চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে

লিখেছেন - আয়শা কাশফী | লেখাটি 1930 বার দেখা হয়েছে

ছোটবেলায় আমি বেশ ইঁচড়ে পাকা স্বভাবের ছিলাম। এর পেছনে অবশ্য যুক্তিসঙ্গত কারণও আছে।আমার ছোট ফুপু দিন রাত সারাক্ষণ পিক এবং অফপিক আওয়ারে প্রেম করে বেড়াতেন।তখন পেয়ারটেল অথবা প্রেমলিংক নামক মোবাইল কোম্পানিগুলো না থাকায় তার হৃদয়বার্তার আদান প্রদান হত পত্রের মাধ্যমে,এবং বলাই বাহুল্য সেই পত্রবাহক ছিলাম আমি।আমার উপর অর্পিত এই গুরুদায়িত্ব আমি অত্যন্ত নিষ্ঠা এবং আগ্রহের সাথে পালন করতাম।এবং সেই সাথে প্রবল কৌতূহল নিয়ে প্রতিটা চিঠি লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তাম।আমার শিশু মনে সেই চিঠির ভাষা এবং উপকরণ প্রবল আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল। ছোটবেলা থেকেই আমার ধারণা হয়ে গিয়েছিল, একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে যদি একজন আরেকজনকে পছন্দ করে,তাহলে

তারা একজন আরেকজনকে জানপাখি,ময়না,টিয়া ইত্যাদি নামে সম্বোধন করে। ফুপুর শেলফ থেকে চুরি করে দেবদাস পড়েছিলাম ক্লাস ফাইভে ......এবং তার পর থেকেই আমি নিজেকে পার্বতী ভাবতে শুরু করলাম! আমার শিশু মনে পুরোপুরি ধারণা জন্মে গেল যে একজন জানপাখি অথবা ময়না টিয়া না থাকলেও এই বয়সে আমার একজন দেবদাস তো থাকতেই পারে!পার্বতীর বয়স তো খুব বেশি নয় আমার চেয়ে! আশেপাশে সুবিধার কাউকে না পেয়ে বাবার বন্ধুর ছেলে পাশের বাসার অনিকেতদা কে গিয়ে উদাস মুখে বললাম, "তুমি আমার দেবদাস হবে?"

অনিকেতদা চোখ গরম করে বললেন,"বেশি পাকছিস তাইনা?"

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,"আমি কি আম কাঁঠাল নাকি যে পাকব!"

অনিদা এবার চোখ লাল করে বললেন,"তোর মত বাঁদর পোলাপান সারাক্ষণ

থাপ্পড়ের উপর রাখা দরকার।সকাল,বিকাল আর রাত-প্রতি বেলায় খাবারের

সাথে হজমি হিসেবে থাপ্পড় খাবি ।"

একদিনের মধ্যেই এই ঘটনা আমার বাসার সবাই জেনে গেল।সে কি তুমুল হাসাহাসি বাসায়!দুঃখে অভিমানে আমার বাল্যপ্রেমের ওখানেই সমাপ্তি।বাবার বদলির চাকরি হওয়ায় ২ বছর পরই বগুড়া ছেড়ে আমরা ঢাকায় চলে এলাম।

 

 

