তোর জন্য

লিখেছেন - নূহা চৌধূরী | লেখাটি 1736 বার দেখা হয়েছে

গত তিন দিন ধরে নবনীতার কোন খবর নাই । না ভার্সিটি আসে না ফোনে পাওয়া যায় । তিনদিনে ফোনের ওইপাশের মহিলা যে কত গালি খেলো ! চতুর্থদিনে মহারানি ফোন দিলেন দোস্ত জবর খবর আছে !

মেজাজটা ৯০ ডিগ্রী এঙ্গেলে বিগড়াই গেলো । দাঁতমুখ খিচে জানতে চাইলাম কি ? ঐপাশ থেকে ওর চিনিমাখা কন্ঠ আমার মামা তো চেয়ারম্যান হইয়া গ্যাসে রেএএএএএএ !

অই তোর ভীমরতি রাগ থামা আমার কান তো গেলো ।হ্যালো হ্যালো .. লাইন কেটে দিসে । আমি ফোন দিলাম ঐপাশের মহিলা দুঃখ জানায় । ধুরররর !

এক হপ্তা পর মহারানি ভার্সিটি আসলেন । ওরে দেখেই আমার গা জ্বালা করতেসে । আমার ধারে কাছে আসলে তুলে আছাড় দিবো এমন একটা ভাব নিয়ে টাওয়ারে বসে আছি ।

এইনে ধর । মিষ্টি খা ! মহারানি একটা টিফিন বাটি ধরিয়ে দিলো । ওর খবর আমি পরে করবো আগে মিষ্টি খাই , আমার প্রিয় জিনিস । একসাথে দুইটা রসগোল্লা মুখে পুড়ে দিয়ে কপাকপ খেতে জানতে চাইলাম কিসের মিষ্টি ? ওম্মা এর মধ্যে ভুলে গেসিস ? আমার মামা এখন চেয়ারম্যান ।হুহু বাবা বুঝে শুনে কথা বলবি এখন থেকে আমার সাথে ।

মিষ্টির বাটি সাবাড় করে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম কীসের চেয়ারম্যান ?

ইউনিয়নের আর কীসের । চোখ উল্টিয়ে মহারানির উত্তর । ঐ মিষ্টি সব খাইলি ক্যান ? সব কি আমি তোর লাইগা আনছি ?

এইটা তোর পানিশমেন্ট । একহপ্তাহ তিনদিন আমারে কষ্ট দিসিস । ঝগড়ার সুরে কথার চাবুক চালাই দুজনে ।

সকাল থেকে থম থম করা আকাশ ও সুর মেলায় । ঝুম বৃষ্টি নামে ।

নবনীতা কাঁচের চুড়ি ভর্তি দু হাত দিয়ে বৃষ্টির পানি ধরতে ধরতে বলে তোরে প্রাকটিস করাই । দুই দিন পর তো স্কলারশীপ নিয়ে চলেই যাবি । তখন তো আমারে ছাড়াই থাকবি । বলতে বলতে জল গড়ায় , আকাশের ও , আমার মহারানির চোখের ও ।

ওর দুই হাত ধরে ওকে বলি যদি তোরে নিয়া যাই ??

চোখ দুইটা সদ্য খাওয়া রসগোল্লার মত গোল করে জিগ্ঞেস করে মানে ?

মানে অতিসোজা । আম্মারে বলসি আমার একা একা বিদেশ যাইতে ভয় লাগে । নবনীতা অনেক সাহসী । ওরে নিয়া যাবো । আম্মাও একমত । ওর দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসলাম । কিন্তু আমার অসীম সাহসি মহারানির চোখে আবার আষাড়ের ঢল নেমেছে ততক্ষণে । কিরে তুই যাবি না ? ঠিক আছে তাও কান্দিস ক্যান ?

আমার মহারানি আমার দুহাত শক্ত করে ধরে বলে হেহ্। তোরে একলা যাইতে দিলে তো তুই হারায়ে যাবি । তোর এই সর্বনাশ নাহয় নাই করলাম !

আর যাই হোক আমি তোকে হারাতে দিতে তো পারি না !

জ্বী মহারানী ,আপনার অসীম দয়া ! তাহলে আম্মাকে আপনার বাড়ি পাঠাই ? আমার খুব তাড়াতাড়ি একটা বউ দরকার !

তখনো আমার মহারানী কাঁচ ভরা হাতে বৃষ্টি ধরার চেষ্টা করছে ! আমি যখন বললাম কিরে পাত্তা দিলি না তো ! ঠিক আছে আমি একাই চলে যাবো , দেখিস !

আমার রানীটা তখন বলল

তুই কেমন করে যাবি ?

পা বাড়ালেই আমার মায়া

আমাকেই তুই পাবি !

বলেই ফিচিক করে হেসে ফেলল ! আর আমি তাকিয়ে রইলাম অবাক মুগ্ধতা নিয়ে ।

 

Share