁজে পেয়েছিলেন সেদিন?"

"হুম।"

"আপনি এত অসামাজিক কেন?বাসায় মেহমান আসলে কথা বলতে হয় জানেন না?"

"আপনি যাওয়ার সময় দরজার সামনে কথা বলতাম আপনার সাথে।"

আমি অবাক হয়ে বললাম,"দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হবে কেন?"

"আমার পরিকল্পনা ছিল আপনি যখন দরজার ওপাশে থাকবেন,আমি আপনাকে বলব বিদায় হন।তারপর মুখের উপর দরজা

লাগিয়ে দেব।খারাপ ব্যাবহার কাটাকাটি।"

 

আমি হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে রইলাম!নিরীহ চেহারার এই ছেলেটা যে এমন কথা বলতে পারে সেটা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।কেউ যে এত শান্ত ভঙ্গিতে এত কঠিন অপমান করতে পারে আমি জীবনেও ভাবিনি।পরের দিন সকালে ক্লাসে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি।দেখি সেই কুষ্ঠরোগীও দাঁড়িয়ে আছে।আমাকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে।আমার ভীষণ ইচ্ছে হল তাকে জিজ্ঞেস করি,"এই যে ব্রাদার,রাস্তায় এমন কি মোহনীয় সৌন্দর্য আছে যে আমার দিকে ভুলেও একবার তাকাচ্ছেন না?আমার পেছনে কত ছেলে লাইন ধরে আছে জানেন সেটা?"

 

প্রতিদিন বিকেল বেলা সে বারান্দায় এসে কিছুক্ষণ বই পড়ে।মাঝে মাঝে নিজের অজান্তেই আলতো করে হাসে।ওর নিচের ঠোঁটটা তখন বাচ্চাদের মত বেঁকে যায়।যতবার সেই হাসি দেখি,আমার বুকের  ভেতরটা ঝনঝন করে ওঠে।একই সাথে তীব্র ভালোলাগা আর কষ্টের একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়।মনে হয় বিশাল কোন পাহাড়ের ওপর থেকে আমি নীচে পড়ে যাচ্ছি।

 

 কয়েকদিন ধরে আমি অদ্ভুত একটা অসুখে ভুগছি।এই অসুখের নাম-"কিছুই ভালো লাগেনা"।

 

অকারণেই সবার সাথে খারাপ ব্যাবহার করি।অকারণেই রেগে যাই।আমার মনে হয় সৈকত যদি আমার পাশে এসে হাত ধরে খানিকক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে তাহলে হয়ত অসুখটা ভাল হয়ে যাবে।কিন্তু এমনটা কখনও হয়না।কারন?সেই পুরনো গৎবাঁধা কারণ।কারণ জীবনটা তো আর শাহরুখ খানের সিনেমা নয়,শরৎচন্দ্রের উপন্যাসও নয়।

 

 কিন্তু আমি অনেকটা সিনেমার নায়িকার মতই আচরণ করলাম।তাকে নামধামহীন একটা চিঠি লিখলাম।তার তিনদিন পর গেটের সামনে সৈকতের মুখোমুখি পড়ে গেলাম।আগের মতই পাত্তা না দেয়া আচরণ করল।যাওয়ার সময় শুধু বলল,"মৃত্যু বানানে ত এর পর য ফলা,আর বাঁচবো তে ব এর উপর চন্দ্রবিন্দু আছে একটা।"

আমি কঠিন গলায় বললাম,"এসব আমাকে কেন বলছেন?"

"আমার মনে হয়েছিল আপনি বানানে একটু কাঁচা,তাই বললাম।আপনার কি বিরক্ত লাগছে?"

"অবশ্যই আমার বিরক্ত লাগছে।ইন ফ্যাক্ট,আপনার চেহারা দেখলেই আমার বিরক্ত লাগে।আর আমার বানান কাঁচা না পাকা সেটা নিয়ে আপনার মাথা ঘামানোর দরকার নেই।"

আমার কথা শুনে সৈকত আবার আহত চোখে তাকিয়ে রইল।হঠাৎ ওর চেহারায় কেমন শিশু শিশু একটা ভাব চলে এসেছে।মনে হচ্ছে কোন ছেলে কৈশোরের খুব অপূর্ব একটা সময়ে এসে আটকে গেছে।চারপাশের সুন্দর সবকিছুর মাঝে এই পৃথিবীর জনৈক নিষ্ঠুর

 