এইচ এসসির পর ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফিজিক্সে ভর্তি হলাম।ফার্স্ট ইয়ারের ছেলে মেয়েদের এক ঝলকেই চেনা যায়।এদের চেহারায় "পাইছি রে" টাইপ একটা ভাব থাকে সব সময়।এদের হাঁটা চলায়,কথা বার্তায় থাকে অতিরিক্ত উচ্ছাস।তুচ্ছ রসিকতায়ও এরা খিলখিল করে হেসে ওঠে। অকারণেই লাফ ঝাঁপ দৌড়াদৌড়ি করে।আমিও খুব দ্রুত এই দলের গর্বিত সদস্য হয়ে গেলাম।"ফার্স্ট ইয়ার,ড্যাম কেয়ার"......এমন একটা ভাব। ৩ মাস পর নতুন একজন টিচার ক্লাস নিতে আসলেন।তার নাম আহসান,একেবারেই কম বয়স।মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে ডিপার্টমেন্টে নতুন জয়েন করেছেন।বেশ সুদর্শন হওয়ায় প্রথম ক্লাসেই আমাদের ব্যাচের হাফ ডজন মেয়ে তার প্রেমে পড়ে গেল।এবং তার পরদিন থেকেই ক্লাসের মেয়েদের সাজগোজের পরিমাণ লক্ষণীয় ভাবে বেড়ে গেল।কিন্তু স্যারের প্রতিআমার বিরক্তি দিন দিন বাড়তে লাগলো।কারণ পুরো ক্লাসের মধ্যে একমাত্র আমাকেই দাড় করিয়ে তিনি পড়া জিজ্ঞেস করেন।আমি কখনই পড়া পারিনা এবং তারপর তিনি দার্শনিক গলায় বলেন,"বুঝলে ইরা,জীবনে পড়ালেখার গুরুত্ব অনেক বেশি। বড় কিছু হতে হলে পড়তে হবে।লাইফ ইজ নট এ বেড অফ রোজেস।" কি যন্ত্রণা!আমি কি ক্লাস টু থ্রিতে পড়ি নাকি!ভার্সিটিতে মানুষ ক্লাসে যায় রঙ তামাশা করতে,পিছনের বেঞ্চে বসে গল্প করতে।কেউ কি পড়া শিখে যায় নাকি! অতএব স্যারের ক্লাসে যাওয়া পুরোপুরি বাদ দিলাম।বহুদিন পর বুদ্ধিমানের মত একটা কাজ হয়েছে।

 

সাত -আট দিন পরের কথা।মাকে লুকিয়ে শুকনো হরলিক্স খাচ্ছি,এমন সময় কলিং বেলের শব্দ।বিরক্ত মুখে মাত্র দরজা খুলেছি।আমি নিশ্চিত, ভূত দেখলেও এর চেয়ে কম অবাক হতাম।দুই আর দুই এ চার মিলিয়ে এতক্ষণে নিশ্চয়ই অনেকে ধরে ফেলেছেন,সামনে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন তিনি আহসান স্যার, লেকচারার অফ ফিজিক্স,ঢাকা ইউনিভার্সিটি।আমি হতভম্ব গলায় প্রায় ককিয়ে উঠলাম, "আমি কি করছি!আপনি আমার বাসা পর্যন্ত চলে আসছেন ক্যান!"

স্যার বিরক্ত হয়ে বললেন,"আজকালকার ছেলে মেয়েদের আদব কায়দা কম।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে কিভাবে ভেতরে যাব?"

আমি সরে দাঁড়ালাম।তিনি ভেতরে ঢুকলেন।হঠাৎ আমার

মায়ের উচ্ছ্বসিত গলা শুনলাম,"আরে বাবা এসো এসো।কত বড় হয়ে গেছো!"

স্যার আড়চোখে একবার আমাকে দেখে মাকে বললেন, "তাও তো আপনি চিনতে পেরেছেন চাচী।আপনার মেয়েতো

এতদিন আমার ক্লাসে থেকেও চিনতে পারে নাই!"

তারপর আমার দিকে তাকিয়ে চোখ নাচিয়ে বললেন,"আধুনিক পার্বতীরা দেবদাসদের দেখলে চিনতেও পারেনা দেখছি!"

আমি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছি।এনাকেই শিশু বয়সে প্রেম নিবেদন করেছি! কত বদলে গেছে চেহারা!আমার টিচার অনিকেত আহসান কিনা ছোটবেলার

সেই অনিকেতদা !

