প্রতিশোধ

লিখেছেন - নূহা চৌধূরী | লেখাটি 1441 বার দেখা হয়েছে

কোচিং থেকে ফিরতেই নীলিমার ফোন । হাসি পেলো আমার । মেয়েটা এতো বোকা ! চব্বিশ ঘন্টা আমার এতো খোঁজ খবর নেয় যে মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই আমার মতো একটা ছেলেকে কি করে এতো ভালবাসে একটা মানুষ । মেয়েটা ফোন করলেই আমি কপট রাগ দেখাই আর এটা সেটা করে ও আমার রাগ ভাঙ্গায় । ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত এতোবার খোঁজখবর মনে হয় আমার মা ও নেয় নাহ্ । মনে পড়ে ওকে যখন আমি প্রথম ভালবাসার কথা বলেছিলাম ও বলেছিলো স্যরি কিন্তু আমার অভিনয়ের কাছে ওকে হার মানতেই হয়েছিলো । মানতে তো হবেই আমি বলে কথা ! ও আমার আট নম্বর প্রেমিকা । যখন ইশিতা (আমার প্রথম গার্লফ্রেন্ড) আমাকে ধোঁকা দিয়েছিলো তখনই ঠিক করেছিলাম দুনিয়ায় যত মেয়ের সাথে আমার বন্ধুত্ব (!) হবে কাউকে আমি ক্ষমা করবো না । মেয়ে জাতি মাত্রই ছলনাময়ী যেহেতু ছলনায় সংগ্ঞা আর প্রকার ভেদ আমি দেখিয়ে দেবো । একে একে সাতটা মেয়ের মন ভেঙ্গেছি কখনো আমার এতোটুকু খারাপ লাগেনি । আর এই নীলিমা তো আমার জন্য সোনার ডিম দেয়া হাঁসের মত ! আমার নিজের রুমের যত জিনিসপত্র আছে তার অর্ধেকের বেশি নীলিমা দিয়েছে আমাকে । আমার ভালই লাগে গিফ্ট পেতে । নীলিমার সাথে পরিচয়ের পর এমন কোন দিন যায় নি যেদিন আমাকে ও কিছু গিফ্ট দেয়নি ! আমার ছেলেবন্ধুরা হিংসায় জ্বলে মরে । কিন্তু আজ এই মেয়েটার মন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে । ইশ্শিরে আমার গিফ্ট পাওয়াও বন্ধ হয়ে যাবে হয়তো । কিন্তু আমি আমার আরেক শিকার পেয়ে গেছি । সো নীলিমাকে গুডবাই বলতেই হবে !

**

এতক্ষনে আসলা তুমি ? এই দেখো হুমায়ুন আহমেদের জোছনা ও জননীর গল্প । স্যরি র্যাপিং করতে পারি নাই ।তুমি তো কোন লাইব্রেরীতেই পাওনাই আজ কে বই কিনতে গেসিলাম দেখেই নিয়া আসলাম ।

বইয়ের মলাট খুলে দেখি ভিতরে পেন্সিল দিয়ে লেখা-

"জোছনালোকে অনেক খুঁজে যখন আমায় পাবে না

সত্যি বলো তোমার চোখে

অশ্ম্রু কি জমবে না ?"

এইসব কি লিখসো বইয়ে ? কাজ পাওনা না ?

পেন্সিল দিয়ে লেখসি তো খারাপ লাগলে যেন মুছে ফেলতে পারো । আহত চোখে নীলিমার উত্তর । ইস এই মেয়েটারে আমি এখন ক্যামনে বলি যে আমি তোমার সাথে যা করসি তা প্রিটেন্ড ছাড়া আর কিসুই না ?

শোন নীলিমা আমি আমি তোমাকে ভালবাসিনা । আমি আজ সকালে এইটা বুঝছি । আমার পক্ষে এ সম্পর্ক রাখা সম্ভব না । তুমি কি বুঝতে পারতেসো ?

 

এই গুলা তুমি কি বলো ?ফান করো ক্যান !

আমি ঠিক ই বলতেসি । আমি তোমাকে ভালোবাসি না । SO I NEED BREAK UP ! কথা গুলা শেষ করতে পারলাম না মেয়েটা মাটিতে ধপ করে বসে পড়লো । আমার খারাপ ই লাগতেসে । আমি ঘুরে রোড ক্রস করতে যাবো কিছু বুঝার আগেই একটা গাড়ি এসে ধাক্কা দিলো । চোখ বনধের আগে নীলিমার মুখটা দেখলাম খালি ।

**

আজ ৫ বছর হয়ে গেসে । নীলিমাকে আমি আর কখনো দেখিনি । সেদিন ও আমাকে হসপিটালে না নিয়ে গেলে আমি বাঁচতাম না ঠিক ই কিন্তু তাও ভালো হতো । মেয়েটার কাছে আমি রক্তের ঋণী হয়ে গেসি । তবে সবচেয়ে বড় প্রতিশোধটা প্রকৃতি নিয়েছে আমার উপর । হুইলচেয়ারে বসে আজকাল আমার সময় কাটে না । মেয়েটাকে যদি স্যরি বলতে পারতাম ! 

 

Share