গণরুম নাম্বার ৩ অথবা ৪

লিখেছেন - আয়শা কাশফী | লেখাটি 1088 বার দেখা হয়েছে

আমি একজন অস্থির প্রকৃতির মানুষ।কোন সিদ্ধান্তেই বেশিক্ষণ স্থির থাকতে পারিনা। খুব ছোটবেলায় আমার হৃদয়ের সুপ্ত ইচ্ছা ছিল সিনেমার নায়িকা হব! তারপর একটু যখন বড় হলাম, তখন ইচ্ছে হল ট্রেন চালক হব! বিশাল একটা ট্রেন আমি একাই চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি- ব্যাপারটার মধ্যে একটা ভাব আছে না! এরপর পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে আমি আরও যা যা হতে চেয়েছি তা হল নাসার বিজ্ঞানী,আলাদীনের দৈত্য,পাইলট, রেডিও আরজে, ইঞ্জিনিয়ার, ফিজিক্সের টিচার ইত্যাদি ইত্যাদি......কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল যেই জিনিসটা কখনই হতে চাইনি সেই জিনিসই পড়ছি এখন, এবং সারাজীবনই পড়তে হবে।

 

অধিকাংশ ছেলেমেয়ে নাকি ডাক্তারি পড়তে আসে পরিবারের ইচ্ছা পূরণ করতে। আর আমি কিনা পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে মেডিকেল কোচিংয়ে ভর্তি হলাম। হঠাৎ যে কেন আমার ডাক্তার হতে ইচ্ছে হয়েছিল সেই রহস্য আজও অনাবিষ্কৃত।মনে আছে এখনও, বুয়েট কোচিং করব না শুনে বড় ভাইয়া আর আম্মু কি কষ্টটাই না পেয়েছিল।আম্মু তো রাগে কথাই বলে নাই অনেকদিন। সে যাই হোক, কিভাবে কিভাবে জানি ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেয়েও গেলাম। আম্মু আব্বু সবাইকে ছেড়ে হলে এসে উঠলাম । তখন আমার নতুন ঠিকানা-"গণরুম নাম্বার ৩ অথবা ৪"।                           

 

এই অদ্ভুত কনফিউশনের কারণটা বুঝিয়ে বলি। আমাদের মিলন হলে চারটা গণরুম ছিল। ৩ নাম্বার রুমটায় কোন জানালা ছিলনা, সেই রুম সব সময় ওভেনের তাপমাত্রার কাছাকাছি থাকত। আমরা এর নাম দিয়েছিলাম "গ্যাস চেম্বার"।এই রুমে কেউ থাকতো না। এর পরের রুমে,মানে ৪ নাম্বারে থাকতাম আমরা।তাই এটাকেই ৩ নাম্বার ধরা হত।

 

গণরুমে প্রথম কয়েক দিনের অভিজ্ঞতা মোটামুটি হৃদয়বিদারক।আম্মু আব্বু কে ছেড়ে আসায় একটু পরপর ওয়াসার লাইনের মত চোখ দিয়ে পানি ঝরছে।সে যে কি কষ্ট!নতুন একটা জায়গা, কাউকে চিনিনা,ডাক ছেড়ে কাঁদারও উপায় নাই......কারণ রুমটা বিশাল হলরুমের মত।রুমের এই মাথা থেকে ওই মাথা পরিষ্কার দেখা যায়। রুমের অন্যদের অবস্থাও অনেকটা এরকমই ছিল।আমার একপাশের বেড ছিল জুঁই এর।বহুকাল থেকে সে আমার বাঁদরামি দুষ্টামির নিত্যসঙ্গী। ওকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড বলা যায় কি?অন্যরা বলে হয়ত।কিন্তু আমরা দুজন জানি,বেস্ট ফ্রেন্ড জাতীয় টার্ম দিয়ে আমাদের সম্পর্ককে বোঝানো যাবেনা।ও আমার জন্য তার চেয়েও অনেক বেশি।দীর্ঘ আট বছরের নিত্য সঙ্গী আমরা।আম্মু আব্বুকে ফেলে আসার কষ্ট অনেকখানি ভুলে থাকতাম ও কাছাকাছি থাকায়।আমার আরেক পাশের বেড এ ছিল বনি।শেরপুরের মেয়ে ।একটু অভিমানী। গনরুমে ওর সাথে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল সবচেয়ে দ্রুত। কত রাতের পর রাত শুধু আজাইরা গল্প হাসাহাসিতে পার করেছি তার কোন হিসাব নেই।                    