 

রাতে খেয়ে গেলেন উনি।অনেক গল্প করলেন মা বাবার সাথে।উনি চলে যাওয়ার পর মা বললেন আসল কথা।আমার চাচাত বোন মিতু আপার জন্য

স্যারকে খুবই পছন্দ আমাদের পরিবারের।স্যারের বাসা থেকেও নাকি কথাবার্তা অনেকদূর এগিয়েছে।আমি খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমার কেন জানি খারাপ লাগছে।মোটামুটি পর্যায়ের খারাপ না,ভয়াবহ পর্যায়ের খারাপ। পরের দিন স্যারের ক্লাসে গেলাম।।স্যার ব্ল্যাকবোর্ডে কি সব হাবিজাবি ইকুয়েশন লিখে যাচ্ছেন।কিন্তু আমি বোর্ডের দিকে তাকিয়ে দেখতে পাচ্ছি ১২ বছর আগের একটা দৃশ্য-

লম্বা,হ্যাংলা একটা ছেলে একটা প্লাস্টিকের সাপ আমার গায়ে দিয়ে খ্যাক খ্যাক করে হাসছে।আর আমি আতঙ্কিত হয়ে হাপুস নয়নে চিৎকার দিয়ে কাঁদছি। কিছুক্ষণ পর সে প্যান্টের পকেট থেকে দুটা নাবিস্ক চকলেট বের করে আমার কান্না থামানোর চেষ্টা করছে আর আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।নিজের অজান্তেই আমি শব্দ করে হেসে উঠলাম।

স্যার ঘুরে তাকিয়ে বললেন,

"রোল ফিফটি সিক্স,এই থিওরিতে হাসির অংশটা কোথায়?"

আমি বিব্রত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ালাম।ক্লাসের সবাই মুখে চাপা হাসি নিয়ে অপেক্ষা করছে।এই ধরণের পরিস্থিতিতে ক্লাসের অন্যরা নির্মল বিনোদন পায়।স্যার এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।আমিও তাকিয়ে আছি তার চোখের দিকে......

 

এরপর থেকে স্যারের ক্লাসে আমি নিয়মিতই ধরা খেতে থাকলাম। কখনও লেকচার না শুনে বাইরে তাকিয়ে আছি,অথবা কখনও খাতায় একাকী

কাটাকুটি খেলছি।

একদিন স্যার আমাকে তার রুমে ডেকে পাঠালেন।

শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলেন,"আমার ক্লাস কি তোমার খুব খারাপ লাগে?"

আমি জোরে জোরে মাথা নেড়ে না বললাম।

স্যার বললেন,"ক্লাসে কখনই দেখিনা তুমি লেকচার শুনছো।"

আমি দুর্বল গলায় বললাম,"আমি তো লেকচার শুনি স্যার।"

স্যার এবার হতাশ ভঙ্গিতে তার ড্রয়ার খুলে একটা খাতা বের করলেন।

আমার পরীক্ষার খাতা।আমার দিকে এগিয়ে দিলেন।

আমি একশোতে পেয়েছি এগারো।

স্যার কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,"তোমার মিতু আপা

কেমন আছে?"আমার মনে হল কেউ যেন আমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

আমি বললাম,"মিতু আপা কেমন আছে সেটা মিতু আপাকেই জিজ্ঞেস করেন।"

প্রায় দৌড়ে বের হয়ে এলাম স্যারের রুম থেকে।আমার চোখ দিয়ে অবিরাম পানি পড়ছে।বাসায় ফিরে দেখি মিতু আপা কার সাথে জানি হেসে হেসে কথা বলছে ফোনে।নিশ্চয়ই স্যারের সাথে কথা বলছে!ধুর,কপাল টাই আমার যা-তা। একেবারে পিওর ছ্যাঁক খাওয়া কপাল।রাতে মিতু আপার ঘরে গিয়ে খুব মন খারাপ করে বললাম,"আপা।স্যারকে তোর খুব পছন্দ?"

