সে কে ???

লিখেছেন - নূহা চৌধূরী | লেখাটি 1398 বার দেখা হয়েছে

নামী কলেজ এবং দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের তকমাটা গায়ে থাকায় সবাই যখন হন্যে হয়ে টিউশনি খুঁজছে , মেঘ না চাইতেই জল হয়ে তখনি দুই দুইটা ইংরেজি মিডিয়ামে পড়া বাচ্চা পড়ানোর দায়িত্ব পেয়ে গেলাম আমি এবং তাও সুবিধেমত মোঃপুরের বড়লোকের বস্তি খ্যাত জাপান গার্ডেন সিটিতে । মহানন্দে বাচ্চা পড়াতে যাই এবং বিরস বদনে বাড়ি ফিরি এই হয়ে গেলো আমার প্রতি বিকালের রুটিন । 

একদিন টিউশনি শেষে বাড়ি ফিরছি রাস্তায় তিশাপুর সাথে দেখা । তিশাপু আমার মামাতো বোন এইদিকেই কোথাও সেও পোলাপাইন পড়ায় সেটা আমি জানি । রিকশা থামিয়ে আপুকে লিফট দেই । আপু এমনিতে আমার থেকেও পাঁচগুন বেশি গপ্পবাজ হলেও ঐদিন কেমন যেন মনমরা ছিলো ।সারা রাস্তা আমি আমার স্বভাবমত বকর বকর করে বাড়ি পর্যন্ত চলে এলাম । আপুকে নামতে বললে ও রাজি হলো না ।বলল এই রিকশাতেই বাসায় চলে যাবে । আমি কিছুক্ষণ গাঁইগুঁই করে মেনে নিলাম ।পরদিন আবার দেখা হলো । তারপর দিন আবার । কিন্তু প্রতিদিন ই আপু চুপচাপ । বাসায় ও নামে না । আমি স্বভাবমত বকবক করি । সপ্তমদিনে বাসায় ফিরে দেখি মা বাসায় নেই । সন্ধ্যায় বাসায় এসেই হুংকার ছাড়লেন - 

কথা বলতে বলতে এখন তোর এমন অবস্থা একা একা ও রিকশাতে কথা কস ? 

 

আমি পুরাই বেকুব হয়ে গেলাম । ঘটনার সারমর্ম জানা গেলো এই আমি বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় মা আমাকে দেখে আমি একা রিকশার একপাশে বসে আপন মনে নাকি কথা বলছিলাম । আরেকদফা বেকুব হলাম । মাকে বললাম তিশাপুর কথা । 

বিশ্বাস নাহইলে ওরে ফোন দিয়া দেখ ।লাস্ট সাত দিন ধরে ও আর আমি একত্রে আসি । ও ঐ রিকশা নিয়েই চলে যায় । গোঁগোঁ করে বললাম । 

 

আম্মা ফোন করলেন । আস্তে আস্তে দেখলাম মার মুখটা সাদা হয়ে গিয়েছে । কি হলো জিজ্ঞেস করতেই যা বললেন তাতে আমার করোনারী থম্ব্রসিস হওয়ার দশা ! তিশাপু নাকি লাস্ট এক হপ্তা ধরে ওর ভার্সিটির হলে । পরীক্ষা চলে দেখে সাভার থেকে ঢাকাতেই আসে নাই । তাহলে আমি কার সাথে বাসায় আসতাম ? ইভন রিকশা ভাড়াও গত সাতদিন তিশাপু দিয়েছে । মাথাটা ঘুরে উঠলো । তারপর আর কিছু মনে নেই । 

 

ভয় পেলে জ্বর আসে কথাটা মিথ্যা না । এই জ্বর আমার আরেক হপ্তা খেয়েছে । টিউশনি গুলো থাকলেই হয়।

Share