 

আয়েশা ছিল ঠিক আমার অপোজিটের বেডে।এত গভীর বন্ধুত্ব কিভাবে যে এত অল্প সময়ে গড়ে উঠেছিলো ভাবলে আজও অবাক লাগে। আমরা দুজনেই অনেকটা একই রকম।চাবি দেয়া পুতুলের যেমন কোন ক্লান্তি নেই,আমাদের অবস্থাও অনেকটা তেমন।কথা বলা শুরু করলে যে কেউ ভাবতে বাধ্য যে আমাদের দুজনের ভোকাল কর্ডেই হাই পাওয়ারের ব্যাটারি সেট করা আছে...... যার এনার্জি কোনদিন ফুরাবে না!!!মনে হবে এখানে কোন প্রতিযোগিতা হচ্ছে- কে কার চেয়ে বেশি কথা বলতে পারে তার প্রতিযোগিতা (খ্যাঁক!!) সারাটাদিন  আমরা দুজন হাসাহাসি লাফালাফি করে গনরুম তোলপাড় করে রাখতাম।অন্যরা মোটামুটি ত্রাসে থাকত আমাদের নিয়ে। কেউ হয়ত খুব রাগ নিয়ে বলত,"এই একটু আস্তে কথা বল, আমি পড়ি।" আমি আর আয়েশা কৌতুক ভরা চোখে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে পাঁচ সেকেন্ড চুপ। তারপরেই আমাদের রুম কাঁপানো দৈত্য হাসি......নিজেদের মধ্যে গুজগুজ ফুসফুস......চলছে তো চলছেই। বহুদিন হয়ে গেছে আয়েশার সাথে মিলে অকারণ হাসাহাসি আর অন্যদের পচানো হয়না। আমি মাঝেমাঝেই এই মেয়েকে কঠিন মাত্রায় মিস করি।আয়েশা, তোর জন্য একটা সমন জারি করা হল, এই লেখা পড়তে পড়তেই তুই আলোর বেগে আমার রুমের দিকে রওনা দিবি...... হাজিরা দিতে ব্যর্থ হলে গণরুমীয় আইনের ৪২০ ধারায় তোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। তোর সাথে বহু গল্প জমে আছে রে......

 

কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের একটা ননস্টপ আড্ডা গ্রুপ চালু হয়ে গেল।আমি,জুঁই,আয়েশা আর জেনি।সারাদিন আমাদের বেডের চারদিকে জটলা থাকতো।পৃথিবীর হেন বিষয় নেই যা নিয়ে সেখানে হাসাহাসি হয়না। জেনি কুমিল্লার। এই মেয়ে এমন একজন,যার সাথে কথা বলে কেউ কোনদিন বোর হবেনা।আমার প্রতিটা খুঁটিনাতি ওকে বলার আগ পর্যন্ত কেমন যেন হাঁসফাঁস লাগতো।এখনও লাগে।জেনি একদিন রুমে না আসলেই কেমন জানি খালি খালি লাগে। আমার আর জেনির মেইন টার্গেট থাকত জুঁই। ওকে জ্বালানোই ছিল আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।গণরুমের এই একটা সম্পর্কই কখনও চেঞ্জ হয়নি।এখনও আমরা দুইজন জুঁইকে জর্জরিত করি প্রতিদিন।জেনি, এবার বরিশাল আসার পর জুঁই এর মজার একটা কাহিনী আছে। তোরে ছাড়া পচায়ে মজা পাইতেছি না......                           