আপা মুখ টুখ একেবারে লাল করে বললেন,"কি বলিস এসব!"

আমি একটা নকল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম,"উনি আগে আমাদের ক্লাসের সব

মেয়ের সাথে টাংকি মেরে বেড়াত।তুমি আবার এসব নিয়ে মন খারাপ করো না।

তোমার সাথে বিয়ের পর নিশ্চয়ই সব ঠিক হয়ে যাবে।"

আপার মুখ মুহূর্তেই পাংশু বর্ণ হয়ে গেল।

"তাই নাকি!প্রেম করে বেড়ায় নাকি কারো সাথে?"

"আরে না, প্রেম তো স্টুডেন্ট লাইফে করত।এখন শুধু ছাত্রীদের রুমে ডেকে

নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করে।"

"ঠাট্টা করছিস,তাইনা?"

আমি সরল মুখে বললাম,"আরে ঠাট্টা করব কেন?আর ছেলেদের এসব একটু

আধটু থাকেই।এগুলা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নাই।'

এই বলেই আমি নির্বিকার ভঙ্গিতে টিভি দেখা শুরু করলাম।মিতু আপার মুখ

না দেখেও আমি বলতে পারি,সেটা অন্ধকার হয়ে আছে।

পরের দিন স্যারের রুমে গেলাম।স্যারের দিকে একটা কাগজ বাড়িয়ে

দিয়ে বললাম,"এটা মিতু আপা দিয়েছে আপনাকে।"

স্যার মুচকি হেসে বললেন,"এক কাজ করো,তুমিই বরং পড়ে শুনাও কি লেখা আছে।"

আমি ধরা গলায় পড়া শুরু করলাম,

 

 "তোমায় নিয়ে খেলেছিলাম খেলার ঘরেতে

খেলার পুতুল ভেঙে গেছে প্রলয় ঝড়েতে

থাক তবে সেই কেবল খেলা

হোক না এখন প্রাণের মেলা

তারের বীণা ভাঙল,হৃদয় বীণার গাহিরে।"

 

চোখ ভর্তি পানি নিয়ে স্যারের দিকে তাকালাম।

স্যার কোমল গলায় বললেন,"কাঁদছ কেন ইরা?"

আমি কোন উত্তর দিলাম না।আমার কান্নার বেগ বাড়ছে। ১২ বছর আগের সেই দিনের মত আমার ছোটবেলার অনিকেতদা আমাকে আজ আর চকলেট দিয়ে অভিমান ভাঙাবে না।জীবনটা এত নিষ্ঠুর কেন?

 

 

এরপরের ঘটনা খুব দ্রুত ঘটলো।সেদিন রাতেই স্যারের বাসা থেকে জানানো হল তারা এই শুক্রবারেই আংটি পড়াতে আসবেন।সেদিন বিয়েও পড়ান হতে পারে। তার নানী খুব অসুস্থ,নাতবৌয়ের মুখ দেখে যেতে চান।আমি বুঝিনা,পৃথিবীর সব নানী দাদী তাদের নাতীদের বিয়ের সময়ই কেন মরণাপন্ন হয়ে যায়।এই বিয়ের পরও স্যারের নানী যে আরও দশ বছর বাঁচবেন,সেটা আমি বাজি ধরে বলতে পারি।এসবের কোন মানে হয়!

 

শুক্রবার স্যারের বাসা থেকে মেহমান আসলো।আমি সারারাতের কান্না প্রচুর পরিমাণ মেকআপ দিয়ে আড়াল করেছি।মিতু আপাকে নিয়ে মেহমানদের সামনে গেলাম। স্যার অফ হোয়াইট একটা পাঞ্জাবি পড়েছেন।কি যে সুন্দর লাগছে তাকে! কি বেহায়া মানুষরে বাবা!লাফাতে লাফাতে বিয়ে করতে চলে এসেছে!আবার নতুন জামাইয়ের মত মুচকি মুচকি হাসছে......