তরুণীর নির্মম আচরণে সে মর্মাহত।বাসায় ফিরে সারাদিন আমি কাঁদলাম।ওর সামনে গেলে কি হয় আমার?কত ইচ্ছে করে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আশা ও আনন্দের দুটো কথা বলি।কিন্তু যখনি মুখ খুলি,দুনিয়ার যত তেঁতো কথাবার্তা বের হয়।প্রতিটা দিন প্রতিটা মুহূর্ত অকারণে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করে।এই ছেলেটাই বা এমন কেন?সে কি বোঝেনা সে আমাকে যতই অবহেলা করে আমার ভালবাসার তীব্রতা ততই চেইন রিঅ্যাকশান এর মত বাড়তে থাকে?ঠিক কতটুকু ভালবাসলে ভালবাসার মানুষের ভালবাসা পাওয়া যায়?একটা মেয়ে হয়ে কি করে বলি এসব কথা?সে কি ভাবে আমি তাকে গিয়ে প্রেম নিবেদন করব!আমি ওর প্রেমে পড়েছি,এখন ওর দায়িত্ব হল আমাকে এসে প্রপোজ করা।তা সে কিনা ভাব করে আমি কোন ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে রোগী।আমার পাশে হেঁটে গেলেও তার গায়ে জীবাণু ছড়িয়ে পরবে।

 

একদিন রিকশায় বসে আছি নীলক্ষেত মোড়ে।ঢাকা শহরের রিকশাওয়ালারা ঝগড়াঝাঁটি নামক জিনিসটায় কঠিন দক্ষতা অর্জন করেছে।আমার রিকশার রিকশাওয়ালা নাটকীয় ভঙ্গীতে কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।এবং একটু পরপর হুহ হাহ জাতীয় হুংকার ছাড়ছে।আমি আমার পার্সটা ভুলে বাসায় ফেলে এসেছি।রিকশাওয়ালা কে বললাম,"আপনি যেখান থেকে এসেছেন সেখানে চলুন আবার।আপনার ভাড়া দিয়ে দিচ্ছি।"

 

সে কঠিন ভঙ্গিতে বলল,"ক্যান,আবার যামু ক্যান?এইখানে বইয়া ভাড়া দেওন লাগবো।"

আশেপাশের দু চারজন মানুষ কৌতুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।আমি খুব কষ্টে কান্না চেপে রাখছি।

হঠাৎ দেখি কাঁধে বিশাল সাইজের একটা ব্যাগ নিয়ে সৈকত আসছে।আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে আবার কি যেন বলছে নিজের মনেই......

 

এই ছেলে এতদিন বেঁচে আছে কিভাবে?তার তো অনেক আগেই গাড়ির নিচে পরে আলুভর্তা হয়ে যাওয়ার কথা!আমি রিকশা থেকে নেমে ওর শার্টের হাতা ধরে বললাম,পঁচিশটা টাকা দাও তো।খুচরা দেবে,রিকশাওয়ালার কাছে খুচরা নাই।"

সৈকত অবাক হয়ে বলল,"আমাকে বলছেন?"

আমি মুখ কুঁচকে বললাম,"রিকশাওয়ালার কি আর কাজ নাই?সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি!টাকা দাও।"

"আমার কাছে পাঁচশো টাকার একটা নোট আছে।"

আমি বললাম,"সেটাই দাও।"টাকা ভাঙিয়ে ফুটপাথের দোকান থেকে দুই প্যাকেট বড়ইয়ের আচার কিনলাম,আর একটা ঠাণ্ডা পানির বোতল।

ইচ্ছে হল সৈকতকে বলি,"আজকে তোমার ক্লাসে যাওয়ার দরকার নেই।চল আজকে ঢাকার এই মাথা থেকে ওই মাথা হেঁটে বেড়াই।যদিও আজকে রোদ বেশি,কিন্তু সমস্যা নাই।আমার কাছে ছাতা আছে।"

অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমি কিনা বলছি,"দাঁড়ায়ে আছেন কি কারণে?যাচ্ছেন না কেন?ক্লাস করেন না?নাকি খালি তাফালিং করে বেড়ান?"

নিজের কথা শুনে নিজেকেই কষে একটা লাথি দিতে ইচ্ছে হল।সৈকত বলল,"একটু আগে তো তুমি করে বলছিলেন,এখন আবার আপনি বলছেন কেন?"

ইচ্ছে হল বলি,"তুমিও আমাকে তুমি করে বল প্লীজ।"

দ্বিগুণ অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম এবার আমি বলছি,"আপনার আর আমার এমন কোন সম্পর্ক নাই যে তুমি করে ন্যাকা ন্যাকা কথা বলতে হবে।"

 

 হায় বিধাতা!কথা বলার জন্য মুখই যদি দিলে,তবে সেই মুখ থেকে একটা দুটো ভাল কথা বের করার ক্ষমতা কি দিতে পারতে না!কি এমন ক্ষতি হত!