 

গণরুমে সবচেয়ে জটিল মজা হত কারো বার্থডে তে। সবচেয়ে প্রথম বার্থডে ছিল সুমির। সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য গোপনে কত প্ল্যান আমাদের! সুমি তোর মনে আছে কি অ্যাকটিং করছিলাম আমি? কিছুই জানিনা কিছুই বুঝিনা টাইপ একটা ভাব নিয়ে আগের দিন রাতে বলছিলাম, "কালকে তোর বার্থডে নাকি!কই জানিনা তো!" সেদিন রাতে সে কি নাচানাচি আমাদের......আহা, নষ্টালজিক হয়ে যাইতেছি।   গণরুমের দুই সুন্দরী-ইলা আর চয়ন থাকত পাশাপাশি।ইলা আমার নিজের অঞ্চল বরিশালের মেয়ে।একটু ইমোশনাল।ওর মত আন্তরিকতা আমি খুব কম মানুষের ভেতর দেখেছি। আর ইলার ঘুম তো কিংবদন্তী।পরের দিন কার্ড টার্ম যাই থাকুক, দেখতাম ইলা কিচ্ছু না পড়েই হাত পা ছড়িয়ে বাচ্চাদের মত ঘুমাচ্ছে। তারপর রাত ৩ টায় উঠে করুণ গলায় আর্তনাদ করত- "আল্লাহ আমি কিচ্ছু না পড়েই ঘুমাইছি।হায় আল্লাহ আমার এখন আবার ঘুম আসতেছে।"   চয়নিকা-আমার দেখা সবচেয়ে হেল্পফুল মেয়ে।অন্য কেউ কোন সাহায্যের জন্য ওর কাছে গেছে,আর ও সাহায্য করে নাই এমন ঘটনা বিরল। অসাধারণ মেধাবী।তবে রেগে গেলে কিন্তু সে আয়রন লেডী!আমাদের মত গা বাঁচানো স্বভাব না।এত সাহস খুব কম মেয়ের থাকে। বনির পরের বেড ছিল সুমির।মিষ্টি করে হাসে,আস্তে করে কথা বলে...... নরম সরম নিরীহ যাকে বলে। তার পরের বেডে তমা।আমরা যাকে আদর করে "সুন্দরীতমা" ডাকি। এত ধীর স্থির মেয়ে খুঁজে পাওয়া কঠিন।আইটেমে সে আমার নিত্যসঙ্গী। আমরা দলগতভাবে আইটেমে চাপাবাজি করি এবং পরে দুজনেই বলি, "ভাগ্যিস তুই ছিলি!" সুন্দরীদের বুদ্ধি নাকি সৌন্দর্যের ব্যাস্তানুপাতিক-এই সূত্রটা অন্তত তমার বেলায় খাটে না।তার নানামুখী প্রতিভার গোপন রহস্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস। করলে সে মুখ টিপে হেসে বিজ্ঞের মত উত্তর দেয়-"বুঝতে হবে!" অবশ্য কি বুঝতে হবে এইটা সে আজ পর্যন্ত বলে নাই,তাই আমিও বুঝি নাই :p   মাম্পি আর শুক্লা ছিল দুজনেই অনেকটা একই রকম।খুব মনোযোগী রেগুলার স্টুডেন্ট,খুব গোছানো এবং খুব ভাল মনের দুইজন। তাহমিনা-আমাদের আড্ডায় ফুয়েল।ওর একেকটা দম ফাটানো হাসির কথা শুনতে শুনতে আমরা গড়াগড়ি খাই।বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় আমি ওকে নিয়ে ছড়া বানিয়েছিলাম একটা।ব্যাপক হিট সেই ছড়াটা তুলে দেয়ার লোভ সামলাতে পারছি না- "তাহমিনা মিনা,এ এ ওয়াকা ওয়াকা এ এ......" :p   সেতু-আমাদের রুমের রকস্টার!নাচ গান থেকে শুরু করে হেন জিনিস নাই যা সে পারেনা।আমার ধারণা তাকে কখনও ক্রিকেট ফুটবল খেলতে দিলেও সে সেখানেও চ্যাম্পিয়ন হয়েই আসবে। রুবা-আমার হিন্দি সিরিয়াল দেখার সঙ্গী :P আমরা দুজনেই টিভি রুমে একসাথে এমন ব্যাস্ত ভঙ্গীতে সিরিয়াল দেখতে যাই, দেখলে মনে হবে ভূমিকম্প হয়েছে আর আমি আর রুবা জীবন বাঁচাতে দৌড়াচ্ছি! কেউ আবার ভেবে বসবেন না যে আমরা দুজনেই হিন্দি সিরিয়ালের একনিষ্ঠ ভক্ত...... আমরা দুজনেই আসলে যাই সিরিয়াল দেখে নায়ক নায়িকাদের গালাগালি করতে। নায়ক নায়িকারা যখন পাঁচ মিনিট একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে থাকে, আর সাথে ব্যাকগ্রাউকণ্ড এ বিকট স্বরে "মাহি,মাহি" অথবা কোন রোমান্টিক মিউজিক বাজে,আমরা তখন গালাগালি করে টিভি রুম উড়ায়ে দেই। সে কি স্বর্গীয় শান্তির অনুভূতি!   কলি ছিল আমাদের রুমের অতিথি পাখি।অতিথি পাখি অবশ্য শুধু শীতের মৌসুমে দেখা দেয়,আর কলির দেখা পাওয়া যেত শুধু আইটেম আর কার্ড টার্মের মৌসুমে। কার্ড টার্ম ছিল আমাদের সুখের গণরুম জীবনের একমাত্র খারাপ অভিজ্ঞতা। ফার্স্ট কার্ডেই বুঝেছিলাম,   "যে জন দিবসে মনের হরষে করে শুধু হাসাহাসি থোরাক্স কার্ডে সেই নাদানের গলায় ঝুলিবে ফাঁসি!"   এতদিন কিছুই পড়ি নাই...তাই হার্টের ব্লাড সাপ্লাই নার্ভ সাপ্লাই মুখস্ত করতে গিয়ে আমাদের হার্টফেল হওয়ার জোগাড়।অ্যান্টেরো-পোস্টেরো-ল্যাটারাল যেই দিকেই তাকাই খালি একটাই রঙ দেখি-বিশুদ্ধ হলুদ...বুঝলাম,একেই বলে চোখে শর্ষেফুল দেখা!                