আমার ইচ্ছা করছে সবার সামনে তার চুল টেনে তাকে আচ্ছামত মারধোর করে দৌড়ে পালিয়ে যাই।

 

স্যারের মা আংটি বের করলেন।মিতু আপা আমার পাশেই বসে আছে। না,এই দৃশ্য সহ্য করতে পারব না আমি।ভেতরের ঘরে চলে এলাম।জানালার

গ্রিলে মাথা রেখে আকুল হয়ে কাঁদছি,কে যেন পিছন থেকে আমার মাথায় হাত রাখল।পেছন ফিরে দেখি স্যারের মা।ধমক দিয়ে বললেন, "তুইতো একদম ছোটবেলার মতই অস্থির আছিস এখনও।আমাকে এই ঘর পর্যন্ত নিয়ে এলি!"

তারপর কিছু বোঝার আগেই আমার হাতে একটা আংটি পড়িয়ে দিলেন।জোর করে বসার ঘরে নিয়ে স্যারের দিকে তাকিয়ে বললেন,"এই দ্যাখ তোর বউ এখনই কেমন কান্নাকাটিকরছে!বিয়ের দিন এই মেয়ে কি করবে কে জানে!"

আমি হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছি।সবাই হাসছে।সবচেয়ে বেশি হাসছে মিতু আপা আর স্যার।এরপর শুনলাম এসব ছিল স্যার আর মিতু আপার প্ল্যান।স্যারের বাসা থেকে আমার জন্যই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।কিন্তু মিতু আপা আর আমাদের বাসার সবাই আমার কাছে মিথ্যা বলেছে।আমার একেবারে রাগে গা জ্বলে গেল।আমাকে সহজ সরল পেয়ে এমন বোকা বানানো!

 

আমি আর স্যার বারান্দায় বসে আছি।না না,স্যার না।এখন স্যার বললে কেমন শুনায়! মি আর অনিকেত বসে আছি।বারান্দায় আলো নেই।চাঁদের আলো পড়েছে একটা কোনে। আমি এখনও রাগে ফোঁসফোঁস করছি।ও খুব কৌতুক নিয়ে আমাকে বলল,"রেগে গেলে এখনও তোমার নাকের ডগা লাল হয়ে যায়!ঠিক ছোটবেলার মত!অনেকটা সার্কাসের জোকারের মত লাগে দেখতে।"

নাহ!এই বেয়াদব লোকটার সাথে কোন কথা নাই আর।এক লাফে উঠে অন্য রুমে চলে যাচ্ছি,আমাকে হাত ধরে টেনে বসালো ও।

"আরে আজকালকার পিচ্চি মেয়ে গুলার কি রাগ!যাচ্ছ যখন যাও।কিন্তু বিয়ের কাবিননামাটা দেখে যাও অন্তত।"

পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে দিল।সেখানে লেখা,

 

 

"চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে

অন্তরে আজ দেখব,যখন আলোক নাহিরে

ধরায় যখন দাওনা ধরা

হৃদয় তখন তোমায় ভরা

এখন তোমার আপন আলোয় তোমায় চাহিরে।"

 

আমার চোখের মাথা খারাপ হয়ে গেছে নিশ্চয়ই।কখন কাঁদতে হবে এই জিনিসটা বুঝে উঠতে পারছে না।সুখ দুঃখ সব সময়ই চোখ থেকে পানি বের হয়!আজব ব্যাপার! অনিকেত হতাশ গলায় বলল,"তুমি এত কাঁদ কেন?তোমার চোখে কোন প্রবলেম আছে? এগিয়ে এসে আমার মাথায় হাত রাখল ও।চারিদিক জোছনায় ভেসে যাচ্ছে।

 

আর আমি অবাক হয়ে ভাবছি,স্বর্গ কি এর চেয়েও সুন্দর?

 

Share