সৈকত বলল,"ঠিক আছে,আপনি তো টাকা আনতে ভুলে গেছেন,চলুন আপনাকে নাহয় ভার্সিটি পর্যন্ত পৌঁছে দেই।

আমি বললাম,"অবশ্যই!"

কিন্তু বেদনার সাথে লক্ষ্য করলাম এবার আমার মুখ থেকে যেই কথাটি বের হয়েছে সেটি হল,"আমি ছেলেদের সাথে রিকশায় উঠিনা।"

সেই ঘটনার পর আর সৈকতের সাথে কথা হয়নি।মাঝে মাঝে আমাকে দেখে ভদ্রতামূলক একটা হাসি দিত,আমি হাসতে গিয়ে অসহায়ের মত আবিষ্কার করতাম যে মুখ নাড়াতে পারছি না!মুখে সাময়িক প্যারালাইসিস হয়েছে।

 

 

কিছুদিন পর মা কোন এক আমেরিকা ফেরত ছেলে পছন্দ করলেন আমার জন্য।আগে আমেরিকা ফেরত সবাইকে আমার সুইপার অথবা ড্রাইভার মনে হত,এখনও হয়।কিন্তু আমি কোন রকম আপত্তি না করে বিয়েতে রাজি হয়ে গেলাম।গালভরা নকল হাসি নিয়ে আহ্লাদ করে আমার হবু বরের সাথে কয়েকটা ছবিও তুলে ফেললাম।ওই নাকউঁচু নির্দয় ছেলেটার চেয়ে কোন সুইপারকে বিয়ে করা অনেক ভাল।

 

বিয়ের মিষ্টি দিয়ে আসতে নিজেই নীচতলায় গেলাম।সৈকত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল,"আপনার বিয়ের মিষ্টি তাইনা?"

"হুম"

 

"আমি একটা স্কলারশিপ পেয়েছি কানাডায়।আপনাদের বিয়েতে তো থাকতে পারব না।বিয়ের গিফটটা আজকেই নিয়ে যান।

আসুন আমার সাথে।"

 

একটা অন্ধকার ঘরে ঢুকলাম ওর পিছু পিছু। লাইট জ্বালতেই আমার পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠলো।পুরো ঘর জুড়ে শুধুই আমি।কখনও হাসছি খিলখিল করে,কখনও মন খারাপ করে বারান্দায় বসে আছি।কখনও বাতাসে আমার অবাধ্য চুলগুলোকে সামলানোর চেষ্টা করছি।

 

"আপনি আমার ছবি কেন এঁকেছেন?"খুব বিরক্ত গলায় প্রশ্ন করলাম।

"মানুষ আকাশের রংধনুর ছবি কেন আঁকে?গোধূলির ছবি কেন আঁকে?কারণ সেসব অপার্থিব মুহূর্ত সে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনা।মাঝে মাঝে মনে হত এই অস্থির মেয়েটার বেশি কাছাকাছি যাওয়া ঠিক না।এই বয়সী মেয়েদের সব অনুভুতিই খুব ক্ষণস্থায়ী।

মাঝে মাঝে আমার খুব ইচ্ছে হত হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেই মেয়েটাকে....।।"

 

একটু থেমে নিঃশ্বাস নিয়ে ও আবার শুরু করল,"আপনি খুব জেদি মেয়ে।আমি শুরু থেকেই জানতাম আমার প্রতি জেদ থেকেই আপনার এই মোহ তৈরি হয়েছে।তাই আমার সত্যিকার অনুভূতিগুলো কখনো প্রকাশ করার অসঙ্গত ইচ্ছে হয়নি।এই যে দেখুন,মোহমুক্তি ঘটিয়ে আজকে কি সুন্দর বিয়েতে রাজি হয়ে গেলেন!"বলে দুর্বলভাবে হাসার চেষ্টা করল ও।

আমি খেঁকিয়ে উঠলাম,"কচু বুঝেছ তুমি!বেয়াদব বদমাইশ ছেলে!এক থাপ্পড়ে সব দাঁত ফেলে দেব!"

আমার গালি শুনে কেন জানি হেসে উঠলো ও...দুষ্টুমি ভরা হাসি নিয়ে চোখ নাচিয়ে বলল,"প্লেনের আরেকটা টিকেট কাটব তাহলে?"

 

আমি অন্যদিকে তাকিয়ে হাসলাম।কিছু না বলাই ভাল।বোকাসোকা মানুষ আমি!কি বলতে আবার কি বলে ফেলি!!!তারচেয়ে ও-ই যা বোঝার বুঝে নিক!

Share