 

প্রতিদিন বাসায় ফোন করে কান্নাকাটি করি।আর বাসায় লোকজন ভাবে, "আহা,সারাদিন পড়তে পড়তে বাছার আমাদের কি করুণ দশা!" অনেকেই তাদের বেডের চারিদিকে সেপ্টাম লাগালো।সেপ্টাম পড়লো মনেও।   মারুফার কথা বলা যাক এবার।আমাদের মধ্যে একমাত্র "মিসেস" উপাধি লাভকারী সৌভাগ্যবতী নারী।ওর বিয়ে আমাদের গণরুম লাইফের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা।ওর গায়ে হলুদ হয়েছিল গনরুমে।আশ্চর্যের বিষয় হল, নরমাল গায়ে হলুদের চেয়ে কোন অংশে কম ছিল না সেই উৎসব। সারারাত জেগে পড়ালেখা করে সকালে পরীক্ষা দিয়ে দুপুর ১২ টায় সবাই ফিরেছি।তারপর কেউ গেছে নিউ মার্কেট,হলুদের খাবার কিনতে,কেউ গেছে হলুদের ফুল কিনতে,কেউ গেছে হলের সবাইকে দাওয়াত দিতে।ফিরে এসে আবার কেউ রুম সাজাচ্ছি,বনি,সুমি,তমা এরা সবাই রান্না করছে আর খাবার গুছাচ্ছে।জয়া আর ইরিনা আর আমি ফুল নিয়ে লাফালাফি করছি, কোথায় সাজাবো তা নিয়ে কনফিউশন!সেতু আলপনা আঁকছে,শুক্লা গায়ে হলুদের পোস্টার আঁকছে।নাজিফা লাইটিং এর তার নিয়ে নিজেই প্যাঁচ খেয়ে গেছে।                            

 

জুঁই গম্ভীর মুখে ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে ঘুরছে। তার মেজাজ বিপদ সীমার কাছাকাছি খারাপ,কারণ সে নিজেই ভিডিওম্যান হওয়ায় তার কোন ভিডিও নাই।আর যাকে নিয়ে এত আয়োজন-সেই মারুফা কয়েক দফা ঘুম শেষ করে,সুখ স্বপ্ন দেখা সমাপ্ত করে হেলেদুলে এসে বলল, "এই,আমাকে কি সাজাবা সাজাও তাড়াতাড়ি।" ব্যাস,চয়নিকা আলমাস খান লেগে গেলেন বউ সাজানোয়!সাজ শেষ হওয়ার পর আমরা সবাই অবাক।পিচ্চি মারুফা একেবারে বউ!সবচেয়ে যেটা মজার ব্যাপার, শুধু আমাদের ব্যাচ না,অনেক সিনিয়র আপুও এসেছিলেন হলুদে।তারপর সারা বিকেল আর সন্ধ্যা জুড়ে সে কি হুল্লোড় আর নাচ গান! এত ধুমধাড়াক্কা গায়ে হলুদ আমি আর কখনও দেখি নাই!         

