পীড়ন

লিখেছেন - নূহা চৌধূরী | লেখাটি 821 বার দেখা হয়েছে

সকালবেলা পেপারটা পড়েই আমার মেজাজ খুব খারাপ হয়ে গেলো , খুন খারাপির খবর পড়তে পড়তে গা সওয়া হয়ে গেছে , এই খবরটা আত্নহত্যার ! এক মা তার তিন তিনটা বাচ্চা নিয়ে ট্রেনের সামনে লাফিয়ে পড়ে জীবন দিয়ে দিয়েছেন ! খবরটা প্যাথেটিক তাতে কোন সন্দেহ নাই কিন্তু একজন মা কি করে তাঁর বাচ্চাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন ব্যাপারটা কিছুতেই মাথায় ঢুকছিল না ! 

নতুন নতুন অফিসে জয়েন করেছি , এমন আহামরি কোন অফিস নয় , এক বড়ভাই এর এডফার্মে ঢুকেছি কাজের তেমন কোন চাপ নেই , অবসর পেলেই সবাই আড্ডায় মেতে উঠি ! তেমনি এক আড্ডায় সবাই মিলে পাখি শিকারে যাবো ঠিক করলাম ! রবি ভাইয়ের গ্রামের বাড়ি [আমার বস] তেই আয়োজনটা হলো , হাওড়ে নাকি শীতকালে মেলা পাখি আসে ।

কুয়াশা মোড়া ভোরে আমরা যখন শিকারে গেলাম গ্রামটা মোটামুটি নিশ্চুপ হয়ে ছিল । কচুপাতার ওপর জলজল করে জ্বলতে থাকা শিশির কে হীরে ভেবে ভুল হয় । একসময় আমরা পৌঁছলাম , আমাদের গন্তব্যে ।

আমাদের লোভের কারনে বেশ কয়েকটা পাখি মারা পড়ল , আর আমরা হিংস্রতার তান্ডবে তখন মেতে উঠেছি । হাওড়ের ডানে একটা গাছের দিকে যখন নিশানা করলাম , রবি ভাই হাহা করে ছুটে এলেন ! কিন্তু তার আগেই 

দ্রুম !!

দ্রুম !!

রবি ভাই খুব মন খারাপ করলেন , কারন ও তে মাত্র ক দিন আগেই কুড়ুয়াল [স্থানীয় নাম] ছানা ফুটিয়েছে ! পৈশাচিকতার তুমুল আনন্দে বিভোর আমরা তাকে থোড়াই পাত্তা না দিয়ে ছুটে গেলাম গাছটার নিচে ! দুটো বাচ্চা পড়ে আছে , পাশেই মা পাখি টা ! বাচ্চা দুটোতে গুলি লেগেছে ঠিক কিন্তু মা পাখি টা তো একদম সুস্থ । 

নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে করতে এগুলাম কিন্তু পাখিটা নড়ে না !

হঠাত্‍ ই আবার 

দ্রুম !!

রবি ভাই মা পাখিটাকে গুলি করেছেন ! চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকাতেই বললেন 

ওটা এমনিতেও আর উঠতো না ! বাচ্চা হারালে মা কুড়ুয়াল স্বেচ্ছায় মৃত্যু অপেক্ষায় থাকে !

কদিন আগের খবরটা মনে পড়লো , কোন কোন মা সন্তান কে রেখে একা মরতে পারেন না আর কোন কোন মা সন্তান হারিয়ে বাঁচতে পারেন না ! 

আমি জানি না ঐ মা কেন স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা মনে হয় পশু পাখির থেকেও শেখার কিছু রাখি ।

সে দিনের পর আমি খুনী হবার নরক যন্ত্রনা পেতে লাগলাম ! আমার প্রায় ই মনে হতে লাগলো আমি একটা পরিবারকে খুন করেছি , একজন মা কে আমি খুন করেছি !

Share