 

আজ গণরুম ছেড়ে আসার এতদিন পরে এই লেখা কেন লিখছি জানিনা। বৃহস্পতিবার রাতে আমার কেমন জানি অদ্ভঁকা ফাঁকা ফাঁকা লাগে। গণরুমে থাকতে এই রাত ছিল ঈদের খুশির রাত।পরের দিন আইটেম নাই,সকালে উঠার তাড়া নাই..... আহা কি সুখ!   এখনও পাঁচ ছয় জন মিলে আড্ডা হয় এই রাতে,কিন্তু ১৮-১৯ জনের সেই চেঁচামেচি, ভুল সুরে গান গাওয়া, একসাথে আম মেখে খাওয়া,সেই আম নিয়ে কাড়াকাড়ি - এসব কিভাবে যেন হারিয়ে গেছে।মনে আছে প্রথম দিকে একটু পরপর কেউ না কেউ বাসার কথা মনে করে ভেউ ভেউ করে কাঁদতাম আমরা? ব্যাস,পড়া থাকুক আর যাই থাকুক পুরো রুম দৌড়ে ছুটে যেত তার কাছে।সেই বিশুদ্ধ আবেগের সাথে কি কোন কিছুর তুলনা হয়?সেই প্যারোডি ছড়া- "তুমি নেই,আছে তোমার ফটো ছুটি নেই,তাই নিলাম অটো" কতদিন এসব ছড়া নিয়ে হাসিনা। কতজনের সাথে হয়ত ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, কারো সাথে দূরত্ব হয়ে গেছে অনেক।কিন্তু আমি নিশ্চিত জানি, মেডিকেল লাইফের এই পাঁচ বছর না,পুরোটা জীবন জুড়েই এরাই থাকবে আমার কাছের বন্ধু।নানা সময়ে সম্পর্ক মলিন হবে,কিন্তু মনের বাঁধনটা চাইলেও একটুও দুর্বল হবেনা।এখনও আমরা সবাই একসাথে হাতে হাত রেখে দাঁড়ালে ঠিক সেরকম মমতাই বোধ করব একজন আরেকজনের জন্য, যেমনটা করতাম গণরুমে থাকতে।এখনও হৃদয়ের কোন এক কোণে চুপচাপ লুকিয়ে আছে সেই অনুভূতির ছায়া।সময়মত তার অবয়বও ধরা দেবে আবার। কারণ বন্ধুত্ব এমনই সম্পর্ক যাকে স্থান কাল পাত্র দিয়ে মাপা যায়না।                    

 

মানুষ বদলায়,সম্পর্ক গুলোও বদলে যায় সেই পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে।কিন্তু বন্ধুত্ব ঠিক আগের জায়গাতেই থাকে।এক বছর পর দেখা হলেও বন্ধুর উপর "আরে দোস্ত তুই এতদিন পর!" বলে বিকট চিৎকার করে ঝাঁপিয়ে পড়া যায়।সময় কি আর এই তীব্র আবেগের স্রোতকে আটকে রাখতে পারে??তাই তোদের সবাইকে আরেকবার বলতে চাই-তোরা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার......তবে তোদেরকে ভালবাসি,মিস করি এসব ন্যাকা ন্যাকা কথা বলার আপাতত মুড নাই।খালি একটা বাস্তব কথা শুনে রাখ,কেউ যদি আমাকে ভুলে যাওয়ার দুঃসাহস দেখাস,পিটায়ে হাড্ডি মাংস এক করে দিব...... সব সময় কাছে থাকিস তোরা,ঠিক যেমন এতদিন ছিলি......

 

Share